Home Tags Posts tagged with "জনসমর্থন তুঙ্গে"

জনসমর্থন তুঙ্গে

0 0

তানভীর আহমেদ :আগামী ২৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০ নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক প্যানেল মেয়র এবং অত্র ওয়ার্ড থেকে তিন বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী ।

আওয়ামী লীগ মনোনীত চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী সহ কাউন্সিলর পদে মোট প্রার্থী রয়েছেন তিনজন । এদের মধ্যে ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কাউন্সিলর পদে গত বার নির্বাচন করা রফিকুল আলম বাপ্পী, মিষ্টি কুমড়া প্রতীক নিয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী লিয়াকত আলী ।

প্রার্থীর আধিক্য থাকলেও দল-মত নির্বিশেষে দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডবাসীর মুখে মুখে সর্বাগ্রে উচ্চকিত কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর নাম । অত্র ওয়ার্ডের লোকজন হাসনীকে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন । হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আখ্যায়িত করার নানাবিধ কারণ ও রয়েছে ।

সেই ছাত্রজীবন থেকে তৃণমূলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতির হাতে খড়ি হাসনীর। রাজনীতির অনেক কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে স্বীয় মেধা, দক্ষতা,যোগ্যতা ও নেতৃত্তের গুনে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের অবস্থানকে সুসংহত করেছেন রাজনীতির মাঠে এবং সাধারন জনগনের মাঝে । দেওয়ান বাজার এলাকার সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রজীবন থেকেই হাসনী এলাকার জনসাধারণের বিপদাপদে সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করতেন ।

২০০০ সালে প্রথমবার নির্বাচন করে খুবই স্বল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে গেলেও কখনোই এলাকার জনগণকে ছেড়ে যাননি । সব সময় জনগণের সাথেই ছিলেন , তাইতো ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হাসনীর প্রতিপক্ষ কর্তৃক জনগণের রায় কে হাইজ্যাক করার অপচেষ্টা চালানো হলে দেওয়ান বাজার এর হাজার হাজার জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছিল । গণদাবীর মুখে জনরায় হাইজ্যাকের নীল নকশা বানচাল হয়ে যায়, প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী ।

কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ওয়ার্ডের জনসাধারণ কে সাথে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক ও জনহিতকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন সাফল্যের সাথে । ফলশ্রুতিতে ২০১০ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রবল বৈরী পরিবেশ সত্ত্বেও তৎকালীন হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর পেয়ার মোহাম্মদ কে ৫,২৮৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়মাল্য গলায় পড়েন তিনি ।

কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে পূর্বের ন্যায় জনসম্পৃক্ততা ও জনকল্যাণ মূলক কর্মকান্ডে নিজেকে বিলিয়ে দেন হাসনী । ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিতব্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি ।

অত্র ওয়ার্ডে হাসানীর জনপ্রিয়তার নেপথ্যে রয়েছে জনসম্পৃক্ততা ও ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড । টানা ১৫ বছর কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়ে দেয়ানবাজার ওয়ার্ডের পূর্বের চেহারার আমূল পরিবর্তন করেন তিনি । ওয়ার্ডের সরু গলি গুলো কে প্রসারিত করা, ডোর টু ডোর পদ্ধতিতে ময়লা সংগ্রহ করে ডাস্টবিন প্রথার বিলুপ্তি ঘটানো,

রাস্তাঘাটের ব্যাপক সংস্কার ও কার্পেটিং, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থাকরন, মাতৃমঙ্গল ও শিশু মঙ্গলের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ, কিশোর-তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং খেলাধুলায় উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান, দল-মত- ধর্ম নির্বিশেষে সকলের বিপদে- আপদে পাশে দাঁড়ানো, সর্বোপরি যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ওয়ার্ডের মুরুব্বিদের সম্পৃক্ততা করে কর্ম সম্পাদনকরন ।

এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব বয়সী এম এ মাসুদ বলেন

” হাসনী সাহেব কোন দল করে সেটা আমার কাছে বিবেচ্য নয়, আমার কাছে বিবেচ্য তার কর্ম ও সদগুন। ১৫ বছর কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়ে দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের আমূল পরিবর্তনের মহা নায়ক হিসেবে আমি তাকে আখ্যায়িত করি । আমি স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছি , সে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হতে যাচ্ছে । ‘

গৃহিণী নুসরাত জাহান বলেন

” অন্যান্য ওয়ার্ড এর চাইতে আমাদের ওয়ার্ডে নাগরিক সুবিধা আমরা খুব সহজেই পেয়ে থাকি । আর তা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র হাসনী ভাইয়ের জন্য । উনার বিজয় শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র । ”

এলাকার যুবক মন্টি হোড় বলেন

” অত্র ওয়ার্ডের জনগণের জন্য জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবকিছুই করেছেন শ্রদ্ধেয় হাসানী ভাই । সুতরাং হাসনী ভাইয়ের জায়গায় অন্য কাউকে আমি কল্পনাও করতে পারি না ।’

কলেজ ছাত্রী রূমা বলেন
” আমরা এমন একজন কাউন্সিলর পেয়েছি যিনি রাত ২ টায় ও জনগণের ডাকে সাড়া দিতে কার্পণ্য করেননি । ‘

জনপ্রিয়তা এবং আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাইলে চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন
” দেওয়ানবাজারবাসীর সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক ।

উনারা আমাকে বারবার নির্বাচিত করে কাউন্সিলর বানিয়েছেন । দেওয়ানবাজারবাসীর জন্যই আমি ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও প্যানেল মেয়র হতে পেরেছি । ১৫ বছর কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়ে জনগনের সেবায় দিন-রাত কাজ করেছি ।

ইনশাল্লাহ, দেওয়ানবাজারের জনগন দল-মত নির্বিশেষে আগামী ২৭ জানুয়ারী “ঠেলাগাড়ি ” প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত করবে এই দৃঢ়বিশ্বাস আমার রয়েছে ।