Home রাজশাহী

0 0

গাছ থেকে আম পাড়া শুরু হয়েছে রাজশাহীতে

 

সিটিজিট্রিবিউন : বাংলা পঞ্জিকার হিসেবে আজই শুরু হলো মধুমাস জৈষ্ঠ্য। তবে আম ছাড়া কি আর মধুমাস জমে? তাই প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় ও নির্দেশনা মেনেই গাছ থেকে আম পাড়া শুরু হয়েছে।

 

শনিবার সকাল থেকে রাজশাহী শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার বাগান থেকে পরিপক্ব আম ভাঙা শুরু হয়েছে।। তবে, আজ নামছে কেবল গুটি জাতের আম। স্বাদে-গুনে যার কোনো জুড়ি নেই জাত আমখ্যাত সেই গোপালভোগ নামবে আরও পরে।

শনিবার সকালে রাজশাহীর পাবা উপজেলার মথুরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বেশ কিছু গাছ থেকে গুটি আম ভাঙা হচ্ছে। এগুলো সবই প্রায় আগাম জাতের। পরে প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে সেই আম তোলা হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যানে। এর পর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট মোকামে।

মথুরা গ্রামের স্থানীয় আম চাষি নূরুল আমিন  বলেন, পরিপক্ক এই আম কাঁচা অবস্থাতেই বিক্রি করা হবে আজ থেকে। রাজশাহীতে সাধারণত এই সবুজ (কাঁচা) আমই বিক্রি করা হয়। এগুলো বাড়ি নিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে রেখেই পাকিয়ে সবাই খেতে পারেন। যে কারণে কোনো বিষাক্ত কেমিক্যালের ভয় থাকেনা। আর অল্পকিছু আম পেকে যায় গাছেই। সেগুলো খুচরা বাজারে বিক্রি করা হয়। ফলে আমের রাজধানী রাজশাহীতে বিষমুক্ত আমই কেনাবেচা হয়।  বাজারে গিয়ে যারা পুরোপুরি পাকা রঙের আম কিনতে চান তারাই প্রতারণার শিকার হন। কারণ এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এ ধরনের ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সবুজ আম নিয়ে গিয়ে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল স্প্রে করে হলুদ রং ধারণ করান। কিন্তু স্থানীয়রা পাকা রঙের আম না কেনায় তাদের প্রতারিত হওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান এই আমচাষি।

খন্দকার মিনারুল ইসলাম নামের অপর আমচাষি জানান, নির্ধারিত দিন থাকলেও আজ নয়, ২২ মে’র পর তিনি গুটি আম ভাঙবেন। কারণ এর আগে তার গাছের আমে পরিপক্কতা আসবে না। আর স্বাদও হবে অনেক কম। তাই অন্যরা ভাঙলেও তিনি আজ আম ভাঙবেন না।

এদিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী, আজ থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম পাড়া শুরু হবে। তবে, কোনো আম আগে পাকলে স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানাতে হবে। তার পরিদর্শন শেষেই গাছ থেকে নামানো যাবে আম।  রাজশাহীতে সাধারণত সবার আগে পাকে গুটি জাতের আম। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে এই আমটি নামাতে পারছেন চাষিরা। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রানিপছন্দ ২৫ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৫ মে থেকে এবং খিরসাপাত বা হিমসাগর ২৮ মে থেকে নামানো যাবে। এছাড়া ল্যাংড়া আম ৬ জুন, আম্রপালি এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা ও বারি-৪ জাতের আম।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, গুটি আম প্রতি বছরই একটু আগে পাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাই অনেকেই আজ গুটি আম নামাতে শুরু করেছেন। তবে আঁশযুক্ত এই আমের স্বাদ তুলনামূলক কম।

