Home Authors Posts by tribune24

tribune24

54 POSTS 0 COMMENTS

বিএনপি করে- এটা শুনলে কেউ এখন আর মেয়ে বিয়ে দিতে চাইছে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। আজ শনিবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রোটারি ক্লাবের আয়োজনে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি এখন এতটাই দৈন্য যে, বিএনপি করে- এটা শুনলে কেউ এখন আর মেয়ে বিয়ে দিতে চাইছে না। এ কথা দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই বলেছেন।সম্পর্কই স্থাপন করতে চায় না। সে কারণে চরম হতাশায় থাকা বিএনপি নেতারা নানা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন।আওয়ামী লীগ কখনোই দলীয় পদ কেনাবেচার রাজনীতি করে না দাবি করে দলটির শীর্ষস্থানীয় এই নেতা বলেন, এ অভ্যাস আওয়ামী লীগের নেই। এটা বিএনপির কাজ। জিয়াউর রহমান দলীয় পদ কেনাবেচার অভ্যাস শুরু করেছিলেন। উনি দল গঠন করার সময় বিভিন্ন দল ভেঙে নেতাকর্মীদের তার দলে যোগদান করান। তখন টাকা দিয়ে পদ কেনাবেচা করেছিলেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো সিন্ডিকেটের কাছে সরকার জিম্মি নয় এবং এ ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। কারণ এ সরকার জনগণের সরকার এবং জনগণের জন্যই সব করছে।

রান্না করার সিলিন্ডারের গ্যাস থেকে লাগা আগুনে শিশুসহ একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হয়েছে। শনিবার কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামে আব্দুস সালামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৮ জনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির রব্বানী।

দিয়ে গ্যাস বের হয়ে পুরো রান্না ঘরে ছড়িয়ে ছিল। শনিবার দুপুরে তার স্ত্রী রান্না ঘরে গিয়ে চুলায় আগুন দিতে গেলে সেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হন।

kishorgonj-cylinder-brunt-inner

দগ্ধরা হলেন- আব্দুস সালামের স্ত্রী সিপাইনেছা (৫৮), তাদের দুই ছেলে কামাল (৩৫) ও আনোয়ার (১৭) এবং মেয়ে তাসলিমা (২৫)। এ ছাড়াও রয়েছেন দুই নাতি উম্মে হাবিবা ও উম্মে হানি এবং তাদের আত্মীয় পারভিন (১৫) ও জুয়েনাসহ (২০) মোট ৯ জন।ওসি জাকির আরো জানান, দগ্ধদের প্রথমে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ৮ জনকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর আহবান জানিয়েছে।
শান্তিরক্ষায় নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন শান্তিতে নারীর ভূমিকাকে সামগ্রিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করা।
’সামনে থেকে নেতৃত্বদান : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় নারী নেতৃত্ব’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল ইভেন্টে বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা একথা বলেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের ল্যান্ডমার্ক রেজ্যুলেশন- ১৩২৫ এর ২০তম বার্ষিকী স্মরণে শুক্রবার যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ, কানাডা ও যুক্তরাজ্য মিশন। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষায় নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির জন্য শান্তিতে নারীর ভূমিকাকে সামগ্রিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২০০০ সালের ৩১ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবারের মতো শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নারীর ভূমিকা শীর্ষক এই রেজুলেশনটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশগুলোতে বিশেষ করে ‘যৌন ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা দমন’, ‘পারষ্পরিক আস্থার সম্পর্ক তৈরি’ এবং ঐ সব সমাজের নারীদের দেশ গঠনের কাজে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে নারী শান্তি রক্ষীগণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ায় এখনও নারীর অংশগ্রহণ খুবই অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।
রাষ্ট্রদূত ফাতিমা শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহের চলমান প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।
তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী’ শীর্ষক নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক রেজ্যুলেশন-২৫৩৮ এর উদাহরণ টেনে নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান, মিশনসমূহে নারীবান্ধব স্থান ও পরিবেশ তৈরি এবং ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস)’ এজেন্ডার বাস্তবায়নের আহবান জানান।
তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে ডব্লিউপিএস এজেন্ডা বাস্তবায়নার্থে গতিশীল প্রচেষ্টা গ্রহণ এবং কান্ট্রি অফিসসমূহসহ জাতিসংঘ ব্যবস্থাপনায় আভ্যন্তরীনভাবে এটি কার্যকর করার প্রতিও আহবান জানান তিনি।
ইভেন্টটিতে আরো বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রোস, কানাডার প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল জোনাথন ভেঞ্চ, যুক্তরাজ্য মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জোনাথন অ্যালেন। এছাড়া পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা
মিশন মিনুরসো এর ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার, দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত মিশন ইউনিমিস এর পুলিশ কমিশনার ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নিয়োজিত মিনুসকা মিশনের রিজিওনাল কমান্ডারসহ মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন নারী নেতৃত্ব বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা অংশের সমন্বয় ও এর সমাপ্তি টানেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২০০০ সালে নির্বাচিত সভাপতি,জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আনওয়ারুল করিম চৌধুরী। আলোচনা পর্বে আরো অংশগ্রহণ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত অষ্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও আয়ারল্যান্ড মিশনের রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য প্রতিনিধিগণ।
কূটনীতিক মিশন, সামরিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সুশীল সমাজের বিপুলসংখ্যক অংশীজন অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেন।
নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ২০০০ সালে রেজ্যুলেশন-১৩২৫ গ্রহণের ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ সরকার ডব্লিউপিএস এজেন্ডা বাস্তবায়নে গত বছর একটি জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
নারী শান্তিরক্ষীসহ বাংলাদেশ সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান রেখে চলেছে।

0 0

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কাল পদ্মা সেতুর ৩৪ তম স্প্যানটি খুটির উপর স্থাপন করা হবে।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, সেতুর ৩৪তম স্প্যান বসানোর প্রস্তুতি চলছে। ৩৩তম স্প্যান বসানোর মাত্র ৫ দিনের মাথায় শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ৩৪তম স্প্যান নিয়ে ৩৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজ ‘তিয়ান ই’ রওয়ানা দেয়। ‘২এ’ নামের এই স্প্যানটি বসবে ৭ ও ৮ নম্বর খুঁটির উপর। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কাল স্প্যানটি খুটির উপর স্থাপন করা হবে।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ৩ ও ৪ নম্বর খুঁটির ওপর ৩৩ নম্বর স্প্যান স্থাপন করা হয়। ৩৪ তম স্প্যান উঠলে অক্টোবর মাসের ৩টি স্প্যান স্থাপন হবে।
৩০ অক্টোবর একবারে মাওয়ায় পদ্মা তীরে ২ ও ৩ নম্বর খুঁিটর ওপর ৩৫তম স্প্যান স্থাপন করার কথা রয়েছে। একইভাবে ৪ নভেম্বর ৩৬তম স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান আব্দুল কাদের।

দেশের জনগণের জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আকাক্সক্ষা অনুযায়ী সকল দেশবাসীর জন্য যখন উদ্ভাবিত হবে তখনই কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ-১৯-এর আওতায় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ হিসাবে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা ২০২০-এর অংশ হিসাবে ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যকার এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোন্তফা কামাল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হার্টভিগ শ্যাফার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং বিশ্বব্যাংকের আবাসিক পরিচালক মার্সি টেম্বনও সভায় সংযুক্ত হন।
এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ রিকভারি অ্যান্ড রেসপন্স প্রকল্পের আওতায় দেশে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ধকল সামলানোর জন্য মোট ৫০ কোটি ডলার থেকে জরুরি ভিত্তিতে ২৫ কোটি ডলার অবমুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ পক্ষ বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, করোনভাইরাস মহামারীর কারণে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমবাজার, আর্থিক ও সামাজিক খাতের রক্ষণাবেক্ষণে বিশ্বব্যাংক সমর্থিত প্রোগ্রামেটিক জবস ডেভলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট (ডিপিসি)’র অধীনে চলতি অর্থবছরে ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তার তৃতীয় কিস্তি দ্রুত ছাড় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পক্ষ ঋণ প্রদানকারী সংস্থাকে অনুরোধ করেছে।
অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার জানান, সরকার জবস ডিপিসি প্রকল্পের বেশিরভাগ শর্ত পূরণ করেছে এবং বাকি শর্তগুলো খুব শিগগিরই পূরণ করা হবে।
সভার শুরুতে অর্থমন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়নে অব্যাহত সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনায় বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহত্তম আইডিএ গ্রহীতা দেশ উল্লেখ করে কামাল জনসংখ্যা বিবেচনা করে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য দ্রুততার সাথে বাংলাদেশকে ঋণ সহায়তা বরাদ্দের জন্য বিশ্বব্যাংকের ভাইস-প্রেসিডেন্ট সহসভাপতি হার্টভিগ শ্যাফারের সহায়তা কামনা করেন ।
কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন দ্রুত ও সময়োপযোগী প্রয়াসের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে।
ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, বাংলাদেশ আইডিএ-১৮-এর আওতায় আইডিএ থেকে ৫০০ কোটি ডলার এবং এসইউএফ থেকে ২০০ কোটি ডলার মূল্যমানের প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে, যা আইডিএ দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
তিনি আইডিএ-১৯-এর আওতায় বাংলাদেশকে আরো বেশি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান।

0 0

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সড়ক নেটওয়ার্কে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, ‘নিরাপদ ও ভ্রমন বান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার। টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট্য-এসডিজি অনুযায়ি সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ ভাগ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং জাতিসংঘ ঘোষিত দ্বিতীয় বারের মতো ডিকেড অভ একশন ফর রোড সেফটির লক্ষমাত্রা অর্জনে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইনগত কাঠামোর সাথে সমন্বয় করে ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্রাটেজিক একশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।’
নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার ‘রোড সেইফটি কোলাবোরেশন, রিডিউসিং রোড ফ্যাটিলিটিজ ফিফটি পারসেন্ট বাই টুয়েন্টি থার্টি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ব্র্যাক-বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
পুরুষদের তুলনায় মহিলা গাড়ি চালকরা অধিক সাবধানি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, সরকার মহিলা গাড়ি চালক তৈরির সুযোগ বাড়াচ্ছে। নারী গাড়ি চালক তৈরির কার্যক্রম ব্র্যাক-ই প্রথম শুরু করে। গাড়ি চালনায় পুরুষদের তুলনায় নারীরা অধিক সাবধানী এবং ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই সরকার অধিকসংখ্যায় নারীচালকের সংখ্যা বাড়াতে চায়।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ তথা এর ফ্যাটালিটি রেট অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বেসরকারি পর্যায়ে ব্র্যাক ও বিশ্ব ব্যাংকের এই যৌথ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ যুক্ত হলে এসব সেক্টরে যে কোন লক্ষ্য অর্জন সহজতর হবে। নিরাপদ ও ভ্রমণবান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবনায় পরবর্তী নির্বাচন নয়, তাঁর ভাবনায় পরবর্তী প্রজন্ম উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার স্বপ্ন সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মান। তাঁর ভাবনায় দেশ ও জনগনের সুরক্ষা। একশ’ বছর পর বাংলাদেশ কেমন হবে’ সেজন্য প্রণয়ন করেছেন শতবষীর্ ডেল্টা প্ল্যান। এটাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশেষত্ব। তাঁর দৃষ্টি স¤া¢বনার দূরদিগন্তে।
এসময় ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে বিশ্ব ব্যাংকের এক্টিং কান্ট্রি ডিরেক্টর ফর বাংলাদেশ এন্ড ভুটান মিজ দান্দান চেন, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ব্র্যাক রোড সেফটি প্রোগ্রাম পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসেইন, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট দীপন বোস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘গায়ের জোরে’ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন চসিক প্রশাসক সম্প্রতি এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছে চট্টগ্রামের বেশ কিছু এলাকার জনগণ।

বেশ আলোচিত বিষয় চট্টগ্রাম বিপ্লব উদ্যান উচ্ছেদ অভিযান।

১) গায়ের জোরে’ বিপ্লব উদ্যানে উচ্ছেদ— চসিক প্রশাসক সুজনসহ ৫ জনকে আদালতের শোকজ

চট্টগ্রামের ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে সিটি কর্পোরেশনের ‘বেআইনি’ উচ্ছেদ কাজে কেন অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না— এটি জানতে চেয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনসহ ৬ প্রতিপক্ষকে ৫ দিনের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টসের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের করা আবেদনের শুনানি শেষে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলেই আদালতের দেওয়া এই শোকজ নোটিশ চসিকে পাঠানো হয়েছে।

মামলায় ১ নম্বর প্রতিপক্ষ হিসেবে নাম রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের। ২ নম্বরেও প্রশাসক হিসেবে আছেন সুজন। এছাড়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. মোজাম্মেল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম এবং প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদকে এই মামলায় প্রতিপক্ষ করা হয়েছে।

চুক্তির শর্তভঙ্গের অভিযোগ এনে নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকার বিপ্লব উদ্যানে চসিকের উচ্ছেদ অভিযান অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন মিজানুর রহমান।

ওই আবেদনে বিপ্লব উদ্যানে দোকান নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনরকম চুক্তির ব্যত্যয় ঘটেনি দাবি করে সেখানে চসিকের তরফ থেকে চালানো উচ্ছেদ অভিযানকে ‘অবৈধ’ ও ‘একতরফা’ দাবি করে চসিক প্রশাসক সুজনসহ ৫ জনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে এ ধরনের অভিযানের বিরুদ্ধে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন বাদী।

আবেদনে বাদি প্রতিপক্ষরা যাতে তপশীলের সম্পত্তিতে প্রবেশ করতে না পারে, দুই তলাবিশিষ্ট দোকানগুলো যেন ভেঙে ফেলতে না পারে, নালিশী সম্পত্তির রূপ যাতে পরিবর্তন না পারে, চুক্তি অনুযায়ী চলমান উন্নয়নকাজ এবং দোকানের ব্যবসায় যেন বাধা না দিতে পারে— সে ব্যাপারে আদালতের কাছে আদেশ চেয়েছেন। বাদি মিজানুর রহমান সালিশি কার্যক্রম নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ চান।

পরে বাদীর দাবি অনুযায়ী এই উচ্ছেদ কাজে কেন অন্তবর্ত্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে চসিক প্রশাসক সহ সেই ৫ জনকে আগামী ৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন আদালত।

আদালতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন এডভোকেট সাকিব রহমান ও এডভোকেট আব্দুর রহমান।

এদিকে জানা গেছে, বিপ্লব উদ্যানে বরাদ্দ হওয়া ২৫টি দোকানের ব্যবসায়ীরাও চসিকের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শিগগিরই তারা আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে ২৫টি পৃথক মামলা করতে যাচ্ছেন।

২) উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে শেরশাহ বাজার উচ্ছেদের অভিযোগ। চট্টগ্রামের শেরশাহ এলাকার রাস্তায় দুই পাশে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা তিন শতাধিক দোকান ভেঙে দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। তবে, কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে এ উচ্ছেদ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ দোকান মালিকদের।

রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী অভিযান পরিচালনা করেন ।

মারুফা বেগম নেলী জানান, অভিযানের মাধ্যমে সড়ক ও ফুটপাত পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দাবি, সব নিয়ম মেনে চালানো হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান।

চোখের সামনে নিজের দোকান ভেঙে ফেলতে দেখে ও মালামাল বের করতে না পারায় কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের অভিযোগ, তাদের উচ্চ আদালতের  স্থগিত আদেশ রয়েছে আগামী  মার্চ মাস পর্যন্ত। তারা হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স সহকারে ব্যবসা করে আসছিলেন। তাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগও আছে। উচ্ছেদের আগে তাদের নোটিশ দেয়া হয়নি। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করায় দোকানের সব মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়কে স্থগিত আদেশ  দেখালে তিনি তা মানতে নারাজ।

তবে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উচ্ছেদের বিষয়ে দোকান মালিকদের অবগত করা হয়েছে।

৩) অপরদিকে,  সোমবার সকালে বায়েজিদ বোস্তামী তারা গেইট এলাকায় ঠিক একইভাবে ৩য় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের স্থগিত আদেশ এর উপর জোর পূর্বক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন চসিক।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন সাধারণ জনগণের পক্ষে স্থগিত আদেশ দেখালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী কোন কাগজ পত্র না দেখেই ওই নেতাকে আটকে রাখার নির্দেশ দেয়। এবং কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

এব্যাপারে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মারুফা বেগম নেলী বলেন স্থগিত আদেশ এর জায়গা এইটি নয়।  কিন্তু কোন জায়গা উচ্ছেদ করছেন এ ব্যাপারেও তিনি স্পষ্ট কিছু বলতে রাজি নয়।

 

 

(১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনের বিধানবলী সাপেক্ষে, কোন বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকার্য সম্পাদনকারী অন্য কোন ব্যক্তি তাহার নিজ আদালত বা অন্য কোন আদালত অবমাননার জন্য সেইরূপে দায়ী হইবেন, সেইরূপে অন্য কোন ব্যক্তি আদালত অবমাননার জন্য দায়ী হইতে পারেন, এবং উক্তক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী যতদূর সম্ভব একইরূপে প্রযোজ্য হইবে।

(২) এই ধারার কোন বিছুই কোন বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকার্য সম্পাদনকারী অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক তাহার নিকট বিচারাধীন অধস্তন আদালতের কোন আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপীল বা রিভিশন নিষ্পত্তিকালে উক্ত অধস্তন আদালত সম্পর্কে কৃত কোন পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

আপীল
১৭। (১) এই আইনের অধীন আদালত অবমাননার কার্যধারায় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে আপীল করা যাইবে।

(২) আপীল বিভাগ উক্ত আপীল নিষ্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত –

(ক) তর্কিত আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করিতে পারিবে; এবং

(খ) আপীলকারী আটক থাকিলে তাহাকে জামিনে বা তাহার নিজের মুচলেকায় মুক্ত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি হাইকোট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করিতে ইচ্ছুক মর্মে যদি আদালতের সন্তুষ্টি বিধান করিতে পারেন, সেইক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত মনে করিলে তৎকর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড বা আদেশ স্থগিত করিতে এবং দণ্ডিত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবে।

আপীল দায়েরের সময়সীমা
১৮ । এই আইনের অধীন হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে আপীল দায়ের করিতে পারিবে ।
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
১৯ । এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে ।
রহিতকরণ ও হেফাজত
২০ । (১) Contempt of Courts Act, 1926 (Act No. XII of 1926) এতদ্‌দ্বারা রহিত করা হইল ।

(২) উক্তরূপ রহিত সত্ত্বেও, উহার অধীন দায়েরকৃত কোন অভিযোগ বা মামলা বা কোন কার্যধারা অনিষ্পন্ন থাকিলে উক্ত অনিষ্পন্ন অংশ, যতদূর সম্ভব, এই আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী অনুসারে, এইরূপে নিষ্পন্ন করা হইবে যেন উক্ত অভিযোগ, মামলা বা কার্যধারা এই আইনের অধীনেই দায়ের করা হইয়াছিল ।

Contempt of Courts Act,1926 রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
যেহেতু Contempt of Courts Act,1926 (Act No. XII of 1926) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

যেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
১। (১) এই আইন আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩ নামে অবিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে , এই আইনে –

(১) ” অধস্তন আদালত” অর্থ সুপ্রীমকোর্টের অধস্তন যে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল;

(২) “আদালত” অর্থ সপ্রীমকোর্ট সহ অধস্তন যে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল;

(৩) ” আদালত অবমাননা” অর্থ দেওয়ানী বা ফৌজদারী অবমাননা;

(৪) ” আপীল বিভাগ” অর্থ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ;

(৫) ” হাইকোর্ট বিভাগ” অর্থ সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ;

(৬) “দেওয়ানী অবমাননা ” অর্থ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন আদালতের রায়, ডিক্রী, নির্দেশনা, আদেশ, রীট, বা কার্যক্রম অবমাননা অথবা আদালতের নিকট প্রদত্ত কোন অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করা;

(৭) “প্রজাতন্ত্রের কর্ম ” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত প্রজাতন্ত্রের কর্ম;

(৮) ” ফৌজদারী অবমাননা” অর্থ মৌখিক বা লিখিত কোন শব্দ বা চিহ্ন দ্বারা, বা প্রদর্শনযোগ্য কোন কিছুর মাধ্যমে এমন কোন কিছু প্রকাশ করা অথবা এমন কোন কার্য করা যাহাতে –

(ক) কোন আদালতের কর্তৃত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয় বা হেয় প্রতিপন্ন করিবার অভিপ্রায় থাকে অথবা উহার কর্তৃত্ব সম্পর্কে অপপ্রচার করা হয় বা অপপ্রচার করা হইয়াছে বা অপপ্রচারের অভিপ্রায় থাকে; বা

(খ) কোন বিচারিক কার্যধারা ক্ষুণ্ন করা হয় অথবা উহাতে হস্তক্ষেপ করা হয় বা হস্তক্ষেপের অভিপ্রায় থাকে; বা

(গ) অন্য কোনভাবে চলমান বিচারিক কার্যধারার স্বাভাবিক গতিধারাকে বাধাগ্রস্ত করে বা হস্তক্ষেপ করে বা বাধাগ্রস্ত করিবার বা হস্তক্ষেপ করিবার অভিপ্রায় থাকে;

(৯) “বিচারিক কার্যধারা (Judicial proceeding) ” অর্থ আদালতে রুজুকৃত এমন কোন আইনগত কার্যধারা যাহা অনিষ্পন্ন রহিয়াছে বা যাহার বিরুদ্ধে কোন আইনের অধীন দায়েরকৃত আপীল, রিভিশন বা রিভিউ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয় নাই বা যাহার বিরুদ্ধে উক্তরূপ কার্যাধারা গ্রহণের জন্য কোন আইন দ্বারা নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হয় নাই; এবং উহা হইতে উদ্ভূত জারী কার্যক্রমও অনুরূপ কার্যধারার অংশ বলিয়া গণ্য হইবে।

এই আইনের বিধানাবলীর অতিরিক্ততা
৩। এই আইনের বিধানাবলী আদালত অবমাননা সম্পর্কিত অন্য কোন আইনের কোন বিধানের ব্যত্যয় না ঘটাইয়া উহার অতিরিক্ত হইবে।
নির্দোষ প্রকাশনা বা বিতরণ অবমাননা নয়
৪। (১) কোন ব্যক্তি আদালত অবমাননার দায়ে দোষী হইবেন না এই কারণে যে, তিনি মৌখিক বা লিখিত কোন শব্দ বা চিত্র দ্বারা বা প্রদর্শনযোগ্য কোন কিছুর মাধ্যমে, বা অন্যকোনভাবে এমন কোন কিছু প্রকাশ করিয়াছেন যাহা উক্তরূপ প্রকাশনার সময় আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানী বা ফৌজদারী বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ বা বাধা প্রদান করে বা উহা দ্বারা উক্তরূপ বিচার প্রক্রিয়া হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে, যদি না উক্ত সময় তাহার এই মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, বিষয়টি বিচারাধীন রহিয়াছে।

(২) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা বিছুই থাকুক না কেন, প্রকাশনার সময় নিষ্পন্নাধীন ছিল না এইরূপ কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী কার্যধারা সম্পর্কে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন বিষয়ের প্রকাশ আদালত অবমাননা হিসাবে গণ্য হইবে না।

(৩) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন বিষয় সম্বলিত কোন প্রকাশনা বিতরণ করিবার কারণে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী হইবেন না, যদি বিতরণ করিবার সময় উক্ত প্রকাশনায় অনুরূপ কোন বিষয় রহিয়াছে বা থাকিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে মর্মে তাহার বিশ্বাস করিবার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ না থাকেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, বই, প্রকাশনা বা মুদ্রণ সম্পর্কিত আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের বিধান লঙ্ঘন করিয়া বিতরণ করিবার ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ আদালত অবমাননা নহে
৫। কোন ব্যক্তির নিম্নবর্ণিত কার্য আদালত অবমাননা হিসাবে গণ্য হইবে না, যদি তিনি –

(ক) ধারা ৬ এর বিধান সাপেক্ষে, আদালতের কোন বিচারিক কার্যধারা বা উহার কোন অংশ বিশেষের পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন; বা

(খ) শুনানীঅন্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হইয়াছে এইরূপ কোন মামলার গুণাগুণ সম্পর্কে পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠ মন্তব্য প্রকাশ করেন।

অধস্তন আদালতের সভাপতিত্বকারী বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ যখন আদালত অবমাননা নয়
৬। কোন ব্যক্তি কোন অধস্তন আদালতের সভাপতিত্বকারী বিচারক সম্পর্কে সরল বিশ্বাসে যদি –

(ক) অন্য কোন অধস্তন আদালতের নিকট, বা

(খ) সুপ্রীম কোর্টের নিকট,

কোন বিবৃতি বা মন্তব্য প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি আদালত অবমাননার দায়ে দোষী হইবেন না।

কতিপয় ক্ষেত্র ব্যতীত খাস কামরায় বা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রক্রিয়া সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ আদালত অবমাননা নহে
৭। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আদালতের খাস কামরায় বা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত বিচারিক কার্যধারা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠ আকারে তথ্য প্রকাশ আদালত অবমাননা হইবে না, যদি না –

(ক) এইরূপ প্রকাশনা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনের লঙ্ঘন হয়;

(খ) আদালত, জনস্বার্থে বা উহার উপর অর্পিত ক্ষমতাবলে, উহার কার্যধারা বা উহার অংশ বিশেষের তথ্য প্রকাশের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা জারী করে;

(গ) জন-শৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে আদালতের খাস কামরায় বা রুদ্ধদ্বার কক্ষে আদালতের কার্যধারা অনুষ্ঠিত হইলে উক্ত কার্যধারা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করে;

(ঘ) উক্ত তথ্য উক্ত বিচারিক কার্যধারার গোপনীয় কোন বিষয় বা কোন আবিষ্কার বা উদ্ভাবন সংক্রান্ত হয়।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান ক্ষুণ্ন না করিয়া, খাস কামরায় বা রুদ্বদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত কোন আদালতের কার্যক্রমের বা উহার আদেশের সকল বা কোন অংশের বিবরণ বা উহার পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠ সার-সংক্ষেপ প্রকাশের জন্য কোন ব্যক্তি আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইবেন না, যদি না আদালত জনস্বার্থে বা জন-শৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে, অথবা উক্ত তথ্য কোন গোপনীয় বিষয় সংক্রান্ত অথবা কোন আবিস্কার বা উদ্ভাবন সংক্রান্ত হইবার কারণে, অথবা আদালতের উপর অর্পিত ক্ষমতাবলে, উক্তরূপ তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারী করে।

আত্মপক্ষ সমর্থনে অন্য কোন যু্ক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে এই আইন বাধা হইবে না
৮। এই আইনের কোন কিছুই কোন আদালতে আদালত অবমাননা সংক্রান্ত মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য অন্য কোন আইন অনুসারে যে যুক্তি বা জবাব প্রদান করা যাইতো তাহা প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা হইবে না।
আদালত অবমাননার পরিধি বিস্তৃত না হওয়া
৯। এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য নহে এইরূপ কোন লংঘন, প্রকাশনা বা অন্য কোন কার্য এই আইনের পরিধিভুক্ত গণ্যে আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তিযোগ্য হইবে না।
কতিপয় কর্ম আদালত অবমাননা নহে
১০। আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন –

(১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি কর্তৃক রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন, বিধিমালা, সরকারী নীতিমালা, যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারীকৃত পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন, স্মারক ইত্যাদি যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক জনস্বার্থে ও সরল বিশ্বাসে কৃত বা সম্পাদিত কর্ম আদালত অবমাননা হিসাবে গণ্য হইবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কৃত কর্মের বিষয়ে কোন ব্যক্তি আদালতে শরণাপন্ন হইলে এবং সেই ক্ষেত্রে আদালতের কোন রায় , আদেশ বা নির্দেশ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তির পক্ষে যথাযথ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন বা প্রতিপালন করা অসম্ভব হইলে, অনুরূপ কারণে বাস্তবায়ন বা প্রতিপালন করিতে ব্যর্থতার কারণে তাহার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উত্থাপন করা যাইবে না।

আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের ও নিষ্পত্তির বিধান
১১। (১) কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উত্থাপিত বা কার্যধারা রুজু করা হইলে, অভিযোগের বিষয়ে তাহাকে কারণ দর্শাইবার সুযোগ প্রদান করিতে হইবে এবং আদালতের নিকট কারণ দর্শাইবার জবাব সন্তোষজনক হইলে, তাহাকে আদালত অবমাননার অভিযোগ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে হইবে, এবং জবাব সন্তোষজনক না হইলে তাহাকে উক্ত ব্যক্তির নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হইবার এবং বক্তব্য প্রদানের সুযোগ প্রদান করিতে হইবে, এবং কার্যধারার কোন পর্যায়ে যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে অবমাননাকারীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি আবশ্যক, তাহা হইলে আদালত তাহাকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হইয়া বক্তব্য প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, যদি কোন ব্যক্তি আইনজীবী নিয়োগ না করিয়া স্বেচ্ছায় ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত হইয়া বক্তব্য প্রদান করিতে বা মামলা পরিচালনা করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাহা হইলে আদালত তাহাকে অনুরূপ সুযোগ প্রদান করিবে।

(৩) আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতির অভিযোগের সমর্থনে সাক্ষ্য গ্রহণ করিবে এবং তাহাকে শুনানি ও সাক্ষ্যদানের সুযোগ প্রদান করিয়া আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয় নির্ধারণ করিবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যথাযথ শাস্তির আদেশ অথবা অভিযোগ হইতে অব্যাহতির আদেশ প্রদান করিবে।

(৪) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উত্থাপিত বা কার্যধারা রুজু করা হইলে, উক্ত ব্যক্তি তাহার নিয়োজিত আইনজীবী দ্বারা মামলা পরিচালনা করিতে পারিবেন।

(৫) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি আইনজীবী নিয়োগসহ আদালত অবমাননা মামলা পরিচালনার জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ সরকারী খাত হইতে অগ্রীম গ্রহণ করিত পারিবেন এবং উক্ত ব্যক্তি আদালত অবমাননার অভিযোগ হইতে অব্যহতি লাভ করিলে অগ্রীম হিসেবে গৃহীত অর্থ সরকারকে ফেরত প্রদান করিতে হইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত হইলে তাহাকে অগ্রীম হিসেবে গৃহীত সমুদয় অর্থ ফেরত প্রদান করিতে হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি অগ্রীম হিসেবে গৃহীত সমুদয় অর্থ ফেরত প্রদান না করিলে উহা তাহার প্রাপ্য গ্রাচ্যুইটি হইতে এককালীন আদায় করা হইবে এবং গ্রাচ্যুইটি হইতে আদায়ের পরও গ্রহীত অগ্রীম বকেয়া থাকিলে ইহা তাহার পেনশন বা পারিবারিক পেনশন হইতে সমম্বয়যোগ্য হইবে।

(৬) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মের সহিত সংশ্লিষ্ট কোন কার্য বা দায়িত্ব পালন কালে আদালত অবমাননার মামলায় জড়িত থাকা অবস্থায় প্রজাতন্ত্রের কর্ম হইতে অপসারিত, অবসরপ্রাপ্ত বা অন্য কোনভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে তাহার স্থায়ীভাবে কর্মাবসান হইলে, আদালত উক্ত ব্যক্তিকে আদালত অবমাননার দায় হইতে অব্যহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(৭) উপ-ধারা (৬) এ বর্ণিত পদে পরবর্তীতে স্থলাভিষিক্ত কোন ব্যক্তিকে (successor-in-office) পুনরায় কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া তাহার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উত্থাপন বা কার্যধারা রুজু করা যাইবে না অথবা পূর্বসুরীর (predecessor-in- office) বিরুদ্ধে চলমান আদালত অবমাননার কার্যধারা বা দায় সরাসরি আরোপ করা যাইবে না।

হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
১২। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, কোন অধস্তন আদালতের অবমাননা সংক্রান্ত কোন অভিযোগের বিচার ও শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের থাকিবে।

(২) Penal Code (XLV of 1860) এর অধীন শাস্তিযোগ্য আদালত অবমাননা কোন অধস্তন আদালত কর্তৃক বিচার্য হইলে হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত আদালত অবমাননা বিচারার্থ আমলে গ্রহণ করিবে না।

আদালত অবমাননার শাস্তি, ইত্যাদি
১৩। (১) এই আইনের অধীন আদালত অবমাননার জন্য কোন ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত অবমাননা সম্পর্কিত চলমান কার্যধারা যে কোন পর্যায়ে অভিযুক্ত আদালত অবমাননাকারী আদালতের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করিলে এবং আদালত যদি এইমর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত অভিযুক্ত আদালত অবমাননাকারী নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করিয়াছেন, তাহা হইলে আদালত উক্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(২) আদালত অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হইয়া শাস্তিপ্রাপ্ত হইবার পর কোন ব্যক্তি তৎকর্তৃক দায়েরকৃত আপীলে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করিলে, আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, তিনি অনুতপ্ত হইয়া আন্তরিকভাবে উক্তরুপ ক্ষমা প্রার্থনা করিয়াছেন, তাহা হইলে আদালত তাহাকে ক্ষমা করিয়া তাহার উপর আরোপিত দণ্ড মওকুফ বা হ্রাস করিতে পারিবে।

(৩) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন,

(ক) কোন আদালত উহার নিজের বা উহার অধস্তন কোন আদালতের অবমাননার জন্য উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত শাস্তির অতিরিক্ত শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে না।

(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি দেওয়ানী অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়, সেইক্ষেত্রে আদালত যদি মনে করে যে, কেবল অর্থদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হইবে না বরং উহার সহিত কারাদণ্ড প্রদান করা আবশ্যক, তাহা হইলে আদালত বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের পরিবর্তে তাহাকে অনূর্ধ্ব ছয় মাস দেওয়ানী কারাগারে আটকের নির্দেশ প্রদান করিবে।

কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
১৪। (১) কোন কোম্পানী কর্তৃক যদি আদালত অবমাননার অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ দ্বারা উক্ত অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছে কেবল তিনি বা তাহারাই উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।

ব্যাখ্যা : এই ধারায় –

(ক) “কোম্পানী ” বলিতে কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারি কতৃপক্ষ, নিবন্ধিত কোম্পানী, অংশীদারী কারবার , বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, সংঘ, সমিতি বা সংগঠনকে বুঝাইবে;

(খ) বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে “পরিচালক” বলিতে কোন অংশীদারী বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যকেও বুঝাইবে।

সুপ্রীম কোর্টে সংঘটিত আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে কার্যপদ্ধতি
১৫। (১) যেক্ষেত্রে আপীল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগের নিকট প্রতীয়মান হয় বা উহার নিকট অভিযোগ করা হয় যে, কোন ব্যক্তি আদালত কক্ষে কোন মামলার শুনানিকালে আদালত অবমাননা করিয়াছে, সেইক্ষেত্রে উক্ত আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করিতে পারিবে, এবং আদালতের উক্ত দিনের বৈঠক শেষ হইবার পূর্বে বা যত শ্রীঘ্র সম্ভব তৎপরবর্তীতে –

(ক) আদালত অবমাননার যে অভিযোগ তাহাকে অভিযুক্ত করা হইয়াছে তাহা লিখিতভাবে তাহাকে জানাইবে;

(খ) তাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করিতে হইবে;

(গ) উক্ত ক্ষেত্রে, যথাসম্ভব, ধারা ১১ এর উপ-ধারা (৩) এর বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত উপ-ধারার অধীন আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি, যে বিচারক বা বিচারকগণের সম্মুখে বা শুনানিকালে উক্ত আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত হইয়াছেন তাঁহারা ব্যতীত, অন্য কোন বিচারক কর্তৃক বিচার কার্য পরিচালনার জন্য মৌখিক বা লিখিতভাবে আবেদন করে, তাহা হইলে উক্ত আদালত ঘটনার প্রকৃত বিবরণসহ সামগ্রিক বিষয়টি বিবেচনা এবং যথোপযুক্ত আদেশ প্রদানের জন্য প্রধান বিচারপতির নিকট লিখিত বিবৃতি আকারে উপস্থাপন করিবে।

(৩) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন আদালত অবমাননার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার চলাকালে, উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে, যে বিচারক বা বিচারকগণের সম্মুখে অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে উক্ত বিচারক বা বিচারকগণ ব্যতীত, অন্য কোন বিচারকের আদালতে শুনানী অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রধান বিচারপতির নিকট প্রদত্ত বিবৃত্তি সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত বিচারকের ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত হইবার প্রয়োজন হইবে না।

বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকার্য সম্পাদনকারী অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক আদালত অবমাননা
১৬। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনের বিধানবলী সাপেক্ষে, কোন বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকার্য সম্পাদনকারী অন্য কোন ব্যক্তি তাহার নিজ আদালত বা অন্য কোন আদালত অবমাননার জন্য সেইরূপে দায়ী হইবেন, সেইরূপে অন্য কোন ব্যক্তি আদালত অবমাননার জন্য দায়ী হইতে পারেন, এবং উক্তক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী যতদূর সম্ভব একইরূপে প্রযোজ্য হইবে।

(২) এই ধারার কোন বিছুই কোন বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকার্য সম্পাদনকারী অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক তাহার নিকট বিচারাধীন অধস্তন আদালতের কোন আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপীল বা রিভিশন নিষ্পত্তিকালে উক্ত অধস্তন আদালত সম্পর্কে কৃত কোন পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

আপীল
১৭। (১) এই আইনের অধীন আদালত অবমাননার কার্যধারায় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে আপীল করা যাইবে।

(২) আপীল বিভাগ উক্ত আপীল নিষ্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত –

(ক) তর্কিত আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করিতে পারিবে; এবং

(খ) আপীলকারী আটক থাকিলে তাহাকে জামিনে বা তাহার নিজের মুচলেকায় মুক্ত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি হাইকোট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করিতে ইচ্ছুক মর্মে যদি আদালতের সন্তুষ্টি বিধান করিতে পারেন, সেইক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত মনে করিলে তৎকর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড বা আদেশ স্থগিত করিতে এবং দণ্ডিত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবে।

আপীল দায়েরের সময়সীমা
১৮ । এই আইনের অধীন হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে আপীল দায়ের করিতে পারিবে ।
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
১৯ । এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে ।
রহিতকরণ ও হেফাজত
২০ । (১) Contempt of Courts Act, 1926 (Act No. XII of 1926) এতদ্‌দ্বারা রহিত করা হইল ।

(২) উক্তরূপ রহিত সত্ত্বেও, উহার অধীন দায়েরকৃত কোন অভিযোগ বা মামলা বা কোন কার্যধারা অনিষ্পন্ন থাকিলে উক্ত অনিষ্পন্ন অংশ, যতদূর সম্ভব, এই আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী অনুসারে, এইরূপে নিষ্পন্ন করা হইবে যেন উক্ত অভিযোগ, মামলা বা কার্যধারা এই আইনের অধীনেই দায়ের করা হইয়াছিল ।

উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে শেরশাহ বাজার উচ্ছেদের অভিযোগ। চট্টগ্রামের শেরশাহ এলাকার রাস্তায় দুই পাশে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা তিন শতাধিক দোকান ভেঙে দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। তবে, কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে এ উচ্ছেদ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ দোকান মালিকদের।

রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী অভিযান পরিচালনা করেন ।

মারুফা বেগম নেলী জানান, অভিযানের মাধ্যমে সড়ক ও ফুটপাত পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দাবি, সব নিয়ম মেনে চালানো হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান।

চোখের সামনে নিজের দোকান ভেঙে ফেলতে দেখে ও মালামাল বের করতে না পারায় কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের অভিযোগ, তাদের উচ্চ আদালতের  স্থগিত আদেশ রয়েছে আগামী  মার্চ মাস পর্যন্ত। তারা হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স সহকারে ব্যবসা করে আসছিলেন। তাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগও আছে। উচ্ছেদের আগে তাদের নোটিশ দেয়া হয়নি। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করায় দোকানের সব মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়কে স্থগিত আদেশ  দেখালে তিনি তা মানতে নারাজ।

তবে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উচ্ছেদের বিষয়ে দোকান মালিকদের অবগত করা হয়েছে।