Home চট্টগ্রাম নব-নির্বাচিত চসিক মেয়র এর কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ

নব-নির্বাচিত চসিক মেয়র এর কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ

0 0

বছরব্যাপী করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সুসম্পন্ন হলো চসিক নির্বাচন। ব্যাপক নাগরিক সংকট ও সমস্যা মাথায় নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচিত হলো বিপ্লবী চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্য পরিবারের সন্তান মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী। তাঁকে বিপ্লবী অভিনন্দন জানাই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীর শুরুতে চট্টগ্রাম নগরবাসী পেল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চসিক মেয়র হিসেবে। নাগরিক জীবনের সমস্যাবলীকে সামনে নতুন মেয়রের যাত্রা খুব সুন্দর হবে এটাই প্রত্যাশা।

চট্টগ্রাম মহানগরের মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা, ধারাবাহিক বৃষ্টিতে নগরের রাস্তাঘাট ডুবে যায়। যান চলাচলের বাধা সৃষ্টি হয়। দীঘ দিন যাবৎ বিভিন্ন সংগঠন জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম কর্মকান্ড আজো কাঙ্খীত সুফল নগরবাসী দেখেনি। যদিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সহ নগর উন্নয়নের প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ চলমান।

অন্যদিকে ভাসমান হকারদের উৎপাতে নাগরিক সাধারণ ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে পারে না। নানা শ্রেণির ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে রেখেছে। জনগণের ফুটপাত ফিরিয়ে দিতে হবে। নিবিঘ্নে চলাচলের উদ্যোগ নিতে হবে। দায়িত্বভার গ্রহণের সাথে সাথে কঠোর অবস্থান না নিলে কখনো হকার যুক্ত ফুটপাত জনগণের জন্য উন্মোক্ত করা সম্ভব হবে না। এটা জনগণের মৌলিক দাবী।

অপর দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিভিন্ন সরকারী বেসকারী স্কুল-কলেজগুলোর আশে পাশে বিপুল পরিমাণ পান-সিগারেটের দোকান গড়ে উঠেছে। এতে করে স্কুল কলেজের ছেলেরা নানা প্রকার অখাদ্য-কুখাদ্যসহ মাদকদ্রব্য এইসব দোকানে সহজলভ্য হওয়ায় ছাত্রদের একটি অংশ নেশগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। কাজেই জরুরী ভিত্তিতে স্কুল কলেজের আশে পাশে ভাসমান দোকান সরাতে হবে জরুরী ভিত্তিতে।

নগরবাসীর অপর সমস্য, রাস্তা-ঘাট, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার, সা¤প্রতিক চসিক প্রশাসক মহোদয় অকান্ত পরিশ্রম করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উপর দায়িত্বশীল নজরদারীর কারণে রাস্তাঘাট অনেকটা পরিস্কার হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দায়িত্বে অবহেলা, দায়িত্বে ফাঁকি দেয়ার কারণে এখনও অনেক জায়গায় অপরিচ্ছন্ন থেকে যাচ্ছে। একই সাথে রাস্তায় ট্রাফিক ও ট্রাফিক সিগন্যাল যথাযথ ভাবে চালু রাখার ব্যবস্থা করা জরুরী।

নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, শিক্ষাখাতে আরো বেশি নজরদারী একান্ত প্রয়োজন। সিটি কর্পোরেশনের বিপুল পরিমাণ স্কুল কলেজ আছে। এইসব স্কুল-কলেজের ভর্তি ও বেতন বৃদ্ধির কারণে নগর এলাকায় বসবাসকারী গরীব মেহনতি মানুষের সন্তানরা পড়াশোনার সুযোগ পায় না। বিষয়টি প্রতি সুনজর দিতে হবে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে চট্টগ্রামে মাদকের ব্যবহার বেশী। বার্মা থেকে টেকনাফ হয়ে আসা ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

এই রকম পরিস্থিতি সিটি এলাকার বাকলিয়া সহ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়অবা ব্যবসা-সেবন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথায় কোন অঞ্চলে কিভাবে মাদক ব্যবসা হচ্ছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কমবেশী জানে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে জনসচেতনা বৃদ্ধি ছাড়া এই ভয়াল পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। এই জন্য প্রয়োজন নাগরিক উদ্যোগ। প্রয়োজন নব-নির্বাচিত কমিশনারদের নেতৃত্বে এলাকায় এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী কমিটি করা।

বিভিন্ন বস্তি এলাকায় মাদকের ব্যবহার বেশী। এলাকায় এলাকায় তালিকা করে মাদক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সেবনকর্মীদের সাথে বৈঠক করে মদক উচ্ছেদ করতে হবে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে মাদক সেবনকারী যুবকেরাই ছিনতাই কাজে জড়িত। মাদকের টাকা জোগার করার জন্য প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটে জনসাধারণ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। স্কুল কলেজের ছাত্রদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। উপরোক্ত সমস্যা সমাধানে নাগরিক সংলাপ জরুরী।

চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী ও বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর। বাণিজ্য ও দেশের অর্থনীতির প্রাণ কেন্দ্র হওয়ায় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এই ঘোষণা আলোর মুখ দেখেনি। আজো দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়নি। এই জন্য কোন সরকারের উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। কাজেই আমরা মনে করি চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সমগ্র বাংলাদেশের উন্নয়ন। দেশের উন্নয়নের সিংহভাগ রাজস্ব আদায় হয় চট্টগ্রাম থেকে। অথচ চট্টগ্রাম সার্বিকভাবে অবহেলিত।

বাঙালি জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এই মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় চট্টগ্রাম থেকে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা পত্র প্রচারিত হয় চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে প্রথম প্রতিরোধ করে চট্টগ্রামের বীর জনগণ। সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করতে না দিতে গিয়ে সেখানে ২৩ জনের অধিক শ্রমজীবী মানুষ জীবন দিতে হয়েছে। চট্টগ্রামেই প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। তার ইপিআর বাহিনী নিয়ে এমনি হাজারো উদাহারণ আছে যা চট্টগ্রামবাসীকে গৌরবের আসনে অধিষ্টিত করেছে।

শত শত বছর ধরে চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা স্বাধীনতার জন্য বৃটিশসহ নানা উপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিলেও কাংঙ্খীত স্বদেশ অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম করে পরিশেষে নয় মাসে সশস্ত্র লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বাঙালির বীর সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির জনকের নিদের্শ মোতাবেক অকাতরে জীবন দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এই লড়াইয়ে ৩০ লক্ষ বাঙালি জীবন দিয়েছে।

১ কোটি মানুষ দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। দেশকে শ্বশানে পরিণত করেছিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশী দোসর আলবদর, আলশামস, রাজাকার, মোজাহিদ বাহিনী, মিলিশিয়া বাহিনী, মুসলিম লীগের শান্তি কমিটি। এই বিপ্লবী চট্টগ্রামে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ জীবন দিয়েছে যার স্বাক্ষী শতশত বৈধ্যভূমি, কর্ণফুলী নদী।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনক পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজ লাখো লাখো শহীদের স্মরণে চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ‘নির্মার্ণের দাবী জানাইয়া আসলেও আজো এই দাবী পূরণ করা হয়নি।

দেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি পালনের সময় চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সর্বাগ্রে ‘‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ’’ নির্মাণের জোর দাবী করেছে। আমাদের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী গুরুত্বে সাথে নিয়ে কাজটি করবেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তাঁর দায়িত্ব পালন কালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

নগরবাসীর নানাবিধ সংকট সমাধানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সক্রিয় থাকবেন বীর চট্টলার নতুন মেয়র। নতুন দিনের অপেক্ষায় নগরবাসী। চসিক নির্বাচন কালিন সময়ে মেয়র পদপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী নগরবাসীর কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। নগরবাসীকে আশার আলো দেখিয়েছেন তিনি। যুগোপযোগী নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছেন। আমাদের বিশ্বাস তিনি সফল হবেন শতভাগ।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

NO COMMENTS

Leave a Reply