Home চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে কেডিএস গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ...

প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে কেডিএস গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের।

0 0

আমার একজন উচ্চ শিক্ষিত নিরাপরাদ সন্তান একটি শিল্প গ্রুপের আক্রোশে পরে গত এক বছর যাবত বিনা বিচারে জেলে আছে।

আমার সন্তানের নাম মুনির হোসেন খান,সে আমেরিকান পাসপোর্টধারী একজন নাগরিক। তার দাদা মুসলিম খান, কলকাতা আলীগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গ্র্যাজুয়েট। আমি মোয়াজ্জেম হোসেন খান ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের তৃতীয় ব্যাচের ছাত্র এবং চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র।

আমি ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন খান হিসাবে সুপরিচিত। আমার ছেলে মুনির হোসেন চট্টগ্রামের সেন্ট প্লাসিডস স্কুলের ছাত্র। পরবর্তীতে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে ব্যাংক অব আমেরিকা ফ্লোরিডায় সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে ২০০৬ সাল পযন্ত  চাকুরি করে।

২০০৭ সালে মুনির হোসেন তার স্কুল বন্ধু কেডিএস গ্রুপের কেওয়াই স্টিলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান এর অনুরোধে দেশে এসে কেওয়াই স্টিল মিলের নির্বাহী পরিচালক হিসাবে যোগদান করে।

অল্প সময়ে কোম্পানির এই উন্নতি মুনির হোসেন খানকে নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে পেইড ডাইরেক্টর করা হয়। এরপর তার রক্ত-ঘাম-মেধায় এই প্রতিষ্ঠান দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় টিন উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানে (মুরগি মার্কা ঢেউটিন) পরিণত হয়।

আজ সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের একটি হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান মনিরের পিতা।
তিনি আরো জানান, ২০০৭ সালে মুনির কেডিএস গ্রুপের এই কোম্পানিতে যোগ দেন তখন এর মূলধন ছিল অল্প কোটি টাকা।

২০১৮ সালে তা বিশাল অঙ্কে দাঁড়ায়। কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার মুনির হোসেনের সাফল্যের কথা স্টিল জগতে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

বন্ধুর অনুরোধে আমেরিকার মত উন্নত দেশের জীবন-যাপন এবং উন্নতদেশে সন্তানদের লেখাপড়া এবং সন্তান-সন্ততীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এর কথা না ভেবে বাংলাদেশে এসে তার আজকের এই পরিণতি।

তার দুই সন্তান এবং স্ত্রী আজ অমানবিক জীবনযানপন করছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
জেলখানায় বোর্ড মিটিং, এক ঘন্টা ধরে মারধর: কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে ইয়াসিন রহমান টিটু উত্তরাধিকারসূত্রে কেওয়াই স্টিলের একজন মালিক।

বর্তমানে তিনি জেলবন্দি থাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরেই নিয়মিত কেওয়াই স্টিলের ব্যবসায়ীক নীতি-নির্ধারণী সভা করেন। ঠিক পূর্বের ন্যায় ১১ এপ্রিল ২০১৮ সালে বিকালে প্রতিষ্ঠানের একাউন্টস ইনচার্জ ইমরান হোসেন এবং জিএম আবদুল কালামসহ ১০ কর্মকর্তা সহকারে কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে বোর্ড মিটিং।

মিটিংটি বসে জেল সুপারের কক্ষের পাশে কনফারেন্স রুমে। সেসময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে  বাক-বিতণ্ডের এক পর্যায়ে অন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সামনে টিটু প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে মারধর করেন মুনিরকে।

এসময় মুনিরকে কিল, ঘুষি, লাথি ও চরমভাবে পেটান টিটু। টিটু মারধর করার সময় মুনিরকে হুমকি দিয়েছে, “তুই যদি কেডিএস গ্রুপের আশপাশে যাশ, তুই এবং তোর সন্তানকে শেষ করে দেব।” বাইরে এসে কোন ধরনের আইনী পদক্ষেপ বা কাউকে না জানানোর হুশিয়ারি দেয়।

কেডিএস এর মত বড় কোম্পানির ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে ভয়ে আমার ছেলে আর কোন প্রতিবাদ করেনি। তবে বিষয়টি উল্লেখ করে তার স্কুল বন্ধু সেলিম রহমানকে ২০১৮ সালের ১০ মে একটি ইমেইল করে। মেইলে সে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানতে চায়। তার সাথে দেখা করতে চায়। কিন্তু কোন উত্তর পায়নি। সেলিম রহমান এবং খলিলুর রহমানের সাথে বার বার দেখা করার অনুরোধ জানালেও তারা দেখা দিতে রাজি হননি।

মেইলে আমার সন্তান তাদেরকে আরো জানিয়েছেন, “তিনি স্বজ্ঞানে কখনো কোম্পানির স্বার্থবিরোধী কোন কাজ করেনি এবং কাউকে করতেও বলেনি।” কিন্তু তারা তার সাথে কোন ধরনের কথা বলতেও রাজি হয়নি।

চিঠিতে মুনির হোসেন আরো উল্লেখ করে, সেলিম রহমানের নির্দেশেই ২০১৮ সালের ২০ জুন পদত্যাগপত্র মেইল, রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠান এবং ফোন করে দেখা করার চেষ্টা করেন। ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর আরো একটি মেইল দেন।

ওই মেইলেও তাদের সাথে দেখা করার আবেদন করেন। এবং তার সমস্ত পাওনা, বকেয়া বেতনের জন্য আবেদন করেন। বার বার ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তারা কোন সাড়া দেননি।

এক বছরে ২৬ মামলা: ২০১৮ সালের জুন থেকে কেডিএস গ্রুপ চাকুরি ছেড়ে দেয়ার পর প্রায় দেড় বছর বেকার থাকে মুনির। এসময় তার বকেয়া পাওনা এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কোম্পানির সাথে দেখা করতে চেয়েও দেখা পাননি।

এদিকে পরিবার নিয়ে কষ্টে পড়ে যান। ইতোমধ্যে সবাই তাকে আমেরিকায় চলে গিয়ে সেখানে স্থায়ী হওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু মুনির নিজের আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে অন্যত্র যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৯ সালে মুনির হোসেন আর একটি কোম্পানি এ্যাপোলো স্টিল এর পরামর্শক হিসাবে যোগদান করে।

কোম্পানিটি পরবর্তীতে মুনিরের নেতৃত্বে কেওয়াই স্টিলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠে। এতে তারা আরো ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। এই কোম্পানি ছেড়ে দেয়ার জন্য নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। তাতে ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশকে ব্যবহার করা শুরু করে কেডিএস গ্রুপ।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানায় একটি গাড়ি চুরির মামলা দেয়। মামলায় যেসময়টা উল্লেখ করা হয়েছে সেসময় মুনির ঢাকায় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ছিলেন। ওইসময়ের সিসিটিভি ফুটেজ স্কুল থেকে সংগ্রহ করে আদালতে জমা দেয়া হয়।

কিন্তু এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই মামলায় জামিনের জন্য উপস্থিত হলে তারা আরো দুইটি ফৌজদারি মামলা দিয়ে তাকে জেলে প্রেরণ করে। সেই থেকে মুনির জেলে আছে।

তার একটি মামলায় জামিন হলে তার আগেই আরেকটি মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। গাড়ি চুরি মামলায় বায়েজিদ থানা পুলিশ তাকে তিনবার রিমান্ডেও আনে।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় ৫ টি, ঢাকার গুলশান
থানায় একটি এবং চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানের কোর্টে ১৯ মামলা করে কেডিএস গ্রুপ।

মামলার মধ্যে সে এখন ১৯ টিতে জামিনে আছে। বায়েজিদ থানার গাড়ি চুরির মামলা ছাড়া বাকি সব মামলা প্রায় একই রকম অভিযোগ-প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের কথা আনা হয়েছে। আমার সন্তান মুনিরকে হয়রানি করার বিষয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ¯’ আমেরিকান দুতাবাস তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে পত্র দিয়েছে।

মামলায় তার বিরুদ্ধে ফ্যাক্টরির জন্য কাঁচামাল আমদানির সময় রপ্তানিকারক থেকে কমিশন নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মুনিরকে ওইসব কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে একটি কাল্পনিক চুক্তিও তারা আদালতে উপস্থাপন করছে। কিন্তু মুনিরের পিতা হিসেবে আমি ওইসব কোম্পানিতে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি মুনির তাদের কোন এজেন্ট নয়।

তারা যে চুক্তিপত্র দেখাচ্ছে তা ভূয়া। এসংক্রান্ত চিঠিও বিদেশের ওইসব কোম্পানি আমার কাছে পাঠিয়েছে।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, আমি চট্টগ্রাম বন্দরের একজন সাবেক কর্মকর্তা এবং একজন ক্যাপ্টেন। বন্দর থেকে অবসর নিয়ে আমি আমার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাই।

আমি আমার ছোট ছেলেকে নিয়ে আমার ব্যবসা পরিচালনা করি। মুনির স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় এবং উচ্চ  বেতনে চাকুরি করায় তাকে আমি আমার ব্যবসায় সম্পৃক্ত করিনি এবং তার কাছ থেকে কোনদিন একটা টাকাও নিইনি। কারণ তার কাছ থেকে টাকা নেয়ার প্রয়োজন আমার হয়নি।

অথচ কেডিএস গ্রুপ হয়রানিমূলকভাবে আমার ছেলের বিরুদ্ধে যেসব মামলা করছে, সেসব মামলায় আমাকে এবং আমার ছোট ছেলের নামও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুক্ত করে দিয়েছে। তারা মামলায় বলছে আমার ছেলে সিআই কয়েল (ঢেউটিনের কাঁচামাল) আমদানির সময় কমিশন নিয়েছে।

মামলায় একই ধরনের অভিযোগ আমি এবং আমার ছোট সন্তানের বিরুদ্ধেও আনা হয়েছে । অথচ কেডিএস এর সাথে আমাদের কোন ধরনের সম্পর্ক নেই। এতেই বুঝা যায়, মামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক।

কেডিএস এর টাকা আছে। তারা টাকার বিনিময়ে প্রশসানের একটি অংশকে ব্যবহার করে আমাদেরকে হয়রানি করছে। আমাদের পুরো পরিবার আজ বড় অসহায়।

আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি । আপনি হস্তক্ষেপ করে এই অসহায় পরিবারকে রক্ষা করুন।

NO COMMENTS

Leave a Reply