Home চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : কর্মশালায় কক্সবাজার জেলা জজ মোহ...

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : কর্মশালায় কক্সবাজার জেলা জজ মোহ ইসমাইল

0 0

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ২৯ জানুয়ারী।।

বন্যজীবন অপরাধের রিপোর্টিং সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায়

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে রিপোর্টিং সম্পর্কিত কক্সবাজারে সাংবাদিকদের এক কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বন্যপ্রাণী ব্যবসা বিশ্ব বাজারে একটি বড় কালোবাজার। বন্যপ্রাণী ধরা, খাওয়া, বেচা বিক্রি ও পাচার সংকটে এবং অস্থিত্ব হারাচ্ছে দুই শতাধিক বন্যপ্রাণী। এতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে পরিবেশ। তাই বন্যপ্রাণী শিকার, খাওয়া ও পাচার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
২৯ জানুয়ারী দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় কক্সবাজার শহরের তারাকা হোটেল লংবীচের সম্মেলন কক্ষে। এতে সভাপতিত্ব করেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বন সংরক্ষক আব্দুল আওয়াল সরকার। ওয়েসিস বা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সোসাইটি সাংবাদিকদের এই কর্মশালার আয়োজন করেন।কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈল।
তিনি বলেন, জীব বৈচিত্র মহান আল্লাহর এক অনন্য সৃষ্টি।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ এই বিশ্ব অর্থহীনভাবে সৃষ্টি করেননি।
জীবিকার তাগিদে কিছু মানুষ বন উজাড় করলেও ক্ষমতার ছত্রছায়ায় অনেকেই বন কেটে উজাড় করার প্রমাণ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার কারণেও অনেক বড় বন এবং পাহাড় উজাড় হয়েছে। এতে করে বন ও বন্যপ্রাণী সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
আমরা বন সংরক্ষণ করতে পারলে বন্যপ্রাণী রক্ষা করাও সহজ হবে।
তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে বন বিভাগ, সাংবাদিক, বিচার বিভাগ ও পুলিশসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা জানি চীনে এবং আমেরিকার আমাজনে বন ধ্বংসের কারণে অনেক সমস্যা হয়েছে। ব্রাজিলের লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছেন।
আল্লাহ কিছু প্রাণী খাওয়া নিষেধ করেছেন এতে অনেক যুক্তি ও উপকার রয়েছে। তিনি এগুলো সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের আহ্বান জানান।
জেলা জজ আরো বলেন, প্রতি বছর সারা বিশ্বে ২০০ কোটি মানুষ পশু পাখির গোস্ত খাওয়া থেকে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। করোনা পরিস্থিতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় পশু পাখির গোস্ত খাওয়া অন্যায়।
তিনি বলেন, ওয়েসিস এর গবেষণায় প্রমানিত বিশ্ববাজারে বন্যপ্রাণীর ব্যবসা বিস্তৃত। বিশেষ করে হাঙ্গর ও শাপলা পাতা মাছের চাহিদা বেশী রয়েছে।
তিনি বলেন, দেখা গেছে ২০১২-২০১৬ সাল পর্যন্ত এব্যাপারে ২০ ভাগেরও কম মামলা হয়েছে। যা হয়েছে সেগুলোও ঝুলে আছে। এব্যাপারে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন সংরক্ষক আব্দুল আওয়াল সরকার বলেন, ১০৫০টিরও বেশী প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে। এর দুই শতাধিক খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় প্রথম বন্য প্রাণী আইন হলেও ২০১২ সালে তার সংশোধিত আইন হয়। তিনি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে মন্তব্য করেন।
কর্মাশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেসক্লাব সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারে হাতি, সুন্দর বনে বাঘ ও সোনাদিয়ায় পাখি হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে সাংবাদিকদেরও ভূমিকা রয়েছে।
জাতীয় বন্যজীবন অপরাধ আইন এবং আদেশ সম্পর্কে সম্যক তথ্য উপস্থাপন করেন
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো.তৌহিদুল ইসলাম,
ওয়াইল্ড লাইফ ট্রেড (ডাব্লুসিএস, বাংলাদেশ) এর সমন্বয়কারী সামিউল মুহসানিন, তারিকুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম।
প্রশিক্ষণ কর্মশালা যৌথ ভাবে আয়োজন করেন, বাংলাদেশ বন বিভাগ (বিএফডি), বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সমিতি (ডাব্লুসিএস), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ব্যুরো অধীনে অবৈধ বন্যজীবন পাচার প্রতিরোধ করতে আন্তর্জাতিক মাদক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (আইএনএল)।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশ গ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন অতিথির।

NO COMMENTS

Leave a Reply