Home Authors Posts by tribune24

tribune24

40 POSTS 0 COMMENTS

0 0

অনেক দিন ধরেই চলছে জল্পনা-কল্পনা। গুঞ্জনের পালে এবার লাগল আরেকটু হাওয়া। বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে চাচ্ছেন না লিওনেল মেসি। কাতালানদের নাকি স্রেফ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। আজ এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করল স্প্যানিশ রেডিও কাদেনা সেরে।

বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আছে আগামী মৌসুম পর্যন্ত। স্প্যানিশ জায়ান্টরা স্বপ্ন দেখছেন ন্যু ক্যাম্প থেকেই বুট জোড়া তুলে রাখবেন অধিনায়ক। যদিও তাদের ভাবনার সঙ্গে নাকি একমত নন মেসি। এনিয়ে সম্প্রতি মেসি ও তার বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে বার্সা পরিচলাকদের। যেখানে তাদের হতাশ করেছেন মেসি।

স্প্যানিশ মিডিয়াটির দাবি, চুক্তি শেষেই বার্সা ছাড়তে প্রস্তুত মেসি। এর নেপথ্য কারণ ক্লাবকর্তাদের সঙ্গে তার মন কষাকষি। সাম্প্রতিক বছরে বার্সা এমনকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেখানে নাখোশ হয়েছেন মেসি। নেইমারকে ছেড়ে দেওয়া, অ্যান্তনিও গ্রিজম্যানকে আনা, খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে ক্রীড়া পরিচালক এরিক আবিদালের অভিযোগ নিয়েই মূলত চটে আছেন মেসি।

করোনাভাইরাস বিরতি পরবর্তী মাঠে ফিরেছে বার্সেলোনা। কিন্তু কাতালানদের প্রত্যাবর্তন ঠিক সুখের হয়নি। নিজেদের হারিয়ে খুঁজতে থাকা বার্সা লা লিগার শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর শঙ্কায় পড়েছে। সবশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে ড্র করে এই বেহাল দশা হয়েছে বার্সার। দলের এমন নাজুক পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে মেসির ওপর।

বেশ কয়েকদিন ধরে অচেনা মেসিকে দেখা যাচ্ছে। প্রায়শই নাকি তার মেজাজ খিটখিটে হয়ে আছে। মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে শারীরিক ভাষায় মিলছে নেতিবাচক ছাপ। অনুশীলনে দুজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আবার জড়িয়েছেন বিবাদে। এমনকি বার্সার সহকারী কোচের সঙ্গেও ঝামেলা তৈরি হয়েছে মেসির। সবমিলিয়ে পুরনো গুঞ্জন যেন নতুন করে পাখা মেলল।

করোনাভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে চীনে। এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটির বেশি। এতে মারা গেছে ৫ লক্ষাধিক মানুষ।
এই ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের শতাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন এগিয়ে আছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে এবার করোনার ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে চীন। সোমবার (২৯ জুন) এ খবর দিয়েছে ইয়াহু নিউজ। খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীর গবেষণা শাখা এবং স্যানসিনো বায়োলজিকসের (৬১৮৫.এইচকে) তৈরি একটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মানব শরীরে প্রয়োগের অনুমতি পেয়েছে।
তবে আপাতত ভ্যাকসিন শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যবহার করা হবে। স্যানসিনো বলেছে, চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন গত ২৫ জুন এডি৫-এনকোভ ভ্যাকসিনটি সৈন্যদের দেহে এক বছরের জন্য প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। স্যানসিনো বায়োলজিকস এবং একাডেমি অফ মিলিটারির একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার স্যানসিনো বায়োলজিকস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভ্যাকসিনটি চীনের বাইরেও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাডানায় পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদনে দেয়া হয়েছে। তবে চীনের লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের অনুমোদনের আগে এটি ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হবে না।
খবরে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক কারণে ভ্যাকসিনটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হবে না। এমনকি সেনাবাহিনীর সদস্যদের এই ভ্যাকসিন নেয়া বাধ্যতামূলক কিনা তাও প্রকাশ করা হয়নি।
কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনটি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় দারুণভাবে সফল হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ভ্যাকসিনটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে কিনা তা নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে একজন ‘ভুয়া’ চিকিৎসক ও হাসপাতালের ফার্মেসিতে অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহারের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন ইনজেকশন ও সার্জিক্যাল পণ্য পাওয়া গেছে। আজ রোববার দুপুর ১২টা থেকে এ অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৩)।

