Home সারাদেশ

0 0

মোঃ নেছার আহম্মেদ। চট্টগ্রাম সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে চাহিদা বৃদ্ধির পাওয়ার কারণে সারাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক এলপিজি প্লান্ট। এই খাতে ব্যবসায়ীদের কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়লেও বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি নীতিমালার অভাবে লাকশান পোহাচ্ছেন বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীরা। গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের শুরুতে বোতলজাত গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বিভিন্ন অপারেটর। অভিযোগ রয়েছে, বাজারে নতুন নতুন কোম্পানি আবির্ভাব ঘটছে।

এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। ফলে ব্যবসা ঠিকিয়ে রাখতে বেশি দামে কিনে প্রতিনিয়ত কম দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ লোকসান দিতে হচ্ছে বিনিয়োগ কারীদের।
চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন পুরোনো ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,

বর্তমানে ওমেরা এলপি ডিস্ট্রিবিউটরদের ১২ কেজির বোতলের জন্য ৮৪৫ টাকার ডিমান্ড ড্রাফট (ডিডি) করতে হয়। ওই ৮৪৫ টাকা থেকে দুই সপ্তাহ পড়ে কমিশন হিসেবে ৪০ টাকা ফেরত পান সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটর। একইভাবে বিএম এলপিজির জন্য ডিডি করতে হয় বোতলপ্রতি ৮৩০ টাকা। কমিশন ও গাড়িভাড়া মিলে ৬০-৮০ টাকা ফেরত পান ডিস্ট্রিবিউটররা। একইভাবে টোটাল গ্যাসের জন্য ডিডি করতে হয় ৮১৫ টাকা।

কমিশন হিসেবে ফেরত আসে ৯-১৪ টাকা। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জ, সীতাকু- ও বারৈয়ার হাট এলাকার প্লান্ট থেকে এসব এলপিজি বোতল সংগ্রহ করে গুদামজাত এবং নগরীর খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে ৪২-৫২ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে ডিস্ট্রিবিউটরদের। পরে বাজারে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পাইকারি দামে ওমেরা বিক্রি হয় ৭৮০ টাকা, বিএম ৭৬০ টাকা, টোটাল ৮০০-৮২০ টাকা। এতে একেকটি বোতল বিক্রিতে গড়ে ৪০-৫০টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানালেন ডিস্ট্রিবিউটররা।

তবে বসুন্ধরা, সুপারসহ কয়েকটির দাম কম থাকলেও বাজারে সিলিন্ডার সংকট থাকার কথা বলছেন তারা। বর্তমানে বাজারে বসুন্ধরা, যমুনা, বিএম, ওমেরা, টোটাল, জি-গ্যাস, পেট্রোম্যাক্স, লাফস্, ইউনি গ্যাস, ডেল্টা, ফ্রেশ, জেএমআই, নাভানা, ওরিয়ন, বেক্সিমকো, সেনা, ইউনিভার্সাল, ইউরো, ইনডেক্স, বিন হাবিব, পদ্মা, প্রমিতা, নেওয়াজ, সুপার নামের প্রতিষ্ঠানগুলো এলপি গ্যাস বাজারজাত করছে বলে জানা যায়।

বাকলিয়া এলাকার ওমেরা, বিএম, অরিয়নসহ বেশ কয়েকটি ব্রান্ডের ডিলারশিপ নিয়েছেন মোক্তার হোসেন লিটন। বাকলিয়ায় নাজিম উদ্দিন শাহ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে এ ব্যবসায়ে জড়িত। তিনি বলেন, ‘প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অপারেটর বাজারে আসছে।

নতুন নতুন ডিস্ট্রিবিউটর নিচ্ছেন তারা। এতে এ ব্যবসায়ে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। প্রতি মাসে টার্গেট নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে। আবার টার্গেট পূরণ করতে না পারলে ডিস্ট্রিবিউটরশীপ বাতিলেরও হুমকি রয়েছে। মাসের পর মাস বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোটিপতি অনেক ডিস্ট্রিবিউটরও এখন পথে বসেছে।
এব্যবসায়ী আরো বলেন, ‘এলপিজি বাজারজাতকরণের জন্য কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। যে কারণে বোতলজাত এলপি গ্যাস ব্যবসায়ে এখন নৈরাজ্য চলছে। যে যার মতো করে বিক্রি করছে। এতে বিভিন্ন কোম্পানি ডিস্ট্রিবিউটররা মার খাচ্ছে।’

হালিশহর এলাকার সুপার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির স্বত্ত্বাধিকারী জহুরুল হক জম্মু অনলাইন পোর্টাল সিটিজি ট্রিবিউন কে বলেন, ‘কমিশন বাদ দিয়েও গাড়িভাড়া, গুদাম ভাড়া, স্টাফ খরচ মিলে আমার মাসে দেড় লাখ টাকা খরচ আসে। কিন্তু আয় হয় ৫০-৬০ হাজার টাকা। গত দেড় বছর ধরে প্রতিমাসে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা লোকসান গুনছি।

প্রথমে ব্যবসা ভালো চললেও বর্তমানে কয়েক লক্ষ টাকা দেনায় পড়ে গেছি। চকবাজার ও বাকলিয়া এলাকার রংধনু এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধীকারী মো. করিম। তিনি বলেন, ‘প্লান্ট থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি পর্যন্ত একটি বোতলে ৪৫-৫২ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সবমিলিয়ে প্রতিবোতল গ্যাসের জন্য খরচ পড়ে ৮০০-৮৫০ টাকা। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ৭৬০ থেকে ৮২০ টাকা। গত দুই মাসে বেশ কয়েকটি কোম্পানি তাদের গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বাজারে নতুন নতুন কোম্পানি আসছে।

ফলে নতুন নতুন ডিস্ট্রিবিউটর নিচ্ছেন তারা। তৈরি হচ্ছে নতুন বাজার ব্যবস্থা।এতে মাঠপর্যায়ে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। অনেকে অভিজ্ঞতা না নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরশিপ নিয়ে নতুন নতুন বিনিয়োগ করে বসছে এই খাতে। ফলে ব্যবসায় এসে বিপাকে পড়ছেন তারা। গত এক থেকে দেড় বছর ধরে টানা লোকসান দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানালেন এ ব্যবসায়ী।

আরেক ডিস্ট্রিবিউটর শাহ মোহছেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মো. কামাল ভুইয়া জানান, এখন আমরা অনেক ক্ষতির শিকার হচ্ছি। কোম্পানি থেকে কিনে এনে প্রতিযোগিতার কারণে কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। দিন দিন খারাপ হচ্ছে এ ব্যবসা। আমরা যখন ব্যবসা শুরু করি তখন হাতেগোনা ৪-৫টি কোম্পানি ছিল। এখন ২৯টির মতো কোম্পানি বাজারে আছে।

আমার প্রতিমাসে ২০-৩০ হাজার টাকা লোকসান দিচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে।

0 0
৭ নভেম্বরের ‘ইতিহাসের মাইন ফিল্ডে হাঁটলে যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত জাসদ যা করেছে, ইতিহাস বলবে, তা সঠিক, নাকি ভুল ছিল। সেই সময় বিপ্লবে ২০ হাজার লোক মারা গিয়েছিল। ‘মুক্তিযুদ্ধের পরে যেন প্রতিবিপ্লব না হয়, এ জন্য বিএলএফ গঠন করা হয়েছিল বলে মতদেন কিছু নেতা।
 ১৯৭৫ সালের ৭  নবেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লবের পর কর্নেল তাহেরের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয় ঐ মামলায় কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয় । মেজর জলিলের ২০ বছর তথা যাবজ্জীবন এবং আ স ম আবদুর রবের ১৪ বছর কারাদন্ড হয়। মাহমুদুর রহমান মান্নাকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাকে আওয়ামী লীগে ফেরত আনা হয় এবং  তার অসাধারণ বাগ্মীতা এবং সাংগঠনিক ক্ষমতার কারণে তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
“যখন জাসদের ঠিকুজির নিকুচি করা হচ্ছে তখন মূল সভাপতি কোনো কথা বলছেন না। বলছেন কার্যকরী সভাপতি!!! অথচ যেদিন গণবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়, সেদিন এই কার্যকরী সভাপতি চট্টগ্রামের নেতা। বাংলাদেশের মতো সমতল ভূমির একটি দেশে যাকে সাপোর্ট দেয়ার মতো কোনো প্রতিবেশী দেশও নেই সেখানে গেরিলাযুদ্ধ কীভাবে সম্ভব, এ প্রশ্ন যখন দলের কেন্দ্রীয় ফোরামের প্রায় সবাই তুলেছিলেন তখন হাসানুল হক ইনু সে প্রশ্নের জবাব দিয়ে গণবাহিনী গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিলেন। তাকে গণবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডার বানানো হয়েছিল। কর্নেল তাহের ছিলেন এক নম্বর নেতা। সিরাজুল আলম খানের ভূমিকা সেদিন সামগ্রিক প্রক্রিয়ার মূল নেতা হিসেবে মুখ্য ছিল না। ১৭ মার্চ ১৯৭৪ মনসুর আলীর বাড়ি ঘেরাওয়ের পর গণ আন্দোলনের ছেদ ঘটিয়ে তাকে বিপ্লবী আন্দোলনে রূপান্তরের বক্তব্যের সঙ্গে যদিও তিনি একমত ছিলেন (যা জাসদের মূল গণ-লাইনের পরিপন্থী ছিল), কিন্তু পরবর্তীতে কয়েকবার তিনি গণসংগঠন বাদ দিয়ে গণবাহিনীতে যোগ দেয়ার বিরোধিতা করেছেন।
গণবাহিনী গঠিত হয় ‘৭৪ সালে। তখন মুজিব বাহিনী নামে কোনো সংগঠন দেশে ছিল না। ওটা তো যুদ্ধশেষেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। আর গণবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার কর্নেল তাহের তো মুজিব বাহিনীতে ছিলেন না।
ছাত্রলীগের মধ্যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব তো আগেই ছিল। স্বাধীনতার পর তাই ছাত্রলীগ ভেঙ্গে যায়।
গঠিত হয় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ। শেখ মুজিবের সরকার তার ওপর লাল ঘোড়া দাবড়িয়ে দেন। শুরু হয় ভয়াবহ নির্যাতন। সিদ্দিক মাস্টার থেকে শুরু করে অজস্র নেতাকর্মী নিহত হন। রক্ষীবাহিনী তৈরি করে দেশব্যাপী তান্ডব চালানো হয়। ১৯৭৩ সালে ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়। হত্যা করা হয় সিরাজ শিকদারকে। অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।  দেশব্যাপী চলতে থাকে এক ভয়াবহ নৈরাজ্য।
দেশের অন্যতম দল হিসেবে জাসদ এর বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করে এবং আজকের মতোই সেই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করে তখনকার সরকার। জাসদ নেতা মেজর জলিল, আ স ম আবদুর রবের ওপর হামলা চালানো হয়। পথিমধ্যে তাদের গাড়িতে চালানো হয় গুলী। এক কথায় আজকের মতোই সরকারি বাধার মুখে আন্দোলনের পথগুলো রুদ্ধ হয়ে যেতে থাকে। এর কফিনে শেষ পেরেক মারা হয় ‘৭৪ সালের ১৭  মার্চ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনসুর আলীর বাসভবনের সামনে জাসদের অবস্থান কর্মসূচির ওপর গুলীবর্ষণ করে বরিশাল বিএম কলেজের জিএস জাফরসহ অনেককে হত্যা করে। গ্রেফতার করা হয় মেজর জলিল এবং আ স ম আবদুর রবকে।
চূড়ান্ত হতাশা নেমে আসে জাসদ নেতা-কর্মীদের মাঝে। সরকার যদি গণআন্দোলন করতেই না দেয়, তাহলে বিকল্প আর কী খোলা থাকে ? মাত্র আড়াই বছর আগে যুদ্ধের ময়দান থেকে উঠে আসা জাসদের তারুণ্যে, যৌবনে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। গঠিত হয় গণবাহিনী।
এখনো চলছে বিরুদ্ধবাদী যে কোনো কিছুকে দমন করার সর্বাত্মক সাঁড়াশি আক্রমণ। এ জন্যই সরকারের তল্পিবহন করা সত্ত্বেও জাসদকে রেহাই দেয়া হচ্ছে না। তার ঠিকুজি উদ্ধার করা হচ্ছে। এবং সেটা করছে ‘ অদ্ভুত ”এক বিরোধী দল। কিন্তু জাসদ কী করছে ? খণ্ডিত হতে হতে এখন জাসদের একটি অংশ বহুকষ্টে সংসদে ঢুকে গেছে, সরকারে শরিক হয়েছে। আওয়ামী ক্ষমতার স্বাদ নিয়ে তাদেরই প্লেট ফুটো করতে কি পারেন তারা ?
২০ হাজার লোক মারা গিয়েছিল, কিভাবে ? অসুখ – বিসুখে মারা যাওয়ার কথা নিশ্চয়ই বলেননি তিনি। কিন্তু এর বেশি সাহসী হতে পারেননি তিনি। কারণ তখন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদসহ অন্যরা তাকে গণবাহিনী নিয়ে কথা বলতে বলছেন।
মুক্তিযুদ্ধ কালে যারা বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা বিএলএফ এর সদস্য ছিলেন তাদের তালিকা প্রকাশ করা  হোক। উল্লেখ করা যেতে পারে যে বিএলএফ এর অপর নাম হলো মুজিব বাহিনী। সেদিন শুধু জাসদ এবং গণবাহিনীই নয়, সেদিন অর্থাৎ ১৯৭২-১৯৭৫ সালে বিরোধী দলের ২০ হাজার নেতা কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
 “১৯৭৩ সালের নির্বাচনের ছয় মাস পরে ১ সেপ্টেম্বর ৭৩ এক প্রচারপত্রে জাসদ বলে, “ভারতের ৭৫ টি বিড়লা টাটাদের প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠী ও বর্তমান সোভিয়েতের ব্রেজনেভ কোসিগিন প্রতিক্রিয়শীল চক্রে’র প্রতিনিধি শেখ মুজিবের ‘ফ্যাসিস্ট জাতীয় বিশ্বাসঘাতক সরকারকে উৎখাত করার জন্য, ঘুণে ধরা এই সমাজ ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে নূতন সমাজের ভিত রচনা করার জন্য আমাদের জীবন উৎসর্গ করবো।” এ জাতীয় বিবৃতির ভাষায় সরকারের প্রতি যেমন সাধারণ মানুষের ঘৃণার সৃষ্টি হতো, তেমনি বোকা সরল গোছের অনেক তরুণ মনে করত, রুশ বিপ্লব ও চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের চেয়ে বড় কোনো বিপ্লব এল বলে এবং মুজিবের পতন আসন্ন।
মেহনতি মানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে ‘ফ্যাসিস্ট মুজিব সরকারের উৎখাত দাবি করে ১৯৭৪-এ জাসদ এক প্রচার পত্রে ঘোষণা করে, “ফারাক্কা বাঁধ প্রশ্নে শেখ মুজিবচক্রের “ মেনিমুখো” নীতি বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্নে এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। আগামী অক্টোবরে কিংবা নবেম্বরে ফারাক্কা বাঁধ চালু হলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ক্রমেই মরুভূমিতে পরিণত হবে।
১৫  নবেম্বর ১৯৭৫ জাসদ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানায় এই বলে, “১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযুদ্ধের পরপরই ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে এবং ১৯৭২ সালের মে মাসে শেখ মুজিবের ভারত-রাশিয়া ঘেঁষা আত্মঘাতী নীতি ও কুশাসনের বিরোধিতা করায় আমাদেরকে জেল জুলুম সহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। … সত্যিকারের “জনতার গণতন্ত্র” প্রতিষ্ঠাকল্পে ১৯৭২ সালের অক্টোবর মাসে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করা হয়। শেখ মুজিবের ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপ প্রতিরোধের জন্য আমরা খুবই  গোপনে অথচ তৎপরতার সাথে গড়ে তুলি সারা দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, প্রাক্তন সৈনিকদের সমবায়ে “বিপ্লবী গণবাহিনী”। অতি গোপনে আমরা সংগঠিত করি বাংলাদেশের প্রতিটি সেনা নিবাসের সৈনিক ভাইদেরকে “বিপ্লবী  সৈনিক সংস্থার” মাধ্যমে। এসবের খানিকটা আঁচ করতে পেরে শেখ মুজিব আমাদেরকে সহ জাসদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয় কৃষক লীগের ১০ হাজারেরও বেশি নেতা ও কর্মীকে কারাগারে নিক্ষেপ করে। হত্যা করে এক হাজারেরও অধিক কর্মীকে।
এই বক্তব্যের সঙ্গে দেশ ও জাতির সামনে জাসদ তিনটি মারাত্মক প্রশ্ন উত্থাপন করে। তার প্রথমটির ভাষা, “ভারত-রাশিয়া-আমেরিকা বিশেষ করে ভারতের আগ্রাসন নীতির বিরুদ্ধে আমরা গোটা দেশ ও জাতি রুখে দাঁড়াব কি না ? তারপর তারা আট দফা ‘কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জঙ্গি জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার প্রথম দফা: ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে “জনতার প্রতিরক্ষা কমিটি” গঠন করতে হবে যেন কোনো ভারতীয় চর, চোরাচালানী ও পাচারকারী এ দেশের মাটিতে পা ফেলতে না পারে। এক হাজার সাত শ শব্দের ‘আহ্বান’ শেষ হয়েছিল ‘ খোদা হাফেজ বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগানে।
তাহেরের ফাঁসির দুই মাস আগে ‘জাসদ ও বিপ্লবী গণবাহিনী’ থেকে দেশবাসীর প্রতি যে আহ্বান জানানো হয়, তার শিরোনাম: ‘ভারতীয় হামলা রুখে দাঁড়াও: গ্রামে – গঞ্জে, শহরে – নগরে প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোল’ / ‘বিপ্লবী গণবাহিনী ও বিপ্লবী সিপাহীরা এক হও।’ ওই ইশতেহারে একটি ১২ দফা দাবি জানানো হয়েছিল। তার প্রথম দফা: ‘ভারতীয় আগ্রাসন নীতির বিরুদ্ধে শহরে – নগরে, গ্রামে – গঞ্জে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ১২ নম্বর দাবি: ‘ভারত – রাশিয়া – আমেরিকা বিশেষত ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সমস্ত গোপন ও অসমচুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। শেষ হয়েছিল ‘বিপ্লব অনিবার্য। বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ কথা দিয়ে। জাসদের ৭০ দশকের অবস্থান এবং আজকের অবস্থানের মধ্যে কি আসমান জমিন ফারাক। অন্য কোনো দল এরকম সম্পূর্ণভাবে চোখ উল্টায়নি । জাসদ সম্পর্কে লিখতে হলে আরো অনেক কথাই লিখতে হয়। কিন্তু স্থানাভাবে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। তবে যেসব তথ্য ওপরে পরিবেশিত হল সেখান থেকে একথাটি পরিষ্কার যে নীতি আদর্শকে তারা সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়েছে। এরা যখন অন্যদেরকে মাইনাস করার কথা বলে তখন তারা বোঝে না যে ইতোমধ্যেই তারা মাইনাস হয়ে বসে আছে।
১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত হবার ১০ দিন পর জিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হতে অবসর গ্রহণ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের হত্যাকাণ্ডের  পর, খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপরে ঐ বছরের ২৫শে আগস্ট জিয়াউর রহমান চিফ অফ আর্মি স্টাফ নিযুক্ত হন।ঐ বছরের ৩রা নভেম্বর বীর বিক্রম কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বাধীন ঢাকা ৪৬ পদাতিক ব্রিগেডের সহায়তায় বীর উত্তম মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান। এর ফলে ৬ই নভেম্বর খন্দকার মোশতাক আহমেদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হন। এর পর জিয়াউর রহমানকে চিফ-অফ-আর্মি স্টাফ হিসেবে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং তার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে গৃহবন্দী করে রাখা হয়, যা সেনাবাহিনীর মধ্যে তার জনপ্রিয়তার কারণে অত্যন্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় এবং জিয়ার প্রতি অবিচার করায় ক্ষুব্ধ সেনাসদস্যরা ৭ই নভেম্বর সিপাহী জনতা আরেক পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং জিয়াউর রহমানকে তার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করে ২য় ফিল্ড আর্টিলারির সদরদপ্তরে নিয়ে আসে। ঐ দিন সকালেই পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় শেরে বাংলা নগরে নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত ১০ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদরদপ্তরে ক্ষুব্ধ জোয়ানদের হাতে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম,কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা বীর বিক্রম এবং লেঃ কর্নেল এ টি এম হায়দার বীর উত্তম নিহত হয়।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি জনতা বিপ্লবের পর তিনি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ১৯শে নভেম্বর ১৯৭৬ সালে তাকে পুনরায় সেনাবাহিনীর চিফ অফ আর্মি স্টাফ পদে নিযুক্ত করা হয় এবং উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়। জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ৮ই মার্চ মহিলা পুলিশ গঠন করেন, ১৯৭৬ সালে কলম্বোতে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সম্মেলনে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ ৭ জাতি গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালেই তিনি উলশি যদুনাথপুর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন উদ্বোধন করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯শে নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। ১৯শে নভেম্বর ১৯৭৬ সালে তাকে পুনরায় সেনাবাহিনীর চিফ অফ আর্মি স্টাফ পদে দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়[২৪] তিনি ১৯৭৬ সালে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন, ১৯৭৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি একুশে পদক প্রবর্তন করেন এবং রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত সায়েমের উত্তরসূরি হিসেবে ২১শে এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়া দেশে আবার গণতন্ত্রায়ণের উদ্যোগ নেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন। দেশের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির আভাস দিয়ে তিনি বলেন
“ I will make politics difficult for the politicians.”
১৯৭৮ সালের ৩রা জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান জয়লাভ করেন। এই নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। এখানে উল্লেখ্য যে, এ নির্বাচনে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। ২ জনের মনোনয়নপত্র বাছাই –এ বাদ পড়ায় বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা ৯ জন। ১ জন আপিল দাখিল করায় ও তার আপিল গৃহীত হওয়ায় এবং কোন প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা ১০ জন ছিল। এরপর জিয়াউর রহমান মে মাসে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা এবং আস্থা যাচাইয়ের জন্য ৩০শে মে গণভোট অনুষ্ঠান ও হ্যাঁ-সূচক ভোটে বিপুল জনসমর্থন লাভ করেন।
আইন শৃঙ্খলা
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই জিয়াউর রহমান দেশে শান্তি শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে আত্মনিয়োগ করেন। এতদুদ্দেশ্যে তিনি পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করেন। পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ করে তিনি তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা গ্রহণ করেন। ‍সশস্ত্র বাহিনীতেও তিনি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। এতদুদ্দেশ্যে তিনি কঠোর প্রশিক্ষণ ব্যাবস্থার মাধ্যমে ‍সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত শৃঙ্খলা উন্নয়নের কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং তাদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করেন। ‍সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে যথেষ্ট সফল হলেও জিয়াউর রহমানকে বেশ কয়েকটি সেনা-বিদ্রোহ ও সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার মোকাবেলা করতে হয়। এসব বিদ্রোহ দমনে বাধ্য হয়ে তাকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।
বহুদলীয় গণতন্ত্র
নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং অবাধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান যত দ্রুত সম্ভব রাজনীতির গণতন্ত্রায়ণে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের আমলে নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এইভাবে, তিনি সংবাদপত্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করেন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে প্রধান করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করেন। ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে তিনি ৭৬.৬৭% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং রাষ্ট্রপতির পদে নিয়োজিত থাকেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া এই দলের চেয়ারপারসন (Chairperson)। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান ও মধ্যপন্থীসহ সকল স্তরের লোক ছিলেন। বিএনপির সব থেকে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫% সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ। ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন।
জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহবায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যদের নাম এবং ১৯শে সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, বিএনপি গঠন করার আগে ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮শে আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে আব্দুল মালেক উকিল এর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ৩৯টি ও মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ৮টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ১টি ও মুসলিম ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি আসনে জয়লাভ করে।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন
জিয়া প্রবর্তিত উন্নয়নের রাজনীতির কতিপয় সাফল্য:
(১) সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান।
(২) জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি।
(৩) বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া।
(৪) দেশে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব।
(৫) সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুনর্খনন।
(৬) গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান।
(৭) গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান ও গ্রামোন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) গঠন।
(৮) গ্রামাঞ্চলে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি বন্ধ করা।
হাজার হাজার মাইল রাস্তা-ঘাট নির্মাণ।
(৯) ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ করে গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধিকরণ।
(১০) নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ভেতর দিয়ে অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ।
(১১) কলকারখানায় তিন শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি।
(১২) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশকে খাদ্য রপ্তানির পর্যায়ে উন্নীতকরণ।
(১৩) যুব উন্নয়ন মন্ত্রাণালয় ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুব ও নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ।
(১৪) ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সকল মানুষের স্ব স্ব ধর্ম পালনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ।
(১৫) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন।
(১৬) তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামের জনগণকে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
(১৭) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আসনলাভ।
(১৮) তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি।
(১৯) দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ।
(২০) বেসরকারি খাত ও উদ্যোগকে উৎসাহিতকরণ।
জনশক্তি রপ্তানি, তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্পসহ সকল অপ্রচলিত পণ্যোর রপ্তানির দ্বার উন্মোচন।
(২১) শিল্পখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ।
(২২) ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পরপরই জিয়াউর রহমান দলের কর্মীদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেন, যার মাধ্যমে দলের কর্মীদের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, দলের আদর্শ, সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হত।
১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে এরকম একটি কর্মশালা উদ্বোধনকালে তিনি দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন,
“ কোন রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মকে ভিত্তি করে হতে পারে না। একটা অবদান থাকতে পারে। কিন্তু ধর্মকে কেন্দ্র করে কখনোই রাজনীতি করা যেতে পারে না। অতীতে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে যে ধর্মকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সময়ে যখনই রাজনীতি করা হয়েছিল সেটা বিফল হয়েছে। কারণ ধর্ম ধর্মই। আমাদের অনেকে আছে যারা আমাদের দেশে যে বিভিন্ন ধর্ম রয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেন। রাজনীতির রূপরেখা বানাতে চেষ্টা করেন, আমরা বারবার দেখেছি তারা বিফল হয়েছে। ধর্মের অবদান থাকতে পারে রাজনীতিতে, কিন্তু রাজনৈতিক দল ধর্মকে কেন্দ্র করে হতে পারে না। এটা মনে রাখবেন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ”
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর জিয়া বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতিমালায় বিশেষ পরিবর্তন আনেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তির দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে বিশেষ একটি কূটনৈতিক অবস্থানের সৃষ্টি হয়, যার ফলে বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশি ভারত সহ সোভিয়েত ইউনিয়নের বন্ধুতা অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক নৈকট্য গড়ে তুলেছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক স্নায়ু যুদ্ধের তৎকালীন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য সংস্কার করেন যার দুটি মূল দিক ছিল সোভিয়েত ব্লক থেকে বাংলাদেশের সরে আসা ও মুসলিম বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক স্থাপন করা । জিয়াউর রহমান সোভিয়েত ইউনিয়ন ব্যতীত প্রাচ্যের আরেক পারমাণবিক শক্তি চীনের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হন। তার পররাষ্ট্রনীতি সংস্কার প্রক্রিয়ার আওতায় আরও ছিল বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরব বিশ্বের সাথে সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ, যে সম্পর্কে স্বাধীনতার পর থেকেই শৈত্য বিরাজ করছিল। মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সুবিধা ও উপকারিতা বাংলাদেশ আজও পুরোমাত্রায় উপভোগ করছে, কেননা বর্তমানে সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থলে পরিণত হয়েছে তার রূপরেখা জিয়াই রচনা করে গিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সাথে স্থাপিত সম্পর্ক অনেকটা অর্থনৈতিক হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে স্থাপিত সম্পর্কে সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক ইস্যুগুলোও প্রাসঙ্গিক ছিল। বিশেষ করে চীনের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পু্নর্গঠনের কাজ অনেকটা ত্বরান্বিত করেছিলেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্রাগারের দিকে তাকালে সেই সত্যই প্রতিফলিত হয়। সামরিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর সাথে উন্নত কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে জিয়া রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা বিমানের আধুনিকীকরণও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এছাড়াও প্রেসিডেন্ট জিয়ার পররাষ্ট্র নীতির সাফল্যে বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালে শক্তিশালী জাপানকে হারিয়ে প্রথমবারের মত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়।
প্রাথমিকভাবে এসব সংস্কার বৃহত্তর প্রতিবেশি ভারতের সাথে সামান্য দূরত্ব সৃষ্টির ইঙ্গিত বহন করলেও জিয়াউর রহমান যে আঞ্চলিক সহায়তাকে গুরুত্ব দিতেন সেই সত্যের প্রতিফলন ঘটে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহায়তা সংস্থা (সার্ক) গঠনে তার উদ্যোগ ও অবদানের মধ্য দিয়ে। যেহেতু ভারত সে সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের অত্যন্ত বন্ধুভাবাপন্ন ছিল, স্নায়ুযুদ্ধের অপরপক্ষ অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশ কূটনৈতিক নৈকট্য ভারতের সাথে দূরত্ব সৃষ্টির একটি কারণ হতে পারত। চীনের সাথে বাংলাদেশের তৎকালীন সদ্যস্থাপিত সুসম্পর্কও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার বদলে সহযোগিতা স্থাপিত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে যার ফলে বাংলাদেশ সহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো উপকৃত হবে। এই লক্ষ্যে তিনি সার্কের রূপরেখা রচনা করেন যা পরে ১৯৮৫ সালে বাস্তবে রূপ নেয় ও প্রতিষ্ঠিত হয় সার্ক।
লায়ন আনোয়ার হোসাইন উজ্জ্বল
বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
বিভিন্ন তথ্য সুত্র উইকিপিডিয়া

আজকের সূর্যোদয় চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার, সিটিজি নিউজ বিডি ডট কমের নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য, চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ। অসম্ভব প্রাণবন্ত, মিশুক, সাদা মনের মানুষ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ব্যাটারি গলির তার নিজ বাসা থেকে বের হয়, এরপর থেকে সে নিখোঁজ । মোবাইল ফোন ও বন্ধ। কোথাও খোঁজ মিলছে না।

কোতোয়ালী থানায় জিডি করেছেন আজকের সূর্যোদয়ের সহকারী সম্পাদক জুবায়ের সিদ্দিকী (নম্বর ২২৩৩)।পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, ২৮ অক্টোবর রাতে গোলাম সরওয়ার বাসায় গিয়েছির। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল নয়টায় চট্টগ্রাম নগরীর ব্যাটারি গলিস্থ বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার সব মোবাইল বন্ধ রয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি।

জিডির বিষয়ে নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমরা দেখছি বিষয়টি।

নিখোঁজ সাংবাদিক গোলাম সরোয়ারকে সম্প্রতি নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে ফোন করে হুমকি দেয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন (বিএফইউজে) বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী । তিনি সাংবাদিক গোলাম সরোয়ারের অবিলম্বে সন্ধান দিতে দায়িত্বশীলদের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন ।

গোলাম সরওয়ারের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলামসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

অসহায় স্ত্রী, সন্তানরা কাঁদছে। পরিবারের সদস্য, সহকর্মী সবাই উদ্বিগ্ন। সরোয়ার কোথায়? বলতে পারছে না কেউ।

নিশ্চয়ই সরোয়ার ফিরে আসবে, ওর কলিজার টুকরো ২ শিশু সন্তানকে বেশিক্ষণ অপেক্ষায় রাখবে না। সহকর্মীদের, প্রিয়জনদের এভাবে উৎকন্ঠায় রাখবে, সরোয়ার এমন ছেলে নয়!

সবার প্রার্থনায় সরোয়ারকে রাখুন। চেরাগি মোড় আবার উদ্ভাসিত হোক এই তরুণ সাংবাদিকের সারল্যময় হাসিতে! আল্লাহ সহায়…

0 0

এইচ.এম.আব্বাস :ইসলামবিদ্বেষী সেক্যুলার রাষ্ট্র ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাঙ্গচিত্র কার্টুন প্রদর্শনের প্রতিবাদে জামিয়া ইসলামিয়া বাবুনগরের মসজিদে মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে,মুফতি ইকবাল এবং মুফতি মুহাম্মাদের সঞ্চালনায়হ এক বিশাল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপিস্থিত ছিলেন জামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা হাবিবুল্লাহ বাবুনগরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাবিদ ও সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা ড.হারুন আযিযী নদভী।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া বাবুনগরের সহকারী পরিচালক মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, সিনিয়র মুহাদ্দিস মীর হুসাইন রামগড়ী, হাফিজ শোয়াইব, মুফতি রহিমুল্লাহ শাহনগরী, আল্লামা মাহমূদ শাহ ধর্মপুরী, মুফতি মুঈনুদ্দীন বাবুনগরী, মাওলানা ফরিদুল আলম সাতকানবী, মুফতি একরাম পাঠকনগরী, ফরিদুল আলম আমিনী, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা আকবর, কারী ওবাইদুল্লাহ সহ জামিয়ার আসাতেযায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের ছাত্রবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ফ্রান্স আমাদের প্রিয় নবীর ব্যঙ্গচিত্র কার্টুন প্রদর্শনী করে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর অন্তরে আঘাত দিয়েছে। এতে জামিয়া প্রধান আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নির্দেশে আল্লামা হারুন আযিযী নদভী নিম্নোক্ত সাতটি দাবী রাখেন।
১. ফ্রান্সের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।
২. ফ্রান্সের সব ধরণের পণ্য বর্জন করতে হবে।
৩. অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. ফ্রান্স সরকারকে বিশ্বের সকল মুসলিমদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৫. সারাবিশ্বে মুসলিম নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
৬. বাংলাদেশ পার্লামেন্টে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফ্রান্স সরকার প্রতি নিন্দা জানাতে হবে।
৭. আন্তর্জাতিক বিচার বিভাগে মানহানি মামলা করতে হবে।
আল্লামা বাবুনগরী তিনি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন দল,মত নির্বিশেষে রাসুলের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে, সকল পত্র-পত্রিকায় নিন্দা বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশ করতে হবে এবং অবমাননাকারিদের বিরুদ্ধে আমাদের সকল কার্যক্রম সুন্নাহভিত্তিক হতে হবে।
সর্বশেষ জামিয়ার সহকারী পরিচালক আল্লামা আইয়ুব বাবুনগরীর মুনাজাতের মাধ্যমে প্রতিবাদ সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।ু

0 0

মুজিব বর্র্ষের শপথ,সডক করব নিরাপদ” এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে নড়াইলে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল দশটায় এ উপলক্ষে নড়াইলে জেলা প্রশাসক এবং বিআরটিএ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমী মজুমদার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, বিশেষ অতিথি ছিলেন আতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো ইমারুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক ও রেলপথ বাস্তবায়ন পরিষদ এর প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম,

