Home চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মতবিনিয় সভায় রেজাউল সন্ত্রাস মাদক বন্ধ খাল নালা উদ্ধার...

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মতবিনিয় সভায় রেজাউল সন্ত্রাস মাদক বন্ধ খাল নালা উদ্ধার ও পাহাড় রক্ষায় কঠিন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে

0 0

আয়াজ আহমাদ :চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মতবিনিয় সভায় রেজাউল
সন্ত্রাস মাদক বন্ধ খাল নালা উদ্ধার ও পাহাড় রক্ষায় কঠিন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে সমন্বিত প্রচেষ্টার নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চাই

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় নবনির্বাচিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন,
চট্টগ্রাম পরিপূর্ণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নগরী ছিল। আমরা অর্থনীতির স্বার্থে চট্টগ্রামকে ধ্বংস করছি।

মহানগরীর অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে, নগরীর খালগুলো পরিপূর্ণ ভাবে খনন করতে হবে। আমি পুরানো খাল উদ্ধার করবো। দখলবাজ যেই হোক এই বিষয়ে আমি কঠোর অবস্থানে থাকবো।

ছোট বেলায় জিইসি মোড় এলাকা গেলে পাহাড়ের সারি দেখতাম। নগরীর উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনার কারণে পাহাড় ধ্বংস করা হয়েছে। এখন জিইসি মোড় পার হলেই সমুদ্র দেখা যায়।

নগরীকে জলাবন্ধতা মুক্ত করতে হলে অতীতে যে প্রাকৃতিক জলাধার ছিল তা আবার সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষজ্ঞের মতামত ও ফিজিবেলিটি স্টাডি করে জলাধার সৃষ্টি করার চেষ্টা করবো।

আমি জননেত্রি শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ। গত ২৭ জানুযারি শেখ হাসিনার উন্নয়নে আস্থা রেখে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি সেই আস্থার প্রতিদান দিব।

সভায় নবনির্বাচিত মেয়র চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কাছে সিটি কর্পোরেশনের যে পাওনা রয়েছে তা সমন্বয়ের চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রতি দেন।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ক্লাব সভাপতি আলহাজ¦ আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চলনায় এতে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, সিনিয়র সহ সভাপতি সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, প্রাক্তন সভাপতি কলিম সরোয়ার, সিইউজে সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইলসাম, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম প্রমুখ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, চন্দন ধর, নবনির্বাচিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ হোসেন, নিলু নাগ, হুরে আরা বিউটি, তসলিমা নুরজাহান রুবি, আনজুমান আরা, রুমকি সেন গুপ্ত, শাহীন আকতার রোজি প্রমুখ।

মত বিনিময় সভায়, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি স.ম. ইব্রাহিম, অর্থ সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, গ্রন্থাগার সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলীউর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, মোয়াজ্জেমুল হক, দেবদুলাল ভৌমিক, মঞ্জুর কাদে মঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, দেবপ্রসাদ দাশ দেবু, জসিম চৌধুরী সবুজ, মোস্তাক আহমেদ, শামশুল হক হায়দারী, নির্মল চন্দ্র দাশ, আসিফ সিরাজসহ বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

রেজাউল করিম আরো বলেন,
আমি দীর্ঘ দিন রাজনীতি করে আসছি। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করেছি।
চিরজীবন কল্যানের রাজনীতি করেছি। লোভ লালসা ছিলনা। মেয়রের চেয়ারে বসেও তার ব্যাতিক্রম হবেনা।
সব সমস্যা সমাধান একসাথে সম্ভব নয়।
তবে আমি নতুন ধারার প্রবর্তন করবো। সাংবাদিক সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবি প্রকৌশলী ডাক্তার সবাইকে একটি পরামর্শক কমিটি করা হবে। সকলের পরামর্শে এবং নগরবাসির কল্যাণে যা প্রযোজ্য হবে তাই গ্রহন করবো।

তিনি বলেন, নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি চট্টগ্রাম। আমাদের অবহেলায় ধ্বংস হয়েছে চট্টগ্রাম। নগর রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার আমার সবার। প্রত্যেকের মতামত গ্রহন করে পরিকল্পিত মহানগর গড়ে তোলার জন্য কাজ করবো। অন্যতায় যে চট্টগ্রাম সেই চট্টগ্রাম থেকেই যাবে।
চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবা অবহেলিত। করোনার শুরুতে চট্টগ্রামে একটাও হাইফ্লোনেজল ক্যানোলা ছিলনা। আমি সরেজমিনে করোনার সেবা করতে গিয়ে দেখেছি মানুষ কতো অসহায়।

আমি চসিক থেকে ভ্রাম্যমান চিকিৎসা সেবা চালু করে ভাসমান মানুষের সেবা করার ব্যবস্থা করবো। তারাও এই শহরের নাগরিক। তাদের দেখার কেউ নাই।
আমি অতীতে সন্ত্রাসকে প্রচয় দেয়নি। এখনো দিব না।
মাদক বয়বসায়ী ইয়াবা ব্যবসায়ী যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। এই কাজে সমাজের মহল্লা কমিটিকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি তাদের নিরাপত্তা দিব।

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে চট্টগ্রামে অনেক খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান ছিল। এখন সবখানে ভবন। খেলার মাঠ নাই। চসিক থেকে সরকারি খালি স্থানে মাঠ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবো।তিনি বলেন, মহানগরীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে সাংস্কৃতিক মঞ্চ করতে হবে।

আগে শীতকালে পাড়ায় পাড়ায় নাটক কবিগান হতো।পাড়ার যুবসমাজ এতে যুক্ত ছিল বলেই অপরাধ কম হতো। আমি পরিত্যক্ত সরকারি জায়গায় শিশুদের খেলার মাঠ করবো। কিশোর গ্যাংকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তাদের সৃজনশীলতার বিকাশে মুক্তমঞ্চ করতে চাই, সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ তৈরি করতে চাই।
সব কাজ আমি রেজাউল করিম একা পারবো না। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কেউ ডাকলে আমি সাথে থাকবো

বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামকে ভাল বাসতো বলেই ছয় দফা ঘোষণা করেছেন।ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন নিয়ে আমরা গর্ব করি, তাদের জন্য কী করেছি। ব্যারিস্টার নওফেল ছয় দফার স্মৃতিবিজড়িত লালদীঘিকে সাজিয়েছেন। এভাবে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংরক্ষণ করতে হবে।

আমি মেয়রের চেয়ারে বসবো বলে সব দায়িত্ব আমার নয়। আমি সব জান্তা নই। সবার প্রচেষৃটায় সম্মেলিত ভাবে কাজ করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। বর্জ্য থেকে সার, বিদ্যুৎ হচ্ছে। আমি সূচনা করে যেতে পারি, যা পরের প্রজন্ম এগিয়ে নেবে।

চট্টগ্রাম বাসির প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে ভুল হলে দেখিয়ে দিবেন। শুধু সমালোচনা নয় তার সমাধান ও বলতে হবে।

সমন্বয় সভায় প্রতিনিধি পাঠিয়ে দায় সারলে হবেনা। জবানদিহি করতে পারে এমন লোক পাঠাতে হবে,
সব সমন্বয়ের জন্য মেয়রের কতৃত্ব থাকতে হবে।
তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন এমন কোন নিউজ করবেন না যাতে শহরবাসী বিব্রত হয়।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে জননেত্রী শেখ হাসিনা ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দিয়েছেন। অনেক প্রভাবশালী খাল দখল করেছেন। আমি শতভাগ দায়িত্ব পালন করবো নিরপেক্ষভাবে। আমি সবজান্তা নই, সবার পরামর্শ চাই। সম্মিলিত সিদ্ধান্তে ভুল হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমি মেয়র হওয়া বড় কথা নয়, জনপ্রত্যাশা পূরণে সবার সহযোগিতা দরকার। ভুল হলে সাংবাদিকদের দেখিয়ে দিতে হবে। সমালোচনা অবশ্যই করবেন। পাশাপাশি সঠিক প্রতিকারও তুলে ধরতে হবে। আমরা সুন্দরভাবে শহরকে সাজাতে চাই।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেল সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, চসিক স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। গণমাধ্যমের সংবাদে প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা হওয়া উচিৎ, ব্যক্তির নয়। প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা মানে মেয়রের সমালোচনা নয়। সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন সৎ সাহস নিয়ে। অন্যতায় প্রতিষ্ঠান নির্জীব হয়ে যাবে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ দেখি। এতে কাজের সুবিধা হয়। আমরা গ্রামগঞ্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক খবর পাই সংবাদপত্রে। তা মার্ক করে দি সমস্যা সমাধানের জন্য। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে আমাদের মধ্যে। সমন্বয় ছোট্ট শব্দ, বাস্তবায়ন বড় কঠিন।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ¦ আলী আব্বাস বলেন, অতীতের সকল চসিক মেয়র চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। নতুন নির্বাচিত মেয়রও সেই ধারা অব্যাহত রাখবেন। তিনি বলেন, অতীতের মেয়র আজম নাসির উদ্দিন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু সংগত কারণে তারা এখন পিছিয়ে পড়েছেন। আপনার কাজের মাধ্যমে নগরবাসী আপনাকে মনে রাখবে।

এই সময় রেজাউল করিম, সাংবাদিকদের কল্যানে সর্বাত্বক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রæতি দেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply