Home চট্টগ্রাম কলাতলি আদর্শগ্রামে সিআইপি ইদ্রিসের নির্মিতব্য বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নকশা বাতিলে তদন্ত কমিটি...

কলাতলি আদর্শগ্রামে সিআইপি ইদ্রিসের নির্মিতব্য বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নকশা বাতিলে তদন্ত কমিটি গঠন

0 0

কক্সবাজার প্রতিনিধি।ভুঁয়া তথ্য দিয়ে সরকারী খাস খতিয়ানের জমির উপর
কলাতলি আর্দশগ্রাম বাইপাস সড়কে সিআইপি ইদ্রিসের নির্মিতব্য বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা বাতিলে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কউক। গত ৩ জানুয়ারী রবিবার কউকের এক সভায় এই তথ্য কমিটি গঠন করার সত্যতা নিশ্চিত করেছে কউক চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল ফোরকান আহমেদ।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ ব্যয় নির্বাহে কক্সবাজারের কয়েকটি ব্যাংক থেকে মোটা অংকের লোনও নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগে জানা গেছে, রামু উপজেলার গর্জনিয়া এলাকার সুলতান আহামদের ছেলে বর্তমানে সৈকতপাড়ার বাসিন্দা মো.ইদ্রিস সিআইপি কক্সবাজার ঝিলংজা মৌজার আরএস ৮০০১ দাগের জমিকে ৮০০৪ দাগের জমি দেখিয়ে আর্দশ গ্রাম কলাতলি বাইপাস সড়কের লাগোয়া স্থানে বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণে তথ্য গোপন করে কউক থেকে কৌশলে নকশা অনুমোদন নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। শুরু থেকে সেখানে ব্যাপক হারে পাহাড়ও কাটা হয়।

৮০০১ দাগে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ও বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০০৬ সালে একটি রিট করেন। কিন্তু সেই রীটকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান কথিত ইদ্রিস সিআইপি।
সুত্রে আরো জানা যায়, সরকারী খাস খতিয়ানের জমির উপর বহুতল ভবন নির্মাণ করতে প্রথম দফায় ৮ম তলা ভবন নির্মাণের জন্য কউক থেকে নকশা অনুমোদন নেন। পরে কৌশলে ১২ তলা ভবন নির্মাণের নকশার অনুমতি হাতিয়ে নেয়। এদিকে, কউক থেকে অনুমোদিত ভবন নির্মাণের স্থানটি ভিন্ন স্থানে আরএস ৮০০৪ দাগে হলেও সেটি কলাতলি আদর্শ গ্রামে বাইপাক সড়কে সরকারী খাস খতিয়ানের ৮০০১ দাগের বহুতল ভবন নির্মাণে অভিযোগ পায় কউক। অনুমোদিত নকশা বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করে সভায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কউক।

অভিযোগে আরো প্রকাশ,
কক্সবাজার কলাতলী বাইপাস এলাকায় বন বিভাগের ঝিলংজা মৌজার আর এস ৮০০১ দাগের ৬৪৭ খতিয়ানভুক্ত ৫১ একর পাহাড়টি যা বর্তমানে একই মৌজার অধীনে বি এস দাগ নং-২০১৬৩ নামে সরকারী ১নং খতিয়ানে তালিকাভুক্ত আছে ।কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় গড়ে উঠছে জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের আবাসন প্রকল্প। এরই মধ্যে দেড়শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

ঝিলংজা মৌজার মোট ১২৪ দশমিক ৩৫ একর রক্ষিত বন ও ঘোষিত পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা থেকে ৫১ একর বনভূমিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০০৬ সালে একটি রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানির পর ২০১১ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট রায় দেন। আদালত সেখানকার পাহাড় বা পাহাড়ের কোনো অংশ না কাটতে, রক্ষিত বন এলাকায় কোনোরকম প্লট বরাদ্দ না দিতে ও বন ধ্বংস না করতে নির্দেশ দেন।

এর পরও সেখানে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় বেলা ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করে। হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি গত ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সব বিবাদীকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়। এর আগেও লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু জবাব না দেওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ৫১ একর জমি বন বিভাগের। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে সেখানে স্থাপনা নির্মাণে রয়েছে আদালতের নিষেধাজ্ঞা। তারপরও সেখানে গড়ে উঠছে জেলা কালেক্টরেট কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের আবাসন প্রকল্প। এরই মধ্যে দেড়শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা মৌজার ওই ৫১ একর জমি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা।

২০১১ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট এক রায়ে ওই জায়গা বিদ্যমান সকল স্থাপনা এক মাসের মধ্যে অবসারণে রায় দেন। এই রায় বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় সেটা তারা করেনি। উল্টো সেখানে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আবাসন প্রকল্প নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান। কিন্ত উচ্চ আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝিলংজা মৌজার আর এস ৮০০১ দাগের ৬৪৭ খতিয়ানভুক্ত ৫১ একর পাহাড়টি যা বর্তমানে একই মৌজার অধীনে বি এস দাগ নং-২০১৬৩ নামে সরকারী ১নং খতিয়ানে তালিকাভুক্ত জমিতে বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখায় জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ কউক চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ফোরকান আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মো.ইদ্রিসের রিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন কারা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে অনুমোদিত নকশা বাতিল করা হবে।
প্রসংগত, পিবিআই অফিস নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ নিয়ে কোটি কোটি টাকা লোটপাট, ভূমিদস্যুতা,

জাল জালিয়াতিসহ অারো বিভিন্ন বিতর্কিত কর্ম কান্ডের অভিযোগ রয়েছে এই সিআইপি ইদ্রিসের বিরুদ্ধে।
এব্যাপারে বক্তব্য জানতে মো. ইদ্রিস সিআইপির মোবাইলে একাধিক বার রিং করার পরেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

NO COMMENTS

Leave a Reply