Home জাতীয় খালেদা জিয়াকে নিয়ে নাটকের শেষ নেই ? কেমন আছেন খালেদা ?

খালেদা জিয়াকে নিয়ে নাটকের শেষ নেই ? কেমন আছেন খালেদা ?

0 0

 

কামাল   উদ্দিন খোকন :

 বিএনপির চেয়ার পার্সন খালেদা জিয়াকে নিয়ে নাটকের শেষ নেই কেউ বলছেন এক কথা বলছেন আরেক কথা  তবে তার চিকিৎকজানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।তবে তার করোনার কোনো উপসর্গ নেই। পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছে। তার রক্তে কোনো ঝুঁকি আছে কি না, জানার জন্য বায়োকেমিক্যাল টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর পর্যালোচনা করা হবে।

মঙ্গলবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় যান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আল মামুন। বিকাল ৩টা থেকে এক ঘণ্টা তিনি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় বায়োকেমিক্যাল টেস্টের জন্য একজন টেকনোলজিস্ট খালেদা জিয়ার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন।

খালেদা জিয়াকে দেখে এসে সাংবাদিকদের ডা. মামুন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন। এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার যে শারীরিক

জিয়ার যে শারীরিক অবস্থা তাতে বাসায় রেখেই তার চিকিৎসা সম্ভব।

ডা. মামুন বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছেন তার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্দেশ দিচ্ছেন। টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে চেয়ারপারসনের চিকিৎসা চলছে।

এর আগে দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ইতোমধ্যে তার চিকিৎসাও শুরু হয়েছে। সারা দেশের মানুষ দোয়া করছে তিনি যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন। আমি আবারও দেশবাসীর কাছে সেই দোয়া চাই।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে আসছি। আমি গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি এই করোনার মধ্যে অবিলম্বে খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ জামিন চেয়েছেন। আমি তার এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে (খালেদা জিয়া) স্থায়ী জামিন দেওয়া হোক।

 

সোমবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বাসভবন ‘ফিরোজায়’ যান তার ব্যক্তিগত মেডিকেল বোর্ডে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। সেখানে শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে বৈঠকও করেন তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে আসার পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, আমরা এখন পর্যন্ত বলব, তার (খালেদা জিয়া) অবস্থা স্থিতিশীল। সোমবার পর্যন্ত যথেষ্ট ভালো আছেন। আমরা আশা করছি, এভাবে আরেক সপ্তাহ পার হলে তিনি বিপদ থেকে মুক্ত হবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, মেডিকেল বোর্ডে আমাদের অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন। সবচেয়ে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাজ্যে থাকা তার ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান সব সময় মোটিভেট করছেন। আমরা একটা টিমওয়ার্ক হিসাবে আলোচনা করে তার চিকিৎসা করছি। কোথাও কোনো গ্যাপ বা কোনো রকমের সন্দেহের কিছু অবকাশ নেই। এখন পর্যন্ত তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো আছে বলে মনে হচ্ছে।

খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক টিমের প্রধান বলেন, বিন্দুমাত্র আমাদের যদি মনে হয় যে, তাকে হাসপাতালে নেওয়া দরকার, আমরা সেই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যাব-সেই ধরনের প্রস্তুতি আমরা রেখেছি।

এদিকে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সারা দেশে সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোয়া কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করেছে বিএনপি। মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে এবং যার যার অবস্থান থেকে দোয়া মাহফিল, কুরআন খতম ও অন্যান্য ধর্মমতে প্রার্থনা অনুষ্ঠান করার জন্য দলটির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। দলের একাধিক নেতা বলেন, চিন্তামুক্ত থাকতে পারছি না। কারণ, ৭৫ বছর বয়সি চেয়ারপারসনের ডায়াবেটিস ও অ্যাজমা রোগ রয়েছে-যা করোনা বিপদে ফেলে দিতে পারে। এ অবস্থায় চিকিৎসার পাশাপাশি নেতাকর্মীরা নিজ নিজ ধর্মের রীতিনীতি মেনে তার আরোগ্য কামনায় দোয়া প্রার্থনা করছেন।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের ভালোবাসা ও আস্থার ভরসাস্থল দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। আগে থেকেই তিনি কয়েকটি রোগে ভুগছেন। এখন আবার করোনা পজিটিভ এসেছে। আমরা এ নিয়ে কিছুটা চিন্তায় আছি। তবে এখন পর্যন্ত তিনি ভালো আছেন। তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা চেয়ারপারসনকে যেভাবে দেখেছি তাতে করে কঠিন বিপদেও তিনি মনোবল শক্ত রাখতে পারেন। আমি যতটুকু খোঁজ নিয়েছি এখনো তার মনোবল বেশ শক্ত। আশা করি, এই অবস্থায় সৃষ্টিরকর্তার কৃপায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার অসুস্থতার খবরে নেতাকর্মীসহ দেশের সাধারণ মানুষও তার জন্য প্রার্থনা করছেন। আমি শুনেছি মুসলমান ভাই বোনেরা নফল রোজা রেখেছেন, নামাজও আদায় করছেন। সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রার্থনা ফেলে দিতে পারবেন না বলে আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া : খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, সবাই যেন তার জন্য দোয়া করেন। সবাই যেন সাবধানে থাকেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন।

ফিরোজা ভবনের অন্যরা কেমন আছেন জানতে চাইলে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, সবাই কোভিড পজিটিভ। প্রত্যেককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিকে ১-২ জনের জ্বর ছিল। ওদের এখন জ্বর নেই, সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সবাইকে চিকিৎসা করা হচ্ছে।

অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী আরও বলেন, ম্যাডাম শুধু নিজেরই না, অন্যরা ওষুধ খাচ্ছে কি না সেটাও তদারক করছেন।

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসক টিমের বৈঠকে অনলাইনে আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নেন। এছাড়া লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও ইন্টারনেটে যুক্ত থেকে বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক টিমের সদস্য বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুস শাকুর খান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ডা. মো. আল মামুন ও চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা : কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সোমবার বাদ জোহর রাজধানীর নয়াপল্টন জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।

মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করেন নয়াপল্টন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আমিনুল ইসলাম। এতে অংশ নেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, এমএ মালেক, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, তাইফুল ইসলাম টিপু, মনির হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, হায়দার আলী খান লেলিন, ওমর ফারুক শাফিন প্রমুখ।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে বিকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। করোনা পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রার্থনা অনুষ্ঠানে ছিলেন-গৌতম চক্রবর্তী, সুকৃতি মণ্ডল, অমলেন্দু দাস, রমেশ দত্ত, তরুণ দে, মিল্টন বৈদ্য, জয়দেব জয়, সুবীর বদ্ধন, সন্জয় গুপ্ত, মিন্টু বসু প্রমুখ।

এছাড়া জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ জোহর কুরআন খতম ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ডা. আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. গোলাম মুইনুদ্দিন, ডা. নজরুল ইসলাম, ডা. সাইফুল ইসলাম সেলিম, ডা. ছফিউল্লাহ, ডা. নওরোজ প্রমুখ।#

NO COMMENTS

Leave a Reply