Home জাতীয় ফিরিংগীবাজারে যেমন কেটেছিলো কবরীর জীবন

ফিরিংগীবাজারে যেমন কেটেছিলো কবরীর জীবন

0 0

ফিরিংগীবাজারে যেমন কেটেছিলো কবরীর জীবন

:কামাল উদ্দিন খোকন :

সিটিজিট্রিবিউনডেস্ক:আমার বাসা ফিরিংগী বাজার এলাকায়কবরী ছিলো আমার বড় বোনের বান্দবী তার কাছ থেকে এবং এই এলাকার আশে পাশের মানুষের কাছ থেকে তার সম্পার্কে যা জানলাম তা তুলে ধরা হলো কবরীর জন্ম ১৯৫২ সালের জুলাই মাসেচট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে । বাবা কৃষ্ণদাস পাল মা শ্রীমতী লাবণ্য প্রভা পাল। তাঁর বাবার দুই বিয়ে। ছোট স্ত্রীর দ্বিতীয় মেয়ে মিনা পাল (কবরী)। সৎমায়ের দুই মেয়ে, দুই ছেলে। ছোট মায়ের পাঁচ ছেলে, চার মেয়ে। সব ভাইবোন একসঙ্গে বড় হয়েছেন।লেবাপড়ায় কবরী তেমন একটা ভালো ছাত্রী ছিলোনা নাচ গান নাচকের প্রতি তার যোগ ছিলো বেশী। যা তার মা পছন্দ করতেন না ;কিন্তু তার বাবা ছিলেন বন্দরে পা্‌ইলট তিনি সংস্কৃতি মনা মেয়েখে সব সময় এই বা্যপারে উৎসাহ দিতেন ।

, ‘আমাদের পুরো পরিবারটিই ছিল ভীষণ সংস্কৃতিমনা। বড় বোনদের মধ্যে দুবোন নাচতেন। ছোট ভাই তবলা বাজাতেন। আমি নাচ-গান একসঙ্গে করতাম। ছোট্টবেলার কথা আমার যেটুকু মনে আছে, তা হলো খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাইবোনেরা একসঙ্গে স্কুলে যেতাম।’মিনা পাল বা কবরীর প্রথম স্কুল ছিল আল করন। থাকতেন চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজারে। আল করন স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন তিনি। এরপর মা কবরীদের জে এম সেন হাইস্কুলে ভর্তি করে দেন। ‘আমরা রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে কাপড় ভাঁজ করে মাথার বালিশের নিচে রেখে দিতাম। এভাবেই কাপড় ইস্তিরি হয়ে যেত। আর ওই কাপড় পরেই স্কুলে যেতাম।’ বলেছিলেন কবরী।

ছোটবেলায় কবরীদের ঘরে কোনো টেলিভিশন ছিল না, একটা রেডিও ছিল। রেডিওর গান শুনে বোনেরা কেউ নাচতেন আবার কেউ তাল মিলিয়ে গান গাইতেন। একসময় রুনু বিশ্বাসের কাছে নাচ শেখা শুরু করলেন কবরী। বাবা আবার এসবে খুব উৎসাহ দিতেন। কিন্তু মা বলতেন, না, এত নাচ-গান করতে হবে না। তার চেয়ে মন দিয়ে পড়াশোনা করো। যেমন সন্ধ্যা হলেই মা সন্তানদের পড়তে বসার জন্য তাগাদা দিতেন। আর বাবা বলতেন, না, আগে ওরা ভজন গাইবে। এমনি করে বাবা কবরীদের সংস্কৃতিমনা করে তুলেছেন।একদিন স্কুলে ‘ক্ষুধা’ নাটক মঞ্চস্থ হবে বলে ঠিক হলো। যে ছেলেটির এই নাটকে অভিনয় করার কথা ছিল, সে আসেনি। কবরীকে তার জায়গায় অভিনয় করতে বলা হলো। এমনি করেই প্রথম নাটকে অভিনয় করলেন। এরপর থেকেই বোনদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে লাগলেন, নাচতেন। পাশাপাশি পড়াশোনা যেন ঠিক থাকে, সেদিকটায় আবার তাড়া দিতেন মা। এভাবেই ভাইবোনেরা বেড়ে উঠেছেন।

যে ভাবে কবরী চিত্র জগতে এলেন

কবরী জেএমসেন স্কুলে পড়ার সময় সেখাণে :ক্ষুধা: নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তার নাট্যজীবন শুরু প্রখ্যাত সং্গীত পরিচালক  সত্যসাহাই পরিচালক সুভাস দত্তের সাখে কবরীকে পরিচয় করিয়ে দেন এর পরে কপাল খুলে যায় কবরিীর পরিচালক সুভাস দত্তের ছবি সুতরাং দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু এর পর আর কবরীকে পিছন ফিরে তাকাতে ছবিচি সারাদেশে সুপার ডুপার হিট করে সুতরাংয়ের সেটে প্রথম শটেই চড় খেয়ে কেঁদে ভাসানো সেই মেয়েটির সঙ্গে পরে নায়ক রাজ হয়ে ওঠা রাজ্জাকের জুটির রসায়ন ঢাকাই ছবির ইতিহাসে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পায়।
‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’, ‘পরিচয়’, ‘অধিকার’, ‘বেঈমান’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘সোনালী আকাশ’, ‘অনির্বাণ’, ‘দীপ নেভে নাই’সহ অর্ধশতাধিক সিনেমার এই জুটিকে পরে ‘আমাদের সন্তান’ চলচ্চিত্রে বয়স্ক বাবা-মায়ের ভূমিকাতেও দর্শকরা দেখেছেন।
১৯৭৩ সালে ‘রংবাজ’ সিনেমায় দর্শক এক লাস্যময়ী কবরীকে আবিষ্কার করে। সেই চলচ্চিত্রের ‘সে যে কেন এল না, কিছু ভালো লাগে না’ গানটি এখনও বহু দর্শকের বুকে বাজে।
‘সাত ভাই চম্পা’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘দীপ নেভে নাই’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, কিংবা পরে ‘সুজন সখী’, ‘স্মৃতিটুকু থাক’, ‘সারেং বউ’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’সিনেমায় পর্দা মাতানো কবরীর ভাষায়, “জীবন হচ্ছে একটি চলচ্চিত্র। জীবন কিন্তু স্থিরচিত্র নয়।#

NO COMMENTS

Leave a Reply