ড. নিয়াজ পাশা কৃষি উন্নয়নের নিবিষ্ট একজন লেখক গবেষকের নাম। বিশেষত হাওর এলাকার কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার, ঢাকায় কর্মরত থেকেও দেশের কৃষকদের স্বার্থ ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে মূলধারার গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে লিখে গেছেন। হাওর অঞ্চলের জন্য অন্তঃপ্রাণ এই কৃষিবিদ আমৃত্যু হাওরের কৃষি ও কৃষককের জন্য কাজ করেছেন।

শিক্ষাজীবন থেকেই কৃষি সাংবাদিকতার সাথে ‍যুক্ত নিয়াজ পাশা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ‘হাওর ভূমিপুত্র’ হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করা নিয়াজ পাশা অনগ্রসর হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে নিয়মিত লেখালেখির পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যাায়ে এসব দাবি বাস্তবায়নেও তৎপর থেকেছেন। জীবনের শেষ কয়েক বছর ধরে নানা শারীরিক জটিলতার মাঝেও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাওর ও কৃষি বিষয়ক নানা ইস্যুতে তাঁর লেখালেখি অব্যাহত ছিল।

ড. নিয়াজ পাশার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের নির্দেশে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর রোববার ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার পর সংকটাপন্ন অবস্থায় কৃষিবিদ ড. নিয়াজউদ্দিন পাশাকে প্রথমে বারডেম ও পরে ধানমন্ডির একটি ক্লিনিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
আজ বুধবার বিশিষ্ট কৃষিবিদ ও কৃষি সাংবাদিক ড. নিয়াজ উদ্দিন পাশার প্রথম মৃতু্যবার্ষিকী । ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ।
প্রয়াত নিয়াজ পাশার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে মরহুমের বিদেহি আত্মার শান্তি কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের লাইমপাশায় কোরআনখানি ও দোয়া এবং ঢাকায় দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।