Home দূর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা

শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাতিঘর খ্যাত বিদ্যালয়টি পদ্মার গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। বুধবার (২২ জুলাই) মধ্যরাতে বিদ্যালয়টির ভবন মাঝ বরাবর ফেটে গিয়ে হেলে পড়ে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যালয়টি নদীর দিকে আরও হেলে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।এ দিকে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চরাঞ্চলে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। এছাড়াও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষেরা।একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের নূরুদ্দিন মাদবরেরকান্দি গ্রামে অবস্থিত এস.ই.এস.ডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবনটি হেলে পড়েছে পদ্মার দিকে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে স্থাপিত হয় নূরুদ্দিন মাদবরের কান্দি এস.ই.এস.ডি.পি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টি। বন্দোরখোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে স্থাপিত এই বিদ্যালয়টির কারণে শিবচর উপজেলার বন্দোরখোলা ইউনিয়নের মমিন উদ্দিন হাওলাদারকান্দি, জব্বার আলী মুন্সীকান্দি, বজলু মোড়লের কান্দি, মিয়া আজম বেপারীর কান্দি, রহমত হাজীর কান্দি, জয়েন উদ্দিন শেখ কান্দি, মসত খাঁর কান্দিসহ প্রায় ২৪টি গ্রাম ও ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার চর নাসিরপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো। বিদ্যালয়টি ছিল চরাঞ্চলের একমাত্র দৃষ্টিনন্দন তিনতলা ভবনসহ আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ একটি উচ্চ বিদ্যালয়।বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চরের এই বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা সবাই চরের বাসিন্দা। মূল ভূ-খণ্ড এখান থেকে বেশ দূরে হওয়ায় চরের ছেলে-মেয়েরা অন্যত্র গিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ পেতো না। এই বিদ্যালয়টি হওয়ার পর থেকে চরের ছোট ছোট প্রায় ২৪টি গ্রাম থেকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে এসে লেখাপড়া করতো।স্থানীয়রা জানায়, পদ্মার নিকটবর্তী হওয়ায় প্রতি বছরই বন্যার পানিতে ডুবে যেতো বিদ্যালয়সহ আশেপাশের এলাকা। গত বছর পদ্মানদী ভাঙতে ভাঙতে পেছন দিক দিয়ে বিদ্যালয়টির কাছে চলে আসে। এরপর গত বছরই ওই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকিয়ে রাখে। চলতি বর্ষা মৌসুমেও ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং চালানো হয়। তবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রচণ্ড স্রোতের কারণে জিও ব্যাগ ফেলে তেমন সুবিধা করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বুধবার রাতে তিন তলা ভবনের বিদ্যালয়টির কিছু অংশ হেলে পড়ে।বন্দরখোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ইসমাইল জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করেই বিকট শব্দ হতে থাকে স্কুলের ভবনের মধ্য থেকে। খবর পেয়ে অসংখ্য মানুষ ট্রলারে করে বিদ্যালয়টি দেখতে আসে। আমাদের সামনেই বিদ্যালয়টি মাঝখান থেকে ফাটল ধরে পেছন দিকে হেলে পড়ে।তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টি মনোরম পরিবেশে একটি দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয় ছিল। গতকাল রাতে বিদ্যালয়টি ভাঙন ধরলে এলাকাবাসী কান্নায় ভেঙে পড়ে। চোখের সামনে এভাবে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে দেখে স্থানীয়রা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছে।

করোনাভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে চীনে। এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটির বেশি। এতে মারা গেছে ৫ লক্ষাধিক মানুষ।
এই ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের শতাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন এগিয়ে আছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে এবার করোনার ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে চীন। সোমবার (২৯ জুন) এ খবর দিয়েছে ইয়াহু নিউজ। খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীর গবেষণা শাখা এবং স্যানসিনো বায়োলজিকসের (৬১৮৫.এইচকে) তৈরি একটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মানব শরীরে প্রয়োগের অনুমতি পেয়েছে।
তবে আপাতত ভ্যাকসিন শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যবহার করা হবে। স্যানসিনো বলেছে, চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন গত ২৫ জুন এডি৫-এনকোভ ভ্যাকসিনটি সৈন্যদের দেহে এক বছরের জন্য প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। স্যানসিনো বায়োলজিকস এবং একাডেমি অফ মিলিটারির একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার স্যানসিনো বায়োলজিকস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভ্যাকসিনটি চীনের বাইরেও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাডানায় পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদনে দেয়া হয়েছে। তবে চীনের লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের অনুমোদনের আগে এটি ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হবে না।
খবরে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক কারণে ভ্যাকসিনটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হবে না। এমনকি সেনাবাহিনীর সদস্যদের এই ভ্যাকসিন নেয়া বাধ্যতামূলক কিনা তাও প্রকাশ করা হয়নি।
কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনটি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় দারুণভাবে সফল হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ভ্যাকসিনটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে কিনা তা নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।

টানা তৃতীয় ট্রায়ালেও সফল হয়েছে বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি করা করোনা ভ্যাকসিন। ফলে বৈশ্বিক এই মহামারিটি রুখতে বিশ্বের অন্যান্য ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারীদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে গিয়েছে তারা।

বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ভারতে র সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াতে দাবি করেছে, সব ঠিক থাকলে জুলাই মাসের প্রথমেই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে বাজারে।

এদিকে আরব আমিরাত ও চীনের যৌথভাবে তৈরি একটি ভ্যাক্সিনেরও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এই গবেষণা করছে আমিরাত ভিত্তিক কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা কোস্পানি জি৪২ এবং চীনা কোম্পানি সিনোফার্ম গ্রুপ। প্রথম দুই ট্রায়ালে সাফল্য পেয়েছে এই ভ্যাকসিনও।

অক্সফোর্ড ও অক্সফোর্ডের অধীনস্থ জেন্নার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের ডিজাইন করা ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে যুক্তরাজ্যে। ডিএনএ ভ্যাকসিনের প্রথম হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এপ্রিলে ।

এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের দায়িত্বে ছিলেন, ভাইরোলজিস্ট সারাহ গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল এবং জেন্নার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা।

ব্রাজিলে কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালিয়ে যাচ্ছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রজেনেকা প্রাইভেট লিমিটেড। লেমানন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্রাজিলে করোনার হটস্পট সাও পাওলো ও রিও ডি জেনিরোতে মোট ৩০০০ জনকে দেয়া হচ্ছে ভ্যাকসিন। তার মধ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ সাও পাওলোতে ২০০০ জন ও রিও ডি জেনিরোতে হাজার জনকে দেয়া হচ্ছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন।

প্রথম পর্যায়ে তিন হাজার জনকে বেছে নেয়া হয়েছে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য। পরবর্তী পর্যায়ে আরো বেশিজনকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

এপ্রিলে প্রথমবার মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করেছিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। প্রথম দু’জনের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়েছিল ভ্যাকসিন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন একজন মহিলা বিজ্ঞানী। নাম এলিসা গ্রানাটো। আরো ৮০০ জনকে দুটি দলে ভাগ করে কন্ট্রোলড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হয়েছিল।

অক্সফোর্ড জানিয়েছে, দেশের বাইরে প্রথমবার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে। এই ট্রায়ালের রিপোর্ট ভাল হলে, অন্যান্য দেশেও ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হবে।

ভ্যাকসিনের ডোজ ঠিক করার জন্য শুকরের উপর ট্রায়াল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে অক্সফোর্ডের সারা গিলবার্টের টিম। এই ট্রায়ালের দায়িত্বে ছিল পিরব্রাইট ইউনিভার্সিটি। ভাইরোলজিস্টরা বলেছেন, শুকরের বিপাক ক্রিয়া ও কোষের সঙ্গে মানুষের কোষের অনেক মিল আছে। তাই সেফটি ট্রায়াল করে ডোজের সঠিক মাত্রা ঠিক করে নেয়া হয়েছিল।

