Home Tags Posts tagged with "বাগমারায় হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামী বারুর বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ"

বাগমারায় হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামী বারুর বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের বাহমনীগ্রামের আকবর আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম(২০) উপর গত কয়েকমাস পূর্বে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে কিছু দুস্কৃতিকারী।

মামলা সুত্রে জানা যায় গত ২০-০৯-২০ ইং তারিখ রাত্রী ২.৩০টাই রেজাউল ইসলাম বাড়ির পাশের ইন্দ্রপুর উন্মুক্ত বিলে মাছ ধরে বাড়ি ফেরার সময় একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের বাড়ির পাশে রাস্তার উপর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে হামলা করেন হাটখুজিপুর গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান(২৮),লোবা এর ছেলে রায়হান(উজ্জল)(২৯) বাহমনীগ্রাম(রায়পাড়া) গ্রামের আলম এর ছেলে ইয়ানুছ আলী(৪০)বাহমনীগ্রাম(রায়পাড়া) গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম(৪০)।

হামলায় আহত অবস্থায় রেজাউলকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।সেখানে নিউরোসার্জারী বিভাগের ৮ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয় তাকে। এই হামলার পর রেজাউল ইসলাম নিজেই বাদী হয়ে গত ২৯-০৯-২০ ইং তারিখে রাজশাহীর বিজ্ঞ মোকাম আমলী আদালত নং (৪) এ ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)/১১৪/৩৪দঃবিঃ মামলা করেন যার মামলা নং ৩৪৯সি/জি আর ৩২৫,,,,,,,,,,,,,,/২০২০(বাগমারা)।

রেজাউল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন মামলা করে আমি বাসাই আসলে আসামীগন তা জানতে পেরে আমাকে মামলা তুলে নিতে বলে এবং না তুললে আমাকে প্রাণে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়।

এবং ঐ মামলার সাক্ষী রাজু আহম্মেদ এর পিতা নইমুদ্দিনকে ও মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিলে পরবর্তিতে রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে নিজের এবং সাক্ষীদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে হাটখুজিপুর গ্রামের দাঙ্গাবাজ মৃত রিজু সরকারের ছেলে বাহার আলী বারু(৫০),তারই ছেলে রবিউল ইসলাম(২৮),লোবার ছেলে রায়হান (উজ্জল)(২৯),

আহম্মদ আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান(২৮),বাহমনীগ্রাম(রায়পাড়া) গ্রামের আলমের ছেলে ইয়ানুছ আলী,নাসির উদ্দিনেরর ছেলে রফিকুল ইসলামকে আসামী করে গত ২১-১০-২০ ইং তারিখে রাজশাহীর নির্বাহী ম্যাজিঃআমলী আদালত(২) ১০৭ ধারায় মামলা করেন যার মামলা নং ৩৩৮ পি/২০২০(বাগমারা)।

তার এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান বাহার আলী বারুর একটি বাহিনী রয়েছে।এবং ঐ বাহিনী পরিচালনা করেন বারু নিজেই।তারা এলাকার চাঁদাবাজী,নারী ও শিশু নির্যাতন, অসহায়,গরিব-দুঃখী মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া, এলাকায় পুকুর,বিল,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল,বয়স্ক ও বিধবা মহিলাদেরকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার না করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া সহ নানা ধরনের অপকর্ম করে থাকে বারু বাহিনী।এসব অপকর্মের কারনে দ্রুত বারুসহ তার বাহিনীর সকল সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান এলাকাবাসী।

মঙ্গলপুর গ্রামের অসহায় ও দারিদ্র মৃত জিয়াদ আলীর স্ত্রী রেহেনা বেওয়া (৬০), মৃত লেপুর উদ্দীনের স্ত্রী আতেজান বেওয়া(৭৫)
গমীর উদ্দিন মেয়ে আছিয়া বেওয়া (৬৫)আব্দুর রহমানের স্ত্রী ছবিজান বেওয়া(৭০)
সর্ব সাং মঙ্গলপুর, ডাকঘরঃ হাটখুজিপুর,ইউনিয়নঃআউচপাড়া,বাগমারা, রাজশাহী।প্রত্যেকের কাছ থেকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে ৪০০০ করে টাকা নিয়েছে বলে বারুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন ভুক্তভুগী নারীরা। ভুক্তভুগী আতেজান, আছিয়া আমাদের প্রতিবেদককে ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন বাবা আমি ভিক্ষা করে খাই, ভিক্ষা করে দশ দুয়ার ঘুরে আনা ৪,০০০ টাকা, বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে নিয়েছে বাহার আলী বারু।১বছর হয়ে গেলেও কার্ড ও করে দেয়নি, টাকা ও দেয়নি উল্টো আমাদের সবসময় কাউকে না জানাতে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

এসব বয়স্ক ভিক্ষুক বিধবার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে বারু সকলের টাকা সুদ সহ ফেরতের কথা বলেছেন বলে জানান ভুক্তভূগী আছিয়া।
বারু বাহিনীতে মানুষকে পেটানোর দায়িত্বে আছে বারুর ছেলে রবিউল ইসলাম,লোবার ছেলে রায়হান(উজ্জল) ও আহম্মেদ আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান,

এদের বিরুদ্ধে এলাকার ডর্জন খানেক মানুষকে পিঠানোর অভিযোগ রয়েছে।এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ অত্র এলাকার সাধারন মানুষ।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো অনেকে বলেন তাদের প্রশাসনের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কিছুই হয়না বরং পরে আবারও বারু বাহিনীর তাদের হাতের মার খেতে হয়।

এজন্য বারু বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পায় এলাকার সাধারন মানুষ।গত ২১নভেম্বর শনিবার বিকেলে হাটখুজিপুর বাজারে বারু সহ তার লোকজন বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে একই গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে ছাদেক আলী তাদেরকে বাজারে বিশৃঙ্খলা করতে নিষেধ করলে বারুসহ তার সঙ্গপঙ্গ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা করে।আউচপাড়া ইউনিয়নে আতঙ্কের আরেক নাম বারু বাহিনী।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাহার আলী বারুর মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এসব অবান্তর কথাবার্তা ছড়াচ্ছে আমি এর সাথে কোনোভাবেই জড়িত না।

এবিষয়ে বাগমারার হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি এ মামলার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা পায়নি এবং মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহি অফিসার শরীফ আহমেদ এর সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন বিধবা ভাতার কার্ডের কোন বর্তমানে কার্যক্রম নেই যদিও পূর্বে এরকম কারো সাথে হয়ে থাকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই আমি আসার পূর্বে হয়তো এ মামলাটি হয়েছে তার পরেও সংশ্লিষ্ট অফিসারের কাছ থেকে বিষয়াদি জেনে আপনাকে অবশ্যই জানানো হবে।