Home চট্টগ্রাম সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত আইটি খাতে বিনিয়োগের প্রত্যাশা মেয়রের

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত আইটি খাতে বিনিয়োগের প্রত্যাশা মেয়রের

0 0

আয়াজ আহমাদ:চট্টগ্রাম-০৭ মার্চ’২০২১খ্রিঃ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেযর মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সাথে সুইজ্যারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মিসেস নেথালি চুয়ার্ড (ঐ. ঊ. গং ঘধঃযধষর ঈযঁধৎফ ) কর্পোরেশনের টাইগারপাস অফিসের মেয়র দপ্তরে আজ রোববার দুপুরে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। রাষ্ট্রদূত মেয়র দপ্তরে এসে পৌঁছালে সিটি মেয়র তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনার পাশাপাশি ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

সাক্ষাতকালে মেয়র ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের মাঝে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়। আলাপকালে মেয়র রাষ্ট্রদূতকে বলেন, প্রাচ্যের রাণী চট্টগ্রাম নগরীর ভূখন্ড বৈচিত্র্যপূর্ণ পাহাড়, নদী, সমুদ্র ও সমতলের মেলবন্ধনে অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই নগরীর রয়েছে অপার সম্ভাবনা। বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র,

চট্টগ্রাম বন্দর সম্প্রসারণ, কর্ণফুলী নদীতে ট্যানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প, এবং মিরসরাইয়ে চলমান বঙ্গবন্ধু শিল্পাঞ্চল স্থাপনের মধ্যে দিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামে শিল্পায়ন ও বহুমাত্রিক বিদেশি বিনিয়োগের উর্বর ভূমি হিসেবে পরিগণিত হয়ে আশা জাগাচ্ছে স্বর্ণালী আগামীর।

এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শুধু আঞ্চলিক নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জংশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মেয়র এ সময় রাষ্ট্রদূতের নিকট নাগরিক সেবার পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা খাতের সেবা কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমরা নগরবাসীর সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিতে ৬২টি স্কুল,

২৩টি কলেজ,১১টি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট,স্বাস্থ্যখাতে ৫টি মাতৃসদন হাসপাতাল, মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউ, হোমিওপ্যাথিক কলেজসহ ৪১টি ওয়ার্ডে ৫১ টি আরবান প্রাইমারী হেলথ সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে নগরীর ৬০ লাখ অধিবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। যা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দেশের অন্যান্য কর্পোরেশন থেকে অনন্য বৈশিষ্ঠ্যতার পাশাপাশি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

তিনি নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যারা নিরলস ভাবে দিন-রাত কাজ করছেন সেই সেবকদের জন্যও আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান।আলাপকালে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে পর্যটন,স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিশেষভাবে আইটি খাতে সুইজারল্যান্ড সরকারের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন,বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র।

চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে যেকোন ধরনের সুযোগ সুবিধা পেতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতে জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে মেয়র আশা প্রকাশ করেন। তিনি স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ এর ১৩ মার্চ বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ডের স্বীকৃতির কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, আমরা এখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপন করতে যাচ্ছি। আমি আশাবাদী আমাদের এই উৎসবে আপনাদেরও পাশে পাবো।

বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মিসেস নেথালি চুয়ার্ড চট্টগ্রাম নগরীর প্রাকৃকি সৌন্দর্য অবলোকন করে এর ভুয়শী প্রশংসা করেন এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন। তিনি সিটি মেয়রের কাছে নগরীর সুপেয় পানি ও পয়ঃব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা,

কর্পোরেশনের আয়ের উৎস ও ৮মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান। মেয়র রাষ্ট্রদূতের আগ্রহের জবাবে বলেন,বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)’র মাধ্যমে পরিচালিত হয় ।

তিনি নগরীর সুপেয় পানি ও পয়ঃব্যবস্থাপনা প্রকল্প, চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি কর্পোরেশন নিজস্ব তহবিল থেকে একটি মাতৃসদন ও একটি জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও ৪১ টি ওয়ার্ডে ৫১টি আরবান প্রাইমারী হেলথ্ সেন্টারের মাধ্যেমে নগরবাসীকে সেবা প্রদান করছে বলে জানান।

মেয়র বলেন, কর্পোরেশনের নিজস্ব আয়ের প্রধানতম উৎস গৃহকর ও ট্রেড লাইসেন্স । পাশাপাশি সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় দেশের অপর ১২ টি কর্পোরেশনের ন্যায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনেও জাতীয় বাজেট থেকে বিভিন্ন প্রকল্প ও খাতে বরাদ্দ পেয়ে থাকে যা দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তিনি চট্টগ্রামের সিইপিজেডে চায়না, ব্রিটিশ ও ন্যাদারল্যান্ডের এবং আনোয়ারার কেইপিজেডে কোরিয়ান বিনিয়োগ রয়েছে বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রদূত সিটি মেয়রকে সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান।

আলোচানায় রাষ্ট্রদূত নেথালি চুয়ার্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের নতুন এভিনিউ খুজে বের করে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড এর বর্তমান বিনিয়োগ আরো বহুগুণে বৃদ্ধি করা যাবে মর্মে আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ভারপ্রাপ্ত সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম,

প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্নেল সোহেল আহমেদ, মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply