Home চট্টগ্রাম থার্টি-ফাস্ট নাইটে চালকদেরকে রাতভর ফুলেল শুভেচ্ছা এএসপি’র

থার্টি-ফাস্ট নাইটে চালকদেরকে রাতভর ফুলেল শুভেচ্ছা এএসপি’র

0 0

চট্টগ্রামে থার্টি-ফাস্ট নাইটে নৈশ কোচ এবং রাত্রিকালীন চলাচলকারী অন্যান্য যান চালকদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাহাড়তলী এলাকায় রাতব্যাপী এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে দেখা যায়- পাহাড়তলী বাজার সংলগ্ন চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর পুলিশের উদ্যোগে স্থাপিত অস্থায়ী বিশ্রামাগার ‘রিফ্রেশমেন্ট পয়েন্ট’ এ আপ্যায়নের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পাশাপাশি নানা প্রজাতির ফুল নিয়ে বসে আছেন পুলিশ সদস্যরা।

সেখানে একেকটি গাড়ি আসামাত্র এর চালক সহকারীদেরকে নামিয়ে রিফ্রেশমেন্ট পয়েন্টে হাতমুখ ধোয়া এবং প্রয়োজনীয় আপ্যায়ন ও সতর্কভাবে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়ার পর বিদায়ের মুহূর্তে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদাসহ নানা প্রজাতির ফুল। কোনকোন ক্ষেত্রে গাড়িতেই ফুলগুলো চালকের হাতে তুলে দিচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা।

এভাবেই চালকদেরকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলো পুলিশ। চালকদেরকেও উৎসাহের সাথেই রিফ্রেশমেন্ট পয়েন্টের আপ্যায়ন এবং পুলিশের দেওয়া ফুল গ্রহণ করতে দেখা যায়।

এ প্রসঙ্গে ট্রাক চালক আব্দুল কাদের বলেন, বগুড়া থেকে এসেছি। বাড়িতে থাকলে হয়তো পরিবার পরিজনদেরকে সাথে নিয়ে নতুন বছর পালন করতাম। ছেলেসন্তানদেরকে নিয়া কিছু ভালমন্দ খাওয়াদাওয়া করতাম। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে ফুল পেয়ে আমার সব দুঃখ দূর হয়ে গেছে। আমার খুব ভাল লাগছে।

সিলেট থেকে পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ে আসা চালক সুমন হোসেন বলেন, পুলিশ যে আমাদেরকে নতুন বছরের ফুল দিবে, এটা কোনদিনও ভাবি নাই। আমরা রাস্তায় গাড়ি চালাই, পুলিশও রাস্তায় ডিউটি করে। উনারা আমাদেরকে চা-বিস্কুট খাওয়াইছে। খুব হাসিমুখে আমাদের সাথে কথা বলেছে। আমরা খুব খুশি।

এসময় অনেক যাত্রী/চালকের সহকারীদেরকেও পুলিশের কাছ থেকে ফুল চেয়ে নিতে দেখা যায়। পুলিশ সদস্যরাও না করছিলেন না কাউকেই। হাসিমুখে প্রায় সবার হাতেই ফুল তুলে দিচ্ছিলেন তারা।

এ প্রসঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপার রাঙ্গুনিয়া রাউজান সার্কেল মো আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে ভয়ের বদলে আস্থার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশের যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, সেটিকে ত্বরান্বিত করতেই এই উদ্যোগ।

পারিবারিক পরিমণ্ডলে সবাই যার যার মতো করে নিউ ইয়ার উদযাপন করলেও দূরদূরান্তে চলাচলকারী এসব চালকদের সেই সুযোগ নেই।

তাই তাদের কাছে নিউ ইয়ারের সামান্য আমেজ পৌঁছে দেওয়াও আমাদের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য

NO COMMENTS

Leave a Reply