Home খেলাধুলা আম্পায়ারিং ছাড়লেও ক্রিকেট ছাড়েননি রবিউল হক

আম্পায়ারিং ছাড়লেও ক্রিকেট ছাড়েননি রবিউল হক

0 0

চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আম্পায়ার রবিউল হক চৌধুরী অসুস্থতা জনিত কারনে ক্রিকেট ম্যাচ পরিচালনা করা ছাড়লেও বর্তমানে তিনি এক নতুন ইনিংস শুরু করেছেন আর তা হচ্ছে ইংরেজি ধারাভাষ্যকার হিসেবে।

গত ২৪ শে মার্চ দামপাড়া পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ কমিশনার টি ২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২১ ইং এর শুভ উদ্বোধন হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টে রবিউল হক চৌধুরী ইংরেজি ভাষায় ধারাভাষ্যকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

এই ক্রিকেট ম্যাচটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪ টি বিভাগের মধ্যে আয়োজন করা হয়। উক্ত টুর্নামেন্টে রবিউল হক চৌধুরীকে ইংরেজি ধারাভাষ্যকার হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জনাব সালেহ মোহাম্মদ তানভীর পিপিএম।

রবিউল হকের কাছে ধারাভাষ্যকারের অনুভূতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি ক্রিকেটকে ভালবাসি।ভালবাসি আম্পায়ারিং। অসুস্থতা জনিত কারণে আম্পায়ারিং-এ দেখা না গেলেও ইনশাআল্লাহ ক্রিকেট পরিবারের হয়ে থাকবো ধারাভাষ্যকারে।

আইসিসি’র সহযোগী ও সহকারী দেশগুলোর বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ও ম্যাচ পরিচালনা নিয়মিতই করেছেন রবিউল হক। অনুর্ধ-১৯ এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ এবং আরব আমিরাত-আয়ারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া রবি।

জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর পৈত্রিক বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার উত্তর কাট্টলী (মুন্সিপাড়া)। সেখানেই বেড়ে ওঠে রবিউল হক।২০০১ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের চেষ্টা ও ক্রিকেটের প্রতি অগাধ ভালবাসার জন্য চট্টগ্রাম জেলা আম্পায়ার ও স্কোরার এ্যাসোসিয়েশন থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন রবিউল।

কিন্তু সেখান থেকে ভাল অবস্থানে যাওয়ার আগেই ২০০৬ সালে পারিবারিক সচ্ছলতা ফেরাতে কর্মের উদ্দেশ্যে যেতে হয়েছে দুবাই। কিন্তু আম্পায়ারিংয়ের নেশা ত্যাগ না করে প্রবাস জীবনের প্রথম বছরই চাকরির পাশাপাশি আবুধাবী ক্রিকেট ক্লাবে রেজিস্টার্ড আম্পায়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিকে মনোযোগী হন।

আবুধাবীর ক্লাব ক্রিকেটে সফল হওয়ায় ২০০৯ সালের মার্চে এমিরেটস প্রো আর্চ ট্রফিতে আম্পায়ারিংয়ের সুযোগ পান রবিউল। ২৬ বছর বয়সে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ের সুযোগ পেয়ে যান। পরিচালনা করেন সারে, ইয়র্কশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার, সাসেক্স ও এসেক্সের ম্যাচ। কাউন্টিতে দক্ষতা দেখানোয় আরব আমিরাতের আম্পায়ারিং প্যানেলে তাকে যুক্ত করা হয়।

২০১৩ সালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় ওমানে হওয়া লেভেল-২ আম্পায়ার্স কোর্স সফলভাবে শেষ করেন। এরপরই এসিসির ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ লাভ করেন। ২০১৩-১৪ সালের অনুর্ধ-১৯ এশিয়া কাপে আম্পায়ার্স প্যানেলে যুক্ত হন রবি।

২০১৫ সালে এসিসির আঞ্চলিক বাছাই টি২০ কাপে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন আয়ারল্যান্ড এবং আরব আমিরাতের মধ্যকার টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার মধ্য দিয়ে।

এছাড়া গত বছর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত অনুর্ধ-১৯ এশিয়া ও বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচও পরিচালনা করেন রবিউল। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে এবং ২০১৬ সালে ঢাকায় বিসিবির পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া সেমিনারেও অংশগ্রহণ করেন।

আরব আমিরাতের পক্ষে আম্পায়ার এডুকেটর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে ব্যাংককেও পাঠানো হয় তাকে।
তবে শারিরীক প্রতিবন্ধকতায় ক্রিকেট মাঠ পরিচালনায় থাকতে না পারলেও ক্রিকেটের প্রতি প্রেম আর ভালবাসায় থাকে দেখা যাবে ধারাভাষ্যকার হিসেবে।

NO COMMENTS

Leave a Reply