বিআরটিএ নড়াইল সার্কেল এর সিনিয়র ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো সাদেক হোসেন খান প্রমুখ। এ সময় প্রেসক্লাবের সভাপতি ইনামুল হক টুকু, নিরাপদ সড়ক ও রেলপথ বাস্তবায়ন পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সঞ্চিতা হক রিক্তা, ভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের সদস্য,

নিরাপদ সড়ক ও রেলপথ বাস্তবায়ন পরিষদ নিসরাপ এর সদস্য এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে এবার র‌্যালী না করে সীমিত আকারে আলোচনা অনুষ্ঠানের করা হয়েছে। নিরাপদ সড়ক ও রেলপথ বাস্তবায়ন পরিষদ নিসরাপ এর চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম তাঁর বক্তব্যে নিরাপদ সড়ক ও রেলপথ বাস্তবায়ন পরিষদ এর পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এবং আরো সর্তক হয়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাংলাদেশকে সড়ক দুর্ঘটনা মুক্ত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

0 0

ঢাকা,খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেকটা কমেছে।রাতে আরো কিছু বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।চট্টগ্রাম বিভাগে আজ সারারাতই বৃষ্টি চলতে পারে।সর্বশেষে রংপুর বিভাগের কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাত চালু হয়েছে এবং তা আরও অনেক এলাকায় হতে পারে।আগামীকাল দুপুর/বিকেল হতে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করতে পারে।২৫/২৬ তারিখ থেকে দেশের মধ্যে রোদের দেখা মিলতে পারে যদিও কিছু এলাকায় আকস্মিক বৃষ্টি থাকতে পারে মাসের বাকিটা সময়।

🌀🌀 নিম্নচাপ আপডেটঃ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আজ দুপুর থেকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে এবং এখন এটির অবস্থান ঢাকা থেকে ৮০-৯০ কি.মি. পশ্চিমে রাজবাড়ী জেলার এদিকে।নিম্নচাপের কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫-৪৫ কি.মি.।এটি আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকবে এবং ক্রমশ শক্তি হারিয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে আজ রাতেই এবং আগামীকাল ভোর নাগাদ এটি বাংলাদেশ অতিক্রম সম্পন্ন করে ময়মনসিংহ বিভাগের উপর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারে।এর প্রভাবে অনেক এলাকায় বাতাসের সাধারণ গতিবেগ বৃদ্ধি পেয়েছে যা আগামীকাল সকাল নাগাদ হ্রাস পাবে।

💧💧নদ-নদীর অবস্থাঃ নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা যাচ্ছে।আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত এই পানি থাকতে পারে।ভারী বর্ষনের কারণে উত্তর,উত্তর-পূর্ব, মধ্য,দক্ষিন-পূর্ব এবং দক্ষিনাঞ্চলে নদ-নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে তবে বন্যার সম্ভাবনা নেই।কিন্তু ২-১ টি নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

🚩🚩 ৩ নং সতর্ক সংকেত বহাল আছে এখনও।

🚫🚫 আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত নদীপথ এবং সাগরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

🔵 সতর্ক থাকুন,ভালো থাকুন।

🌧🌧 ছুটির দিনে কার কিরকম দিন কাটালো জানাবেন আমাদের।

ধন্যবাদ সবাইকে।
মহিউদ্দিন আহমেদ
বন্যা সম্পর্কিত এবং দৈনিক আবহাওয়া গবেষক
এবং সার্বিক সহায়তায় gwet মেম্বার্স।
#gwet_weather

লিয়াকত হোসেন রাজশাহী ব্যুরো: আলহাজ্ব শাহাদত আলি শাহু বলেছেন, এই বাংলাদেশ সবার, এখানে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই সমান।

শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে শনিবার রাসিকের ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব শাহাদত আলি শাহু হিন্দু ধর্মাবলম্বী দুঃস্থ নারী পুরুষদের মধ্যে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণকালে একথা বলেন তিনি।

আগামী ২২ তারিখ হতে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মের সব থেকে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দূর্গোৎসব। এ উপলক্ষে রাসিক শাহমখদুম থানা আওয়মীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব শাহাদত আলী শাহু হিন্দু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের দরীদ্র ও অসহায় ৫০০ পরিবারের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন। শনিবার বিকেলে তার নিজ কার্যালয়ের সামনে এ কাপড় বিতরন করা হয়।

এসময় তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ ধর্ম আনন্দের সাথে পালন করার অধিকার রয়েছে। তাই এ উৎসবের সময় তারা নতুন কাপড় পড়ে উৎসব করবে এটাই আমার চাওয়া। তাই সেজন্যই আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।

তিনি প্রতি বছর সকল ধর্মের উৎসবের সময় সাধ্যমত সহয়তা এবং শাড়ী ও লুঙ্গিসহ অন্যান্য পোষাক বিতরণ করেন বলে জানান তিনি। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন,শাহ্ মখ্দুম থানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মফিজউদ্দিন।

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে থেকে ভারতে যাওয়ার সময় দালালসহ ৬ জনকে আটক করেছে বিজিবি। শুক্রবার ভোররাতে মহেশপুর উপজেলার মাইল বাড়িয়া মাঠের মধ্য হতে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, নড়াইল সদর উপজেলার শিংগা বসুপাড়া গ্রামের চান্দু সেনের ছেলে রাজ কুমার সেন (২৩) ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের কালীপদ বিশ্বাসের ছেলে কিরন চন্দ্র বিশ্বাস (৬২)। এছাড়ার অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে সহায়তাকারী ৪ দালালকে আটক করা হয়।

তারা হলেন মহেশপুর উপজেলার মাইলবাড়িয়া গ্রামের ইব্রাহীম ফরাজির ছেলে আব্দুল কাদির (৩১), আলী আহাম্মদের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৩), সুলতান আলীর ছেলে আহসান হাবীব (২৪) এবং ইবাদত মন্ডলের ছেলে নুর ইসলাম মন্ডল। মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) উপ অধিনায়ক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,

শুক্রবার দুপুরে আটককৃতদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

আয়াজ আহমাদ: ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২০:দেশে মূলধারার গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে সচেষ্ট’ বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএসআরএফ আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’-এ মন্ত্রী তিনি একথা বলেন। বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

গণমাধ্যম শুধুমাত্র মতপ্রকাশই নয়, সমাজের দর্পণ হিসেবে, মানুষের মনন তৈরিতে, সমাজকে সঠিকখাতে প্রবাহিত করে জাতিকে প্রত্যয়ী করতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষ গণমাধ্যমের সাথে কিছুটা সময় প্রতিদিন ব্যয় করে, সুতরাং জাতি গঠনের জন্য এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বপ্নহীন মানুষের ওযমন স্বপ্নপূরণের তাগাদা থাকে না, তেমনি আশাহীন জাতিরও আশাপূরণের তাগাদা থাকে না। আর সেই স্বপ্ন দেখানোর কাজটি গণমাধ্যম করতে পারে এবং করে। আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম সেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনলাইনে কিছু ভুঁইফোড় পোর্টাল, যেগুলো মূলধারার নয়, সেগুলোর কারণে অনেক সময় বিভ্রান্তি হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আজ বিশ্ববাস্তবতা। এটি মানুষের সাথে মানুষকে সংযুক্ত করা ও হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। দেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষ ফেইসবুক ব্যবহারকারী। একজন মানুষ এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছুতে পারে। এটি ভাল দিক, কিন্তু ঠিক ব্যবহার করা না হলে খারাপ দিকও অনেক। আজকে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিও তৈরি হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, এটিও শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী বাস্তবতা।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যে সংবাদ মাধ্যম নয়- ব্যাখ্যাা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেকেই মনে করে ফেইসবুকে দেয়া তথ্যই বুঝি সংবাদ, আসলে সেটি সংবাদ নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি আনএডিটেড (অসম্পাদিত) প্লাটফরম। সেকারণে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীব্যাপী এটিকে নিয়মনীতির মধ্যে আনার জন্য আইন তৈরি হয়েছে, আমরাও করছি। আমাদের দেশে বিশেষ পরিস্থিতিতে অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা হয়। করোনাকালে শুরুতে সেই অপচেষ্টা ছিল। কিন্তু মূলধারার গণমাধ্যম সেটি করতে দেয়নি। এজন্য মূলধারার গণমাধ্যম অর্থাৎ আপনাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের বিকাশের লক্ষ্যে সবসময় বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন জানিয়ে ড. হাছান বলেন, ‘উপমহাদেশের অন্য দেশে সাংবাদিকদের জন্য করোনাকালীন বিশেষ সহায়তা দেয়া হয়নি। ভারতে করোনায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, শুধুমাত্র তাদেরকে সহায়তা দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশেই প্রধানমন্ত্রী করোনাকালে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রয়োজনমাফিক সাংবাদিকদের সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। কারণ তিনি বাংলাদেশের সমস্ত খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভেবেছেন, সবার কথা ভেবেছেন।’

অনলাইন গণমাধ্যম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী এসময় বলেন, অনলাইন নিবন্ধনের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই আমরা বেশ কয়েকটি অনলাইনকে নিবন্ধনের জন্য অনুমতি প্রদান করেছি, আরও দেয়া হবে। তবে যেহেতু কয়েক হাজার অনলাইন, এটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। কারণ বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা রিপোর্ট দেয়ার পরই তা দেয়া হয়। আর এ নিবন্ধন কাজ চলমান প্রক্রিয়া, কারণ অনলাইন ভবিষ্যতেও তো অনেকগুলো প্রকাশিত হবে।

আইপিটিভি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আইপিটিভি নিবন্ধের জন্যও দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছিলো। সেগুলোর প্রাথমিক তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে, যা সম্পন্নের পর নিবন্ধনের কাজ শুরু হবে। এক্ষেত্রে আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইপিটিভিগুলো শুরুতে বিনোদন চ্যানেল হিসেবে কাজ করবে। কোনা টেলিভিশন চ্যানেল যখন অনুমতি পায়, শুরুতে সংবাদ পরিবেশনের অনুমতি পায় না। সেজন্য আবার দরখাস্ত করতে হয়। আইপিটিভির ক্ষেত্রেও তাই।’

সচিবালয়ে সংবাদ সংগ্রহে কর্মরত সাংবাদিকদের কল্যাণে বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের কয়েকটি প্রস্তাবনা সুবিবেচনার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। বিএসআরএফ এর সহ-সভাপতি সাজেদা পারভীন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, অর্থ সম্পাদক মাসউদুল হক, দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা, গবেষণা সম্পাদক নিয়ামুল আজিজ সাদেক, প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশের সময় ৫ বাংলাদেশীকে আটক করেছে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি। বুধবার রাতে মহেশপুর উপজেলার খোসালপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তারা দালালের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল।

আটককৃতরা হচ্ছে মন্সিগঞ্জ জেলার কনকসার গ্রামের মোঃ সোহাগ বাজীগর (২২), বেনাপোলের বুয়াইল গ্রামের মোঃ কামরুল হোসেন (৪২), নড়াইলের শুক্ত গ্রামের বিপ্লব কুমার ঘোষ (৩২), ভোলার কাইচ্চা গ্রামের রিপন চন্দ্র তেলী (৩৫), ও তার স্ত্রী রিনা রানী তেলী। আটককৃত আসামীদেরকে অবৈধভাবে বিনাপাসপোর্টে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গমন করার অপরাধে মহেশপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই নিয়ে গত সাড়ে ৯ মাসে পাঁচ শতাধীক নারী পুরুষকে আটক করেছে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি।