স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষে ৭২ কিলোমিটার পথ পাঁয়ে হেটে পাড়ি দিলেন বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য আবদুল মোতালেব ভূঞা।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষে ৭২ কিলোমিটার পথ পাঁয়ে হেটে পাড়ি দিলেন বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য আবদুল মোতালেব ভূঞা

 

সিটিজি ট্রিবিউন ঢাকা;

 

মহান মুক্তিযোদ্ধে বাঙ্গালী জাতির অমর আত্মত্যাগের বীরত্বগাথা নতুন প্রজম্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষে ৭২ কিলোমিটার পথ পাঁয়ে হেটে পাড়ি দিলেন বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য আবদুল মোতালেব ভূঞা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের ত্যাগকে সমোজ্জল করতে প্রায় ১১ ঘন্টায় এতোটা পথ হেটে কর্মস্থল ঢাকা থেকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার চৈতন্য’র গ্রামের বাড়ীতে পৌঁছেন তিনি। আবদুল মোতালেব ভূঞা চৈতন্য গ্রামের মৃত: আবদুল গনি মিয়ার ছেলে।

বর্তমানে তিনি রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশ (পিবিআই) এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় কর্মরত আছেন। ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ইতোপূর্বে ডিএমপি, র‍্যাব-ও জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত ছিলেন।

 

অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সহজ সরল প্রকৃতির সাদা মনের এ মানুষটির মাঝে রয়েছে অকৃত্তিম দেশ প্রেম। দেশ প্রেমের অংশ হিসেবে, ত্যাগের মানুষিকতা নিয়ে রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে দশটায় সাব ইন্সপেক্টর আবদুল মোতালেব ভূঞা একটি ব্যাগ কাঁধে আরেকটি ব্যাগ হাতে নিয়ে রাজধানীর ঢাকার বাসাবো এলাকা থেকে গ্রামের বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

ইস্পাত কঠোর মনোবল তার যাত্রা পথে কোন বাধাঁ হয়ে দাড়াতে পারেনি। রাত সাড়ে ৭টায় তিনি পৌঁছেন নরসিংদীর শহরের উপকণ্ঠ সাহেপ্রতাপ মোড় এলাকায়। আরো প্রায় ২ ঘন্টা হাটতে হবে তার গ্রামের বাড়ীতে পৌঁছাতে হলে।

হাঁটা অবস্থায় দেখা হয় এ প্রতিবেদকের সাথে। কথা প্রসঙ্গে আবদুল মোতালেব জানান, তার পায়ে হাটার রহস্য। একটুও ক্লান্তি নেই তার মাঝে। সহজ সরল হাস্যজ্জল বদনে মনের ভাব প্রকাশ করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে তিনি পদযাত্রা করেছেন বলে জানান। ৩১ বছর যাবত তিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে তার সাধ্যনুযায়ী দেশ ও মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। রাজপথে দায়িত্বরত অবস্থায় একটু সুযোগ পেলে যানবাহনের চাকা পাংচার হয়ে যায় এমন বস্ত কুড়িয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেছেন।

পুলিশ সদস্যদেরকে দেয়া সুযোগ সুবিধা জন্য তিনি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদে প্রশংসা করেন।

যাত্রাপথে কয়েক মিনিটের এ সাক্ষাতকারে তিনি প্রতিটি মানুষকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যার যার অবস্থান থেকে দেশ জাতির কল্যাণে কাজ করার আহবান জানান।

কথা শেষে তিনি আবারো হাটার পূর্ব গতিতে ফিরে গিয়ে কয়েক মিনিটের মাঝে চোখের আড়াল হয়ে যান। পড়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি রাত প্রায় সাড়ে ৯টায় নিরাপদে চৈতন্য গ্রামে তার গন্তব্য নিজ বাড়ী পৌঁছে সফর সমাপ্ত করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.