Home চট্টগ্রাম টাকায় মেলে ফুলছড়ি বনের মালিকানা! : বনবিভাগ নিরব

টাকায় মেলে ফুলছড়ি বনের মালিকানা! : বনবিভাগ নিরব

0 0

চকরিয়া প্রতিনিধি।টাকায় নাকি বাঘের দুধও মিলে। বাঘের দুধ নয়, তবে বনভূমির মালিকানা ঠিকই মেলে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি বনবিটের ২০১৭-১৮ সালে সৃজিত বনায়নে। প্লট আকারে বিক্রির কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ খোদ যুবলীগের রাজনৈতিক পরিচয়ে বেশ কিছু নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে।

এখানে ১২০ একরের বেশি বনভূমি বেদখল হয়েছে এরই মধ্যেই। কয়েক কোটি টাকা চারাগাছ কেটে ধ্বংস করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে কাচা ঘরবাড়ি। বনবিভাগ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দায় সেরেছেন। তবে বনবিভাগ এখন রহস্যজনক ভাবে নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে।স্থানীয়রা বলছেন, এখনই লাগাম না ধরলে পরিস্থিতি হতে পারে আরো ভয়াবহ।

ফুলছড়ি রেজ্ঞাধীন চকরিয়া ফুলছড়ি বনবিটের অধীনে হাজার হাজার একর বন ভূমির মালিক ছিল বনবিভাগ। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় শত একরে। গত কয়েক বছর আগের স্যাটেলাইট ফুটেজের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করলেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বন দখলে অনুসরণ করা হয়েছে তিনটি পদ্ধতি। ধীরে ধীরে গাছ কেটে বন উজাড়, রাতারাতি পলিথিন কিংবা বাশের বেড়া দিয়ে তুলে সরাসরি দখল এবং বন কর্মকর্তাদের হাত করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বেদখল।

তবে ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারিয়া বলেন, বনভুমি দখলদার ইসলামপুরের ওসমান আলী মুরশেদ পীং ছগির আহমদ সাবেক মেম্বার,আবছার পীং ইউছুপ আলী,দেলোয়ার হোসেন মনিয়া,পীং- আবু তাহের,সাং- জুমনগর, আবুল কালাম কালা সোনা, পীং-সীরাজ দৌল্লা,ইউনুচ প্রকাশ পুরাইয়া, পীং মৃত ইউছুপ আলী, জয়নাল উদ্দীন, পিতা- আবদুল মাবুদ মাঝি,
সাইফুল পীং- সিদ্দিক আহমদ, কামরুল ইসলাম সবুজ পীং- সোলতান আহমদ,

ওমর ফারক ভুট্টো, মনজুর আলম প্রকাশ কালা মনজুর, পী-মনুর আলম মনু, আনোয়ার, পীং-মৃত ওয়াজ কবির, ফরিদ আলম, পীতা- ওবাইদুল হোসেন, জয়নাল আবেদীন, পীং- মো. হাশিম,মো.এহেসান পীং-মৃত ইউছুপ আলী, রাসেল পীং-ইন্না আমিন, মো.ফরিদ পীং-মৃহ মো.হাসিম, আবদুল মজিদ পীং-মোক্তার আহম্মদসহ অন্তত ৩০/৪০ জনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হয়েছে।

যেখানে সরকারি গাছ কাটাই নিষেধ সেখানে বনায়নের ভেতর প্রকাশ্যে তারা কাটছে তাজা চারা গাছ ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুললেও তা উচ্ছেদ অব্যাহত আছে।
স্থানীয়রা বলছেন, টাকা দিলে সবই সম্ভব এখানে। যুক্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা।

স্থানীয়রা জানান, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা, বিট কর্মকর্তা ও হেডম্যানকে দিলেই সব করা যায়। সবাই ভাগ নেয় টাকার।গত কয়েকদিনে ২০১৭-১৮ সালে সৃজিত বনায়নের কোটি টাকার চারাগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন চারাগারের শুকনো ঢাল আর গুড়ালিগুলো স্বাক্ষী হয়ে আছে।

তবে এসব বিষয়ে ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারিয়া দাবি করেন, দখলদারদের উচ্ছেদ করে ৬টি বন মামলা দায়ের এবং তাকে হত্যার হুমকি দেয়ায় ইসলামপুরের যুবলীগ নেতা নামধারী ওসমান আলী মোরশেদ, নুরুল আবছারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। তাদের হুমকির মুখে বনকর্মীরা অসহায়। গত কয়েকদিনে কোটি টাকার চারা গাছ কেটে ঘর নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তে অভিযোগ পেলেই নেয়া হয় ব্যবস্থা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জনপ্রতিনিধি বলেন, ফুলছড়ির বনভূমি সংরক্ষণ করতে হলে শক্ত হতে হবে বনবিভাগ এবং সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে।

NO COMMENTS

Leave a Reply