Home চট্টগ্রাম প্রচীন-প্রকৃতি বিধ্বংসী উন্নয়নে গণবিরোধী জনস্রোতে ঐতিহাসিক সিআরবি।

প্রচীন-প্রকৃতি বিধ্বংসী উন্নয়নে গণবিরোধী জনস্রোতে ঐতিহাসিক সিআরবি।

প্রচীন-প্রকৃতি বিধ্বংসী উন্নয়নে গণবিরোধী জনস্রোতে ঐতিহাসিক সিআরবি।

সিটিজি ট্রিবিউন মোহাম্মদ মাসুদ,চট্টগ্রাম।

প্রাকৃতিক সুন্দর্য্যের প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর মুক্ত ময়দানের নামেখ্যাত ৮০লক্ষ নগরবাসীর প্রানস্পন্দন।প্রচীন-প্রকৃতি বিধ্বংসী উন্নয়ন গণবিরোধী জনস্রোতে ঐতিহাসিক সিআরবি প্রাঙ্গণ।

আজ ১৬জুলাই,শুক্রবার বিকাল ৩টার পর থেকে বৃষ্টি-করোনা উপেক্ষা করেই গণ-আন্দোলন পরিণত শত বছরেরও অধিক পুরোনো সিআরবি প্রাঙ্গন।

নিঃসন্দেহে নগরের প্রান,ফুসফুস,নিঃস্বাসের অক্সিজেনের ভান্ডার।সিআরবি যেন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ সবল পরিবেশ প্রাকৃতিক হাসপাতাল ও চিকিৎসক চেয়েও বেশি যা কি-না বিনা পয়সা সম্ভব।

সর্বস্তরের মানুষের মুখে বুকে একাকার সিআরবিতে চাই না হাসপাতাল বা কোন রকম প্রকৃতির বিনষ্ট করে কোন প্রকার উন্নয়ন। শুধু ইউনাইটেড হাসপাতাল নয়,উন্নয়নের নামে বিন্দুমাত্র কোন প্রকার স্থাপনা বিনির্মাণে সব রকমের বাধা সহ তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই নগরবাসী। ফোঁসে উঠে সারা নগরের গুরুত্বপূর্ণ বিশিষ্টজন,নেতৃত্ববৃন্দ,সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংঘটনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ও সচেতন জনসাধারণ।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা “ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান অপিনিয়ন” (ইকো) এর পরিচালনায় প্রাথমিক এক গবেষণায় সিআরবিতে মোট ১৯৭ টি উদ্ভিদ প্রজাতি রেকর্ড করা হয়েছে।এর মধ্যে বড় বৃক্ষ ৭৪ প্রজাতি, মাঝারি বৃক্ষ ৩৭, গুল্ম জাতিয় প্রজাতি ৬৭, লতা জাতীয় উদ্ভিদ ১৪ টি প্রজাতি পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৫৪ টি প্রজাতি পাওয়া গেছে যেগুলো ঔষধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া, বিপ্ন্ন প্রায় ৯টি এবং ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে যদি এখন থেকে সংরক্ষণ করা না হয় এমন প্রজাতি পাওয়া গেছে প্রায় ৫০ এর অধিক। এখন পর্যন্ত সনাক্ত করা হয়নি এমন প্রজাতির সংখ্যা ২০ এর অধিক। পুরো গবেষণা শেষ হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
যদি শতবর্ষী গাছ কাটা না হয় কিন্তু অন্য গাছ গুলো কাটা পড়ে তাহলে কী কী ঘটতে পারে-
১। ঔষধী উদ্ভিদ গুলো থাকবেনা।
২। নতুন কোন প্রজাতি হয়তো থাকতে পারে যেগুলো আমাদের এখনো জানা নেই সেগুলো চিরতরে হারিয়ে যাবে।
৩। সিআরবি এলাকায় এমন কোন গাছ থাকতে পারে যেটি থেকে ভবিষ্যতে কভিড বা ক্যান্সার সহ অন্যান্য রোগের মহৌষধ হতে পারে। সেগুলো আর আর পাওয়া যাবে না।
৪। যারা উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করেন তারা খুব সহজে সিআরবি থেকে সংগ্রহ করেন।
৫। মাটির নীচের অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুজীব থাকে উদ্ভিদের শিকড়ের আশেপাশে যেগুলো মাটির গুনাগুণ ঠিক রাখে। উদ্ভিদ না থাকলে অণুজীব থাকবে না।
৬। কার্বন এবং অক্সিজেনের ভারসাম্য ঠিক থাকবে না ফলে সিআরবি এলাকায় যে ঠান্ডা পরিবেশ সেটি পাওয়া যাবে না সাথে পুরো শহরে তাপমাএা আরও বাড়বে।
৭। গাছ বাতাস থেকে সরাসরি কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে যেটির কারণে উদ্ভিদ সমৃদ্ধ এলাকায় গরম কম লাগে।
৮। হাসপাতাল, কলেজ, নার্সিং কলেজ সহ সমস্ত স্থাপনার জন্য পুরো ৬ একর জায়গার উদ্ভিদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবগুলো স্থাপনা শীততাপ নিয়ন্ত্রণ করা হলে গ্রীন হাউজ গ্যাস বাড়বে। ফলে সিআরবি এলাকায় তাপমাএা বাড়বে।
৯। অর্থাৎ ঐ এলাকার পুরো বাস্তুসংস্থান, খাদ্যচক্র এবং খাদ্যজাল নষ্ট হবে।
শুধু কী উদ্ভিদ!!! প্রাণীদের ও ক্ষতি হবে, যেমন- পাখিদের বাসা ধ্বংস হবে, খাদ্য সংকট হবে ফলে পরিবেশে তাদের টিকে থাকা কঠিন হবে। অনেক কীটপতঙ্গ তাদের আশ্রয়স্থল হারাবে, পরাগায়নে বিঘ্ন ঘটবে এবং অন্যান্য প্রাণীদের টিকে থাকা কঠিন হবে।
পরিবেশের ক্ষতি না করার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও আইন আছে।
চট্টগ্রামের সৌন্দর্যমন্ডিত সবুজাভ সিআরবি প্রাকৃতিক অবস্থায় থাকাটাই জরুরী।

NO COMMENTS

Leave a Reply