অতি শিগগিরই বাংলাদেশের সব মানুষকে নিয়ে চলমান লড়াইয়ে বিজয় অর্জন করব

অতি শিগগিরই বাংলাদেশের সব মানুষকে নিয়ে চলমান লড়াইয়ে বিজয় অর্জন করব
সিটিজিট্রিবিউন: ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অতি শিগগিরই বাংলাদেশের সব মানুষকে নিয়ে চলমান লড়াইয়ে বিজয় অর্জন করব।
শুক্রবার (১৭ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে অর্পণ বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও আন্দোলনে শহিদ নেতাদের স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অর্পণ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীথিকা বিনতে হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ বক্তা ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ লড়াই বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, এ লড়াই আমাদের নেতাদের পদে বসানোর জন্য নয়। এ লড়াই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, এ লড়াই বাংলাদেশকে ফিরে পাওয়ার জন্য। সে বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আশা-আকাঙ্ক্ষা করেছি আমরা ১৯৭১ সালে।
শহিদ পরিবার নিয়ে তিনি বলেন, আমরা জানি তাদের যে অভাব, ক্ষতি সেটা আমরা কোনোদিন পূরণ করে দিতে পারব না। আমরা যদি বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আনতে পারি, যদি অধিকারগুলো যদি ফিরিয়ে দিতে পারি, যদি তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, যদি এখানে একটি সাম্যের পরিবেশ তৈরি হয়, মানবিক মর্যাদা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে তাদের স্বামী সন্তানদের আত্মত্যাগের একটা মূল্য দেওয়া হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আসুন আজকে আমরা এ শিশুদের মাথায় হাত রেখে শপথ নিই, কোনো কিছুর সঙ্গে আপস না করে আমরা বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আসবো।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একটা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছিল। বিএনপি এবার দেখিয়েছে সব নিয়ম মেনে আন্দোলন করেছে। আপনাদের আগামী দিনে বৃহত্তর লড়াই বিজয় অর্জনে প্রস্তুত হতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে যা করেছে তা কল্পনা করা যায় না। একটা সরকার কতটা ইতর ছোট লোক হলে এ রকমটা করতে পারে।
আহেমদ আজম বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষ বাঁচতে চাই। আজকে বাংলাদেশে দুটো শ্রেণি হয়ে গেছে। যারা সরকারি দল তারা রাজা হয়ে গেছে। আর আমরা বিশ কোটি জনগণ প্রজা হয়ে গেছি। রাজাদের কারণে আমরা প্রজারা বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছি।
ইশরাক হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার জোর করে তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য সাধারণ জনগণের বুকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ার প্রতিবাদে যখন জনগণ আন্দোলন করেছে তখন ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে গুলি করে হত্যা করেছে তা বিশ্ববাসী দেখেছে। আজকেও বাকশালী কায়দায় গণমাধ্যম বন্ধ করা হচ্ছে। আপনারা দেখেছেন লাঠিয়াল বাহিনী সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবী সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে। তারা তাদের পুরোনো খেলায় মেতে ওঠেছে। এ সময় তিনি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান।
সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, এ যুদ্ধ আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যুদ্ধ। আজকে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত। আজকে এ আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছে তাদের পরিবারকে বলতে চাই এ যুদ্ধ আমরা শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে চালিয়ে যাবো।
স্বামী হত্যার সর্বোচ্চ বিচার চেয়ে বাগেরহাট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম ভূইয়ার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা বলেন, আমার স্বামীর জনপ্রিয়তা ও রাজপথে সাহসী ভূমিকার কারণে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রাত ৯টায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই। প্রতিবেদন:কেইউকে।

Leave a Reply