Home Tags Posts tagged with "চসিক প্রশাসক সুজনকে রেলপথ মন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমাদের স্বার্থ এক ও অভিন্ন"

চসিক প্রশাসক সুজনকে রেলপথ মন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমাদের স্বার্থ এক ও অভিন্ন

0 0

চট্টগ্রাম-৯ নভেম্বর ২০২০ইং রেলপথ মন্ত্রী মো.নুরুল ইসলাম সুজন এমপি বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহীত মেগা প্রকল্পের সাথে আমাদের  স্বার্থ এক ও অভিন্ন। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বন্দর নগর চট্টগ্রাম এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আজ সোমবার সকালে মন্ত্রীর সাথে তাঁর সচিবালয়ের দপ্তরে   সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন।

এসময় ফজলে হোসেন বাদশা এমপি ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন নগরীর মাদারবাড়ি এলাকায় বরাদ্দের টাকা ও জমির উন্নয়ন বাবদে টাকা পরিশোধের পরও ৭একর জায়গা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দখলে থাকা সত্তে¡ও ওই জমির বরাদ্দ বাতিল হওয়ার বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রীকে অবহিত করে তা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। মন্ত্রী প্রশাসকের বক্তব্য শুনে তা মিমাংসার আশ্বাস দেন।

প্রশাসক সুজন মন্ত্রীর নিকট মিরসরাই হতে বেজার ব্যবস্থাপনায় চালু হতে যাওয়া বাংলাদেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল বঙ্গবন্ধু শিল্প পার্কের গুরুত্ব অনুধাবন করে ওই এলাকার সাথে শহর কেন্দ্রীক মানুষের যোগাযোগের সুবিধার্থে কয়েক জোড়া শাটল ট্রেন চালু ও চট্টগ্রাম দোহাজারি রুটে কমপক্ষে ৪ জোড়া ট্রেন চালুর প্রস্তাব করেন। এতে একদিকে বঙ্গবন্ধু শিল্প পার্কের সাথে সকল শ্রেণির কর্মজীবীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় পবির্তনের পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মজীবীদের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হবে।

এসময় চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশ বান্ধব মানবিক শহরে পরিণত কতে আরো বেশ কিছু প্রস্তাবনা রেলপথ মন্ত্রীর বরাবরে উত্থাপন করেন চসিক প্রশাসক সুজন। মন্ত্রী সাময়িক দায়িত্ব পাওয়ার পরও নগরীর উন্নয়নে প্রশাসকের দূরদৃষ্টি সম্পন্ন চিন্তা ভাবনায় প্রশংসা করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

প্রশাসক সুজন রেলপথ মন্ত্রীর নিকট আরো যেসব প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছেন তা হলো চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারবাহী রেল লাইনের সংস্কার ও বগী বাড়ানো, পাহাড়তলীতে স্থাপিত রেল ওয়ার্কশপ পুনরায় চালু ও সংস্কার করা, চট্টগ্রাম নগরীর নতুন রেল স্টেশনের সামনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বা রেলের উদ্যোগে মাল্টি স্টোর বা বহুমুখি পার্কিং চালু করন, রেলওয়ের মালিকানাধীন পাহাড়তলী জোড় ডেবা সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তার করা।

প্রস্তাবগুলো মন্ত্রী ও প্রশাসকের পারস্পরিক আলাপ-আলোচনায় প্রশাসক সুজন তাঁর প্রস্তাবনার বিষয়ে বেশ কিছু যুক্তি মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এরমধ্যে বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে রেললাইন সংস্কারের পাশাপাশি বগী বাড়ানোর সুজনের প্রস্তাব মন্ত্রী গুরুত্বসহকারে আমলে নেন।

এছাড়াও নগরীর যানজট নিরসনে নতুন রেল স্টেশনের সামনে বহুমুখি পার্কিং চালু ও পাহাড়তলী জোড় ডেবার অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি এর আশে পাশে অপরাধমূলক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে স্টেশনের ওই জায়গা ও জোড় ডেবা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বরাদ্দ দেয়ার জন্য রেলপথ মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন চসিক প্রশাসক সুজন।

প্রশাসক রেলপথ মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন পাহাড়তলী জোড় ডেবার একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রয়েছে। এক সময় এলাকার অধিবাসীরা সুপেয় পানির সংকট দূর করতে এই দীঘি খনন করে। আজ অনাদরে অবহেলায় প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে আমরা ম্লান হতে দিতে পারি না। এই জোড় ডেবাকে আমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নান্দনিক সাজে সাজিয়ে বিনোদনকেন্দ্র রূপে গড়ে তুলতে চাই।

আশাকরি আপনি আমার প্রস্তাবে সায় দিবেন। সাক্ষাৎকালে প্রশাসকের সকল প্রস্তাব ও কথা রেলপথ মন্ত্রী মনোযাগ সহকারে শুনে বলেন, আমিও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক দুজনই ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক কর্মী। জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, প্রধানমন্ত্রীর মিশন ভিশন ২০৪০ বাস্তবায়নে আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসে চট্টগ্রাম আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সুদৃঢ় অবস্থান করে নিবে বলে আমার বিশ্বাস।

সে সময় রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুবিধাজনক সময়ে চট্টগ্রাম সফরে এসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের প্রস্তাবিত স্থানগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে এর সম্ভ্যবতা যাচাই করে দ্রুত তাঁর একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত চসিক প্রশাসককে জানাতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।