Home Tags Posts tagged with "প্রতারণার ফাঁদে চট্টগ্রামের মেয়ে হাবিবাকে ধর্ষনের অভিযোগ"

প্রতারণার ফাঁদে চট্টগ্রামের মেয়ে হাবিবাকে ধর্ষনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম :সমাজিক জীব হিসাবে মানুষের কাছে পরিবারই পরম ধর্ম। মানুষ পরিবার ছাড়া কখনও বাঁচতে পারে না। আর মানুষের জর্ন্য তাঁর পরিবারই হচ্ছে আশা ভরসার নিরাপদস্থল। পরিবারই পরম শান্তির শেষ ঠিকানা। যখন পরমবন্ধনের এই শেষ আশ্রয়স্থলের কেউ নির্যাতনের শিকার হন এর চেয়ে বেদনার আর কি হতে পার?

বর্তমানে বাংলঅদেশের প্রেক্ষাপট এমন মরমান্তিক যে, দেশে যত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তার ৭৭ শতাংশই হয় পারিবারিক পরিসরে। যার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বামীরাই স্ত্রীদের ওপর নির্যাতন চালান। এমনই এক অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী রহমতগঞ্জের বাসিন্ধা উম্মে হাবীবা (২০)। হাবিবা শ্বশুর বাড়ির লোকের কাছে পায়নি সত্যিকারের ভালোবাসা পেয়েছে প্রতারকদের প্রতারণার ভালোবাসা।

অনুসন্ধানে জানা যায় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ১৩ বছরের উম্মে হাবীবা চট্টগ্রামের সলিমা সিরাজ মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় কোতোয়ালী থানার ১৬ নং জামালখান, আম্বিয়া শেরিন বিল্ডিং, জি-৪, এফ-৪ ফ্ল্যাটে বসবাসকারী ১৫ বছরের রিদুয়ানুল ইসলাম কিশোরী হাবিবাকে ভালোবাসার প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। ২০১৩সাথে সেপ্টেম্বর মাসে হাবিবা মাদ্রাসা থেকে বাসায় ফেরার পথে কিশোর রিদুয়ান রাস্তা থেকে নিজের প্রাইভেট গাড়িতে নিয়ে হাবিবাকে তুলে নিয়ে যান। হাবিবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হাবিবাকে জিম্মি করে জোর পূর্বক রিদুয়ানের চট্টগ্রামের কোতোয়ালীস্থ বাসায় বাসায় ধর্ষন করে ।

ভুক্তভোগী হাবীবা জানান, ২০১৩ সালে মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে বেশীরভাগ সময় গতীরোধ করে প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকে এবং নানা রকম ভয় ভীতি প্রদর্শন করে। একই বছর রিদুয়ান আমাকে মাদ্রাসা থেকে বাসয় ফিরার পথে তার গাড়ীতে তুলে তাদের বাসায় আটক করে জোড় পূর্বক ধর্ষন করে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, হাবিবার বাবা মেয়ের কোন রকম খবর না পেয়ে ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরী করে। পরবর্তীতে ঘঠনান জানাজানি হলে চতুড় রিদুয়ান হাবিবাকে বিয়ে করেছে বলে প্রচার করে। সেইসাথে ৫ বছর ধরে হাবিবাকে তাঁর পরিবার থেকে বিছিন্ন করে রাখে। হাবিবার বাবাও মায়ের উপর জেদ করে সেই ৫ বছর কোন প্রকার যোগাযোগ করননি।

২০১৯ সালে ৭ মাসের অন্তঃসত্তা হাবিবার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে রিদুয়াননের পরিবার হাবীবার সাথে যোগাযোগ করে এবং মেয়ের সাথে মা-বাবাকে দেখা করার সুযোগ দেন। ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর হাবীবার কোল জুড়ে আসে মেয়ে আজুয়া ইসলাম খান।

সূত্রমতে, হাবিবার মেয়ের জন্মের পর রিদুয়ানের পরিবার বাচ্চর বাবার নামে রিদুয়ানের নাম না লিখে তার মেঝো বোনের স্বামী ফয়সাল ফারুকের বসাতে গেলে হাবিবা ও তাঁর পরিবারের সাথে রিদুয়ানের পরিবারে সমস্যার সূত্রপাত হয়। এই সুযোগে রিদুয়ানও হাবিবাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। রিদুয়ানের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি অবুঝ শিশু আজুয়া ইসলাম খানও। হাবিবা ঘঠনার সত্যতা স্বীক্ষার করে কান্নাভরা কন্ঠে অবুঝ শিশু আজুয়ার আঘাতের ক্ষতস্থানটা দেখান আমাদের।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদক রিদুয়ানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি হাবিবাকে বিয়ের কথার সত্যতা নিশ্চিত করলেও কোনরূপ প্রমান বা কাবিন দেখাতে পারেন নি।

সূত্রমতে, ১৬ বছরের রিদুয়ান যখন উম্মে হাবীবাকে তুলে নিয়ে যায় তখন হাবীবার বয়স ছিল ১৩ বছর। হাবিবাবর পরিবারের প্রশ্ন ১৬ বছরের রিদুয়ান এমন অনৈতিক কাজ সেই দিন কেমনে রিদুয়ারে পরিবার মেনে নেন। তার পরিবার কিভাবে সন্তানের এমন অপরাধ করার পরও ছেলেকে উৎসাহ দেয়।

হাবীবার ভাই ওসমান গনি প্রতিবেদককে জানান, আমার বোনকে রিদুয়ান জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বন্দী করে ভয়ভীতি দিয়ে প্রথমত ধর্ষণ করে পরবর্তীতে রিদুয়ান বিয়ে করেছে প্রচার করেন যাহা আমাদের কাছে কোন প্রমাণ পত্র নেই এমনকি তাদের কাছে ও প্রমাণ পত্র নেই। তবুও অনেক বছর পর যখন রিদুয়ান এর পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক হয়ে উঠবে এমন সময় আমার বাবা রিদুয়ান এর পরিবারকে রিদুয়ান ও হাবীবার বিয়ে র নিকাহ নামা সম্পন্ন করতে বললে রিদুয়ান এর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় হাবীবার বড় বোনের বিয়েতে ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে সেই ৫০ লক্ষ টাকা আমাদের কাছে যৌতুক হিসাবে দাবি করেন। তাতে আমরা দিতে অস্বীকার করলে আমার বোন ও বোনের অবুঝ শিশুটির উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, যার কারণে আমার বোন উম্মে হাবীবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এ ২০০০ (সংকোচিত ২০০৩) এর ৭/৯(১)৬/১৩ধারায় রিদুয়ান ইসলাম খান পিতা দিদারুল ইসলাম, দিদারুল ইসলাম পিতা মৃত শামসুল হক খান, ফাতেমা ইসলাম সাথী স্বামী বাদল খন্দকার, সুরাইয়া ইসলাম স্বামী ফয়সাল ফারুক , উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আমি আমার বোনের সম্মান ফিরে পেতে প্রশাসন সহ সবার সহযোগিতা আবেদন করছি।