Home Tags Posts tagged with "অস্তিত্ব হারাচ্ছে ডেমু ট্রেন"

অস্তিত্ব হারাচ্ছে ডেমু ট্রেন

0 0

সিটিজি ট্রিবিউন কামাল পারভেজ, চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারীর অভাবে অল্প কিছুদিনের ব্যবধানেই মুখ থুবরে পড়েছে ৬৩৪ কোটি টাকার ডেমু ট্রেন। ৬৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চিন থেকে আমদানী করা ২০ সেট ডেমু ট্রেনের মধ্যে চলমান আছে মাত্র ৩ সেট বাকী ১৭ সেট অকেজো হয়ে পড়ে আছে । তবে এগুলো কোথায় কি অবস্থায় আছে তাই জানেনা সংশ্লিষ্ট অনেকে। এমন পরিস্থিতি নিয়ে যাত্রী ও রেল অঙ্গনেও চলছে নানা সমালোচনা।

সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশাল অঙ্কের এই টাকা খরচ করার আগে এর আয় নিয়ে আরো চিন্তা করা উচিত ছিল কিনা নাকি প্রকল্পের নামে রেলের টাকা লুটপাট করার জন্যই এমন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে তা নিয়েও যথেষ্ঠ সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে। এছাড়াও বাস মালিকদের কাছ থেকে অনৈতিক কোন সুযোগ সুবিধা নেওয়ার জন্য কৌশলে এই ট্রেনগুলো অকেজো করে রাখা হয়েছে কিনা তা নিয়েও সন্দেহের কমতি নেই।

এব্যপারে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুরাতন স্টেশনে চলমান যাত্রীদের সাথে কথা বললে নিয়মিত রেল কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষোভ জাড়ছেন তারা। তারা বলছেন যাত্রীদের সেবা দেওয়ার জন্য নয় সরকারী অর্থ লুটপাট করে নিজেদের পকেট ভারী করতেই এই প্রকল্প। সুত্রে, ডেমু ট্রেন আমদানির সময় ১১২ কোটি টাকার স্পিয়ার পার্স আনা হয় এবিষয়ে রেলের কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে সুদ উত্তর পাওয়া যাচ্ছেনা।এদিকে দরজা মেরামতের নামেও ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় তারও কোনো হদিস মিলছেনা বলে জানা যায়।

রেলওয়ে সুত্রে যানা যায় ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে লোকাল যাত্রী পরিবহনের জন্য রেলওয়ে পুর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে ২০ সেট ডেমু ট্রেন চালানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার জন্য রেলপথ মন্ত্রনালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় ।

এব্যপারে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহা সচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন আমার মনে হয় রেলওয়ের কতিপয় অসৎ কর্মকতারা যাত্রী সেবার নাম দিয়ে অর্থ আত্মসাতের জন্যই এই প্রকল্প গ্রহন করেছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যারা সরকারের এই বিশাল অংকের অর্থ লোকসানে ফেলেছে তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপুরণ আদায় করা উচিত, তাহলে উচিত শিক্ষা হবে না হলে বারবার সরকরকে এমন ক্ষতির মুখে ফেলবে এই দুষ্টু চক্র। আর এদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহন করতে হিসেব করবে এবং সরকারের রাজস্বের টাকার সঠিক ব্যবহার হবে।

এব্যপারে কথা বলতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহা পরিচালক মোঃ সামছুজ্জামান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপাঃ) মো মিয়া জাহান ও পুর্বাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপক সরদার সাদাত আলীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি।