Home দূর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বের যখন জেরবার অবস্থা, তখন ‘সালমোনেলা’ নামের ব্যাকটেরিয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে করোনার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এই ব্যাকটেরিয়ার উৎপত্তি। মুরগি থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাকটেরিয়ায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে একবার এই ব্যাকটেরিয়ার কথা বলেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তখন খুব বেশি সংক্রমণের কথা শোনা যায়নি। তবে এবার গত মে মাসের শেষদিক থেকে সংক্রমণ শুরু হলে মাত্র দুই মাসের মাথায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় ৫০০ জনের শরীরে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, মুরগি থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাকটেরিয়া পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি অঙ্গরাজ্যে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন, আরও ৮৬ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এখনই এটাকে থামাতে না পারলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বব্যাপী।

মরণব্যাধী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দেশের বিখ্যাত রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। আজ রোববার রাতে তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

কিংবদন্তি এই রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী বলেন, প্রায় ১২ দিন আগে তার দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজ বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বর্তমানে শারীরিক অবস্থা ভালো আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবার দোয়ায় এখনও ভালো আছি। আগামী মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মতো নমুনা টেস্ট করানো হবে। এবার রেজাল্ট নেগেটিভ আসবে বলে আশা করছি।

এ সময় দেশবাসীর কাছে নিজের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চান বরেণ্য এই সংগীতশিল্পী।

উল্লেখ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ অর্জন করেন ৬৩ বছর বয়সী সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ‘বঙ্গভূষণ’, ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

চাকরিরত, অবসরপ্রাপ্ত এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ (বাবা-মা ও সন্তান) সশস্ত্রবাহিনীতে ৪ হাজার ১৫৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই সশস্ত্রবাহিনীর সাবেক সদস্য। এ ছাড়া কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বাহিনীটির ২৬ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন জন চাকরিরত ছিলেন।

মৃতদের মধ্যে দুই জন সৈনিক ও একজন মেসওয়েটার। তবে মারা যাওয়া দুই সৈনিক সড়ক দুর্ঘনায় আহত হয়ে আগে থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির মিলিটারি প্যারেড গ্রাউন্ডে ৭৮তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদি কোর্স এবং ৫৩তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর মধ্যে ঢাকা, নবম পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন জাজিরা ক্যান্টমেন্ট এবং চট্টগ্রাম সেনানিবাসে দায়িত্বরত সৈনিকরা বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যান্য স্থানে আক্রান্তের সংখ্যা কম।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রত্যেকটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন বসানোর পাশাপাশি আমাদের পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট রয়েছে। ফলে কোভিড-১৯ টেস্ট করানোর জন্য আমাদের অন্য কোথাও যেতে হয় না। কর্মরতদের পাশাপাশি আমরা সাবেক সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদরও টেস্ট করাচ্ছি।

সেনাপ্রধান আরো বলেন, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব মেশিন বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। আইসিইউতে ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেন সাপোর্টের সুযোগ-সুবিধাও অনেকাংশে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া আমরা অনেক মাস্ক, হ্যান্ডগ্লোভস ও স্যানিটাইজার কিনেছি। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছি ও পাচ্ছি।

প্রত্যেক সেনানিবাসে সেনা সদস্যের সুরক্ষায় যথাযত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে চাকরিরত সেনা সদস্যদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা যাতে কম থাকে সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি, বলেন সেনাপ্রধান।

জেনারেল আজিজ আহমেদ আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গেই পালন করে আসছি। এই পেশাদারিত্ব এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

দিন যত যাচ্ছে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের তালিকায় বাংলাদেশ ততই উপরে উঠছে। কয়েকদিন আগেই ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। এবার কানাডাকে ছাড়িয়ে সৌদি আরবের পরেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে তালিকায় উপরের দিকে থাকা অন্য দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না বলে মনে হচ্ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সংক্রমণের তালিকায় ১৭ নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

এর উপরে ১৬তম স্থানে সৌদি আরবের অবস্থান। সেখানে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ২৩৪ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এদের মধ্যে এক হাজার ৯১ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ৯১ হাজার ৬৬২ জন।

অন্যদিকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মরণব্যাধী এই ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জন। এর মধ্যে গত একদিনের ব্যবধানে রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ৩ হাজার ৮০৩ জন। এর আগের দিন সংখ্যাটা ছিল সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮ জন।

এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে ১ হাজার ৩৪৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে গত একদিনের ব্যবধানে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। এর দুইদিন আগে সংখ্যাটা ছিল সর্বোচ্চ ৫৩ জন। সংখ্যাটা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ৪০ হাজার ১৬৪ জন।

সংক্রমণের তালিকায় সবার উপরে অবস্থান করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ ৩৫ হাজার ২১৫ জন মানুষ ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন। এদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ লাখ ৯ হাজার ৯৫২ জন। বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ১৮ হাজার ৭৯৬ জন।

দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে মরণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নতুন নতুন হটস্পটও চিহ্নিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেল চট্টগ্রাম।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিনে তথ্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ১৪ জন। আর চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ১৮ জন।

এ ছাড়া রাজশাহী ১, খুলনা ২, বরিশাল ১, ময়মনসিংহ ১ এবং রংপুর বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ১ হাজার ৩৪৩ জনের মৃত্যু হলো।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ২৫৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩ হাজার ৮০৩ জনকে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জন।

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১ হাজার ৯৭৫ জন সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪০ হাজার ১৬৪ জন (হাসপাতাল ও বাসা মিলে)।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথম মৃত্যু ঘটে ১৮ মার্চ।

এবার নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) লিমিটেডের পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ইউসিবির পরিচালকের পাশাপাশি ইউসিবির রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যও ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউসিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে ইউসিবি পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পর্ষদ ও ইউসিবি পরিবার গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। অ্যাকাউন্টিংয়ের ওপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর ১৯৬৯ সালে প্রখ্যাত বহুজাতিক ওষুধ শিল্প সংস্থা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনে কস্ট ও ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। সেই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৩৯ বছর চাকরি করেন তিনি। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টস বিভাগ, সাপ্লাই চেইন বিভাগ ও ইন্টারনাল অডিট বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি প্রায় দুই দশক আইসিএমএবি এর কোর্স প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুই মেয়াদে তিনি প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ কাউন্সিলর চেয়ারম্যানও ছিলেন।

test 1