Home সিলেট বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগিয়ে চিকিৎসাখ্যাতে ভূয়সী প্রশংসায় ডাক্তার মোঃআব্দুল মান্নান

বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগিয়ে চিকিৎসাখ্যাতে ভূয়সী প্রশংসায় ডাক্তার মোঃআব্দুল মান্নান

0 0

বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগিয়ে চিকিৎসাখ্যাতে
ভূয়সী প্রশংসায় ডাক্তার মোঃ আব্দুল মান্নান।

মোঃআলাউদ্দীন, সিটিজি ট্রিবিউন চট্টগ্রাম; 

অভাবনীয় এ অস্ত্রোপচারের তত্ত্বাবধান করে সফল হয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃআব্দুল মান্নান। দীর্ঘ ৮ ঘন্টার সফল অস্ত্রোপচারে জোড়া লাগে হাত।নতুন জীবন ফিরে পায় এ তরুণ।

শুক্রবার (৯ জুলাই) রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত দেলওয়ারের অস্ত্রোপচার হয় সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলা মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে। সকাল ৬ টায় অস্ত্রোপচার শেষে তাকে রাখা হয় পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন। নাড়াতে পারছেন বিচ্ছিন্ন হাতের আঙুল।

পারিবারিক বিরোধের জেরে দরে নিজ বড় ভাইয়ের শ্যালকের দায়ের কোপে দেলোয়ার হোসেন (১৮) ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রক্তের বন্যা বয়ে যায় তার বাড়ি, এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী দেলোয়ারের জীবনে নেমে আসে কালো অন্ধকার,

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে তারা হাত জোড়া লাগাতে পারবেন না বলে জানান। পরে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় ডা. মান্নান সাহেবের সাথে। তিনি আশ্বাস দিলে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নিয়ে আসে।দেলওয়ার হোসেন সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের টেকনাগুল এলাকার আব্দুল এর তৃতীয় ছেলে।
সকল কিছুকে পরাজিত করে সফল হলো চিকিৎসা বিজ্ঞান। দীর্ঘ ৮ ঘন্টার সফল অস্ত্রোপচারে জোড়া লাগে হাত। নতুন জীবন ফিরে পায় এ তরুণ।

সিটিজি ট্রিবিউন এর বার্তা-সম্পাদক মোঃআলাউদ্দীন মুঠোফোনে অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান এর কাছ থেকে রোগীর অবস্থা এবং চিকিৎসা খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন ৯ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৪ থেকে পাঁচ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে। তবে অপারেশন বাবদ আড়াই লক্ষ টাকা লেগেছে এবং বর্তমানে রোগী চিকিৎসাধীন আছেন,নাড়াতে পারছেন বিচ্ছিন্ন হাতের আঙুল।আঙুল গুলো ৯০ শতাংশ সচল আছে এখন।

এদিকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে- অভাবনীয় এ অস্ত্রোপচারের তত্ত্বাবধান করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান। জটিল এ অস্ত্রপচারে তার সাথে ছিলেন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তওফিক আলম সিদ্দীকী, ডা. এন এ শোভন (অ্যানেস্থেসিয়া),ডা. পল্লব, ডা. মাসুদ হোসাইন।

অপরদিকে জটিল এ কাজটি করতে পেরে সন্তুষ্ট অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন অনেকটাই সহজ এবং আলাদা দল থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে যন্ত্রপাতিসহ নানা সংকট রয়েছে। তাছাড়া এরকম অস্ত্রোপচার অনেক সময় ১৪-১৫ ঘন্টাও হয়। কিন্তু এসব অঙ্গ অনেক সময় সঠিকভাবে নিয়ে আসার অভাবে জোড়া লাগানো যায় না। যদি কেউ ৬ ঘন্টার ভিতর সঠিকভাবে বিচ্ছিন্ন অংশ ভালোভাবে নিয়ে আসতে পারে এবং ফ্রিজিং করতে পারে তাহলে জোড়া লাগানো সম্ভব। আমরা আশাবাদী এই হাত আবার কাজ করবে এবং সে তার স্বাভাবিক সুস্থ জীবন পাবে।

তিনি অতীতে আরও দুইটি অস্ত্রোপচারে সফল হয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, এর আগে এরকম একটি হাত এবং একজনের হাতের আঙুল জোড়া লাগাতে পেরেছিলাম। সেগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারের অস্ত্রোপচার আরও ভালোভাবে করতে পেরেছি।

NO COMMENTS

Leave a Reply