Home Tags Posts tagged with "চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সমন্বয় সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেক গবাদি পশুর বাজার পরিচালনা করতে হবে"

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সমন্বয় সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেক গবাদি পশুর বাজার পরিচালনা করতে হবে

0 0

চট্টগ্রাম, ০৪ কার্তিক (২০ অক্টোবর):

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ বলেছেন, করোনাকালে শরীরকে সম্পূর্ণ রোগমুক্ত রাখতে হলে বিশুদ্ধ পানি ও সাবান দিয়ে ভাল করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। ঘরের শিশু থেকে শুরু করে পরিবারের সকলকে ঘনঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং এ ব্যাপারে অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সুস্থ সবল জাতি গঠনে উন্নত স্যানিটেশনের কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, খোলা পায়খনা সকল রোগের উৎস। যত্রতত্র পায়খানা-প্রশ্রাব করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ঝুঁকি। বদ্ধ পায়খানা ব্যবহার থেকে বিরত থেকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি পায়খানা ব্যবহার করতে হবে। এলাকার পাবলিক টয়লেটগুলো সবসময় স্বাস্থ্য উপযোগী করে রাখতে হবে। সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আজ ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় স্যানিটেশন মাস অক্টোবর ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ জহির উদ্দিন দেওয়ানের সভাপতিত্বে ও অধিদপ্তরের সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মোর্শেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাব্বির ইকবাল ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.জেড.এম শরীফ হোসেন। স্বাগত বক্তব্যসহ মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে স্যানিটেশন মাস অক্টোবর ও হাত ধোয়া বিষয়ে আলোকপাত করেন প্রতিষ্টানের নির্বাহী প্রকৗশলী সুমন রায়।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক বোরহান উদ্দিন মোঃ আবু হাসান, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হৃষিকেশ শীল, ইউএনডিপি’র টাউন ম্যানেজার সরোয়ার হোসেন খান, দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (ডিএসকে) অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা আরফাতুল জান্নাত, ইপসা’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহানা ইদ্রিছ, উসাপ’র প্রোজেক্ট ম্যানেজার সরওয়ার হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক এনজিও সংস্থা গ্রিন হিল’র প্রধান নির্বাহী মং ওয়াইসি ও ব্র্যাক’র ফিল্ড অফিসার সুব্রত দে প্রমূখ। আলোচনা সভায় বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যৌথভাবে সভার আয়োজন করেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-“উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করি, করোনাভাইরাসমুক্ত জীবন গড়ি, সকলের হাত, সুরক্ষিত থাক।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে মুখে অবশ্যই মাস্ক পরিধানসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। জীবানুমুক্ত জীবন গড়তে হলে ওয়াশ রুম, ল্যাট্টিন, বেসিনসহ অন্যান্য জিনিষগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এমনকি থালা-বাসন ও শতভাগ বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, খাবারে মশা, মাছি, পোকা মাকড় ও অন্যান্য জীবানু যাতে না বসে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাবারের আগে ও পরে দাত ব্রাশ করা, সঠিক সময়ে নখ কাটা, গোসল করা, পরিস্কার পোষাক পরিধান করা ও নিজেকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে বিভিন্ন রোগ থেকে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ প্রতিকার পাওয়া যায়। যে খাবার শরীরের জন্য নিরাপদ নয়, সে খাবার নিজেও খাবো না অপরকে না খেতে পরামর্শ দেব। সুস্থ জীবন গড়তে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কোন বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে শতভাগ স্যানিটেশনের বিকল্প নেই। আমরা যদি নিরাপদ পানি ও অনুষ্ঠানে খাবার খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারি তাহলে মানুষ আরও দীর্ঘায়ু হবে। অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুইলে স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে। অনিরাপদ পানি পান ও দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে ডায়রিয়া রোগ দেখা দিতে পারে।

শরীরে কৃমিও প্রবেশ করতে পারে। নিয়মিতভাবে হাত ধুইলে ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ডায়রিয়া ও শ্বাস প্রশ্বাস জনিত রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। জীবনকে সুস্থ রাখতে হলে সঠিক সময়ে ও সঠিক নিয়মে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুইয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি স্যানিটেশন ও হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতন করতে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব, মন্দির ও গির্জাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রচার প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে।

0 0

সি টি জি ট্রিবিউন চট্টগ্রাম,২৫ জুলাই, ২০২০:স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার মধ্যে আর কয়েকদিন পরেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে এবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ-উল আযহা। এ উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেক গবাদি পশুর বাজার পরিচালনা করতে হবে।

গবাদি পশুর বাজারে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা আলাদা পথ রাখতে হবে। মাস্ক পরিধান ছাড়া বাজারে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সকলের মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। এটা অমান্য করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজ (২৫ জুলাই) শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণজনিত প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা বিষয়ক ৬ষ্ট বিশেষ সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ এনডিসি’র সঞ্চালনায় অনুষ্টিত কোভিড-১৯ মোকাবিলা বিষয়ক সমন্বয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান,

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোঃ সামসুদ্দোহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোঃ মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি,

জেলা পুলিশ সুপার এস.এম রশিদুল হক, জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা.মোঃ শামীম হোসেন, বিআইটিআইডি’র পরিচালক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ,

বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এ,কে এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, আগ্রাবাদ মা-শিশু জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোর্শেদ হোসেন ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক ডা. লেয়াকত হোসেন প্রমূখ।

সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, বাজার ইজারাদার কর্তৃক পর্যাপ্ত পরিমানে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার মজুদ রাখতে হবে। জাল টাকা সনাক্তকরণের মেশিন ও ব্যাংক বুথ স্থাপনসহ মলম পার্টি, থুথু পার্টি, অজ্ঞান পার্টি এবং ছিনতাইকারী রোধে আইন-শৃংখলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা এবছর কোরবানির গরু-ছাগল ক্রয়-বিক্রয় করতে বাজারে না গেলে ভালো হয়। কেপিআই’র আশপাশে গরুর হাট বসানো যাবেনা।

তিনি বলেন, ঈদের নামাজ মসজিদের বাইরে নয়, ভিতরে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আদায় করতে হবে। কোরবানির চামড়া সিন্ডিকেট রোধে প্রশাসন তৎপর থাকার পাশাপাশি বর্জ্য অপসারনে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্টদেকে আরো আন্তরিক হতে হবে।

জনাব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর প্রাক্কালে রোগীদের জন্য চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড, অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর, হাই ফ্লু ন্যাজাল ক্যানোলা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির সংকট ছিল।

বর্তমানে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য কোন কিছুর অভাব নেই। করোনা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে এখনো অনেক সিট খালি রয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নিয়ে করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে বলেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে এসেছে।

সিনিয়র সচিব বলেন, একসময় করোনার নমুনা টেস্টের রিপোর্ট পেতে বেশ কিছুদিন সময় লাগতো, আর এখন দ্রুততার সাথে মিলছে রিপোর্ট। যাদের ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, হার্ট ডিজিজ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও কিডনিজনিত রোগ আছে তারা আরো সচেতন হলে মানুষ আরো উপকৃত হবে।

কোভিড-১৯ ভাইরাস ফুসফুসে পৌঁছার আগেই শেষ করে দিতে হবে। এটি জঠিল হয়ে গেলে মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় আর ফিরে আসেনা।

বিদেশগামীদের কোভিড-১৯ টেস্ট বিষয়ে সচিব বলেন,চট্টগ্রাম বিভাগের লাখ লাখ মানুষ বিদেশে থাকে। যারা ইতোপূর্বে বিদেশ থেকে দেশে এসেছে তাদের বিদেশ যেতে হলে কোভিড-১৯ টেস্ট নেগেটিভ বাধ্যতামূলক। ঈদের পরেও অনেক লোক বিদেশ যাবে। এ জন্য তারা করোনা টেস্টের জন্য নির্দিষ্ট সেন্টারে ভীড় করছে। তাদেরকে কোন ধরণের হয়রানি করা যাবেনা, নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট দিতে হবে।

কোন বিদেশ যাত্রী যাতে বিমান বন্দর থেকে ফিরে না আসে সে বিষয়টি আরো গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। অনলাইনে রিপোর্ট দিতে গিয়ে সার্ভারে ত্রুটি দেখালে প্রয়োজনে আইসিটি মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তা সমন্বয় করতে হবে।

এ ব্যাপারো করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদেরকে আরো আন্তরিক হতে হবে। সব ধরণের রোগীদের সুচিকিৎসায় চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বার খোলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।