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল। জেন্নার ইনস্টিটিউট ভাইরোলজি বিভাগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই ভ্যাকসিনের ডিজাইন করা হয়েছে। এই গবেষণায় অক্সফোর্ডের পাশে রয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকাও।

সারা গিলবার্টের টিম প্রথমবার যে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছিল তার নাম ChAdOx1 nCoV-19। তবে এই ভ্যাকসিনের ক্নিনিকাল ট্রায়াল রেসাস প্রজাতির বাঁদরের উপর ব্যর্থ হয়। অক্সফোর্ড জানায়, ওই প্রজাতির বাঁদরের শরীরে কোভিড সংক্রমণ রুখতে না পারলেও নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করেছে এই ভ্যাকসিন। পরে নতুন করে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের ডিজাইন করে অক্সফোর্ড। বর্তমানে এর নয়া ভার্সনের নাম হয়েছে AZD1222।

 

কীভাবে তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন?

শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেয়া অ্যাডেনোভাইরাসকে ল্যাবে এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে যাতে মানুষের শরীরে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে না পারে। এরপর, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের কাঁটার মতো অংশ অর্থাৎ স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনগুলোকে আলাদা করা হয়েছে। এই ভাইরাল প্রোটিন আগে থেকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা অ্যাডেনোভাইরাসের মধ্যে ঢুকিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। এখন ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করলে এই বাহক ভাইরাস অর্থাৎ অ্যাডেনোভাইরাস করোনার স্পাইক প্রোটিনগুলোকে সঙ্গে করে নিয়েই মানুষের শরীরে ঢুকবে। দেহকোষ তখন এই ভাইরাল প্রোটিনের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। সেই সঙ্গে দেহকোষের টি-সেল (T-Cell) গুলোকে উদ্দীপিত করবে। এই টি-সেলের কাজ হল বাইরে থেকে শরীরে ঢোকা ভাইরাল অ্যান্টিজেনগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া।

অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন গবেষণায় যুক্ত রয়েছে ভারতের অন্যতম বড় বায়োটেকনোলজি ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। অক্সফোর্ডের কোভিড ভ্যাকসিন গবেষণার অন্যতম সদস্য ডক্টর অ্যাড্রিয়ান হিলের তত্ত্বাবধানে সেরামেও এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে।

সিইও আদর পুনাওয়ালা বলেছিলেন, দেশেও এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ও সেফটি ট্রায়াল করা হবে, তাছাড়া অক্সফোর্ডের রিকভারি ট্রায়ালের প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখা হচ্ছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি হচ্ছে। আদর বলেছিলেন প্রতিমাসে ৫০ লক্ষ ডোজে ভ্যাকসিন বানানো হবে। ট্রায়াল সফল হতে শুরু করলেই ফি মাসে প্রায় এক কোটি ডোজে ভ্যাকসিন বানানো শুরু হবে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

সম্প্রতি পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুরেশ যাদব বলেছেন, প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের জন্য কম ডোজেই ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছিল, তাতে সুফল দেখা গেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। আশা করা যায়, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে পারবে সেরাম। ২০ থেকে ৩০ লক্ষ ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির কাজ চলছে।
সুরেশ যাদব জানিয়েছেন, অক্সফোর্ডের গবেষকদের ট্রায়াল রিপোর্ট অনুযায়ী এই ভ্যাকসিনের দুটো ডোজই করোনা সংক্রমণের মোকাবিলা করতে পারবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে দেখা গিয়েছিল, ক্যানডিডেট ভ্যাকসিনের দুটি ডোজেই প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে মেনিঙ্গোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামক চারটি স্ট্রেনের মোকাবিলা করার মতো প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, রেসাস প্রজাতির বাঁদরের শরীরে ভ্যাকসিনের একটি ডোজেই নিউমোনিয়ার সংক্রমণ কমে গিয়েছিল। সেনার ইনস্টিটিউটের দাবি, অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন নিরাপদ, রোগীর শরীরে কোনো রকম অ্যাডভার্স রিঅ্যাকশন দেখা যাবে না। করোনা প্রতিরোধে কার্যকরী হবে বলেই আশা করা যায়।

সূত্র: দ্য ওয়াল, সিএনএন

কুড়িগ্রামে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা নদী ও ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ১৬টি নদ-নদীর মধ্যবর্তী ৪২০টি চরের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বিভাগ জানায়, ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৩৩ সেন্টিমিটার ও দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে।

আজ শনিবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ২৩ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার, ধরলা নদীর পানি ২৬ দশমিক ৮৭ মিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার এবং দুধকুমার নদের পানি ২৬ দশমিক ৫০ মিটার বেড়ে বিপদসীমা ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে চরাঞ্চলগুলোয় পানি উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে সহস্রাধিক বাড়িতে পানি উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ইন্দ্রগড়, ধনিরামপুর, শৌলমারী, জালির চর, কাইয়ের চর; বল্লভের খাস ইউনিয়নের ইসলামের চর, চর কৃষ্ণপুর, কামারের চর; নারায়ণপুর ইউনিয়নের বেশির ভাগ নিচু চরাঞ্চল; নুনখাওয়া ইউনিয়নসহ সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এ ছাড়া ভূরুঙ্গামারী, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর ও উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার চলতি মৌসুমের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতির কবলে পড়েছে পাট, ভুট্টাসহ বিভিন্ন সবজি।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় ৩৭ হেক্টরের আউশ, ৯৩ হেক্টর তিল এবং ৬ হেক্টরের মরিচ পানিতে ডুবে গেছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমার এলাকায় ছয়টি ওয়ার্ড নদ-নদীর মধ্যবর্তী স্থানে। ১ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দী। দুই শতাধিক বাড়িতে পানি উঠেছে।’

এদিকে, জেলায় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বের যখন জেরবার অবস্থা, তখন ‘সালমোনেলা’ নামের ব্যাকটেরিয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে করোনার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এই ব্যাকটেরিয়ার উৎপত্তি। মুরগি থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাকটেরিয়ায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে একবার এই ব্যাকটেরিয়ার কথা বলেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তখন খুব বেশি সংক্রমণের কথা শোনা যায়নি। তবে এবার গত মে মাসের শেষদিক থেকে সংক্রমণ শুরু হলে মাত্র দুই মাসের মাথায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় ৫০০ জনের শরীরে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, মুরগি থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাকটেরিয়া পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি অঙ্গরাজ্যে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন, আরও ৮৬ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এখনই এটাকে থামাতে না পারলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বব্যাপী।

মরণব্যাধী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দেশের বিখ্যাত রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। আজ রোববার রাতে তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

কিংবদন্তি এই রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী বলেন, প্রায় ১২ দিন আগে তার দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজ বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বর্তমানে শারীরিক অবস্থা ভালো আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবার দোয়ায় এখনও ভালো আছি। আগামী মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মতো নমুনা টেস্ট করানো হবে। এবার রেজাল্ট নেগেটিভ আসবে বলে আশা করছি।

এ সময় দেশবাসীর কাছে নিজের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চান বরেণ্য এই সংগীতশিল্পী।

উল্লেখ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ অর্জন করেন ৬৩ বছর বয়সী সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ‘বঙ্গভূষণ’, ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

চাকরিরত, অবসরপ্রাপ্ত এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ (বাবা-মা ও সন্তান) সশস্ত্রবাহিনীতে ৪ হাজার ১৫৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই সশস্ত্রবাহিনীর সাবেক সদস্য। এ ছাড়া কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বাহিনীটির ২৬ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন জন চাকরিরত ছিলেন।

মৃতদের মধ্যে দুই জন সৈনিক ও একজন মেসওয়েটার। তবে মারা যাওয়া দুই সৈনিক সড়ক দুর্ঘনায় আহত হয়ে আগে থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির মিলিটারি প্যারেড গ্রাউন্ডে ৭৮তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদি কোর্স এবং ৫৩তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর মধ্যে ঢাকা, নবম পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন জাজিরা ক্যান্টমেন্ট এবং চট্টগ্রাম সেনানিবাসে দায়িত্বরত সৈনিকরা বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যান্য স্থানে আক্রান্তের সংখ্যা কম।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রত্যেকটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন বসানোর পাশাপাশি আমাদের পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট রয়েছে। ফলে কোভিড-১৯ টেস্ট করানোর জন্য আমাদের অন্য কোথাও যেতে হয় না। কর্মরতদের পাশাপাশি আমরা সাবেক সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদরও টেস্ট করাচ্ছি।

সেনাপ্রধান আরো বলেন, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব মেশিন বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। আইসিইউতে ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেন সাপোর্টের সুযোগ-সুবিধাও অনেকাংশে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া আমরা অনেক মাস্ক, হ্যান্ডগ্লোভস ও স্যানিটাইজার কিনেছি। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছি ও পাচ্ছি।

প্রত্যেক সেনানিবাসে সেনা সদস্যের সুরক্ষায় যথাযত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে চাকরিরত সেনা সদস্যদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা যাতে কম থাকে সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি, বলেন সেনাপ্রধান।

জেনারেল আজিজ আহমেদ আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গেই পালন করে আসছি। এই পেশাদারিত্ব এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

দিন যত যাচ্ছে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের তালিকায় বাংলাদেশ ততই উপরে উঠছে। কয়েকদিন আগেই ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। এবার কানাডাকে ছাড়িয়ে সৌদি আরবের পরেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে তালিকায় উপরের দিকে থাকা অন্য দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না বলে মনে হচ্ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সংক্রমণের তালিকায় ১৭ নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

এর উপরে ১৬তম স্থানে সৌদি আরবের অবস্থান। সেখানে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ২৩৪ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এদের মধ্যে এক হাজার ৯১ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ৯১ হাজার ৬৬২ জন।

অন্যদিকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মরণব্যাধী এই ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জন। এর মধ্যে গত একদিনের ব্যবধানে রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ৩ হাজার ৮০৩ জন। এর আগের দিন সংখ্যাটা ছিল সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮ জন।

এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে ১ হাজার ৩৪৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে গত একদিনের ব্যবধানে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। এর দুইদিন আগে সংখ্যাটা ছিল সর্বোচ্চ ৫৩ জন। সংখ্যাটা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ৪০ হাজার ১৬৪ জন।

সংক্রমণের তালিকায় সবার উপরে অবস্থান করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ ৩৫ হাজার ২১৫ জন মানুষ ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন। এদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ লাখ ৯ হাজার ৯৫২ জন। বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ১৮ হাজার ৭৯৬ জন।

দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে মরণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নতুন নতুন হটস্পটও চিহ্নিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেল চট্টগ্রাম।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিনে তথ্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ১৪ জন। আর চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ১৮ জন।

এ ছাড়া রাজশাহী ১, খুলনা ২, বরিশাল ১, ময়মনসিংহ ১ এবং রংপুর বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ১ হাজার ৩৪৩ জনের মৃত্যু হলো।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ২৫৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩ হাজার ৮০৩ জনকে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জন।

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১ হাজার ৯৭৫ জন সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪০ হাজার ১৬৪ জন (হাসপাতাল ও বাসা মিলে)।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথম মৃত্যু ঘটে ১৮ মার্চ।

এবার নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) লিমিটেডের পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ইউসিবির পরিচালকের পাশাপাশি ইউসিবির রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যও ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউসিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে ইউসিবি পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পর্ষদ ও ইউসিবি পরিবার গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। অ্যাকাউন্টিংয়ের ওপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর ১৯৬৯ সালে প্রখ্যাত বহুজাতিক ওষুধ শিল্প সংস্থা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনে কস্ট ও ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। সেই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৩৯ বছর চাকরি করেন তিনি। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টস বিভাগ, সাপ্লাই চেইন বিভাগ ও ইন্টারনাল অডিট বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি প্রায় দুই দশক আইসিএমএবি এর কোর্স প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুই মেয়াদে তিনি প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ কাউন্সিলর চেয়ারম্যানও ছিলেন।