মোনাজাতে অংশ নেওয়ায় অপপ্রচারের শিকার ডিসি মমিনুর রহমান,ফায়দা লোটায় বেস্ত একটি কুচক্রী মহল

মোনাজাতে অংশ নেওয়ায় অপপ্রচারের শিকার ডিসি মমিনুর রহমান,ফায়দা লোটায় বেস্ত একটি কুচক্রী মহল

 

সিটিজি ট্রিবিউন চট্টগ্রাম;

 

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান,২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।এরপর থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ১৩৬টি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। অভিযানে ৫টি দুর্নীতির মামলায় ১৭ জনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৩৯ জনকে, অর্থদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে ৯৬ জনকে, চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ৭ জনকে, বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ৯ জনের বিরুদ্ধে, দণ্ডবিধির আওতায় মামলা করা হয়েছে ২টি, দুদক আইনে মামলা করা হয়েছে ৩টি, ১৯৩ জন দুর্নীতিবাজ ওমেদার ও অস্থায়ী কর্মচারীকে ভূমি অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

তাদের তালিকা ভূমি অফিসগুলোতে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০৮টি সরকারি অফিস যথাক্রমে ভূমি অফিস, তহসিল অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে অত্যাধুনিক ৭১৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান থেকে জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি জায়গা উদ্ধারে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মমিনুর রহমানের সাফল্য আর জনমুখী কাজে অখুশি একটি চক্র। সেই চক্রটিই ডিসির ‘ভালো কাজে’ ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 সেই অপপ্রচারকারীরা ডিসির একটি মোনাজাতে অংশ নেওয়াকে সামনে এনে ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে। 

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ছিল জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন।

বিভিন্ন প্রার্থীর অনেক কর্মী, সমর্থক, দলীয় নেতা এবং উৎসুক জনতায় পরিপূর্ণ ছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।এমনকি বারান্দা থেকে নিচতলা পর্যন্ত ছিল উৎসুক জনতা।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ওই দিন সকাল ১০টা থেকে সম্প্রীতি সমাবেশ, আসন্ন দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক বিশেষ সভা, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের চেক বিতরণের কর্মসূচি ছিল।

সম্প্রীতি সমাবেশের প্রস্তুতিমূলক সভা চলাকালীন জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীরা একযোগে সম্মেলন কক্ষে ঢোকেন এবং হুড়োহুড়ি করে জেলা প্রশাসকের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। 

সভাস্থলে উপস্থিত অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানুষের ভিড়ের কারণে সভাকক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত, মিরসরাইতে রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় নিহত ও গত ১৪ সেপ্টেম্বর জোরারগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ জনের আত্মার মাগফেরাত কামনায় পূর্ব থেকেই দোয়া করার সিদ্ধান্ত ছিল।

মনোনয়নপত্র দাখিলকালীন ভিড়ের মধ্যে শ্রমিকলীগ নেতা সফর আলী আকস্মিকভাবে মোনাজাত ধরেন।

বিক্ষিপ্তভাবে সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত অনেকেই মোনাজাতে অংশ নেন।মোনাজাতে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কোনো কিছু মোনাজাতে বলা হয়নি।  

তারা বলেন, জেলা প্রশাসক দুর্গাপূজা এবং সম্প্রীতি সমাবেশের প্রস্তুতিমূলক সভায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং কোনো ষড়যন্ত্র বা নাশকতাকারীদের দ্বারা যাতে আসন্ন দুর্গাপূজায় কোনোরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে জন্য সবার সহযোগিতা চান।

কোনো স্বাধীনতাবিরোধী, উগ্রবাদী যাতে রাষ্ট্র ও সরকারকে বিব্রত না করতে পারে সে বিষয়ে সম্প্রীতি সভায় বক্তব্য দেন।

কোনো দলের পক্ষে ভোট চাওয়া বা জেলা পরিষদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মতো কোনো বক্তব্য তিনি দেননি।আর জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কোনো দলের কোনো প্রার্থী বা সমর্থক কোনো আপত্তি বা অভিযোগ উত্থাপন করেননি।

রোববার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচনের শত শত প্রার্থী, কর্মী, সমর্থকদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়।

মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইকালেও কোনো প্রার্থী বা কর্মী সমর্থক কেউ রিটার্নিং কর্মকর্তার কোনো কার্যক্রমে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এরূপ আপত্তি বা কথা বলেননি।

এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসকের নানা জনকল্যাণমুখী কাজের কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা পৃথক দুটি ঘটনাকে একসঙ্গে করে নানা অপপ্রচার শুরু করে।

জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সফল নির্বাচন 
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান যোগদানের পর থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন, ১৬টি পৌরসভার নির্বাচন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কখনো কোনো দল বা প্রার্থী জেলা প্রশাসকের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা বা ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা অভিযোগ উত্থাপন করেননি।

জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান

চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার মূল্যবান খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।

জেলা প্রশাসকের এসব দুঃসাহসিক কার্যক্রমে একাধিক চক্র ক্রমাগতভাবে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।  

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওপর হামলা 
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজমুল আহসান, উপ পরিচালক (স্থানীয় সরকার) বদিউল আলম, জেলা প্রশাসনের ২ জন কর্মচারী এবং নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত একজন আনসার সদস্যের ওপর হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। এসব ভূমিদস্যু গ্রুপ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং র‍্যাব-৭ এর সিও’র ওপরও হামলা করেছে। এ সব প্রভাবশালী, ভূমিদস্যু এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ১৫টি মামলা দায়ের হয়েছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের উচ্ছেদ প্রতিহত করা এবং রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করার জন্য ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট নানামুখী অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।  

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, নানামুখী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলকালীন খণ্ডিত, বিকৃত এবং অসত্য তথ্য সংবলিত সংবাদ কিছু মিডিয়ায় প্রকাশ করা হচ্ছে যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।

এ সংক্রান্ত একটি লিগ্যাল নোটিশ ইস্যু হওয়ার আগেই বা নোটিশ গ্রহীতারা নোটিশ পাবার আগেই কিছু মিডিয়ায় লিগ্যাল নোটিশ প্রদানের বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে বিষয়টি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত একটি অপপ্রচার।

জেলা প্রশাসককে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করেন চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা ভোট দেন না।

কেবল স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এখানে ভোট দিতে পারেন।

এরপরও মনোনয়নপত্র জমাদান বা তৎপরবর্তীতে কোনো বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এমন কোনো বক্তব্য তিনি দেননি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.