Home জাতীয় মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হ’ল ২৬ মার্চ ২০২১

মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হ’ল ২৬ মার্চ ২০২১

0 0

আয়াজ আহমাদ:

২৬ মার্চ ২০২১ এর বানী। আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস । বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হ’ল আজ । মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমি দেশের সকল নাগরিক এবং প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশের নাগরিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি । বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের দিন ২৬ মার্চ । পরাধীনতার শিকল ভাঙ্গার দিন । স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি , জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ।

যার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি মহান স্বাধীনতা । শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতা , মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ সন্ত্রমহারা মা – বােনকে । সম্মান জানাই যুদ্ধাহত মুক্তিযােদ্ধাসহ সকল মুক্তিযােদ্ধাকে । যারা স্বজন হারিয়েছেন , নির্যাতিত হয়েছেন তাদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা ।

কৃতজ্ঞতা জানাই সকল বন্ধু রাষ্ট্র , সংগঠন ও ব্যক্তির প্রতি , যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন । স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২৬ মার্চ ২০২১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত বাঢ্যি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে । আর ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ সময়কে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববর্ষ হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে ।

করােনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালা উদযাপন করা হবে । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি দীর্ঘ ২৩ বছর পাস্তানি শাসকদের নিপীড়ন এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করে । পাস্তানি শাসকগােষ্ঠি বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের । নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ।

কিন্তু শাসকগােষ্ঠি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাংলার মানুষের উপর নির্যাতন নিপীড়ন শুরু করে । ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ঘােষণা করেন , “

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম ; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম , জয় বাংলা ” । তিনি বাঙালি জাতিকে শত্রুর মােকাবিলা করার নির্দেশ দেন । পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে অতর্কিতে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা করে ।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘােষণা দেন । এই ঘােষণা টেলিগ্রাম , টেলিপ্রিন্টার ও তৎকালীন ইপিআর- এর ওয়ারলেসের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই ঘােষণা প্রচারিত হয় । ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি , সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি , তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী , ন্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে মন্ত্রী করে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে ।

শুরু হয় দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরােধ যুদ্ধ । ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় । স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে আমাদের যা কিছু অর্জন তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং আওয়ামী লীগের হাত ধরেই অর্জিত হয়েছে । মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে তিনি যুদ্ধ – বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করেন । বংসপ্রাপ্ত রাস্তাঘাট , ব্রিজ – কালভার্ট , রেললাইন , পাের্ট সচল করে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করেন ।

১৯৭৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ অতিক্রম করে । ১১৬ টি দেশের স্বীকৃতি ও ২৭ টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ । মাত্র ১০ মাসে তাঁর নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে আমাদের সংবিধান প্রণীত হয় । মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে তিনি স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যান ।

সন্স প্রতিবন্ধকতা মােকাবিলা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন একটি শােষণ – বঞ্চনামুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ‘ সােনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন , ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরােধী অপশক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে তাকে পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করে ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার পর থেমে যায় বাংলাদেশের উন্নয়ন – অগ্রযাত্রা । হত্যা , কু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতির ঘেরাটপে আটকা পড়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি । ঘাতক এবং তাদের দোসররা ইতিহাসের এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করতে জারি করে “ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ।

দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ভােটে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় । আমরা দায়িত্ব নিয়েই বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি ।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রবর্তনের মাধ্যমে গরিব , প্রান্তিক মানুষদের সরকারি ভাতার আওতায় আনা হয় । কৃষি উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি । পানির হিস্যা আদায়ে ১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন করি ।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম শুরু করি । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে । আমরা আজ জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজগুলাে বাস্তবায়ন করছি ।

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ং সম্পূর্ণ । দারিদ্র্যের হার গত ১২ বছরে ৪২.৫ শতাংশ থেকে ২০.৫ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে । মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরােধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে বিশাল এলাকার উপর আমাদের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । বাংলাদেশ – ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনের অবসান হয়েছে ।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি গ্লানিমুক্ত হয়েছে । যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রয়েছে এবং বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে । আমরা ২০২১-২০৪১ মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি এবং ৮ ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি । আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ব – দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ ‘ বাস্তবায়ন শুরু করেছি । বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সুবিধা আজ শহর থেকে প্রান্তিক গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে ।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের সকল গৃহহীনদের ঘর প্রদান কর্মসূচির আওতায় ৮ লক্ষ ৯২ হাজার গৃহহীনকে ঘর প্রদান করা হচ্ছে । ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে । আরও ৫০ হাজার গৃহ নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে । ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত মােট ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৬ পরিবারকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে ।

প্রতিটি গ্রামে শহরের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে । ৯৯ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে । অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে এখন পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকার ২৩ টি প্রণােদনা প্যাকেজ ঘােষণা করেছি , যা মােট জিডিপির ৪.৪৪ শতাংশ । বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠতম অঙনি লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভ ।

এই অর্জনকে অর্থবহ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে , মহান স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করতে হবে । প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌছে দিতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মর্যাদাশীল উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছে ।

এটা আমাদের জন্য এক বিশাল অর্জন । বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বীর বাঙালি মাত্র নয় মাসে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে । আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি , আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত – সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে , ইনশাআল্লাহ । আসুন ,

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা শপথ নিই- মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিরের ক্ষুধা – দারিদ্র্য – নিরক্ষরতামুক্ত স্বপ্নের সােনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবাে ।

‘ জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চিরজীবী হােক ।

NO COMMENTS

Leave a Reply