Home Tags Posts tagged with "চান্দগাঁও থানাধীন পূর্ব মোহরায় প্রতিবন্ধী ও বিধবার জায়গা দখল ও মিথ্যা মামলা কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন"

চান্দগাঁও থানাধীন পূর্ব মোহরায় প্রতিবন্ধী ও বিধবার জায়গা দখল ও মিথ্যা মামলা কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন

নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন পূর্ব মোহরায় প্রতিবন্ধী ও বিধবার জায়গা দখল, প্রতিবাদকারীদের উপর ও মসজিদে হামলা এবং মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে আজ ২৫ মে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস. রহমান হল রুমে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে মোঃ সাইফুদ্দিন জানান, আমি চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগ হতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করি। এছাড়াও বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল চট্টগ্রাম জেলার সহ-সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও চান্দগাঁও-চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি এবং অত্র এলাকার তরুন শিক্ষিত ছাত্রদের বঙ্গবন্ধু আদর্শের উজ্জীবিত করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আদর্শ কর্মী হিসেবে সবাইকে সংগঠিত করি।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, স্থানীয় প্রতিবন্ধী মোঃ ইসমাইল আমার ফুফাতো ভাই হয়। মামলার অভিযুক্ত আসামীরা প্রতিবন্ধী ইসমাইলের সম্পত্তি দখলে নেওয়ার পায়তারা করলে আমার বড় ভাই প্রতিবাদ করেন। আসামীগণ আমার পরিবারের প্রতি ক্ষিপ্ত হয় এবং যে কোনো ভাবে ক্ষতি করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত থাকে।

সে ঘটনার আক্রোশে পবিত্র মাহে রমজানে ঈদের ঠিক দুই আগে আমি এবং আমার পরিবারের প্রতি অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আমাদের পরিবারের প্রতিবাদের কারনে প্রতিবন্ধী ইসমাইল ও একজন বিধবার ভূমি দখল করতে পারেনি বিধায় আমাদের উপর হামলার পরিকল্পনা করে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সোলাইমান মহিউদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন সন্ত্রাসী আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে এবং এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মেরে আহত করে।

এক পর্যায়ে মহিউদ্দিনের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় বাড়ি মারলে তা হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে আমার ডান হাতের কব্জি বরাবর লেগে দুই টুকরা হয়ে যায় (যাহার এক্স-রে ফিল্ম আছে) এবং সোলাইমান এর হাতে থাকা চৌকাঠ দিয়ে আমার মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তা লক্ষভ্রষ্ট হয়ে আমার মুখে পড়ে আমার দাঁত ভেঙ্গে যায়। আমি গুরুতর রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আমাকে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো জানানো হয়, উক্ত সন্ত্রাসীরা একত্রিত হয়ে হাতে লাঠি, দামা, ছুরি, লোহার রড ইত্যাদি নিয়ে আমাদের ঘরে প্রবেশ করে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ঘরের বেড়া, বিদ্যুৎ মিটার, আসবাবপত্র, মূল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর করে। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।

অত:পর ঘটনার সময় আমার ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ ও আমি ফেইসবুকে লাইভে এসে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে এবং ৯৯৯-এ পুলিশকে ফোন করলে তারা পালিয়ে যায়। একই দিন তারাবীর নামাজের পর রাত ৯.৩০ মিনিটের সময় আমার বাবা মোঃ মুছা কে স্থানীয় পূর্ব মোহরা জামে মসজিদে ইতেকাফে থাকা অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করে আব্দুল্লাহ আল নোমান কিরিচ,

লাঠি ও লোহার রড নিয়ে মারধর শুরু করে এবং কিরিচ দিয়ে আমার বাবাকে কোপ মারলে তা লক্ষভ্রষ্ট হয়ে বাম কাঁধে লাগে এবং গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয় ও হাঁড় ভেঙ্গে যায়, (যার চমেক হাসপাতালের এক্স-রে ফিল্ম আছে)। আমার বাবার আত্মচিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে আমার বাবা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়।

তখন চান্দগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ২৬ নং ওয়ার্ডে সার্জারী ৬৩ (সি) নং সিটে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। যার রেজি: নং- ৭৩১৯৩/৩৫৩ এবং আমার বাবা মোঃ মুছা কে একই ওয়ার্ডের ৬৩ (বি) নং সিটে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। যার রেজি: নং- ৭৬১৯৪/৩৫৪। এছাড়াও আমার বড় ভাই জালাল উদ্দিনকে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ারে চিকিৎসা করা হয়। বর্তমানে আমরা সবাই প্রাইভেট চিকিৎসা নিচ্ছি।

ঈদে আদালত বন্ধ থাকায় এবং আমরা শারীরিক ভাবে অসুস্থতার কারনে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়। এ ঘটনায় (১) মোঃ সোলাইমান (৪৮), পিতা: মরহুম নুরুল হক, (২) মোঃ মহিউদ্দিন (২৮), পিতা: মরহুম সৈয়দ আহমদ, (৩) আবদুল্লাহ আল নোমান (২৬), পিতা: মোঃ সোলাইমান কে আসামী করে বিজ্ঞ চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত,

চট্টগ্রাম বরাবরে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নং- সিআর ২৬০/২০২১ইং (চান্দগাঁও), তাং- ২৩/০৫/২০২১ইং। মামলার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার অপরাধীদের বিচার চাই।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মুছা, প্রতিবন্ধী মোঃ ইসমাইল, বিধবা রহিমা বেগম, শামীমা আক্তার।