Home জাতীয়

0 0

সি টি জি ট্রিবিউন প্রতিনিধিঃআওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিলো ৭৭ বছর।

আমি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

শোকজ্ঞাপনেঃ মোঃ গিয়াস উদ্দিন সভাপতি সীতাকুণ্ড উপজেলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি।

উল্লেখ্য – গত ২ জুন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় সাহারা খাতুনকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ১৯ জুন সকালে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

এরপর অবস্থার উন্নতি হলে তাকে গত ২২ জুন দুপুরে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাইডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৬ জুন সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

এরপর তার অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৬ জুলাই চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ড নেয়া হয়। সেখানে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নেন।

১৯৪৩ সালের পহেলা মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্ম গ্রহণ করেন সাহারা খাতুন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একজন আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

সাহারা খাতুন ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন।

0 0

রবিবার বিকেলে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে ,নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর, জানান , করোনা মহামারী পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভোট নেয়া সম্ভব না ।

তিনি বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য আগামী ৫ আগস্ট,২০২০ খ্রি: পর্যন্ত সময় আছে। এরপরও ৯০ দিন সময় নেওয়া যাবে। তাই করোনা মহামারি কাটার আগে এ নির্বাচন করার কোনো পরিকল্পনা নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ভোট গ্রহণ করা হবে ।

গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা প্রকোপের কারণে ভোটের সাতদিন আগে তা স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

ইসি সচিব বলেন, শুধু চট্টগ্রাম সিটি নয়, স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনগুলোও করোনা মহামারি কেটে গেলে ভোট করা হবে। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করেছিল ইসি। এ সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ৫ আগস্ট। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বিধান রয়েছে। ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটির ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে ২১ মার্চ ভোট স্থগিত করে ইসি। ভোটে বৈধ ছয় প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী, বিএনপির শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এমএ মতিন, পিপলস পার্টির আবুল মনজুর, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম।
এ ছাড়া কাউন্সিলর পদে ২ শতাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। পরবর্তীতে যখনই নির্বাচন হবে, এই প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। চসিক ভোট না করলেও যশোর-৬ ও বগুড়া-১ আসনে ভোট করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, এই দুটি আসনে ভোট করার মেয়াদ শেষ হবে যথাক্রমে ১৮ জুলাই ও ১৫ জুলাই। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই ১৪ জুলাই এ নির্বাচন করতে হচ্ছে।

ইসি সচিব আরও বলেন, করোনা মধ্যে ভোটগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও আমরা ভাবছি। এ ক্ষেত্রে কোনভাবেই যাতে সংক্রমণ ভোটের কারণে না বাড়ে সে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংসদে আরো কয়েকটি উপ-নির্বাচন আছে। যেগুলোর মেয়াদ শিগগিরই শেষ হবে। তবে আমরা যশোর-৬ ও বগুড়া-১ আসনের ভোট পর্যবেক্ষণ করব। যদি দেখা যায়, এই দুই উপ-নির্বাচনে সংক্রমণ বাড়ে তাহলে অন্য উপ-নির্বাচনগুলি আর করব না। সে ক্ষেত্রে আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

0 0

সি টি জি ট্রিবিউন :মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি :আজ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ভাটিয়ারী শহীদ মিনারের দক্ষিণের নজীর আহমদ মার্কেটের সামনে মোঃ রাজু (প্রকাশ প্রতিবন্ধী রাজু) এর পান দোকানে একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে যায়।

এতে মোঃ রাজু (প্রকাশ প্রতিবন্ধী রাজুকে ) কোনরকম দোকানের পিছন দিয়ে লোকজন টেনে বের করলে জীবনে রক্ষা পায়। তবে গাড়ি এবং দোকানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ড্রাইভার,হেলপার,দোকানদার,সহ লোকজন কোন হতাহত হয়নি।

মোঃ রাজু (প্রকাশ প্রতিবন্ধী রাজু) বলেন আমি একজন প্রতিবন্ধী এবং অসহায় এ দোকান টা দিয়ে আমি কোন রকম খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি।এই গাড়িটা আমার দোকানে ঢুকে যাওয়াতে আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে,

তাই আমার অনুরোধ রইলো গাড়ির মালিকের কাছে আমার এই দোকানে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার।

0 0

সি টি জি ট্রিবিউন :আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা কী করে হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তাঁর সরকারের দেওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটকে কেউ কেউ উচ্চাভিলাষী বললেও সরকার এই বাজেটের সফল বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে আমরা অতীতে কখনো ব্যর্থ হইনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হব না। আমরা কখনো হতাশায় ভুগি না। আমরা সব সময় একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাই।’

দেশে পর্যাপ্ত চালের মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যে সংকটই আসুক না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলেও এ সময় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে সাময়িক প্রয়োজন উদ্ভূত হয়েছে তা মেটানো এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি হবে, তা পুনরুদ্ধারের কৌশল বিবেচনায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং বর্তমান মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সরকার পরিচালনা করেছিলেন সেখানে তিনটি বাজেট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সে হিসাবে এটি আওয়ামী লীগের ২০তম বাজেট, যেটি আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশকে উপহার দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলা এবং এর অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা গতানুগতিক বাজেট থেকে সরে এসে সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে এসেছি। স্বাস্থ্য খাতকে এবার সর্বাপেক্ষা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ প্রভৃতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তা ছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বরাদ্দের দিক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবস্থান পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে, যা গত অর্থবছরে ছিল অষ্টম স্থানে’, যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, তাঁর সরকারের যথাযথ এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। যদিও একটি মৃত্যুও তাঁর সরকারের কাম্য নয়। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্তের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

যেখানে ভারতে ৩ দশমিক ০৮, পাকিস্তানে ২ দশমিক ০৩, যুক্তরাজ্যে ১৪ দশমিক ০৩ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৫ শতাংশ। ২৮ জুন পর্যন্ত সমগ্র বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ২ হাজার। তার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ লাখ ১ হাজার ৬৪৪ জন। বিশ্বে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ৫ দশমিক ০১ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৭৩৮ জন এবং ৫৫ হাজার ৭২৭ জন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন।
আজ সোমবার একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশনে আলোচনায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসে খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা হয়েছে বলে সম্প্রতি খবর ছড়িয়ে পড়ে। এত ব্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা হচ্ছে।

আজ বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকার প্রসঙ্গটি তোলেন। এর পরই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তৃতার সঙ্গে একমত পোষণ করে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা কী করে হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এখানে বিরোধী দলের উপনেতা ঠিকই বলেছেন, থাকা-খাওয়া বাবদ মেডিকেল কলেজের হিসাব অনুযায়ী ২০ কোটি টাকা ব্যয় একটু বেশিই মনে হচ্ছে । তবে, এটা আমরা তদন্ত করে দেখছি, এত অস্বাভাবিক কেন হবে। এখানে কোনো অনিয়ম হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তাঁর সরকারের দেওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটকে কেউ কেউ উচ্চাভিলাষী বললেও সরকার এই বাজেটের সফল বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে আমরা অতীতে কখনো ব্যর্থ হইনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হব না। আমরা কখনো হতাশায় ভুগি না। আমরা সব সময় একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাই।’

দেশে পর্যাপ্ত চালের মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যে সংকটই আসুক না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলেও এ সময় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে সাময়িক প্রয়োজন উদ্ভূত হয়েছে তা মেটানো এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি হবে, তা পুনরুদ্ধারের কৌশল বিবেচনায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং বর্তমান মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সরকার পরিচালনা করেছিলেন সেখানে তিনটি বাজেট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

সে হিসাবে এটি আওয়ামী লীগের ২০তম বাজেট, যেটি আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশকে উপহার

0 62

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত গীতিকার প্রয়াত নাইম গওহরের পরিবারের প্রতি আবারো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের ৫ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম আজ বাসসকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পরিবারটিকে একটি প্লট অথবা ফ্লাট প্রদানের জন্যও সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশনা প্রদান করেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গতকাল তাঁর কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অনুদানের ৫ লাখ টাকা নাইম গওহরের অসুস্থ স্ত্রী রাজিয়া গওহরের উত্তরার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।’
প্রেস সচিব বলেন, ২০১৬ সালেও নাইম গওহরের পরিবারকে অনুদান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ২৫ লাখ টাকা প্রদান করেছিলেন এবং তখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁদের জন্য একটি ফ্লাট অথবা প্লট বরাদ্দের নির্দেশ দেন।
কিন্তু নানা জটিলতার কারণে পরিবারটি এখনও ফ্লাট বা প্লট কোন কিছুই পায়নি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনলে তিনি তৎক্ষণাৎ গওহরের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন এবং একইসঙ্গে তাঁর পরিবারকে দ্রুততার সঙ্গে একটি প্লট অথবা ফ্লাট হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন, বলেন প্রেস সচিব।
তিনি আরো বলেন, গওহর নাইমের কন্যা ইলোরা গওহর পুনরায় তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, তাঁর ৭৬ বছর বয়েসি মাতা এখন ক্যানসার এবং পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী।
নাইম গওহর ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর ৯৩ বছর বয়েসে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে মারা যান।
তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাতেই তাঁকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। এরআগে ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক সহযোগিতাতেই তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নাইম গওহর ২০১২ সালে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত হন।
মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁর রচিত অসংখ্য দেশাত্ববোধক গান সে সময়ের মুক্তিকামী দেশবাসীর মধ্যে সাহসের সঞ্চার করে।

মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচার সংক্রান্ত রিপোর্টের র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নত অবস্থান অর্জন করেছে। বিদেশে অবৈধ অভিবাসন রোধে ঢাকার প্রয়াসের স্বীকৃতি দিয়ে মানবপাচার বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশগুলোর র‌্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশের বিষয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও তার মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প রিপোর্টটি প্রকাশ করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আজ প্রকাশিত ট্র্যাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) শীর্ষক প্রতিবেদনে মানবপাচার রোধে বাংলাদেশের উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, ‘(বাংলাদেশ) সরকার পূর্ববর্তী প্রতিবেদনের সময়ের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা প্রদর্শন করেছে; সুতরাং, বাংলাদেশ টায়ার ২-তে উন্নীত হয়েছে।’
প্রতিবেদনের ২০ তম সংস্করণে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পাচার নির্মূলের ন্যূনতম মান পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও এ লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার রিপোর্টে চারটি ক্যাটাগরিতে দেশগুলোকে ভাগ করা হয়। সেগুলো হচ্ছে- প্রথম স্তর, দ্বিতীয় স্তর, দ্বিতীয় স্তর নজরদারি (ওয়াচলিস্ট) ও তৃতীয় স্তর।
প্রতিবেদনে বিশেষত ২০০০ ইউএন টিআইপি প্রটোকল অনুসারে একটি কঠোর পাচারবিরোধী আইনের অধীনে সাতটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সনাক্ত করার জন্য মানব পাচারকারীদের শাস্তিযুক্ত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ করে মানবপাচার বিরোধী অভিযানের প্রশংসা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘন্টা পরে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন মার্কিন স্বীকৃতির প্রশংসা এবং এই উন্নয়নকে মানব পাচারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, এই উন্নতি লাভ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে বিদ্যমান ইউএসএআইডি’র কার্যক্রম স্থগিত করত।
‘এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রন্ত্রী মোমেন মানব পাচারের বিরুদ্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুসারে এটি তার দফতর এবং স্বরাষ্ট্র, আইন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল বলে বর্ণনা করেন।
মন্ত্রী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে এবং একমাত্র এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত আদালতে পাচারকারীদের বিচারের সম্মুখীন করার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের বিশেষ প্রশংসা করেছেন।
মোমেন বলেন, আদালত ৪০৩ টি পাচারবিরোধী মামলা নিস্পত্তি করেছে এবং এর মধ্যে ৩১২টির বিচার করে ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় পাচার রোধে আইন লঙ্ঘনের জন্য ১৬২টি নিয়োগকারী সংস্থার লাইসেন্স স্থগিত করেছে।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন এনজিও একই সাথে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা মানব পাচারের বিষয়ে দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন ঘটাতে করতে চাই। তাই, ঢাকা এই ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
মোমেন সংশ্লিষ্ট সকলকে জনমত গঠন করতে এবং মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনে দেশের আটটি বিভাগে পাচারসহ সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এমনিতেই মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ। উপরন্তু বিলম্ব ফি মওকুফ থাকায় এবার অনেককেই একত্রে দিতে হচ্ছে তিন মাসের বিল। এতকিছুর পরও যখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিদ্যুত বিল বেশি আসে তখন সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েন গ্রাহকরা। দেশের অসংখ্য গ্রাহক এবার এমন অতিরিক্ত বিলের বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বিষয়টা স্বীকার করে নিয়ে এর সমাধান বাতলে দিলেন বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেন, আমাদের কাছেও এ সংক্রান্ত প্রচুর অভিযোগ এসেছে। আসলে করোনাভাইরাস এই সমস্যার জন্য অনেকখানি দায়ী। মিটার রিডিংয়ের দায়িত্বে যারা আছেন, ভাইরাসের ভয়ে তারা অনেকেই এবার সরেজমিনে গিয়ে সেটা করতে পারেননি। আমাদের নির্দেশনা ছিল, সেক্ষেত্রে গত মাসগুলোর সঙ্গে তুলনা করে বিল তৈরি করতে হবে। এটা করতে করতে গিয়েই অনেক গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিল বেশি তুলে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আরো বলেন- আমি বেশ কয়েকবার গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করেই বলেছি, আপনাদের যার যে অভিযোগ আছে তা নিকটস্থ অফিসারকে জানান, তারা সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে দেবে। আমাদের যে ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলো আছে তাদেরকে গ্রাহকের এই সমস্যার কথা জানিয়ে সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি তারা সমাধান না করে তাহলে তার ওপরের কর্মকর্তাকে জানান। যদি তাতেও না হয়, আমাকে মেইল করুন।প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এমন অনেকেই ইতোমধ্যে আমাকে মেইল করেছেন, সেসব প্রত্যেকটি মেইল যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ফরোয়ার্ড করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছি। তাই এ নিয়ে আপনারা হতাশ হবেন না। আমাদের ৪ কোটি গ্রাহকের মধ্যে অন্তত কয়েক লাখ গ্রাহক এবার অতিরিক্ত বিলের বিড়ম্বনায় পড়েছেন। আমরাও চেষ্টা করছি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে।

0 72

নিষেধ করার পরও দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে অসংখ্য ফিটনেসবিহীন মোটরযান। এগুলো নবায়ন করতে বার বার অনুরোধ করার পরও মালিকপক্ষ সেদিকে নজর দেয়নি। তাই এবার কঠোর হতে যাচ্ছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

আজ শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে তারা জানায়, বিগত ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে যেসব যানবাহনের ফিটনেস নেই, তাদের আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ফিটনেস নবায়ন করতে হবে। নয়তো গাড়িগুলোর রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।

বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জি.) স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ এর ২৫ ধারা মোতাবেক বিআরটিএ হতে মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে। তারপরও ডাটাবেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মোটরযানের ফিটনেস নবায়ন করা হয়নি।

এমতাবস্থায় চলতি জুন মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে নিজ নিজ মোটরযানের ফিটনেস নবায়নের জন্য মোটরযানের মালিকগণকে অনুরোধ করা হলো। নয়তো আগামী ১ জুলাইয়ের পর ফিটনেসবিহীন এসব মোটরযানসমূহকে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা চিরতরে ব্যবহারের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ২৪ ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করে চিঠি লিখেছেন ডিএমপি কমিশনার। পরবর্তীতে সেই চিঠি গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনায় একাধিক সাংবাদিককে তলব করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা জানায়, পুলিশের এমন পদক্ষেপ স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। অথচ এটা না করে পুলিশের উচিৎ ছিল দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে সাংবাদিকদের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা।

এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠিত নীতি হচ্ছে- সাংবাদিক তার সংবাদের উৎস প্রকাশ করবেন না। এখন যদি সাংবাদিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তাকে কে তথ্য সরবরাহ করেছেন, তাহলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির ব্যাপারে কেউ আর মুখ খুলতে সাহস করবে না।’

যা কার্যত স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বাধা হিসেবে গণ্য হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের চাপের মধ্যে রাখার নীতি আত্মঘাতী এবং সার্বিকভাবে জনস্বার্থবিরোধী। এর ফলে পুলিশের মতো একটি পেশাদার বাহিনী আদৌ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধে আগ্রহী কী-না সেই প্রশ্নটি থেকে যায়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ উঠা আলোচিত সেই কর্মকর্তা দোষী সাব্যস্ত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা উচিত। কিন্তু পুলিশের মতো একটি সুশৃঙ্খলবাহিনী তা না করে বরং চিঠি কী করে গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেল সেটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, চিঠি কীভাবে ফাঁস হলো তা একান্তভাবে জানা প্রয়োজন হলে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে তা বের করা যেত। কিন্তু পুলিশ এই পথে না এগিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের ওপর দৃশ্যমান চাপ তৈরি করছেন।

0 57

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলছেন, দেশের করোনা পরিস্থিতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্যক উপলব্দি করেন। এই মুহূর্তে তিনিই দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম ব্যক্তি। করোনা শুধু স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়। এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, ধর্ম, বাণিজ্য- অর্থাৎ জীবনের সকল উপজীব্যকে ঘিরে। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে অধিকতর জোরালো নজর দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি দুই হাজার চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এখন দীর্ঘস্থায়ী সক্ষমতার কাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি তার নিজের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, আমিও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। তবে সুস্থ হয়ে বেশ কিছু দিন থেকেই তিনি তার দপ্তরে আসছেন।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করোনা পরিস্থিতি মোকাবলোয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সেগুলো হলো-

কোভিড-১৯ পরীক্ষার কাজ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সম্প্রসারিত হবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় জেলা পর্যায় পর্যন্ত আরপিসিএফ পরীক্ষা যত দ্রুত সম্ভব সম্প্রসারিত হবে।

আরো নতুন নতুন এবং সহজে করা যায় এমন কোভিড-১৯ পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে আসা হবে। উপজেলা হাসপাতাল পর্যন্ত এ ধরনের পরীক্ষা চালু করার প্রচেষ্টা নেওয়া হবে।

সকল জেলা হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণেরা কাজ চলছে।

জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত সকল সরকারি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে ‘হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানোলা’, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পরীক্ষার কিট ও পিপিইর যাতে অভাব না হয়, সেজন্য সুপরিকল্পিত সংগ্রহ ও সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল যেন কোভিড ও নন কোভিড সকল রোগীর চিকিৎসা দেয় তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বেসকারি হাসপাতালে মূল্য নির্ধারণ, তদারকি ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি ও বেসরকারি খাত যেন যৌথভাবে এই গুরু দায়িত্ব পালন করে সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া পূর্বঘোষিত জোনিং ব্যবস্থা যখন যেখানে যেমন প্রয়োজন তা কার্যকর করা হবে। এ ব্যাপারে একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ কাজ করছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর ভরসা রাখুন এবং বিশ্বের করোনা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখুন। বাংলাদেশ ব্যতিক্রমী কোনো দেশ নয়। আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থে্য যা করা সম্ভব এবং যা বাস্তবমুখী – সরকার সে রকম ব্যবস্থাই নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, যতদিন কোভিড থাকবে ততদিন প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। লক্ষণ থাকলে অবহেলা করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক ভাই-বোনদের প্রতি আবেদন, করোনা সন্দেহ হলে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত চিকিৎসা দিন। যেকোনো মূল্যে মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস করতে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিতেই হবে। বয়স্কদের অধিকতর সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া বাগেরহাটে রোগীর আত্মীয়-স্বজনের হামলায় ডা. রাকিবের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দোষীদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থার নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। চিকিৎসদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই ঘটনা যেন তাদের মধ্যে কোনো প্রভাব না ফেলে। বিষয়টি সরকার দেখবে, আপনারা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন।