Home চট্টগ্রাম মেজর সিনহা হত্যা মামলার আসামী ওসি প্রদীপকে কক্সবাজার কারাগারে স্থানান্তর

মেজর সিনহা হত্যা মামলার আসামী ওসি প্রদীপকে কক্সবাজার কারাগারে স্থানান্তর

0 0

মেজর সিনহা হত্যা মামলার আসামী ওসি প্রদীপকে কক্সবাজার কারাগারে স্থানান্তর

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১০ জুন।।

দেশের আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে কক্সবাজার কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দুপুরে আলোচিত এ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার দীর্ঘ সাত মাস পর তাকে আবারও কক্সবাজার কারাগারে আনা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার খন্দকার গোলাম হোসেন।

জেলার খন্দকার গোলাম হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বেলা পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তা-ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন একটি দল। করোনার কারণে আদালত বন্ধ থাকায় তাকে সরাসরি কক্সবাজারের কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে দীর্ঘ সাত মাস দুদকের একটি মামলায় হাজির হতে চট্টগ্রাম কারাগারে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে আনা হয়েছে।
আলোচিত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম। গত ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এবিপিএন চেকপোস্টে গাড়ি পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

পরে এ ঘটনায় একই বছর গত ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়েছে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ (পরিদর্শক) লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
আদালত বাদীর এজাহারটিকে সরাসরি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করার জন্য টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দেন। ওইদিন রাতে আদালতের আদেশনামা টেকনাফ থানায় পৌঁছে এবং নয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরের দিন অভিযুক্ত সাত আসামি- প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী, নন্দদুলাল রক্ষিত, লিটন মিয়া, সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
এরপরই এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ৯ জন পুলিশ সদস্য, তিনজন এপিবিএনের সদস্য এবং তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমারসহ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এস আই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এপিবিএনের এস আই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিনসহ অভিযুক্ত ১৪ জন কারাগারে রয়েছেন।
এরমধ্যে সাত মাস পর বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে কক্সবাজার কারাগারে আনা হয়।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব সিনিয়র এএসপি খায়রুল ইসলাম কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, সর্বশেষ গত ৮ এপ্রিল বিচারিক আদালতে আলোচিত এই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। করোনার প্রকোপ বাড়ায় সরকারের বিধিনিষেধ জারির কারণে কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। আদালত বন্ধের কারণে সাক্ষীর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে উপস্থিত করা যায়নি।

এই আইনজীবী বলেন, মামলার ১৪ জন আসামি কারাগারে থাকলেও এখন পর্যন্ত সাগর দেব নামে একজন পলাতক রয়েছে। বিচার পরিচালনা করতে পলাতক আসামির জন্য আদালত থেকে সমন জারি করা হয়। তখন আসামি হাজির না হলে হুলিয়া জারি এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। যদি তাতেও আসামি হাজির না হয় তাহলে তার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু হয়। এই মামলার পলাতক আসামির বিচারের জন্য ইতিমধ্যে ওয়ারেন্ট, পেপার পাবলিশসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এ ছাড়া জজ কোর্টে ফাইল ট্রান্সফার হয়ে গেছে। তার অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করতে এখন আইনগত আর কোনো বাধা নেই বলে জানান তিনি।

মেজর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার বলেন, লকডাউন কবে শেষ হবে তার ওপর হেয়ারিং নির্ভর করছে। যেটা আমাদের জন্য এখন বড় একটি চ্যালেঞ্জ। মামলার চার্জশিট পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। যখন কোর্টে হেয়ারিং শুরু হবে তখন বোঝা যাবে কতটা সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হবে। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে গত ডিসেম্বরে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। যেটা একটি ইতিবাচক দিক। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে হেয়ারিং হওয়ার কথা ছিল। প্রথম হেয়ারিং হওয়ার পর তখনই বোঝা যাবে বিচার কার্যক্রম কোন্‌ দিকে যাচ্ছে।

নিম্ন আদালতের চেয়ে উচ্চ আদালতের বিষয়টি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে বলে জানান তিনি। শারমিন বলেন, হেয়ারিং যেহেতু শুরু হয়নি। তাই শুরু না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ছাড়া আমার কাছে এখন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয় সাক্ষীদের কতদিন রাখা যাবে। সাক্ষী হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। নিম্ন আদালতে সাক্ষীদের তো আসতে হবে। এরপর উচ্চ আদালতে কাগজপত্র দেখে কাজ করবে। সেখানে সাক্ষী লাগবে না।

এই সাক্ষীগুলো যদি হারিয়ে যায় বিশেষ করে তাদের প্রয়োজনে দেশের বাইরে চলে যেতে পারে কেউ কেউ। এটাকে এখন পর্যন্ত আমার কাছে খুব বড় একটি চ্যালেঞ্জ বলে মনে হচ্ছে।

NO COMMENTS

Leave a Reply