Home চট্টগ্রাম বিশাল জনপদে জনবল সংকট ঈদগাঁও থানা : সাড়ে ৪ হাজার মানুষের জন্য...

বিশাল জনপদে জনবল সংকট ঈদগাঁও থানা : সাড়ে ৪ হাজার মানুষের জন্য একজন পুলিশ

0 0

বিশাল জনপদে জনবল সংকট ঈদগাঁও থানা : সাড়ে ৪ হাজার মানুষের জন্য একজন পুলিশ

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ৬ জুন ।।

কক্সবাজার জেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঈদগাঁও থানা থানা। যার লোক সংখ্যা প্রায় পৌনে দুই লাখ। বিশাল এই জনপদের মানুষকে নিরাপত্তার সেবা দিতে জনবল সংকটে ভুগছে নবগঠিত ঈদগাঁও থানা।
বিশাল এই জনপদের প্রতি সাড়ে ৪ হাজার মানুষের জন্য কাজ করছেন মাত্র একজন পুলিশ।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, এমপি ২০২১ সালের ২০ জানুযারী প্রধান অতিথি হিসেবে কক্সবাজার সদরে আনুষ্ঠানিকভাবে নবগঠিত ঈদগাঁও থানা উদ্বোধন করেন।
ঈদগাঁও থানা ইতোপূর্বে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্র ছিল। তদন্ত কেন্দ্রটি থানায় উন্নীত হওয়ার জন্য এলাকার জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন। গত ২০ জানুয়ারী এ তদন্ত কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ থানা হিসেবে কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে এলাকার
ইসলামপুর, ঈদগাঁও, ইসলামাবাদ, জালালাবাদ ও ভারুয়াখালী ইউনিয়নের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয় ।
পুলিশ সুত্র জানায়, বর্তমানে ঈদগাঁও থানায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা মোট ৪০ জন। এরমধ্যে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ১জন। অপারেশন অফিসার, তদন্ত অফিসার এর পদশুন্য।
এসআই ৮জন, এএসআই ৬ জন, কনস্টেবল ২৭ জন। যানবাহন রয়েছে মাত্র ১টি। যা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ব্যবহার করছেন। পুলিশের নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনায় কোন যসনবাহন নেই।
ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল হালিম বলেন, বিশাল এই থানায় গুরুত্বপুর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজার, শিল্প এলাকা ইসলামপুর ও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক রয়েছে। সেই সঙ্গে চারটি ইউনিয়ন রয়েছে পাহাড় ও নদীকুলবর্তী। দুর্গম এলাকায় পুলিশ জনবল ও যান সংকটের কারণে যথাযথভাবে জনগনকে সেবা দিতে পারছেনা।
তিনি জানান, ইসলামপুর ও ঈদগাঁও ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় তড়িৎ অভিযানে নিজস্ব কোন যানবাহন না থাকায় গাড়ী ভাড়া করে অভিযান চালাতে যেতে হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে না পারার কারণে গোপন অনেক অভিযান ব্যর্থ হয়ে যায়।
সংকট কাটিয়ে উঠতে তাদের আরও ৫০ জনের মত লোক দরকার বলে তিনি জানান।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও থানা উদ্বোধনের পর থেকে থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯টি।
জিআর মামলার সাজা প্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার ৬ জন, সিআর মামলার সাজাপ্রাপ্ত ৮জন, ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার , চোরাই গরু উদ্ধার ৩টি, ২০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার, নিয়মিত মামলার আসামী গ্রেফতার করা হয় ২৮ জন, সিআর মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা ২৫ জন ও জিআর মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানার ৪০ জন আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় থানায়। এরমধ্যো চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা জনি হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
পুলিশ সূত্র আরও জানিয়েছেন, ঈদগাঁও থানাধীন বিভিন্ন স্থানে কোন ঘটনা ঘটলে সংবাদ পাওয়ার পর উপযুক্ত যানবাহন না থাকায় দ্রুত ঘটনা স্থলে পুলিশ পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ভাড়া করা যান দিয়ে সবকাজ করা সম্ভব হয়না। কমপক্ষে ২টি পিক-আপ ভ্যান থাকলে পুলিশের জন্য দায়িত্ব পালনে সহজ হতো।
ওই সুত্র জানিয়েছে, ঈদগাঁও থানাধীন ৫টি ইউনিয়নে প্রায় পৌনে ২ লক্ষ মানুষের জন্য পুলিশী সেবা নিশ্চিত করতে হলে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল মিলে কমপক্ষে আরো ৫০/৬০জন পুলিশ সদস্য প্রয়োজন।
ইসলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কুয়েত প্রবাসী লুৎফুর রহমান লুতু জানান, ঈদগাঁও থানার মধ্যে প্রধান সড়ক, ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়ক ও ভারুয়াখালী সড়ক সহ বেশ কয়েকটি রুট অত্যন্ত ঝুকিপুর্ন। এসব রুটে অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে প্রতিনিয়তই। এসব এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার জরুরী।
কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি ফরিদুল আজিম দাদা ফরিদ বলেন, বিশাল এলাকার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ঈদগাঁও থানায় জনবল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানান, পুলিশের জনবল বৃদ্ধির এখতিয়ার জেলা পুলিশের নেই। এটি স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সৃদুষ্টি আকর্ষন পূর্বক উত্থাপন করলে একমাত্র তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। যানবাহন সংকটের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে সরকার সারাদেশের জন্য ২ হাজার পুলিশী যানবাহনের ব্যবস্থা নিয়েছেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply