Home আন্তর্জাতিক

করোনাভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে চীনে। এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটির বেশি। এতে মারা গেছে ৫ লক্ষাধিক মানুষ।
এই ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের শতাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন এগিয়ে আছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে এবার করোনার ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে চীন। সোমবার (২৯ জুন) এ খবর দিয়েছে ইয়াহু নিউজ। খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীর গবেষণা শাখা এবং স্যানসিনো বায়োলজিকসের (৬১৮৫.এইচকে) তৈরি একটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মানব শরীরে প্রয়োগের অনুমতি পেয়েছে।
তবে আপাতত ভ্যাকসিন শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যবহার করা হবে। স্যানসিনো বলেছে, চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন গত ২৫ জুন এডি৫-এনকোভ ভ্যাকসিনটি সৈন্যদের দেহে এক বছরের জন্য প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। স্যানসিনো বায়োলজিকস এবং একাডেমি অফ মিলিটারির একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার স্যানসিনো বায়োলজিকস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভ্যাকসিনটি চীনের বাইরেও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাডানায় পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদনে দেয়া হয়েছে। তবে চীনের লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের অনুমোদনের আগে এটি ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হবে না।
খবরে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক কারণে ভ্যাকসিনটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হবে না। এমনকি সেনাবাহিনীর সদস্যদের এই ভ্যাকসিন নেয়া বাধ্যতামূলক কিনা তাও প্রকাশ করা হয়নি।
কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনটি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় দারুণভাবে সফল হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ভ্যাকসিনটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে কিনা তা নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।

টানা তৃতীয় ট্রায়ালেও সফল হয়েছে বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি করা করোনা ভ্যাকসিন। ফলে বৈশ্বিক এই মহামারিটি রুখতে বিশ্বের অন্যান্য ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারীদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে গিয়েছে তারা।

বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ভারতে র সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াতে দাবি করেছে, সব ঠিক থাকলে জুলাই মাসের প্রথমেই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে বাজারে।

এদিকে আরব আমিরাত ও চীনের যৌথভাবে তৈরি একটি ভ্যাক্সিনেরও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এই গবেষণা করছে আমিরাত ভিত্তিক কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা কোস্পানি জি৪২ এবং চীনা কোম্পানি সিনোফার্ম গ্রুপ। প্রথম দুই ট্রায়ালে সাফল্য পেয়েছে এই ভ্যাকসিনও।

অক্সফোর্ড ও অক্সফোর্ডের অধীনস্থ জেন্নার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের ডিজাইন করা ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে যুক্তরাজ্যে। ডিএনএ ভ্যাকসিনের প্রথম হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এপ্রিলে ।

এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের দায়িত্বে ছিলেন, ভাইরোলজিস্ট সারাহ গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল এবং জেন্নার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা।

ব্রাজিলে কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালিয়ে যাচ্ছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রজেনেকা প্রাইভেট লিমিটেড। লেমানন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্রাজিলে করোনার হটস্পট সাও পাওলো ও রিও ডি জেনিরোতে মোট ৩০০০ জনকে দেয়া হচ্ছে ভ্যাকসিন। তার মধ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ সাও পাওলোতে ২০০০ জন ও রিও ডি জেনিরোতে হাজার জনকে দেয়া হচ্ছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন।

প্রথম পর্যায়ে তিন হাজার জনকে বেছে নেয়া হয়েছে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য। পরবর্তী পর্যায়ে আরো বেশিজনকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

এপ্রিলে প্রথমবার মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করেছিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। প্রথম দু’জনের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়েছিল ভ্যাকসিন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন একজন মহিলা বিজ্ঞানী। নাম এলিসা গ্রানাটো। আরো ৮০০ জনকে দুটি দলে ভাগ করে কন্ট্রোলড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হয়েছিল।

অক্সফোর্ড জানিয়েছে, দেশের বাইরে প্রথমবার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে। এই ট্রায়ালের রিপোর্ট ভাল হলে, অন্যান্য দেশেও ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হবে।

ভ্যাকসিনের ডোজ ঠিক করার জন্য শুকরের উপর ট্রায়াল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে অক্সফোর্ডের সারা গিলবার্টের টিম। এই ট্রায়ালের দায়িত্বে ছিল পিরব্রাইট ইউনিভার্সিটি। ভাইরোলজিস্টরা বলেছেন, শুকরের বিপাক ক্রিয়া ও কোষের সঙ্গে মানুষের কোষের অনেক মিল আছে। তাই সেফটি ট্রায়াল করে ডোজের সঠিক মাত্রা ঠিক করে নেয়া হয়েছিল।

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল। জেন্নার ইনস্টিটিউট ভাইরোলজি বিভাগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই ভ্যাকসিনের ডিজাইন করা হয়েছে। এই গবেষণায় অক্সফোর্ডের পাশে রয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকাও।

সারা গিলবার্টের টিম প্রথমবার যে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছিল তার নাম ChAdOx1 nCoV-19। তবে এই ভ্যাকসিনের ক্নিনিকাল ট্রায়াল রেসাস প্রজাতির বাঁদরের উপর ব্যর্থ হয়। অক্সফোর্ড জানায়, ওই প্রজাতির বাঁদরের শরীরে কোভিড সংক্রমণ রুখতে না পারলেও নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করেছে এই ভ্যাকসিন। পরে নতুন করে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের ডিজাইন করে অক্সফোর্ড। বর্তমানে এর নয়া ভার্সনের নাম হয়েছে AZD1222।

 

কীভাবে তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন?

শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেয়া অ্যাডেনোভাইরাসকে ল্যাবে এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে যাতে মানুষের শরীরে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে না পারে। এরপর, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের কাঁটার মতো অংশ অর্থাৎ স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনগুলোকে আলাদা করা হয়েছে। এই ভাইরাল প্রোটিন আগে থেকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা অ্যাডেনোভাইরাসের মধ্যে ঢুকিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। এখন ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করলে এই বাহক ভাইরাস অর্থাৎ অ্যাডেনোভাইরাস করোনার স্পাইক প্রোটিনগুলোকে সঙ্গে করে নিয়েই মানুষের শরীরে ঢুকবে। দেহকোষ তখন এই ভাইরাল প্রোটিনের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। সেই সঙ্গে দেহকোষের টি-সেল (T-Cell) গুলোকে উদ্দীপিত করবে। এই টি-সেলের কাজ হল বাইরে থেকে শরীরে ঢোকা ভাইরাল অ্যান্টিজেনগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া।

অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন গবেষণায় যুক্ত রয়েছে ভারতের অন্যতম বড় বায়োটেকনোলজি ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। অক্সফোর্ডের কোভিড ভ্যাকসিন গবেষণার অন্যতম সদস্য ডক্টর অ্যাড্রিয়ান হিলের তত্ত্বাবধানে সেরামেও এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে।

সিইও আদর পুনাওয়ালা বলেছিলেন, দেশেও এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ও সেফটি ট্রায়াল করা হবে, তাছাড়া অক্সফোর্ডের রিকভারি ট্রায়ালের প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখা হচ্ছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি হচ্ছে। আদর বলেছিলেন প্রতিমাসে ৫০ লক্ষ ডোজে ভ্যাকসিন বানানো হবে। ট্রায়াল সফল হতে শুরু করলেই ফি মাসে প্রায় এক কোটি ডোজে ভ্যাকসিন বানানো শুরু হবে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

সম্প্রতি পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুরেশ যাদব বলেছেন, প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের জন্য কম ডোজেই ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছিল, তাতে সুফল দেখা গেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। আশা করা যায়, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে পারবে সেরাম। ২০ থেকে ৩০ লক্ষ ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির কাজ চলছে।
সুরেশ যাদব জানিয়েছেন, অক্সফোর্ডের গবেষকদের ট্রায়াল রিপোর্ট অনুযায়ী এই ভ্যাকসিনের দুটো ডোজই করোনা সংক্রমণের মোকাবিলা করতে পারবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে দেখা গিয়েছিল, ক্যানডিডেট ভ্যাকসিনের দুটি ডোজেই প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে মেনিঙ্গোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামক চারটি স্ট্রেনের মোকাবিলা করার মতো প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, রেসাস প্রজাতির বাঁদরের শরীরে ভ্যাকসিনের একটি ডোজেই নিউমোনিয়ার সংক্রমণ কমে গিয়েছিল। সেনার ইনস্টিটিউটের দাবি, অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন নিরাপদ, রোগীর শরীরে কোনো রকম অ্যাডভার্স রিঅ্যাকশন দেখা যাবে না। করোনা প্রতিরোধে কার্যকরী হবে বলেই আশা করা যায়।

সূত্র: দ্য ওয়াল, সিএনএন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনটি। প্রাথমিক ধাপগুলো শেষে এবার চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়েছে এই ভ্যাকসিনের। এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংস্থাটির প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথম গতকাল শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, চূড়ান্ত ধাপে এসে দেখা হচ্ছে কী পরিমান মানুষকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা দিতে পারে এই ভাইরাস। এর আগে নিম্ন ও মাঝারি পরিসরে মানুষের দেহে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছিল। সফলতা পাওয়ায় এবার চূড়ান্ত ধাপে বৃহৎ সংখ্যক মানুষের দেহে প্রয়োগ হচ্ছে ভ্যাকসিনটি।

ভ্যাকসিনটির নাম ‘সিএইচএডিওএক্সওয়ান এনকোভ-১৯’। চূড়ান্ত ধাপে যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার ২৬০ জন মানুষের দেহে এর প্রয়োগ ঘটানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে পরীক্ষা চলবে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। এই ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘সিএইচএডিওএক্সওয়ান’ ভাইরাস, যা মূলত সাধারণ সর্দি-কাশি হওয়ার পেছনে দায়ী দুর্বল ভাইরাস (অ্যাডেনোভাইরাস) হিসেবে অধিক পরিচিত।সৌম্য স্বামীনাথম আরো বলেন- আশার কথা হল, যুক্তরাষ্ট্রে মর্ডানার তৈরি করা ভ্যাকসিনটিও চূড়ান্ত ধাপের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে তারা এই ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করবে। এছাড়া আরো ১৫টি ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে বিশ্বজুড়ে। গবেষণার খবর পাওয়া গেছে ২০০টি ভ্যাকসিনের ব্যাপারে।

মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচার সংক্রান্ত রিপোর্টের র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নত অবস্থান অর্জন করেছে। বিদেশে অবৈধ অভিবাসন রোধে ঢাকার প্রয়াসের স্বীকৃতি দিয়ে মানবপাচার বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশগুলোর র‌্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশের বিষয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও তার মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প রিপোর্টটি প্রকাশ করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আজ প্রকাশিত ট্র্যাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) শীর্ষক প্রতিবেদনে মানবপাচার রোধে বাংলাদেশের উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, ‘(বাংলাদেশ) সরকার পূর্ববর্তী প্রতিবেদনের সময়ের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা প্রদর্শন করেছে; সুতরাং, বাংলাদেশ টায়ার ২-তে উন্নীত হয়েছে।’
প্রতিবেদনের ২০ তম সংস্করণে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পাচার নির্মূলের ন্যূনতম মান পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও এ লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার রিপোর্টে চারটি ক্যাটাগরিতে দেশগুলোকে ভাগ করা হয়। সেগুলো হচ্ছে- প্রথম স্তর, দ্বিতীয় স্তর, দ্বিতীয় স্তর নজরদারি (ওয়াচলিস্ট) ও তৃতীয় স্তর।
প্রতিবেদনে বিশেষত ২০০০ ইউএন টিআইপি প্রটোকল অনুসারে একটি কঠোর পাচারবিরোধী আইনের অধীনে সাতটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সনাক্ত করার জন্য মানব পাচারকারীদের শাস্তিযুক্ত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ করে মানবপাচার বিরোধী অভিযানের প্রশংসা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘন্টা পরে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন মার্কিন স্বীকৃতির প্রশংসা এবং এই উন্নয়নকে মানব পাচারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, এই উন্নতি লাভ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে বিদ্যমান ইউএসএআইডি’র কার্যক্রম স্থগিত করত।
‘এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রন্ত্রী মোমেন মানব পাচারের বিরুদ্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুসারে এটি তার দফতর এবং স্বরাষ্ট্র, আইন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল বলে বর্ণনা করেন।
মন্ত্রী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে এবং একমাত্র এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত আদালতে পাচারকারীদের বিচারের সম্মুখীন করার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের বিশেষ প্রশংসা করেছেন।
মোমেন বলেন, আদালত ৪০৩ টি পাচারবিরোধী মামলা নিস্পত্তি করেছে এবং এর মধ্যে ৩১২টির বিচার করে ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় পাচার রোধে আইন লঙ্ঘনের জন্য ১৬২টি নিয়োগকারী সংস্থার লাইসেন্স স্থগিত করেছে।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন এনজিও একই সাথে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা মানব পাচারের বিষয়ে দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন ঘটাতে করতে চাই। তাই, ঢাকা এই ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
মোমেন সংশ্লিষ্ট সকলকে জনমত গঠন করতে এবং মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনে দেশের আটটি বিভাগে পাচারসহ সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করা হয়েছে।

দিন কয়েক আগে চীন বাংলাদেশকে ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক মুক্ত সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এ বিষয়টিকে ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজার ‘খয়রাতি’ বলে আখ্যা দেয়। এজন্য ক্ষমাও চেয়েছে গণমাধ্যমটি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আগুনে ঘি ঢেলে দিলো আরেকটি ভারতীয় গণমাধ্যম এশিয়ান নিউজ হাব।

তারা বলছে, ভারতকে উপেক্ষা করে চীন থেকে অস্ত্র কিনছে বাংলাদেশ। তাদের করা প্রতিবেদনের শিরোনামে এমন, ‘ভারতকে উষ্কে দিচ্ছে বাংলাদেশ; চীন থেকে অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত’।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নেপালের পর ভারতের আরেক মিত্র বাংলাদেশ এখন চীনের সঙ্গে আতাত করতে শুরু করেছে। দেশ দুটি চীনের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে।

আরো বলা হয়, ২০৩০ সালে একটি অত্যাধুনিক সামরিক বাহিনী তৈরি লক্ষ্যে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তারা সেই পরিকল্পনার নাম দিয়েছে ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’। এর আওতায় চীন থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা হবে।

চীনের বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি পণ্যের ৯৭ শতাংশই শুল্ক মুক্ত প্রবেশের সুবিধা পেয়েছে। এর ফলে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ৫ হাজার ১৬১টি পণ্য শুল্ক মুক্ত রপ্তানির সুবিধা পাবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান বিষয়টি জানিয়েছেন বলে বার্তায় বলা হয়।

চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে এ ঘোষণা কার্যকর হবে।

এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির এটা বড় অর্জন। বেইজিংয়ের এই ঘোষণার ফলে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যই শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাবে। এক অর্থে এটাকে শত ভাগ শুল্ক মুক্ত রপ্তানি সুবিধাও বলা যায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাজারেও যাতে বাংলাদেশের পণ্য শুল্ক মুক্ত সুবিধা পায় সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ভালো সম্পর্ক নেই। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে সেই সম্পর্কটা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। এর মধ্যেই চীনকে কঠোর বার্তা দিতে উইঘুর মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন ঠেকাতে নতুন একটি নিষেধাজ্ঞার বিলে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার স্বাক্ষর করা এই বিলের মাধ্যমে মূলত চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের প্রতি চীন সরকারের আচরণের বিরোধিতা করে শক্ত বার্তা পাঠাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি এই বিলটির পক্ষে সবার এত সমর্থন যে মার্কিন কংগ্রেসে মাত্র একটি ‘না’ ভোট পড়েছে।

বিলটি পাশ হওয়ার ফলে মার্কিন প্রশাসন এখন উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত চীনের সব কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই সব কর্মকর্তাদের কোনো আর্থিক সম্পর্ক থাকলে তা নিষিদ্ধ করা হবে এবং তাদের মার্কিন ভিসা বাতিল করা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন এক সময়ে বিলটিতে স্বাক্ষর করলেন যখন তারই নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন নতুন একটি বইয়ে দাবি করেছেন, উইঘুর মুসলমানদের গণহারে আটকের বিষয়ে চীনকে অনেক আগেই অনুমতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে বিলটির বিরোধিতা করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। তারা বলছে, এ সিদ্ধান্তটি চীনের জন্য মানহানিকর। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভুল শুধরে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিনজিয়াং সম্পর্কিত অন্য দেশের কোনো আইন চীন মেনে নেবে না।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে ১০ লাখের বেশি মুসলমানকে বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রেখে নিয়মিত নির্যাতন করা হয়। যদিও চীন এ তথ্য সব সময়ই অস্বীকার করে আসছে।

তাদের দাবি, ক্যাম্পগুলোতে মুসলমানদের সব ধরনের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। তারা যেন মৌলবাদে না জড়ায় সে জন্যই ক্যাম্পগুলোতে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় বিজয়ী হতে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাহায্য পেতে চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন তার লেখা এক বইয়ে এ দাবি করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে শিগগিরই প্রকাশ হতে যাচ্ছে নতুন এ বইটি। এতে বোল্টন দাবি করেছেন, ট্রাম্প চেয়েছিলেন যে, চীন মার্কিন কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য আমদানি করুক।

আগামী ২৩ জুন প্রকাশ হবার কথা রয়েছে ‘দ্য রুম হোয়্যার ইট হ্যাপেনড’ শীর্ষক বইটির। যদিও জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল, বইটিতে এমন কিছু গোপন বিষয় আছে, যা অবশ্যই বাদ দিতে হবে। তবে জন বোল্টন সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

বিবিসি বলছে, বোল্টনের বইটিতে স্থান পেয়েছে ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের ক্ষেত্রে উঠা প্রশ্নগুলোও।

প্রসঙ্গত, গত বছরের জুনে জাপানের ওসাকায় জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠক থেকেই মূলত এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত বইটির সারসংক্ষেপে বোল্টন দাবি করেছেন, বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছিলেন, কিছু মার্কিন সমালোচক চান যাতে চীনের সঙ্গে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়। ট্রাম্প ভেবেছিলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট হয় তো ডেমোক্রেটিকদের কথা বলছেন।

‘এর পরই ট্রাম্প বিস্ময়করভাবে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে আলোচনা ঘুরিয়ে দেন। চীনের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প নির্বাচনে জেতার জন্য জিনপিংয়ের সাহায্য চান,’ বলছে বোল্টন।

খবরে বলা হয়েছে, নতুন এই বই নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ রবার্ট লাইথিজার বোল্টনের বক্তব্যকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই বৈঠকে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে জেতার ব্যাপারে কোন আলোচনা হয়নি।

২০১৮ সালের এপ্রিলে হোয়াইট হাউসে যোগ দেন জন বোল্টন। পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও ট্রাম্প বলেছিলেন, মতানৈক্যের কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

সি টি জি ট্রিবিউন আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট:অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার ঘটনায় বলিউডি শত্রুতার তত্ব বেশ কয়েকদিন ধরেই উঠে আসছিল। এবার তাতে শিলমোহর দিয়ে মামলা দায়ের হল। বিহারের মজফফরপুরের একটি আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে তাবড় তাবড় বলিউডি ব্যক্তিত্বের।

এই মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন সলমন খান, করণ জোহর, সঞ্জয় লীলা বনশালি, একতা কাপুর। আইনজীবী সুধীর কুমার ওঝা এঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৬, ১০৯, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে খবর। সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া তথ্যে সুধীর কুমার জানিয়েছেন সুশান্ত সিং রাজপুত অসম্ভব মানসিক চাপে ছিলেন এই ব্যক্তিদের জন্যই।

পরপর সিনেমার অফার দিয়েও তা থেকে সরিয়ে দেওয়া, বেশ কিছু ফিল্ম মুক্তি না পেতে দেওয়ার মত ঘটনা ঘটিয়েছেন এই ব্যক্তিত্বরা। যার জেরেই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন অভিনেতা। উল্লেখ্য, পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে একাধিক তথ্য। কেন এভাবে ৩৪ বছরের একজন সফল অভিনেতাকে চলে যেতে হল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনেকেই। তদন্ত করছে পুলিশ। অনেকেই দায়ী করেছেন বলিউডকে।

অনেক বলি তারকাই আঙুল তুলেছেন নেপোটিজমের দিকে। কেউ বলেছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ছেলে নয় বলে অনেক কঠিন পথ পেরোতে হয়েছে সুশান্তকে। সুশান্তের আত্নহত্যার পিছনে বলিউডের নেপোটিজম এর বড় ভূমিকা রয়েছে,এমন অভিযোগ উঠছে। এই জল্পনাকে উসকে দিয়ে রাজনৈতিক নেতা সঞ্জয় নিরূপম একটী ট্যুইটে দাবি করে ছিলেন, পরপর ৭টি ছবিতে সাইন করেছিলেন সুশান্ত।

আর ৬ মাসে একের পর এক সেই সাতটি ছবি হাতছাড়া হয়েছে অভিনেতার। তিনি লিখেছেন ছিছোঁড়ে ছবির সাফল্যের পরই ওই ছবিগুলিতে সই করেন সুশান্ত। কিন্তু সেগুলো পরপর হাতছাড়া হয় বলে অভিযোগ। তাঁর অভিযোগ ছিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নিষ্ঠুরতা অন্যমাত্রায় কাজ করে। আর সেই নিষ্ঠুরতার জন্যই প্রতিভাবান শিল্পীদের মরে যেতে হয়। এই নেপোটিজম নিয়ে মুখ খুলেছেন বলিউডের একাংশ।

সুশান্তের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কঙ্গনা রানাওয়াত, প্রকাশ রাজ, অভিনব কাশ্যপ সহ অনেকেই। এদিকে, সুশান্তের মৃত্যুর প্রতিবাদে মঙ্গলবার রীতিমতো আগুন জ্বলল বিহারের পাটনায়। যে শহরের ছেলে সুশান্ত, সেই শহর জ্বলে উঠল প্রিয় তারকার আকস্মিক মৃত্যুতে।

দুদিন আগে মৃত্যু, কিন্তু কেউ এখনও মেনে নিতে পারছেন না সুশান্তের এভাবে চলে যাওয়া। মঙ্গলবার পাটনায় ক্রুদ্ধ ভক্তরা রাস্তায় নেমে আগুন জ্বালালেন। জ্বালানো হল কুশপুতুল। বলিউডের প্রতীকী এই কুশপুতুল জ্বালিয়ে প্রতিবাদ দেখান সুশান্তের ভক্তরা। দীর্ঘক্ষণের এই প্রতিবাদে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পটনা শহর।

test 1