Home Authors Posts by tribune24

tribune24

43 POSTS 0 COMMENTS

0 84

রাজধানীর বেসরকারি আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে এক করোনা রোগীর দুই দিনে মাত্র ৩০ মিনিট অক্সিজেন ব্যবহারের বিল দিতে হয়েছে ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা। আজ রোববার গণমাধ্যমের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর সন্তান মো. তৌহিদুল হক সোহেল।

তিনি বলেন, তার বাবা ৬৭ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাম্মেল হক চট্টগ্রামে থাকেন। সেখানে তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। শরীরে তেমন কোনো উপসর্গ না থাকলেও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে ভর্তি করান।

মো. তৌহিদুল হক সোহেল অভিযোগ করে বলেন, বাবাকে মোট ৯ দিন হাসপাতালে রাখা হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো চিকিৎসক দেখা করতে যায়নি। শুধু একদিন একজন ডাক্তার দরজা থেকে হাত ঈশারা করেছেন। এতেই চিকিৎসকের কনসালটেন্ট ফি ধরা হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা। কোনো ক্লিনার বা অন্য কেউ রুমে যায়নি। তবুও রুম সার্ভিস ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৪০০ টাকা।

সবচেয়ে খারাপ লাগার বিষয় হলো বাবার কোনো শ্বাসকষ্ট নেই। তারপরও আমি নিজেই অক্সিমিটার কিনে দিয়েছি। দুই দিনে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট করে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট অক্সিজেন নিতে হয়েছে। সেটির বিল ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা, যোগ করেন এই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।

তিনি বলেন, পরে হাসপাতালে জিজ্ঞেস করি, প্রতি ঘণ্টায় অক্সিজেনের বিল কত। তারা জানায় ৪০০ টাকা। সেই হিসেব করলে যদি দুই দিনে ২৪ ঘণ্টাই বাবার অক্সিজেন দেয়া হয়, তাহলেও এত টাকা বিল আসে না।

হাসপাতাল বিলসহ ৯ দিনের মোট বিল ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪২০ টাকা। অক্সিজেন বিল ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা। এ ছাড়া চিকিৎসকের ফি ৪৯ হাজার টাকা, ইনভেস্টিগেশন বিল ৮ হাজার ১৭০ টাকা এবং ওষুধের বিল ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭৫২ টাকা।

এ বিষয়ে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের ম্যানেজার মো. নেওয়াজ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তার জানা নেই। এক্ষেত্রে হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে ডা. এহতেশামুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিকাশের ৬১ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া সেই অটোরিকশা চালককে আটক করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার হরিসভা রোডের পুরান ফায়ার সার্ভিস এলাকায় অভিযান চালিয়ে সজীব (১৮) নামের ওই অটোরিকশা চালককে আটক করা হয়।

জানা যায়, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিকাশ এজেন্ট আলমগীর হোসেনের কর্মী মাসুদ চাঁদপুর পৌরসভা সংলগ্ন ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক থেকে ৬১ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর একটি অটোরিকশায় করে তিনি চাঁদপুর শহরের জোড়পুকুর পাড় এলাকায় আসেন। এ সময় তিনি ভুলে টাকার ব্যাগ অটোরিকশায় রেখে নেমে যান।

পরে খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করেন। সিসিটিভি ক্যামেরায় একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই অটোচালক জোড়পুকুর পাড় এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। পরে এক পর্যায়ে টাকার ব্যাগটি নিজের সিটে নিয়ে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করেন।

পরে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের দুটি টিম অভিযানে নামে। প্রায় সাত ঘণ্টা অভিযান চালানোর পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেই অটোচালক আটক করে পুলিশ। পাশাপাশি একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে ৬১ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ নাসিম উদ্দিন জানান, একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়। অটোচালক সজীব বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছে।

অটোরিকশা চালক সজীব জানান, হঠাৎ এত বিপুল পরিমাণ টাকা নিজের অটোরিকশায় দেখতে পেয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি সেই টাকার মালিককে সেগুলো ফেরত দেওয়া জন্য প্রায় আধঘণ্টা জোড়পুকুর পাড় এলাকায় অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কেউ না আসায় তিনি সরাসরি তার গ্যারেজে চলে যান।

মরণব্যাধী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দেশের বিখ্যাত রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। আজ রোববার রাতে তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

কিংবদন্তি এই রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী বলেন, প্রায় ১২ দিন আগে তার দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজ বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বর্তমানে শারীরিক অবস্থা ভালো আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবার দোয়ায় এখনও ভালো আছি। আগামী মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মতো নমুনা টেস্ট করানো হবে। এবার রেজাল্ট নেগেটিভ আসবে বলে আশা করছি।

এ সময় দেশবাসীর কাছে নিজের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চান বরেণ্য এই সংগীতশিল্পী।

উল্লেখ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ অর্জন করেন ৬৩ বছর বয়সী সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ‘বঙ্গভূষণ’, ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

0 72

নিষেধ করার পরও দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে অসংখ্য ফিটনেসবিহীন মোটরযান। এগুলো নবায়ন করতে বার বার অনুরোধ করার পরও মালিকপক্ষ সেদিকে নজর দেয়নি। তাই এবার কঠোর হতে যাচ্ছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

আজ শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে তারা জানায়, বিগত ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে যেসব যানবাহনের ফিটনেস নেই, তাদের আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ফিটনেস নবায়ন করতে হবে। নয়তো গাড়িগুলোর রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।

বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জি.) স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ এর ২৫ ধারা মোতাবেক বিআরটিএ হতে মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে। তারপরও ডাটাবেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মোটরযানের ফিটনেস নবায়ন করা হয়নি।

এমতাবস্থায় চলতি জুন মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে নিজ নিজ মোটরযানের ফিটনেস নবায়নের জন্য মোটরযানের মালিকগণকে অনুরোধ করা হলো। নয়তো আগামী ১ জুলাইয়ের পর ফিটনেসবিহীন এসব মোটরযানসমূহকে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা চিরতরে ব্যবহারের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ২৪ ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাহারা খাতুনের ব্যক্তিগত সহকারী মুজিবুর রহমান।

তিনি জানান, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ সকাল ১০টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন।

এর আগে তিনি হাসপাতালের এসডিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ১২টায় তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা বৈঠক করেন বলে জানান মুজিবুর রহমান।

গত ২ জুন দিবাগত রাতে জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতা নিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। হাসপাতালে বেশ কয়েকবার পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস নেগেটিভ এসেছে।

সাহারা খাতুন দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরে মন্ত্রিপরিষদে রদবদল হলে তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

1 96

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে গ্রাহকদের বকেয়া তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে পরিশোধ করতে হবে। নয়তো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিমন্ত্রীর এমন নির্দেশকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নির্দয় প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি মো. বাহারানে সুলতান বাহার।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে পরিশোধের নির্দেশ ও পরিশোধ না করলে পুনরায় বিলম্ব মাশুল ধার্য এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দিয়েছেন বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। এমন নির্দেশ সাধারণ মানুষের সঙ্গে নির্দয় প্রতারণার শামিল।

ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ স্থবির হয়ে পড়েছে। মানুষের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় গ্রাহকদেরকে এভাবে বাধ্য করা কোনোভাবে মানবিক কাজ হতে পারে না।

তিনি বলেন, দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুতে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিল দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, গ্রাহকদের স্বার্থে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের বিলম্ব মাশুল জুন পর্যন্ত মওকুফ করা হলো। পরে বিল পরিশোধ করলে কোনো সমস্যা হবে না। এতে করে মানুষও সরকারের কথায় আশাবাদী হয়ে বিল পরিশোধ করা থেকে বিরত থাকে।

কিন্তু দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার আগে এভাবে মানুষকে একসঙ্গে বিল পরিশোধের আল্টিমেটাম দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল। একসঙ্গে এত বিল সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি কিছু কিছু জায়গায় ভুতুরে বিল আসলেও তা সমাধান করা হচ্ছে না, যোগ করেন সংগঠনটির এই নেতা।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকের কথা চিন্তা করে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সময়সীমা আরো বাড়ানো এবং বিলম্ব মাশুল সম্পূর্ণ মওকুফ করা হোক। তিন মাস পর প্রতিমাসের সঙ্গে এক মাস করে বিল যোগ করে পরিশোধের সুযোগ দেয়া হোক।

চীনের বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি পণ্যের ৯৭ শতাংশই শুল্ক মুক্ত প্রবেশের সুবিধা পেয়েছে। এর ফলে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ৫ হাজার ১৬১টি পণ্য শুল্ক মুক্ত রপ্তানির সুবিধা পাবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান বিষয়টি জানিয়েছেন বলে বার্তায় বলা হয়।

চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে এ ঘোষণা কার্যকর হবে।

এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির এটা বড় অর্জন। বেইজিংয়ের এই ঘোষণার ফলে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যই শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাবে। এক অর্থে এটাকে শত ভাগ শুল্ক মুক্ত রপ্তানি সুবিধাও বলা যায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাজারেও যাতে বাংলাদেশের পণ্য শুল্ক মুক্ত সুবিধা পায় সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সেলিব্রেটিদের একজন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ খান আফ্রিদি করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। করোনার উপসর্গগুলো শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিদায় নিয়েছে। গতকাল লাইভে এসে তিনি নিজেই এই তথ্য দেন। তবে দ্বিতীয় দফায় এখনো তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।

শহীদ আফ্রিদি বলেন, প্রথম দুই দিন ছিল ভীষণ কঠিন একটা সময়। শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল খুব, এর মধ্যে একা বন্দি থেকে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছিল। এরপর নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, মন শক্ত করলাম। ইনশাআল্লাহ, আমি এখন সুস্থ।

বিশ্বের সব করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রতি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি। তিনি বলেন, বিষয়টাকে খুব বেশি আমলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মগুলো সঠিকভাবে পালন করার পাশাপাশি মনোবল অটুট রাখুন। কোনো কোভিড রোগী যদি নিজে থেকে হেরে না যায় তাহলে এই ভাইরাস তাকে হারানোর ক্ষমতা রাখে না।মাত্র ৫ দিনেই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টাও ব্যাখ্যা করলেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, ঘাবড়ে যাওয়ার কারণেই হয়তো আমরা বিষয়টাকে বড় করে দেখি। নিজেকে পরিবারের অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করে কিছু নিয়ম পালন করতে হবে। আমি দিনে কয়েকবার করে কালোজিরা খেয়েছি। সঙ্গে লং, গরম পানি, চা তো ছিলই। এছাড়া পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বাড়িয়ে দিয়েছি।

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করে চিঠি লিখেছেন ডিএমপি কমিশনার। পরবর্তীতে সেই চিঠি গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনায় একাধিক সাংবাদিককে তলব করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা জানায়, পুলিশের এমন পদক্ষেপ স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। অথচ এটা না করে পুলিশের উচিৎ ছিল দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে সাংবাদিকদের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা।

এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠিত নীতি হচ্ছে- সাংবাদিক তার সংবাদের উৎস প্রকাশ করবেন না। এখন যদি সাংবাদিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তাকে কে তথ্য সরবরাহ করেছেন, তাহলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির ব্যাপারে কেউ আর মুখ খুলতে সাহস করবে না।’

যা কার্যত স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বাধা হিসেবে গণ্য হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের চাপের মধ্যে রাখার নীতি আত্মঘাতী এবং সার্বিকভাবে জনস্বার্থবিরোধী। এর ফলে পুলিশের মতো একটি পেশাদার বাহিনী আদৌ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধে আগ্রহী কী-না সেই প্রশ্নটি থেকে যায়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ উঠা আলোচিত সেই কর্মকর্তা দোষী সাব্যস্ত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা উচিত। কিন্তু পুলিশের মতো একটি সুশৃঙ্খলবাহিনী তা না করে বরং চিঠি কী করে গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেল সেটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, চিঠি কীভাবে ফাঁস হলো তা একান্তভাবে জানা প্রয়োজন হলে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে তা বের করা যেত। কিন্তু পুলিশ এই পথে না এগিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের ওপর দৃশ্যমান চাপ তৈরি করছেন।

চাকরিরত, অবসরপ্রাপ্ত এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ (বাবা-মা ও সন্তান) সশস্ত্রবাহিনীতে ৪ হাজার ১৫৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই সশস্ত্রবাহিনীর সাবেক সদস্য। এ ছাড়া কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বাহিনীটির ২৬ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন জন চাকরিরত ছিলেন।

মৃতদের মধ্যে দুই জন সৈনিক ও একজন মেসওয়েটার। তবে মারা যাওয়া দুই সৈনিক সড়ক দুর্ঘনায় আহত হয়ে আগে থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির মিলিটারি প্যারেড গ্রাউন্ডে ৭৮তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদি কোর্স এবং ৫৩তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর মধ্যে ঢাকা, নবম পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন জাজিরা ক্যান্টমেন্ট এবং চট্টগ্রাম সেনানিবাসে দায়িত্বরত সৈনিকরা বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যান্য স্থানে আক্রান্তের সংখ্যা কম।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রত্যেকটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন বসানোর পাশাপাশি আমাদের পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট রয়েছে। ফলে কোভিড-১৯ টেস্ট করানোর জন্য আমাদের অন্য কোথাও যেতে হয় না। কর্মরতদের পাশাপাশি আমরা সাবেক সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদরও টেস্ট করাচ্ছি।

সেনাপ্রধান আরো বলেন, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব মেশিন বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। আইসিইউতে ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেন সাপোর্টের সুযোগ-সুবিধাও অনেকাংশে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া আমরা অনেক মাস্ক, হ্যান্ডগ্লোভস ও স্যানিটাইজার কিনেছি। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছি ও পাচ্ছি।

প্রত্যেক সেনানিবাসে সেনা সদস্যের সুরক্ষায় যথাযত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে চাকরিরত সেনা সদস্যদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা যাতে কম থাকে সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি, বলেন সেনাপ্রধান।

জেনারেল আজিজ আহমেদ আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গেই পালন করে আসছি। এই পেশাদারিত্ব এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।