Home অপরাধ কক্সবাজারের উখিয়ায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে দুর্নীতি

কক্সবাজারের উখিয়ায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে দুর্নীতি

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১ ফেব্রুয়ারী।।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় ৭টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। তিনটির নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ৪টির নির্মাণ কাজ শেষের পথে। বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নিয়ে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব আশ্রয় কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ এলজিইডি উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগকালীন সময়ে প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫০০ মানুষ আশ্রয় গ্রহণের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উখিয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগকালীন সময়ে জনগোষ্ঠীর আশ্রয় গ্রহণ ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন করেন বিশ্ব ব্যাংক।

উখিয়া উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্মিতব্য ৭ টি বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ৩ টির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। অপর ৪ টির নির্মাণের অগ্রগতি ৯০ শতাংশ শেষ । ৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র গুলো নির্মাণ করা হয়।
এলজিইডি উখিয়া উপজেলা প্রকৌশল অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের রত্নাপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র, পশ্চিম হলদিয়া পালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র ও সাবেক রুমখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বহুমুখী আশ্রয় কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশস্থ কান্ট্রি ডিরেক্টরের উপস্থিতিতে নতুন নির্মাণকৃত আশ্রয় কেন্দ্র গুলো বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সুত্র মতে , নির্মাণাধীন হলদিয়া পালং ইউনিয়নের মধ্যম হলদিয়া পালং, রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব ভালুকিয়া পালং তুলাতুলি ও করইবুনিয়া এবং রাজাপালং ইউনিয়নের লম্বাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম আশ্রয় কেন্দ্র। বর্তমানে কাজের ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ৭টি বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব আশ্রয় কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার না করে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে যেনতেন ভাবে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। তবে দুর্নীতির অভিযোগ মানতে নারাজ এলজিইডি উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম। তিনি দাবী করেন, নির্মাণ কাজে কোন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি।
সিডিউল অনুসারে উপকরণে গুণগত মান বজায় রেখে নির্মাণ কাজ হচ্ছে। সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়েছে নির্মাণ কাজ। এছাড়াও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি সরজমিন পরিদর্শন করেন।
উখিয়া রত্নাপালং ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চৌধুরী জানান, এই ইউনিয়নে তিনটি বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ বর্তমান সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগকালীন সময়ে গ্রামের মানুষগুলো আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ পাবে। প্রতিটি শেল্টারে তিন শতাধিক গবাদিপশুর রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৭টি বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ কাজে দুর্ণীতির ঘটনা সুষ্টু তদন্ত করা জরুরী।
…………

NO COMMENTS

Leave a Reply