Home Tags Posts tagged with "১১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ ০৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে"

১১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ ০৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে

আয়াজ আহমাদ:চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া ও আনোয়ারা থানা এলাকায় পৃথক দুইটি অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ০১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩৬,১১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ০৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে , র‍্যাব-৭ চট্টগ্রাম; মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুইটি ট্রাক জব্দ।

১।র‍্যাব-৭ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম; অস্ত্রধারী সস্ত্রাসী, ডাকাত, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, মাদক উদ্ধার, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় সাধারণ জনগনের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

২। চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া ও আনোয়ারা থানা এলাকায় পৃথক দুইটি অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ০১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩৬,১১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ০৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। নিম্নে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলোঃ

ক। র‍্যাব-৭ চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী দুইটি ট্রাক যোগে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য নিয়ে কক্সবাজার হতে চট্টগ্রামের দিকে আসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ৩১ জানুয়ারি ২০২১ ইং তারিখ ০১০০ ঘটিকায় র‍্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন শান্তিরহাট মেসার্স ডিডি ফিলিং স্টেশন এর সম্মুখে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশের্^ পাকা রাস্তার উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে।

এসময় র‍্যাব-বের চেকপোস্টের দিকে আসা দুইটি ট্রাকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র‍্যাব- সদস্যরা ট্রাক দুটি থামানোর সংকেত দিলে র‍্যাব-র চেকপোস্টের সামনে থামিয়ে ট্রাক দুটি হতে ০৫ জন লোক সুকৌশলে পালানোর চেষ্টাকালে র‍্যাব-সদস্যরা ধাওয়া করে আসামি চালক ১। মোঃ সিরাজ (৩৮), পিতা- মৃত আমির হোসেন, সাং- উত্তর নয়াপাড়া, বর্তমানে- সাং- চরপাড়া, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার, হেলপার ২। ওমর ফারুক (২১), পিতা- মোঃ শামসুল আলম, সাং- বেইঙ্গা পাড়া,

বর্তমানে- সাং- চামতলী পাড়া, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার, ৩। গফুর আলম (২৬), পিতা- আবুল হোসেন, সাং- বেইঙ্গা পাড়া, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার, চালক ৪। আমজাদ হোসেন (৪২), পিতা- নুরুল ইসলাম, সাং- কাজিরটেক, থানা- হাতিয়া, জেলা- নোয়াখালী এবং হেলপার ৫। জিয়াবুল হক (৪২), পিতা- মৃত ফয়জুর রহমান, সাং- শাহ্পরীরদ্বীপ, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজারদের আটক করে।

পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ১নং, ২নং এবং ৩নং আসামির দেখানো মতে ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-২৪৫৯) ড্রাইভিং সীটের পিছনে বিশেষ কায়দায় রক্ষিত অবস্থায় ১৭,৬৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪নং ও ৫নং আসামির দেখানো ও সনাক্তমতে অপর মিনি ট্রাক (চট্ট মেট্রো-ন-১১-৫৬৪৪) এর টুলবক্সের ভিতর সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় ৭,৮০০ পিস (১৭,৬৮০+৭,৮০০) সর্বমোট ২৫,৪৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেফতার করা হয় এবং উক্ত ট্রাক দুইটি জব্দ করা হয়।

র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানাধীন চুন্নাপাড়া (দইলার বাড়ি) এলাকায় মুহাম্মদ ইউনুচ এর বসত ঘরের ভিতর কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ ১৪২০ ঘটিকায় র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করলে র‍্যাব-বের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে র‍্যাব- সদস্যরা ধাওয়া করে আসামি ১। মুহাম্মদ ইউনুচ (৪৫), পিতা- নুর মোহাম্মদ, সাং- চুন্না পাড়া, থানা- আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রাম এবং

২। মোঃ ইছহাক (৪৩), পিতা- মৃত আবুল কাশেম, সাং- তৈলার দ্বীপ, থানা- আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রাম, বর্তমানে সাং- ওয়াপদারপাড়া (গরু বেপারী ইউছুপের টিনসেট বাড়ি) থানা- আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রামদের’কে আটক করে। পরবর্তীতে উপস্থিতি সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেখানো ও সনাক্তমতে উক্ত ঘরের আলমিরার ড্রয়ারের ভিতর সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় ১০,৬৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে আসছে। উদ্ধারকৃত মোট ৩৬,১১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ০১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা এবং জব্দকৃত ট্রাক দুইটির অনুমানিক মূল্য ৭০ লক্ষ টাকা।

গ্রেফতারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগাম জেলার পটিয়া থানা ও আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।