প্রকল্প পাস করার কালো বিড়াল কারা খুজে বের করতে হবে এদের হাত গুড়িয়ে দিতে হবে এদের শিকড় অনেক গভীড়ে?

    0 0

    প্রকল্প পাস করার কালো বিড়াল কারা খুজে বের করতে হবে এদের হাত গুড়িয়ে দিতে হবে এদের শিকড় অনেক গভীড়ে?

    :কামাল উদ্দিন খোকন :

    সিটিজি্রিটবিউন: মানুষের ‍নি:স্বাস নেয়ার জায়গায় কারা এই হাসপাতাল করার প্রস্তাব দিয়েছিলো কারা এই প্রকল্পটি পাস করেছে রেলের এই সব কালো বিড়ালদের খুজে বের করতে হবে ।ঐক্যবদ্ব আন্দোলনের মাধ্যমে সিআরবিকে রক্ষা করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই । এই প্রকল্প পাস করার নেপথ্য কারিগরদের হাত অনেক লন্বা এদের হাত গুড়িয়ে দিতে হবে ।

    চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনদের মতামতকে তোয়াক্কা না করে নগরীর সিআরবি এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ৫০০ শয্যার একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং একশ আসনের একটি মেডিকেল কলেজ–এমন খবরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে পুরো দেশে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা। তাঁরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, এই করোনাকালেও মানববন্ধন করে হাসপাতাল গড়ার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। আজাদীতে গত ১৩ জুলাই প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, এরইমধ্যে সব দাফতরিক প্রক্রিয়া শেষে এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে ডিপিপি প্রস্তুত ও চূড়ান্তের পর ২০১৯ সালের শুরুর দিকে প্রকল্পটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকেও প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। অনুমোদনের পর গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে- সিআরবি এলাকায় বিদ্যমান রেলওয়ে (বক্ষব্যাধি) হাসপাতাল সংলগ্ন ৬ একর জমি জুড়ে এই হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান রেলপথ মন্ত্রী। সরকারি জমিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার এই প্রকল্পটির শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা। এই প্রকল্পকে জনস্বার্থ বিরোধী বলেও অভিহিত করেছেন তাঁরা। এ নিয়ে ২০১৯ সালের ৪ জুলাই ‘রেলের জমিতে ৫’শ শয্যার বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ/মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষা/এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থ বিরোধী-বলছেন বিশেষজ্ঞরা’ শিরোনামে একটি প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য খাতের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক জনের ।
    চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা বলছেন, সিআরবি হলো নগরীর ফুসফুস। এখানে হাসপাতাল নির্মিত হলে ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভাস্বর’ অপরূপ এলাকাটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাতঃ ও বৈকালিক ভ্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। সংশ্লিষ্টদের অপরিকল্পিত কার্যক্রমে পরিবেশ ধ্বংস হবে এবং নিশ্চিতভাবেই তা নগরবাসীর জন্য অকল্যাণ ডেকে আনবে। তাঁরা সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল স্থাপনের এ সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থ বিরোধী বলে উল্লেখ করেন এবং অনতিবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
    আমাদের মনে রাখা জরুরি যে, প্রকৃতি থেকে এসেছি আমরা, কোথাও না কোথাও প্রকৃতিতেই আমাদের শেষ আশ্রয়। সারা দিনের ছুটে চলা, অফিসের কাজ, নিজের ব্যস্ততা সব কিছুই একসময় একঘেঁয়ে হয়ে যায়, তখন নতুন করে জীবনী শক্তি ফিরে পেতে ছুটে যাই প্রকৃতির কাছে। ঢাকায় ৪০টির মতো পার্ক রয়েছে। তন্মধ্যে রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, বাহাদুর শাহ্‌ পার্ক, ধানমন্ডি লেক পার্ক, গুলশান লেক পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উল্লেখযোগ্য। কিন্তু চট্টগ্রামের কোথাও একটু নিঃশ্বাস ফেলার স্থান নেই। খালি জায়গা নেই। যে কয়েকটি পার্ক ছিল, সেগুলো এখন অকেজো। সিআরবি-ই কেবল একমাত্র জায়গা, যেখানে একটু নিঃশ্বাস নেয়া যায়। সেই জায়গাটুকুও যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে নগরবাসীর আর কিছুই থাকলো না।
    আমরা প্রত্যক্ষ করছি, সুন্দর এই পৃথিবী ক্রমেই অসুস্থ হচ্ছে। নদী দূষণ চলছে, পাহাড় কাটা হচ্ছে, উপকূল এলাকার ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস করা হচ্ছে, বনভূমি উজাড় হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসবে চলছে যেন। তাই পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে ও একযোগে কাজ করতে হবে। যদি একটি গাছও কাটার প্রয়োজন হয়, তা পরিবেশ আইন মেনেই করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় হাইকোর্টের যে নির্দেশনা রয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে আমাদের সবাইকে। সিআরবি’র নৈসর্গিক দৃশ্য স্রষ্টার অশেষ দান। এখানে বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি প্রদানের খবরটি নগরবাসীকে আহত করেছে। মানুষ ও প্রকৃতিকে রক্ষার সমন্বয় করেই সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। হাসপাতাল করার অনুমোদন দিতে গিয়ে সরকার যেন দেশের মানুষের ক্ষতি না করে। আমরা চাই না পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের জন্য গণতান্ত্রিক সরকারের দুর্নাম হোক।
    চট্টগ্রামের জনসাধারণ যেভাবে ফুঁসে উঠছে, তা ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ার আগে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক। আমরা চাই না- পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হোক।#

     

    NO COMMENTS

    Leave a Reply