এ সময় ইউনানীর সনদ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো এলোপ্যাথিক চিকিৎসা দেয়ায় ‘ভুয়া’ চিকিৎসক মিজানুর রহমানকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন ইনজেকশন ও সার্জিক্যাল পণ্য রাখায় প্রতিষ্ঠানটির ফার্মেসিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া র‍্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, অভিযান চলাকালে হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন (যেটা ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী সংক্ষেপে ডিএআর বলে) অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ইনজেকশন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সার্জিক্যাল আইটেম জব্দ করা হয়েছে।

অনুমোদনহীন এসব মেডিকেল সামগ্রী রাখার অপরাধে ফার্মেসির দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট শফিউল ইসলাম ও আব্দুল জলিলকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‍্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘ইউনানী হেকিম হিসেবে চিকিৎসার জন্য সাময়িক সনদ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন ভুয়া চিকিৎসক মিজানুর রহমান। তার প্যাডে এলোপ্যাথি চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ তিনি নিজেকে হেকিম নয়, বরং ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিতেন।’

অসংখ্য ভুয়া ডিগ্রি তার প্রেসক্রিপশনে যুক্ত আছে। সেগুলোর কোনো সত্যতা কিংবা ভিত্তি নেই। সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করতেই তিনি ভুয়া ডিগ্রি যুক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও অর্থের ক্ষতিসাধন করেন। এ ব্যাপারে ওই চিকিৎসক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানান পলাশ কুমার বসু।

এমন ‘ভুয়া’ চিকিৎসককে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রচার ও চেম্বারে বসার সুযোগ করে দেয়ায় হাসপাতালটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারভাইজার মো. হাসিনুর রহমানকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

0 0

অবৈধভাবে অর্জিত দুই হাজার কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং তার ভাই ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ বিভাগ (সিআইডি)।

গত শুক্রবার রাজধানীর কাফরুল থানায় বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং আইনে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সিআইডি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) এসএম মিরাজ আল মাহমুদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বরকত ও রুবেল গত ১০ বছরে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তারা ২০১০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফরিদপুরের বিআরটিএ, এলজিইডি, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসা ও জোর করে ভূমি দখল করে এই অবৈধ সম্পদ করেছেন। বর্তমানে তাদের এসি-নন এসি মিলিয়ে ২৩টি বাস, বোল্ডার, ড্রাম ট্রাক, বিলাসবহুল পাজারো গাড়ি রয়েছে। এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, অতীতে এ দুই ভাইয়ের সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না। তারা শুধু রাজবাড়ীর এক বিএনপি নেতার সঙ্গী ছিলেন। ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর রাজবাড়ীর ওই এলাকায় এক আইনজীবীকে হত্যার ঘটনা ঘটে। সেই হত্যা মামলায় এ দুই ভাইও আসামি ছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানি লন্ডারিং আইনের মামলাটির তদন্তকাজ করবে সিআইডি। কারণ মামলাটি তারাই দায়ের করেছে।

এ বিষয়ে সিআইডির পরিদর্শক এসএম মিরাজ আল মাহমুদ বলেন, প্রথমে বরকত ও রুবেলকে মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। পরে তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। গত ১৮ জুন এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে তিনি জানতে পারেন, গত ১০ বছরে এই দুই ভাই বিপুল পরিমাণ সম্পদ অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন। যার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন।

এদিকে আজ রোববার দুটি পৃথক চাঁদাবাজির মামলায় শুনানি শেষে বরকত ও রুবেলের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ফরিদপুর ১ নং আমলি আদালতে বিচারক হাকিম মো. ফারুক হোসাইন। এর আগে আরো চারটি মামলায় ২০ দিন করে রিমান্ডে ছিলেন এই দুই ভাই।

এর আগে এই একই আদালতে চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বরকত ও রুবেল। এর মধ্যে বরকত চাঁদাবাজির মামলায় এবং রুবেল অস্ত্র মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।গত ১৬ মে রাতে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লা বাড়ি সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে পর পর দুই দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ১৮ মে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা। এই মামলার আসামি হিসেবে বরকত ও রুবেলসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৭ জুন ফরিদপুর শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে তাদের অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

টানা তৃতীয় ট্রায়ালেও সফল হয়েছে বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি করা করোনা ভ্যাকসিন। ফলে বৈশ্বিক এই মহামারিটি রুখতে বিশ্বের অন্যান্য ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারীদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে গিয়েছে তারা।

বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ভারতে র সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াতে দাবি করেছে, সব ঠিক থাকলে জুলাই মাসের প্রথমেই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে বাজারে।

এদিকে আরব আমিরাত ও চীনের যৌথভাবে তৈরি একটি ভ্যাক্সিনেরও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এই গবেষণা করছে আমিরাত ভিত্তিক কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা কোস্পানি জি৪২ এবং চীনা কোম্পানি সিনোফার্ম গ্রুপ। প্রথম দুই ট্রায়ালে সাফল্য পেয়েছে এই ভ্যাকসিনও।

অক্সফোর্ড ও অক্সফোর্ডের অধীনস্থ জেন্নার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের ডিজাইন করা ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে যুক্তরাজ্যে। ডিএনএ ভ্যাকসিনের প্রথম হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এপ্রিলে ।

এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের দায়িত্বে ছিলেন, ভাইরোলজিস্ট সারাহ গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল এবং জেন্নার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা।

ব্রাজিলে কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালিয়ে যাচ্ছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রজেনেকা প্রাইভেট লিমিটেড। লেমানন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্রাজিলে করোনার হটস্পট সাও পাওলো ও রিও ডি জেনিরোতে মোট ৩০০০ জনকে দেয়া হচ্ছে ভ্যাকসিন। তার মধ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ সাও পাওলোতে ২০০০ জন ও রিও ডি জেনিরোতে হাজার জনকে দেয়া হচ্ছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন।

প্রথম পর্যায়ে তিন হাজার জনকে বেছে নেয়া হয়েছে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য। পরবর্তী পর্যায়ে আরো বেশিজনকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

এপ্রিলে প্রথমবার মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করেছিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। প্রথম দু’জনের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়েছিল ভ্যাকসিন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন একজন মহিলা বিজ্ঞানী। নাম এলিসা গ্রানাটো। আরো ৮০০ জনকে দুটি দলে ভাগ করে কন্ট্রোলড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হয়েছিল।

অক্সফোর্ড জানিয়েছে, দেশের বাইরে প্রথমবার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে। এই ট্রায়ালের রিপোর্ট ভাল হলে, অন্যান্য দেশেও ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হবে।

ভ্যাকসিনের ডোজ ঠিক করার জন্য শুকরের উপর ট্রায়াল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে অক্সফোর্ডের সারা গিলবার্টের টিম। এই ট্রায়ালের দায়িত্বে ছিল পিরব্রাইট ইউনিভার্সিটি। ভাইরোলজিস্টরা বলেছেন, শুকরের বিপাক ক্রিয়া ও কোষের সঙ্গে মানুষের কোষের অনেক মিল আছে। তাই সেফটি ট্রায়াল করে ডোজের সঠিক মাত্রা ঠিক করে নেয়া হয়েছিল।

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল। জেন্নার ইনস্টিটিউট ভাইরোলজি বিভাগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই ভ্যাকসিনের ডিজাইন করা হয়েছে। এই গবেষণায় অক্সফোর্ডের পাশে রয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকাও।

সারা গিলবার্টের টিম প্রথমবার যে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছিল তার নাম ChAdOx1 nCoV-19। তবে এই ভ্যাকসিনের ক্নিনিকাল ট্রায়াল রেসাস প্রজাতির বাঁদরের উপর ব্যর্থ হয়। অক্সফোর্ড জানায়, ওই প্রজাতির বাঁদরের শরীরে কোভিড সংক্রমণ রুখতে না পারলেও নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করেছে এই ভ্যাকসিন। পরে নতুন করে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের ডিজাইন করে অক্সফোর্ড। বর্তমানে এর নয়া ভার্সনের নাম হয়েছে AZD1222।

 

কীভাবে তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন?

শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেয়া অ্যাডেনোভাইরাসকে ল্যাবে এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে যাতে মানুষের শরীরে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে না পারে। এরপর, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের কাঁটার মতো অংশ অর্থাৎ স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনগুলোকে আলাদা করা হয়েছে। এই ভাইরাল প্রোটিন আগে থেকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা অ্যাডেনোভাইরাসের মধ্যে ঢুকিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। এখন ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করলে এই বাহক ভাইরাস অর্থাৎ অ্যাডেনোভাইরাস করোনার স্পাইক প্রোটিনগুলোকে সঙ্গে করে নিয়েই মানুষের শরীরে ঢুকবে। দেহকোষ তখন এই ভাইরাল প্রোটিনের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। সেই সঙ্গে দেহকোষের টি-সেল (T-Cell) গুলোকে উদ্দীপিত করবে। এই টি-সেলের কাজ হল বাইরে থেকে শরীরে ঢোকা ভাইরাল অ্যান্টিজেনগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া।

অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন গবেষণায় যুক্ত রয়েছে ভারতের অন্যতম বড় বায়োটেকনোলজি ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। অক্সফোর্ডের কোভিড ভ্যাকসিন গবেষণার অন্যতম সদস্য ডক্টর অ্যাড্রিয়ান হিলের তত্ত্বাবধানে সেরামেও এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে।

সিইও আদর পুনাওয়ালা বলেছিলেন, দেশেও এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ও সেফটি ট্রায়াল করা হবে, তাছাড়া অক্সফোর্ডের রিকভারি ট্রায়ালের প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখা হচ্ছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি হচ্ছে। আদর বলেছিলেন প্রতিমাসে ৫০ লক্ষ ডোজে ভ্যাকসিন বানানো হবে। ট্রায়াল সফল হতে শুরু করলেই ফি মাসে প্রায় এক কোটি ডোজে ভ্যাকসিন বানানো শুরু হবে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

সম্প্রতি পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুরেশ যাদব বলেছেন, প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের জন্য কম ডোজেই ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছিল, তাতে সুফল দেখা গেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। আশা করা যায়, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে পারবে সেরাম। ২০ থেকে ৩০ লক্ষ ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির কাজ চলছে।
সুরেশ যাদব জানিয়েছেন, অক্সফোর্ডের গবেষকদের ট্রায়াল রিপোর্ট অনুযায়ী এই ভ্যাকসিনের দুটো ডোজই করোনা সংক্রমণের মোকাবিলা করতে পারবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে দেখা গিয়েছিল, ক্যানডিডেট ভ্যাকসিনের দুটি ডোজেই প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে মেনিঙ্গোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামক চারটি স্ট্রেনের মোকাবিলা করার মতো প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, রেসাস প্রজাতির বাঁদরের শরীরে ভ্যাকসিনের একটি ডোজেই নিউমোনিয়ার সংক্রমণ কমে গিয়েছিল। সেনার ইনস্টিটিউটের দাবি, অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন নিরাপদ, রোগীর শরীরে কোনো রকম অ্যাডভার্স রিঅ্যাকশন দেখা যাবে না। করোনা প্রতিরোধে কার্যকরী হবে বলেই আশা করা যায়।

সূত্র: দ্য ওয়াল, সিএনএন

ব্যাংকের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। এরপর লাখ টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহককে টার্গেট করে নাটকীয় কায়দায় মোটরবাইকে ছিনতাই করছে একটি চক্র। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে চট্টগ্রামে ছয়জনকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি ও দুটি মোটর সাইকেল।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৬ জুন নাসিরাবাদ এক্সিম ব্যাংকের সামনে ঘোরাফেরা করছিল কয়েকজন যুবক। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল বার বার ব্যাংকের আশেপাশে ঘুরছিল। আবার ফুটপাত দিয়ে সাধারণ মানুষের বেশে হাঁটা চলাও করছিল তারা।

মূলত ছদ্মবেশে বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে ঘোরাফেরা করে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রটি। এ সময় টার্গেট করা ব্যক্তিকে অনুসরণ করে তারা। ব্যাংক থেকে কেউ টাকা নিয়ে বের হলেই তাকে টার্গেট করে সুযোগ বুঝে টাকা হাতিয়ে নেয়। এসময় ফারুক নামে এক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা তুলে বের হয়ে আসেন। দুপুর একটায় বন্দর এলাকায় যাওয়ার জন্য সিএনজি অটোরিকশা ঠিক করলে পিছু নেয় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের চক্রটি।

কোতয়ালী থানাধীন জমিয়াতুল ফালাহ পশ্চিম গেইটে আসলে দুই মোটর সাইকেল সিএনজির গতিরোধ করে। অনেকেটা ফিল্মি কায়দায় এ সময় ৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
সিএমপি কোতয়ালী থানা ওসি মো. মহসিন বলেন, ‘চক্রটিতে ৭ জন ছিলো তারমধ্যে ৬ জনকে আটক করেছি। এই চক্রের ব্যবহৃত ২টি মোটর সাইকেলও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।’
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। ব্যাংকসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে শনিবার ভোররাতে কর্ণফুলী ও ওয়াসার মোড়ে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রটিকে গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় ডাকাতির মামলা করে ভুক্তভোগী ফারুক। শুধু এ ঘটনা নয়, নগরীর বিভিন্ন থানায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের নামে বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজি ও ডাকাতি মামলা রয়েছে।
সূত্র- সময় টিভি

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনটি। প্রাথমিক ধাপগুলো শেষে এবার চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়েছে এই ভ্যাকসিনের। এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংস্থাটির প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথম গতকাল শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, চূড়ান্ত ধাপে এসে দেখা হচ্ছে কী পরিমান মানুষকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা দিতে পারে এই ভাইরাস। এর আগে নিম্ন ও মাঝারি পরিসরে মানুষের দেহে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছিল। সফলতা পাওয়ায় এবার চূড়ান্ত ধাপে বৃহৎ সংখ্যক মানুষের দেহে প্রয়োগ হচ্ছে ভ্যাকসিনটি।

ভ্যাকসিনটির নাম ‘সিএইচএডিওএক্সওয়ান এনকোভ-১৯’। চূড়ান্ত ধাপে যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার ২৬০ জন মানুষের দেহে এর প্রয়োগ ঘটানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে পরীক্ষা চলবে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। এই ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘সিএইচএডিওএক্সওয়ান’ ভাইরাস, যা মূলত সাধারণ সর্দি-কাশি হওয়ার পেছনে দায়ী দুর্বল ভাইরাস (অ্যাডেনোভাইরাস) হিসেবে অধিক পরিচিত।সৌম্য স্বামীনাথম আরো বলেন- আশার কথা হল, যুক্তরাষ্ট্রে মর্ডানার তৈরি করা ভ্যাকসিনটিও চূড়ান্ত ধাপের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে তারা এই ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করবে। এছাড়া আরো ১৫টি ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে বিশ্বজুড়ে। গবেষণার খবর পাওয়া গেছে ২০০টি ভ্যাকসিনের ব্যাপারে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বের যখন জেরবার অবস্থা, তখন ‘সালমোনেলা’ নামের ব্যাকটেরিয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে করোনার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এই ব্যাকটেরিয়ার উৎপত্তি। মুরগি থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাকটেরিয়ায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে একবার এই ব্যাকটেরিয়ার কথা বলেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তখন খুব বেশি সংক্রমণের কথা শোনা যায়নি। তবে এবার গত মে মাসের শেষদিক থেকে সংক্রমণ শুরু হলে মাত্র দুই মাসের মাথায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় ৫০০ জনের শরীরে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, মুরগি থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাকটেরিয়া পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি অঙ্গরাজ্যে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন, আরও ৮৬ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এখনই এটাকে থামাতে না পারলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বব্যাপী।

কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের সরকারি বাসায় অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ শুক্রবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে বিপ্লব বড়ুয়া কোভিড-১৯ টেস্ট করিয়েছেন। তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে বিপ্লব বড়ুয়ার শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। তিনি সুস্থ আছেন।

এদিকে, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে শিগগিরই স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করার আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

শুক্রবার দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মির্জা ফখরুল সাহেবের কথায় মনে হয়, বিএনপি গুজব ও বিদ্বেষ সৃষ্টিকারীদের পক্ষ নিচ্ছে।
হাছান মাহমুদ আজ বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে চলচ্চিত্রনির্মাতাদের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।
‘মহামারিতেও সরকার ভিন্ন মতের প্রতি বেপরোয়া’ -মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ ফখরুল সাহেব কোনটিকে ভিন্নমত বলছেন, সেটি বড় প্রশ্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব-বিদ্বেষ ছড়ানো যদি ভিন্নমত হয়, তাহলে ফখরুল সাহেবের বক্তব্য যারা গুজব ও বিদ্বেষ ছড়ায় তাদের সাফাই গাওয়া৷ বিএনপি নেতারা যে সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা সরকারের যথেচ্ছ সমালোচনা করতে পারছেন, সেখানে মিথ্যাচারও করা হচ্ছে, ভিন্নমতের প্রতি সরকার সহনশীল না হলে তো এটি হতো না।’
‘একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর তার বিষয়ে যেভাবে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে, সেগুলো ভিন্নমত নয়, বিদ্বেষ’ উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সরকার কখনো ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করেনি, করবেও না। বরং সরকার মনে করে, অবশ্যই ভিন্নমত থাকবে। সংবিধানে সে অধিকার দেয়া আছে এবং ভিন্নমত দেশ পরিচালনায় সহায়ক। কিন্তু বিএনপি নেতারা সে সুযোগ নিয়ে গুজব ও বিদ্বেষকারীদের পক্ষ অবলম্বন করছে। ‘
বিএনপি নেতা-কর্মীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়া নিয়ে তাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ড. হাছান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম, শেখ আব্দুল্লাহ ও বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মকবুল হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অন্তত দশজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা চাই, কেউ আক্রান্ত না হোক ও আক্রান্তদের আরোগ্য। কিন্তু লক্ষণীয় যে, মির্জা ফখরুল সাহেবের কথাতেই তাদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহের ছায়া আছে।’
তথ্যমন্ত্রী এসময় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত চলচ্চিত্র শিল্পকে সহায়তার লক্ষ্যে পূর্বের তুলনায় বেশি সংখ্যক চলচ্চিত্রকে মন্ত্রণালয়ের অনুদান দেবার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
চলচ্চিত্রনির্মাতাদের মধ্যে অমিতাভ রেজা চৌধুরী, গিয়াসউদ্দিন সেলিম, পিপলু খান ও আবু শাহেদ ইমন বৈঠকে অংশ নেন।