দেশে প্রথম প্রতিস্থাপিত হার্ট ভাল্বে নতুন করে ভাল্ব প্রতিস্থাপন

দেশে প্রথম প্রতিস্থাপিত হার্ট ভাল্বে নতুন করে ভাল্ব প্রতিস্থাপন

সিটিজিট্রিবিউন: বাংলাদেশে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো বুক না কেটে হার্টে ট্রান্সক্যাথেটার অ্যাওর্টিক ভাল্ব রিপ্লেসমেন্ট (টিএভিআর) পদ্ধতিতে পুরনো অ্যাওর্টিক ভাল্বের ভেতরে নতুন ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

২০১১ সালে ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বুক কেটে অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১১ বছর পর সম্প্রতি তার শ্বাসকস্ট তীব্র হতে থাকে। বুক কেটে ভাল্ব প্রতিস্থাপন ব্যক্তিদের পুনরায় প্রতিস্থাপিত ভাল্বে নতুন করে ভাল্ব স্থাপনে আর্থিক খরচ কোটি টাকার বেশি হয়। এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়ে রোগীর পরিবার।

এদিকে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এমন অবস্থায় তাকে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকারের নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয় তার। টিমটি সিদ্ধান্ত নেয়, বুক না কেটে পূর্বের প্রতিস্থাপিত ভাল্বে নতুন করে ভাল্ব প্রতিস্থাপনের। টিএভিআর ভাল্ব প্রতিস্থাপন পদ্ধতিতে ওই ব্যক্তির হার্টে অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়।

ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার যুগান্তরকে জানান, জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে টিএভিআর পদ্ধতিতে বুক কেটে ভাল্ব প্রতিস্থাপিত এক ব্যক্তিকে নতুন করে বুক না কেটেই পূর্বের প্রতিস্থাপিত স্থানে নতুন ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে গত ১৭ এপ্রিল অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ করা হয়। দেশে এই প্রথম পূর্বে ভাল্ব প্রতিস্থাপিত ব্যক্তিকে নতুন করে বুক না কেটে নতুন ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

ডা. প্রদীপ বলেন, সাধারণত হার্টে বুক কেটে টিস্যু অ্যাওর্টিক প্রতিস্থাপন করলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই এটি আবার তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। এর চিকিৎসা বিদেশে হলেও ব্যয় হয় কোটি টাকার উপরে। বুক কাটা এমন ব্যক্তি বহু রয়েছেন, যারা অসুস্থতার ভুগছেন। আমরা এমন অপারেশন একের পর এক করে যাব।

কম খরচে এমন অপারেশন করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর বিদেশে নয়, বাংলাদেশেই এমন অপারেশন করা যাবে।’

অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপনে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে জানিয়ে ডা. প্রদীপ বলেন, রোগীকে অজ্ঞান করতে হয় না। রোগী তিন দিন পরে হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে যেতে পারে এবং সাত দিনের মধ্যে কাজে যোগ দিতে পারে।  যেসব রোগী ১০-১৫ বৎসর আগে টিস্যু অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপন করেছে, তাদের অনেকের ভাল্ব কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। তারা খুব সহজে হার্টের এই নতুন চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবে। এতে রোগীদের সুবিধাসহ অনেক টাকাও সাশ্রয় হবে।

এই অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপনে ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার জানান, সরকারি হাসপাতালে কম খরচ। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে ১০ লাখের মতো খরচ হবে।। প্রতিবেদন কেইউকে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.