Home শিক্ষা

সি টি জি ট্রিবিউন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে করোনা ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণের আশংকায় আগামি ৪ জুলাই শনিবার হতে ১৭ জুলাই শুক্রবার ২০২০ পর্যন্ত ১৪ দিন চবি ক্যাম্পাস সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে।

এ সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরী প্রশাসনিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম শহরস্থ চারুকলা ইনস্টিটিউট অফিস হতে পরিচালিত হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার চবি’র সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দের সাথে জরুরী আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

লকডাউন চলাকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সি টি জি ট্রিবিউন প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফাইন্যান্স কমিটি (এফসি) ও সিন্ডিকেটের ৫৬ তম যৌথ সভা ২৭ জুন ২০২০ বেলা ১১.৩০ টায় চবি চারুকলা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হয়।

এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। সভায় ২০১৯-২০২০ আর্থিক সনের সংশোধিত বাজেট ৩৪১১৫.০০ লক্ষ টাকা এবং ২০২০-২০২১ আর্থিক সনের প্রাক্কলিত বাজেট ৩৫১৮৫.০০ লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয়।

মাননীয় উপাচার্য তাঁর ভাষণের শুরুতে সাম্প্রতিককালে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ও অসুস্থতার কারণে চবি পরিবারের সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের আশু রোগ মুক্তি কামনা করেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদ্য প্রয়াত ব্যক্তিবর্গের সম্মানে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করেন। সভায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনয়ন পাওয়া চবি তিনজন সিন্ডিকেট সদস্যসহ উপস্থিত এফসি ও সিন্ডিকেটের সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে মাননীয় উপাচার্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।

মাননীয় উপাচার্য করোনা ভাইরাসের এ মহাদুর্যোগে চবি প্রশাসন কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার ব্যাপারে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ সভায় তুলে ধরেন। মাননীয় উপাচার্য বলেন, এবারের বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাথে সঙ্গতি রেখে শিক্ষা-গবেষণার মান বাড়াতে চবি প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। করোনা ভাইরাসের এ মহামারীতে শিক্ষা-গবেষণার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে চবি প্রশাসন কর্তৃক ইতোমধ্যে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট পর্ষদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি যা অচিরেই দৃশ্যমান হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষা-গবেষণার মান বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সম্পদ সুরক্ষা ও এর যথাযথ ব্যবহার এবং উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার বিরাজমান পরিবেশ সমুন্নত রাখাসহ সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর কর্মপ্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

মাননীয় উপাচার্য এ বিশ্ববিদ্যালয়কে মহান মুক্তিযুদ্ধের নির্ভীক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জ্ঞান-গবেষণার চলমান ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

সিন্ডিকেট ও এফসি’র যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন সিন্ডিকেট সদস্য জনাব এস এম ফজলুল হক, প্রফেসর ড. কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দসী, প্রফেসর ড. এ কে এম মাঈনুল হক মিয়াজী, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান, চবি আইসিটি সেলের ট্যাকনিক্যাল সহায়তায় অনলাইনে সভায় অংশগ্রহণ করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব ও চবি সিন্ডিকেট সদস্য জনাব সম্পদ বড়ুয়া।

উপস্থিত ছিলেন সিন্ডিকেট সচিব চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব কে এম নুর আহমদ, এফসি সদস্য প্রফেসর ড. ইমরান হোসেন ও প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ, অনলাইনে আরো অংশগ্রহণ করেন এফসি সদস্য প্রফেসর আবু মুহাম্মদ আতিকুর রহমান ও জনাব ছিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া।

সভায় সম্মানিত সিন্ডিকেট ও এফসি সদস্যবৃন্দ মাননীয় উপাচার্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সম্মানিত সদস্যবৃন্দ বাজেটের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। উপস্থিত সম্মানিত সদস্যবৃন্দ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে একটি সময়োপযোগী আধুনিক ধ্যান-ধারণা সম্বলিত বাজেট পেশ করার জন্য মাননীয় উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সভায় চবি হিসাব নিয়ামক (ভারপ্রাপ্ত) ও ফিন্যান্স কমিটির সচিব জনাব মো. ফরিদুল আলম চৌধুরী বাজেট উপস্থাপন করেন।

আগামী সিনেট সভায় পেশ করার জন্য সিন্ডিকেট ও এফসি’র ৫৬ তম যৌথ সভার মাধ্যমে উক্ত বাজেট অনুমোদন করা হয়।

সি টি জি ট্রিবিউন স্টাফ রিপোর্টারঃসারাদেশে চলমান প্রাথমিক শিক্ষক সংকট নিরসনে প্যানেল শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা প্যানেল প্রত্যাশীরা।
তারা জানান, ২০১৮ সালে দীর্ঘ ছয় বছরের একমাত্র সার্কুলারে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ২৪ লাখেরও বেশি। আর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় মাত্র ৫৫ হাজার। যা মোট প্রার্থীর ২.৩ শতাংশ। চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয় ১৮ হাজার ১৪৭ জনকে। বাকি ৩৭ হাজার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হননি।

চূড়ান্ত মনোনীতদের মধ্যে অনেকেরই অন্য চাকরি হয়ে যাওয়ায় যোগদান করেনি। অনেকে আবার ৩৮ তম বিসিএস ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন রেজাল্টের অপেক্ষায় আছেন। এ ছাড়া মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়েছে।

তাই করোনা পরবর্তী এ সংকট কাটিয়ে উঠতে প্যানেলে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি ঘরে ঘরে একজন করে সরকারি চাকরি প্রদান ও করোনা পরবর্তী শিক্ষা প্রণোদনা হিসেবে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল শিক্ষকদের দাবি এখন সর্বমহলে আলোচিত।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সারাদেশে ২৮ হাজার ৮৩২টি সহকারি শিক্ষকের শূন্য পদ ছিল। বর্তমানে সে সংখ্যা ৬০ হাজারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষকের এই চরম সংকট নিরসনে প্যানেল শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন জলঢাকা উপরজেলার প্যানেল প্রত্যাশীরা।

সহকারী শিক্ষক ২০১৮ প্যানেলে নিয়োগ দিয়ে নিয়োগ প্রত্যাশীদের বেকার সমস্যা দূর করার আহ্বান জানান জলঢাকা উপজেলার প্যানেল বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, নীলফামারী জেলার ৬টি উপজেলায় ৮২৭ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চুড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্ত হন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থী।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষার মহাপরিচালক মহোদয়ের বক্তব্য অনুযায়ী প্রাথমিকের মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য নেই, উপস্থিত হলেই ১৪/১৫ মার্কস। তাই আমরা যারা প্যানেল প্রত্যাশী সকলেই চাকরি পাওয়ার যোগ্য দাবীদার।

তিনি আরও বলেন, করোনা মহাসংকট কালে চলমান শিক্ষক সংকট দূরীকরণে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রদান একটি দীর্ঘ মেয়াদী সময় সাপেক্ষ ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।

তাই নিয়োগ বঞ্চিত এসকল মেধাবীদের প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দিলে একদিকে যেমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দূর হবে তেমনি নিয়োগ বঞ্চিত এসকল মেধাবীরা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।

test 1