টাকার লোভে মিথ্যা অভিযোগ, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এলো আসল রহস্য 

টাকার লোভে মিথ্যা অভিযোগ, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এলো আসল রহস্য 

 

সিটিজি ট্রিবিউন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছে দাবি করে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হন কহিনূর।

তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে পুলিশ কহিনূরের বক্তব্য নিয়ে অভিযানে নামে । আর অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ বুঝতে পারে, এই ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা। মিথ্যা অভিযোগে পতেঙ্গার মুছা কে ফাঁসাতে চেয়ে ছিলেন ওই নারী ও সংঘবদ্ধ চক্র।

পুলিশ তদন্তে কহিনূর‌ সম্পূর্ণ বিষয়টি স্বীকার‌ করে বলেন, ইব্রাহিমের পরামর্শে বিশ হাজার টাকার লোভে  তিনি এ ঘটনাটি সাজিয়েছেন।

মিথ্যা এজাহারে উল্লেখ করেন কহিনূর, তার বয়স ৩০ বছর। তিনি ফোর-এইচ গ্রুপের পোশাক কারখানায় চাকরী করেন। থাকেন নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা সংলগ্ন ধুপপোল এলাকায়। তার ঘরে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নোবেল চাকমা বলেন,  কহিনূর বেগম নামে এক নারীর অভিযোগ ছিল, মুছা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় হয় তার। তিনি পূর্বপরিচিত বলেও জানান। মুছা তাকে মঙ্গলবার রাতে কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গিয়ে বাকলিয়া থানা এলাকার নোমান কলেজ রোডের বাস্তুহারা বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে গিয়ে তিনজন মিলে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনার সত্যতা জানতে আমরা তাৎক্ষণিক তাকে নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু তিনি বাস্তুহারা এলাকা চিন্তে পারেননি এবং ঘটনাস্থল ‌ও শনাক্ত করতে পারেননি। তখনই  আমাদের সন্দেহ হয়। আর থাকে জিজ্ঞেস করলে তখন ওই নারী ইব্রাহিমের কথা বলে। আমরা ইব্রাহিমকে ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলি। কিন্তু তিনি আসেননি এবং মোবাইল বন্ধ করে দেন।

তিনি বলেন, ফোনে- কহিনূর কে শিখিয়ে দিচ্ছিলেন ইব্রাহিম। বাস্তুহারা এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বলার জন্য। আর ওই নারী একপর্যায়ে দাবি করেন, শাহ আমানত সেতুর অপরপ্রান্তে কর্ণফুলী থানা এলাকায় ঘটনা ঘটেছে। তখন আমরা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, এটি সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা। জিজ্ঞাসাবাদের পর নারী স্বীকার করে জানান, আমি ইব্রাহিমের পরামর্শে ২০ হাজার টাকার লোভে গণধর্ষণের এ ঘটনা সাজান তিনি। এ জন্য বুধবার ভোরে তিনি চমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। গেলে কি কি করতে হবে এবং ধর্ষণের আলামত দেখাতে পারবেন সবকিছুই তিনি করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কহিনূর তিন জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন, তাদের বাসা হলো চট্রগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায়। ওই নারী তাদের কখনও দেখেননি, পরিচয়ও নেই। কিন্তু ইব্রাহিমের কথায় মিথ্যা এজাহারে উল্লেখ করে পূর্বপরিচিত। তিনি টাকার লোভে এসব কাজ করেছেন। এ ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তরা কেউ আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ জন্য ওই নারীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.