স্কাউটসের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন মশিউর রহমান

স্কাউটসের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন মশিউর রহমান

আশিক আরেফিন, বিশেষ প্রতিবেদন, সিটিজি ট্রিবিউন :স্কাউটিংয়ে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার ‘রৌপ্য ব্যাঘ্র’ (সিলভার টাইগার) পেলেন মশিউর রহমান, এলটি । তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত আছেন।সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কাউন্সিলের ৫০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় রাষ্ট্রপতি ও চিফ স্কাউট মো. আব্দুল হামিদ বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে এ সভার উদ্বোধন করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও গ্লোবাল কমিশন অন বায়োডাইভারসিটিজের কমিশনার মো. আবুল কালাম আজাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।
সভায় বাংলাদেশ স্কাউটসের বাস্তবায়িত কার্যক্রমের ওপর ভিডিও প্রদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমতিতে বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ পুরষ্কার রৌপ্য ব্যাঘ্র ও রৌপ্য ইলিশ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। এ সময় মশিউর রহমান ‘রৌপ্য ব্যাঘ্র’ পুরস্কার পান। স্কাউটিংয়ে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২০ সালের ১৫ জন রৌপ্য ব্যাঘ্র ও ১৫ জন রৌপ্য ইলিশ পুরস্কার পান।

মশিউর রহমান বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় উপকমিশনার (প্রোগ্রাম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এর আগে স্কাউটিংয়ে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জাতীয় অ্যাওয়ার্ড ‘রৌপ্য ইলিশ’ (২০১৫) পেয়েছিলেন।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মশিউর রহমানের জীবনকর্ম, মশিউর রহমান ১৯৬৫ সনের ২২ অক্টোবর ঝালকাঠী জেলার দক্ষিণ মানপাশা গ্রাামের এক সম্ভ্রাস্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আব্দুল জব্বার ও মাতা মনোয়ারা বেগম এর দ্বিতীয় পুত্র। তার দুই ছেলে এক মেয়ে স্কাউট পরিবারের সদস্য। বড় ছেলে রোভার, মেয়ে গত ২০১৫ সালে শাপলা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে এবং ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে বর্তমানে রোভারিং কার্যক্রমের সাথে জড়িত এবং ছোট ছেলে সহ স্কাউটিং এর সাথে সম্পৃক্ত।

পিতার চাকুরীর সুবাদেই ১৯৭৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণীতে অধ্যায়ন কালে কাব স্কাউট হিসেবে দীক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউট ইউনিটে যোগদান করেন এবং পর্যায়ক্রমে ইউনিটের সদস্য, সহকারী উপদল নেতা, উপদল নেতা ও সিনিয়র উপদল নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কাব ও স্কাউট থাকাকালে তিনি খিলগাঁও সরকারী স্কুলে কাব ক্যাম্পুরী, রংপুরের তিস্তা নগরীতে স্কাউট সমাবেশে, ৩য় জাতীয় স্কাউট সমাবেশ, ১ম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরী সহ অসংখ্য স্কাউট ক্যাম্পে সফলতার সাথে অংশগ্রহণ করেন।

মশিউর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৯৮০ সালে চট্টগাম জেলা নৌ স্কাউটসের সাথে জড়িত হন। ১৯৮০ সালে ২য় বাংলাদেশ জাতীয় স্কাউট জাম্বুরী ও ৫ম এশিয়া প্যাসিফিক জাম্বুরী, মৌচাকে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় তিনি চট্টগ্রাম জেলা নৌ রোভারের সাথে যুক্ত হন এবং রোভার থাকা অবস্থায় অসংখ্য ক্যাম্পে স্বেচ্ছাসেবক , অংশগ্রহণকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে চাকুরীতে যোগদান করেন মশিউর। বর্তমানে তিনি অপারেশন ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৮ সালে নৌ অঞ্চলের অধীনে বেসিক কোর্স সম্পন্ন করেন এবং বিএন স্কুল ও কলেজ চট্টগ্রাম নৌ স্কাউট দলে সহকারী ইউনিট লিডারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে এ্যাডভান্স কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালে জ্বলোচ্ছাস এলাকায় সহযোগিতা করার কারণে বাংলাদেশ স্কাউটস কর্তৃক প্রশংসাপত্র অর্জন করেন এবং ১৯৯২ সালে স্কাউট শাখায় উডব্যাজ অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালে জাতীয় ট্রেনার্স কোর্স এবং ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ স্কাউটসের সহকারী লিডার ট্রেনার হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি ২০০৯ সনে ৮ম লিডার ট্রেনার কোর্সে সাফল্যের সাথে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও জেলা, অঞ্চল, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্কাউটসের বিভিন্ন প্রোগ্রামে সক্রিয়ভাবে কর্মকর্তা হিসাবে তিনি অংশগ্রহণ করে বিশেষ অবদান রাখেন।
উল্লেখ্য যে, স্কাউটার মশিউর রহমান কাব ও স্কাউট শাখায় উডব্যাজার সম্পন্নকারী। তিনি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ স্কাউটস কর্তৃক লিডার ট্রেনার পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।

মশিউর ১৬তম অস্ট্রোলিয়া জাম্বুরীতে (অস্ট্রোলিয়া-১৯৯২) বাংলাদেশের কন্টিনজেন্ট লিডার হিসাবে, ২০তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী (থাইল্যান্ড-২০০৩) কন্টিনজেন্ট স্টাফ (আই.এস.টি), ২১তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী (ইউকে-২০০৭) কন্টিনজেন্ট স্টাফ (আই.এস.টি), ২২তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী (সুইডেন-২০১১) কন্টিনজেন্ট স্টাফ (আই.এস.টি), রোড টু দ্যা জাপান (জাপান-২০১২) বাংলাদেশের কন্টিনজেন্ট লিডার হিসাবে, এ.পি.আর.রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্কশপ ২০১২ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও এ.পি.আর. সিএলটি কোর্সের খাদ্য ব্যবস্থাপনার কো-অর্ডিনেটর ও এ.পি.আর কনফারেন্স এর খাদ্য ব্যবস্থাপনার কো-অর্ডিনেটর হিসেবে ২৩তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী (জাপান-২০১৫) আই.এস.টি হিসাবে, ৩১তম এপিআর জাম্বুরী (মঙ্গোলীয়া-২০১৭),১৬তম ভারত স্কাউট এন্ড গাইড জাম্বুরী (ভারত-২০১৭) ডেপুটি কন্টিনজেন্ট লিডার হিসাবে, ইন্দো-বাংলা ফ্রেন্ডশীপ ক্যাম্প ২০১৮ সাব ক্যাম্প চীফ হিসাবে, ২৪তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী (ইউএসএ-২০১৯) আই.এস.টি হিসাবে, হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্কাউটার মশিউর রহমান,এলটি করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ স্কাউটস এর সভাপতি ও প্রধান জাতীয় কমিশনারের নিদের্শনাক্রমে এবং জাতীয় কমিশনার প্রোগ্রামের পরামর্শক্রমে অন্যান্য জাতীয় উপ-কমিশনার প্রোগ্রামদের নিয়ে স্কাউট কার্যক্রমকে চলমান রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
যেমনঃ- অনলাইনে পারদর্শীতা ব্যাজ কোর্স, উপদল নেতা কোর্স, মেট কোর্স, ইউথ ফোরাম, কোরআন শিক্ষা, পিএস মূলায়ন ইত্যাদি পরিচালনা করেন। গুনগত মান সম্পন্ন নৌ স্কাউট তৈরীর অংশ হিসেবে তিনি পি.এস. ও শাপলা তৈরিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ স্কাউটস এর জাতীয় উপ-কমিশনার (প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ স্কাউটসের আজীবন সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলা নৌ স্কাউটসের লিডার ট্রেনার প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ইতিপূর্বে তিনি “ন্যাশনাল সার্টিফিকেট” অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৩), “মেডেল অব মেরিট” অ্যাওয়ার্ড (২০০০), “ বার টু দি মেডেল অব মেরিট” অ্যাওয়ার্ড (২০০৭), “সিএনসি’স” অ্যাওয়ার্ড (২০০৯) এবং “সভাপতি” অ্যাওয়ার্ড (২০১১) অর্জন করেছেন।

স্কাউট আন্দোলনে অন্যান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ স্কাউটস ২০১৫ সালে মশিউর রহমানকে বাংলাদেশ স্কাউটসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড “রৌপ্য ইলিশ” পদকে ভূষিত করেছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.