বিভিন্ন জাতের জনপ্রিয় আমের পরিপক্বতা আসার সময়কালের মধ্যে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে উঠবে গোপালভোগ আম। অত্যন্ত সুস্বাদু, আঁশবিহীন, আটি ছোট আম। সাইজ মাঝারি, কেজিতে ৫টা থেকে ৬টা ধরবে। এরপর পাকা শুরু হবে ল্যাংড়া (হিমসাগড়) আম। তাই রাজশাহীতে জুনের প্রথম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে উঠবে ল্যাংড়া আম। নাম ল্যাংড়া হলেও এর স্বাদ অসাধারণ। আটি ছোট ও পাতলা, খোসা খুব পাতলা, রসালো, গায়ে শুধুই মাংসল। এভাবে পর্যায়ক্রমে রাজশাহীর সব আম নামতে শুরু করবে বলেও জানান ফল গবেষণা কেন্দ্রের এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে জে এম আব্দুল আওয়াল বলেন, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ৩৭৩ হেক্টর বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন। তাপদাহ কেটে গেলে আর নতুন কোনো প্রকৃতিক দুর্যোগ না এলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্য হবে না বলেও মতামত রাজশাহী কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তাদের।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবদুল জলিল বলেন, বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী কেবলমাত্র গাছে পাকলেই আজ থেকে গুটি আম পাড়তে পারবেন চাষিরা। আর বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী অন্য আম ভাঙতে পারবেন গাছ থেকে। তবে, যদি কোনো আম আগেই পেকে যায় সেগুলোও ভাঙতে পারবেন। কিন্তু এজন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাতে হবে।

তিনি বাগান পরিদর্শন করে আম পাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই চাষিরা তাদের গাছ থেকে নির্ধারিত সমেয়র আগেও আম নামাতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।
রাজশাহীর বাগানগুলোয় আম ভাঙার বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও কৃষি কর্মকর্তাদের এরই মধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাজশাহী জেলা প্রশাসক।

 

#প্রতিবেদনকেইউকে।

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ

রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া এলাকার এক সফল ব্যাবসায়ী মো সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতারক আমিরুলের স্ত্রী উম্নে আতিয়া। উম্মে আতিয়া দুই শিশু কন্যার জননী। স্থায়ী বাসা রাজশাহীর পুঠিয়ায় হলেও স্বামী মনিরুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাসা বাধেন নগরীর বড়বনগ্রাম শেখপাড়া এলাকায় এরপর শুর হয় তার প্রতারণার জাল। এই প্রতারণার জালে ব্যাংক বিমা এনজিও ও ব্যাবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে।

এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা রাজশাহীর সফল ব্যাবসায়ী সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানীয় ও অনলাইন পোর্টালে আমার বিরুদ্ধে ফ্যাক্টারির কর্মচারিদের সাথে আঁতাত করে এক নারীর স্বামীর ক্রয়কৃত ৩.৮৫ কাঠা জমি, মাল্টাসি ও টাইলস ফ্যাক্টরি এবং মিনি ট্রাক দখল করে এবং ফাঁকা ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

যা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আসলে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। প্রকৃত ঘটনা হলো মনিরুল আমার নিকট চেক দিয়ে ৩ কাঠা ১৪ ছটাক জমি ক্রয় করেছে এবং ব্যবসার জন্য ঋন গ্রহন করেছে। সেইসাথে এই টাকা পরিশোধ করার কথা বলেন মনিরুল। আসলে ফ্যাক্টরীতে একটি জেনারেটর ও একটি ভাইব্রেট মেশিন ও কিছু তৈরী মালামাল ছাড়া আর কোন প্রকার মালামাল নাই। বর্তমানে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংকের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মনির দেউলিয়া হয়ে গেছে। ব্র্যাক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দিতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ সংক্রান্ত মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী তিনি ব্র্যাক ব্যাংক হতে ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। এখন সুদে আসলে তা দঁাড়িয়েছে ১৪ লক্ষ টাকায়।

এছাড়া উদ্দিপন, আশা ও আশ্রয়সহ অন্যান্য এনজিও থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন। এছাড়াও নিটল টাটার গাড়ির জিম্মির কথা বলা হয়। যা টাটা শোরুমের নিকট কিস্তি দিতে না পারায় চুক্তি অনুযায়ী নিটল মটরস্ আমাকে প্রকাশে ৩লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় গাড়িটি ক্রয় কথা বললে আমি গাাড়িটি ক্রয় করি। একই এলাকায় বসবাস করার জন্যই মনিরকে তিনি সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও ইসলামী ব্যাংকে জমি মরগেজ রেখে ঋন নিয়ে আমাকে আটাশ লক্ষটাকা প্রদান করার কথা বলে অন্য জায়গায় জমি বিক্রি করে পালিয়ে যারয়ার জন্যই মনির ও তার স্ত্রী এই নাটক সাজিয়েছেন বলে জানান এই ব্যাবসায়ী সারোয়ার।

তিনি আবারও এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনকারী উম্মে আতিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা যায় নাই এজন্য তার বক্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ চলতি বছরের গত ০৪ মার্চ বুধবার রাজশাহী কাশিয়াডাঙ্গা ও দামকুড়া থানার যৌথ অভিযানে দামকুড়া বাজারের দিক থেকে আসা একটি ট্রাকে রক্ষিত ভারতীয় আমদানী নিষিদ্ধ ৩৯৫ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপার দামকুড়া থানার সিগন্যাল অমান্য করলে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে ট্রাকটি আটক করা হয়। এসময় ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

উক্ত ঘটনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক উক্ত অভিযান পরিচালনাকারী দামকুড়া থানার এসআই মিজান ও কাশিয়াডাঙ্গা থানার এসআই মিজানুর রহমানকে পুরুস্কৃত করেন।

এদিকে ট্রাক থেকে পালিয়ে যাওয়া ড্রাইভার ও হেলপারের অনুসন্ধানে নামেন কাশিয়াডাঙ্গা থানার এসআই মিজানুর রহমান।

অবশেষে ২৭ মার্চ রাত আনুঃ ১০ টার দিকে এসআই মিজানুর রহমান ট্রাক চালক ধরতে সক্ষম হন এবং ট্রাক ড্রাইভারের দেয়া জবানবন্দী রেকর্ড করেন।

এদিকে আটককৃত ট্রাক চালক ১৬৪ ধারাতেও জবানবন্দী প্রদান করেছেন রাজশাহীর আদালতে।

এসআই মিজানুর রহমান বলেন – ড্রাইভার তার জবানবন্দীতে জানিয়েছেন
– ট্রাকে রক্ষিত অবৈধ মালামাল সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেননা।বরং তার হেল্পার বাবু,পিতা:আব্বাস উদ্দিন,ঠিকানা- নওহাটা,পবা রাজশাহী আমাকে তার ভাইয়ের জন্য কাকনহাটে পশুপাখীর ফিড আনার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে বাবু কয়েক বস্তা ফিড ট্রাকে তোলে। এরপরই কাশিয়াডাঙ্গায় পুলিশি বাধার মুখে পড়লে হেলপার বলে – ওস্তাদ পালান গাড়িতে মাল আছে।এরপর আমি ট্রাক রেখে পালিয়ে যাই। তবে পরে জানতে পারি তার ঐ ভাইয়ের নাম আসলাম রনি, পিতা:মোহাম্মদ আমজাদ ডিলার,ঠিকানা:বাঘাটা,নওহাটা,পবা রাজশাহী।

সার্বিক বিষয় নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ পারভেজ বলেন- অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যহত আছে।যে কোন সময় তাকে গ্রেফতার করা হবে।

0 0

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে তালা লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সহায়ক, সাধারণ ও পরিবহন টেকনিক্যাল কর্মচারী সমিতির সদস্যরা।

আজ সোমবার থেকে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করছেন যত দিন পর্যন্ত এ দাবি মেনে না নেবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে।

তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্মচারীদের কর্পোরেট ঋণের সুদের হার ৯ %থেকে কমিয়ে ৫ % করা, হিসাব বিভাগের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আনসারীকে অন্য স্থানে বদলি করা।

আন্দোলনকারীরা প্রশাসন ও সিনেট ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সিনেট ভবনে প্রশাসনের ভর্তি উপকমিটির সভা চলছে। এরই মধ্যে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ একাধিকবার মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি সাব্বির হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্পোরেট লোন দেওয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে এই লোনের সুদের হার ৯ শতাংশ। সুদের হার কমিয়ে ৫ শতাংশ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। উপাচার্য তাঁদের মৌখিক আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। ফলে তাঁরা দাবি আদায়ের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক মো. আজিজুর রহমান বলেন, তাঁদের দাবির বিষয়ে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু করার নেই। এটা মূলত সরকারি বিষয়।

ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম ভুট্টো বলেছেন, ‘দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবন তালাবদ্ধ করে রাখব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সিনেট মিটিং হতে দেব না।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেছেন, কর্মচারীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। তাদের সব সমস্যা একবারে সমাধান করা সম্ভব নয়। তারপরও আমরা কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি।

0 0

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহীর বাগমারায় উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় এবং মহিলা লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা সহ বেলুন উড়িয়ে দেয়া হয়।

শনিবার ভবানীগঞ্জ নিউ মার্কেট মিলনায়তনে উপজেলা মহিলা লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করেন উপজেলা মহিলা আওয়াী লীগ। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে কহিনুর বানুকে সভাপতি এবং জাহানারা বেগমকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ৭ বছর পর জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো মহিলা লীগের সম্মেলন।

উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাজশাহী-৪(বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আওয়ামী রাজনীতি সাথে মহিলা আওয়ামী লীগ জড়িত। মহিলা আওয়ামী লীগ চড়াই-উৎরায় পেরিয়ে এরই মধ্যে ৫২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছে। মহিলা লীগের রাজনীতির সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান রয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার স্বপক্ষের সংগঠন। সেই সংগঠনের একটা অংশ হচ্ছে মহিলা লীগ। মহিলা লীগ যে কোন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সেই সাথে আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন হিসেবে সুন্দর ভাবে কাজ করে যাচ্ছে মহিলা আওয়ামী লীগ।

বর্তমান সময়ে পুরুষের সাথে মহিলারাও সমান ভাবে ভোট যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রতিটি নির্বাচনে নারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বাগমারার প্রতিটি ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগ উর্বর ভূমিতে পরিনত হয়েছে।

শক্তিশালী হয়েছে মহিলা লীগের সংগঠন। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহিলাদের জন্য বিভিন্ন প্রকার ভাতা সহ সুযোগ সুবিধা প্রদান করছেন। মহিলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, বাগমারায় মহিলা লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে আরো শক্তিশালী হবে সাংগঠনিক কার্যক্রম। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলননে মহিলা লীগ বাগমারায় নেতৃত্বে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে। তারা প্রমান করেছে কোন ফতুয়ার কাছে তারা জিম্মি না।

নিজেদের প্রয়োজনে পুরুষের পাশাপাশি মহিলা রাজনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। মহিলা লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম সুন্দর ভাবে পরিচালিত করতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কহিনুর বানুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, এনাগ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তহুরা হক। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন, রাজশাহী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. মর্জিনা পারভিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নাসরিন আক্তার মিতা, সহ-সভাপতি প্রভাষক রোখসানা মেহবুব চপলা, নাসরীন আক্তার লাভলী, নুর জাহান সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয় জয়ন্তী সরকার মালতী, স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরিয়ম বেগম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিল কুমার সরকার, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ কুমার প্রতীক দাশ রানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি,

ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুল মালেক মন্ডল, উপজেলা আওয়া লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সারওয়ার আবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দীন সুরুজ, আসাদুজ্জামান আসাদ, মকবুল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ আক্তার বেবী প্রমুখ।

উক্ত সম্মেলনে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সহ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দে উপস্থিত ছিলেন।

0 0

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ

রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালন করা হয়েছে।
সোমবার(১ মার্চ) এ দিবস উপলক্ষে সকাল ১০ টায় রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইনস্ মাঠে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকালে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মৃতিস্তম্ভে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) জয়দেব কুমার ভদ্র, বিপিএম। অতপরঃ তিনি জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে তাদের পরিবার পরিজনের সাথে আলোচনা সভায় যোগদান করেন।

রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসনে বিপিএম (বার) এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্তি ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র বিপিএম।

উক্ত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-৫, রাজশাহীর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. আব্দুল মোত্তাকিম, এসপিপি, পিএসসি, জি, আর্টিলারি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. সুজায়েত ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মো. মজিদ আলী বিপিএমসহ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রাজশাহী রেঞ্জের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

রাষ্ট্রের জন্য জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে প্রধান অতিথি তিনি তার বক্তব্যে বলেন, পুলিশ সদস্যদের Stress Management ও স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হয়ে দায়িত্বপালনের উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। এবং সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপস্থিত প্রত্যেক পুলিশ সদস্য ও ইউনিট প্রধানদের আহবান করেন । এবং পুলিশ সদস্যদের পরিবারের যে কোন প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনা সভা শেষে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২১-এ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় কর্তব্যরত অবস্থায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রাজশাহী রেঞ্জের নিহত ৩১ পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গকে সম্মাননা উপহার প্রদান করা হয়। এবং সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত পুলিশ সদস্য কামাল পারভেজের পরিবারে মাঝ মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের প্রদানকৃত এক লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হয়।

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীর দাসপুকুরে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙ্গচুরের অবিযোগে রাজপাড়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। রাসিক ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ে করেন।

মামরায় তিনি উল্লেখ করেন ২৮ ফেব্রুয়ারী আনমানিক রাত ৯টার দিকে দাসপুকুর মহল্লার মৃত সাজদার আলী ছেলে আব্দুস সালাম, মজিবুর ও শফিকুল, আব্দুস সালামে,র শেষে শিশির ও শাওন, জামালের ছেলে রনিসহ অজ্ঞাত আরো ৪ থেকে ৫জন মিলে সম্পূর্ণ বেআইনী ভাবে দলবদ্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দাসপুকুর আওয়ামী লীগের অফিসের প্রবেশ করে ,

হঠাৎ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের ছবি খোলার প্রস্তুতিকালে চেম্বারে উপস্থিত লক্ষ্মীপুরের সুমন বাধা প্রদান করলে শিশির ও শাওন তারের উপর চড়াও হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে ফেলে। অন্যান্যরা সে সময়ে তান্ডব চালায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয় জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, এটা অফিস কিংবা বঙ্গবন্ধু এবং বর্তমানে মেয়রের ছবি ভাঙ্গা নয়। আসৎল ঘটনা হলো মাহাতাব জোর করে তাদের ক্রয়কৃত জমি দখলে নেয়ার জন্যই এই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন। আমরা তার অফিসে যাইনি এবং কোন প্রকার ভাঙ্গচুর ও কারো ছবি ছিঁড়ে ফেলিনি। তিনি এই ধরনের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানান।

0 0

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া আয়োজনে শাহ শখদুম কলেজ মাঠে বিট পুলিশিং সমাবেশ এর আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ আবু কালাম সিদ্দিক মহোদয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মোঃ সুজায়েত ইসলাম, অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোঃ মজিদ আলী বিপিএম মহোদয় সহ অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশানর (বোয়ালিয়া বিভাগ) মোঃ তৌহিদুল আরিফ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া মডেল থানা) ফারজিনা নাসরিন, শাহ মখদুম কলেজ এর অধ্যক্ষ মোঃ রেজাউল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ, বোয়ালিয়া মডেল থানা নিবারন চন্দ্র বর্মন, পিপিএম, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আব্দুল হামিদ সরকার টেকন, ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া বিভাগ) মোঃ সাজিদ হোসেন।

প্রথমেই পুলিশ কমিশনার মহোদয় উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও সালাম জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। পুলিশ কমিশনার তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, তিনি গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদান করার পরে রাজশাহী মহানগরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজশাহী মহানগরীতে প্রায় ২৭৫ টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং আগামী ২৬ মার্চ ২০২১ স্বাধীনতা দিবসে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়ার প্রত্যায় ব্যক্ত করেন।

আরএমপি কমিশনার তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন যে, রাজশাহী মহানগরী প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দরজা খোলা রেখে ঘুমাতে পারবে এখানে কোন চোর থাকবে না, মাদক থাকবে না, কোন সন্ত্রাস থাকবে না, কোন জঙ্গী থাকবে ন। রাজশাহী মহানগর হবে নিরাপত্তার নগরী, শান্তির নগরী ও গ্রীনসিটি।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন রাজশাহী মহানগরীর ৫০০ ছেলে-মেয়ের ডিজিটাল ডাটাবেজ করা হয়েছে এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিট গঠন করা হয়েছে। যার সুফল ইতিমধ্যে নগরবাসী পেতে শুরু করেছে।

বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌছে দেয়া হবে বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

পুলিশ কমিশনার মহোদয় আরো বলেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশের যে স্বপন দেখেছেন তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসন এবং আইজিপি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আগামী ২৬ মার্চ ২০২১ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে hands-free পুলিশিং চালু হবে বলেও জানান। উক্ত অনুষ্ঠানে ২৫ জন মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী পুলিশ কমিশনার এর নিকট আত্ম সমর্পন করেন। আত্ম সমর্পন করা মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জিবনে ফিরে আসার জন্য পুলিশ কমিশনার তাদের অভিনন্দন জানান।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ হবে জনগণের আস্থার স্থল এই আশাবাদ ব্যক্ত করে এই সুন্দর আয়োজনের জন্য আয়োজকদের সহ শাহমখদুম কলেজের অধ্যক্ষ ও কাউন্সিলরবৃন্দকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন-২০২১ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০ থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনার চত্ত্বরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র লিটন বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রলীগের ইতিহাস যে পড়বে, তার বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কোন কিছুই অজানা থাকবে না।

মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি লিটন বলেন, ২০১৫ সালে বিএনপি-জামাত, মৌলবাদী চক্র সারাদেশের মতো রাজশাহীতে আগুন সন্ত্রাস করেছিল। সে সময় রাজশাহীতে ছাত্রলীগের নেতবৃন্দ বিএনপি-জামাতের সেই আগুন সন্ত্রাস রুখতে সাহসী ভুমিকা পালন করেছিল, আমরা ছাত্রলীগকে সাথে নিয়ে আগুন সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করেছি।

তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগ ফিনিক্স পাখির মতো একটি সংগঠন। ছাত্রলীগকে যতবার আঘাত করা হয়, ধংস করার ষড়যন্ত্র করা হয়, ততবার আবার নতুন করে জেগে ওঠে ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ নতুন করে এগিয়ে যায়। ছাত্রলীগ যত সুশৃঙ্খল হবে, পরিশীলিত হবে, চাঁদাবাজ মুক্ত হবে, ছাত্রলীগ তত সামনের দিকে অগ্রসর হবে।
মেয়র লিটন বলেন,

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হবে। ছাত্রলীগে মাই ম্যান তৈরি করার সুযোগ নেই। যে যোগ্য তাকেই নেতা নির্বাচিত করতে হবে। কারণ আগামীতে ছাত্রলীগ থেকেই এমপি, মন্ত্রী ও মেয়র নির্বাচিত হবে, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্ব দিবে।

সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কোন অবৈধ ও অন্যায় কাজকে প্রশয় দেয় না। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আগামীতে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে, রাজশাহী অঞ্চলের নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রে মূল্যায়ন করা হবে।

মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ ডাবলু সরকার। শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক মো. রেজভী আহমেদ ভূইয়া।

সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজিব। সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী, রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ শফিকুজ্জামান শফিক, রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর তৌহিদুর রহমান কিটু, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ হাবিব খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু, রুয়েট শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি নাইম রহমান নিবিড়, রুয়েট শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপু। সম্মেলনে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরা এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের শুরুতে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ জাতীয় পতাকা ও ছাত্রলীগের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর মঞ্চে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দকে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

0 0

রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহী বাগমারায় দলিও প্রভাব খাটিয়ে এবং এমপি মেয়রের আত্মীয় পরিচয়ে কৃষি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে এমপি ও মেয়রের জামাই পরিচয়দানকারী নয়ন অপরদিকে দলিও প্রভাব ও প্রেসক্লাবের নাম ভাঙ্গিয়ে কৃষি জমি ও উঁচা ভিটা কেটে নিজ ভাটায় মাটি পরিবহন করছে এই জাফর মাস্টার। এ যেন পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে সম্পূর্ণ বাগমারা উপজেলা জুড়ে।

এসব ভূমিদস্যু ও ফসলি জমি নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ দিলেও হচ্ছে না কোনো প্রতিকার। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমির প্রকৃতি পরিবর্তন ও মাটি পরিবহন করছে বিভিন্ন ভাটায়।

এ বিষয়ে জাফর মাস্টারের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমি সকল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কাজ করছি আপনি যা পারেন করেন।

কৃষিজমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে এতে যেমন আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে অপরদিকে চাষিরা পরছে হুমকির মুখে। সরেজমিনে বিভিন্ন স্থানে এর সত্যতা মিলেছে। উপজেলার সিবজাইট পশ্চিম বাগমারার প্রানকেন্দ্র হাটগাঙ্গোপাড়া,আউচপাড়া,শুভডাঙ্গা, গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন এলাকায় জমির প্রকৃতি পরিবর্তনের দৃশ্য দেখা গেছে। কৃষিজমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে এখন জলাশয় করা হয়েছে। জলাশয়ের চারপাশে রয়েছে উঁচু পাড়। এ ছাড়া এসব এলাকার কৃষিজমিতে খননযন্ত্র বসিয়ে এখনো পুকুর খনন করা হচ্ছে। অথচ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে, জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না। নীতিমালা জারির পর থেকে কৃষিজমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে এসকল এলাকায় প্রায় ২০টি পুকুর খনন করা হয়েছে এবং আরও ৬টি পুকুর খননকাজ অবাধে চলমান রয়েছে।

এসকল এলাকার অবৈধ পুকুর খননে চলমান কাজগুলো হল, আউচপাড়া ইউনিয়নে বেলঘরিয়া সোনাদীঘি বাজার সংলগ্ন ১টি এবং একই ইউনিয়নের মঙ্গলপুর সমাসপুর গ্রামের মাঝখানে ১টি এবং ঐ ইউনিয়নের মুগাইপাড়ার পার্শ্বে বগপাড়া মোড়ের নিচে ১টি ও খুদাপুর গ্রামে আরো ১টি । গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের সালজুর রুহিয়া মাহামতপুর গ্রামে চেয়ারম্যান শ্রী বিজন কুমার এর ভাটার পার্শ্বে ১টি, শুভডাঙ্গা ইউনিয়নে মচমইল বাজারের হাটগাঙ্গোপাড়া রাস্তা সংলগ্ন ১টি। গত বছরের ১১ জুন ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এ টি এম আজাহারুল ইসলামের স্বাক্ষর করা নীতিমালা-সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, কৃষিজমি যতটুকু সম্ভব রক্ষা করতে হবে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া জমির প্রকৃতিগত কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না। এই চিঠির অনুলিপি গত বছরের (২২ শে জুলাই) রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পৌঁছায়।

একই সময়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ওই নীতিমালা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) চিঠির একটি অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে বলে উভয় দপ্তরের দায়িত্বশীল দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ইউএনও কে গত ডিসেম্বর ও চলতি মাসে দেওয়া ওই সব এলাকার শতাধিক কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কৃষিজমির প্রকৃতি পরিবর্তন করছেন। অভিযোগে তাঁরা বলেছেন, প্রথমে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা স্থানীয় কিছু লোকজনের কাছ থেকে কৃষিজমি তিন বা ১০ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে সেখানে পুকুর খনন শুরু করেন। পরে কৌশলে ওই পুকুরের আশপাশের অন্য জমির মালিককেও তাঁদের জমি ইজারা দিতে বাধ্য করেন। এসকল এলাকার নাম প্রকাশে অনিশ্চুক অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের জমি প্রথমে দেননি। ইজারা নেওয়া আশপাশের জমিতে ড্রেজার দিয়ে খনন শুরু করা হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাঁদের জমিও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পুকুর খননের জন্য দিতে হয়।

উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের সালমারা বিলে পানি নিস্কাশনের নাম করে জাহাঙ্গীর আলম নামে একজন প্রভাবশালী ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করছে। ঐ পুকুরের পার্শ্বেই একটি ড্রামচিমনি ভাটার মালিক শফিক পুকুর খননে সার্বিক সহযোগিতায় আছেন বলে এলাকাবাসি জানান। সেখানে প্রায় ২০টি ট্রাক্টর দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করে প্রভাবশালীরা ক্ষমতা দেখিয়ে রাস্তায় ধুলামাটি ফেলে জনগন,মিডিয়া,প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে নিজ স্বার্থে ব্যাস্ত এসকল ইটভাটার মালিকারা। ঐ রাস্তায় চলাচলে পথচারিরা বলেন, ঘন কুয়াশায় ঢাঁকা এসব ধুলামাটির মধ্য দিয়েই আমাদের নিত্যদিনের যাতায়াত। শীঘ্রই এর সুব্যবস্থার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও পথচারিরা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শরীফ আহম্মেদ জানান, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী অবৈধ পুকুর খননে জমির শ্রেনি পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, কোন অবৈধভাবে পুকুর খনন করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।