Home চট্টগ্রাম চুক্তিকে বৃদ্ধ আঙ্গুলি দেখিয়ে রেলের গুদামঘর হয়ে গেলো সুপারশপ

চুক্তিকে বৃদ্ধ আঙ্গুলি দেখিয়ে রেলের গুদামঘর হয়ে গেলো সুপারশপ

0 0
কামাল পারভেজ ঃঅভিযোগের যেনো শেষ নেই রেল কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সাথে রয়েছে কিচু ঠিকাদার।মনে হয় যেনো চট্টগ্রাম রেল একটা কুমিরের চাষ।রক্ষক নামক কর্মকর্তা কর্মচারীরাও ঠিকাদারি করতে লাইসেন্স প্রাপ্ত ঠিকাদারদের সাথে জোট বেঁধেছে। গোপন আঁতাত মাধ্যমে চলছে রেলের সম্পদ হরিলুট। এবার নজর পরেছে বারশত ফুটের গুদামঘরের দিকে। গুদামঘরের নামে চুক্তি করে বানিয়ে ফেলো সুপারশপ। গুদামঘরের বহিরের দিকটা পূর্বের ন্যায় জরাজীর্ণ দেখা গেলেও ভিতরটা করেছে কোটি টাকা খরচ নজরকাঁড়া, দেখলেই চোখ  ফিরানো যায়না।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের পার্কিংয়ের পূর্ব পাশে রেলের বড় একটি গুদাম ভেঙে বাণিজ্যিক মার্কেট কাম সুপার মার্কেট গড়ে তুলছেন আইয়ুব আলী ও ঠিকাদার শাহ আলম। রেলে এই গোডাউনটি এখন অবৈধভাবে সুপার মার্কেট হিসেবে গড়ে উঠলেও রহস্যজনক ভাবে নিরব ভূমিকা পালন করছেন পূর্ব রেলের কর্মকর্তারা। হাটা চলার পথে এমন দৃশ্য চোখে পড়লেও যেনো অন্ধের ভূমিকায় রয়েছেন তারা। আর এদিকে রেলের আইন-কানুন যেন মানছেন না ইজারাদার নামক রেলের এই জমিদাররা।
রেলের গুদামঘর ভেঙ্গে সুপার মার্কেট করা কতটুকু বৈধ তা পূর্ব রেলের একজন কর্মকর্তাও কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি প্রতিবেদককে। রেলের জায়গা ইজারা নিয়ে যেমন ইচ্ছে তেমন করছেন রেল খেকো এই জমিদাররা। সূত্র জানায়, নেতা আইয়ুব আলী ও ঠিকাদার শাহ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন অন্ত নেই। তারা দুজনেই যেনো পূর্ব-রেলকে গিলে ফেলছে।
জানা যায়, রেলওয়ের ভূসম্পদ আইনে কোনোভাবেই ১ বছরের বেশি লিজ বা লাইসেন্স দেয়ার বিধান নেই। অথচ! আইয়ুব আলীরা রেলের গোডাউন ভেঙে সুপার মার্কেট গড়ে তুলছেন একেবারেই স্থায়ী ভাবে। ওই গোডাউনের পাশে খালি জায়গাটিও তারা দখলে নিয়ে বহুতল ভবন করার পায়তারা করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে এই গুদামঘর ভেঙ্গে অবৈধভাবে বিশাল সুপার মার্কেট তৈরি করেছেন আইয়ুব আলী ও শাহ আলম।
তথ্য মতে, রেলওয়ের ভূমিতে লিজ গ্রহীতা ব্যক্তি কোনোভাবেই স্থায়ী পাকা অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারেন না। অথচ সেখানে দেখা যায়, পুরা গুদামঘরের চিত্র ভিন্ন। সেখানে বিদ্যুৎ লাইনসহ টাইলসের সম্পূন্ন কাজ করা হয়েছে। যা রেলওয়ে আইনের সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে অবৈধ এই কাজটি বৈধ করতে করা হয়েছে নানা অপকৌশল।
যার সাথে জড়িত খোদ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ কমার্শিয়াল  ম্যানেজার নাজমুল ইসলামসহ কিছু কর্মকর্তা। বিষয়টি ভালোভাবে জানার জন্য চীপ কমার্শিয়াল’র সাথে স্বাক্ষাত করতে গেলে তিনি জিএম স্যারের রুমে গেছেন বলে তার অফিস সহকারী জানান অতঃপর  ৪৫ মিনিট বসে থেকেও তার স্বাক্ষাত মেলেনি,  এ বিষয়ে মুঠোফোনে নাজমুল ইসলাম বলেন যা ইচ্ছা তাই লিখেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুদামটি ভাড়া হিসেবে ইজারা নিয়ে নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে সম্প্রসারণ কাজ করে ইতোমধ্যে পুরো অবকাঠামো পরিবর্তন করে তোলা হয়েছে বিশাল আকারের সুপার মার্কেট। এতে রয়েছে প্রায় ৩২ টি দোকান। সেই সাথে পাশের খালি জায়গাতেও পাকা ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নিয়োজিত শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সরদার শাহাদাত আলী প্রতিবেদককে জানান, স্টেশনের দোকানপাট বা গোডাউনের লাইসেন্স দেয় ডিসিও ঢাকা অথবা চট্টগ্রামের চীফ কমার্শিয়াল  ম্যানেজার (সিসিএম) এই দুই ব্যাক্তি ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো চীফ স্টেট অফিসার লাইসেন্স দেয়, কিন্তু জিএম লাইসেন্স দেয় না। জিএম থেকে লাইসেন্সের অনুমোদন হয় না। এখানে যে যেটা করবে চুক্তি মোতাবেক সেটা করবে এর বাহিরে কিছু করার সুযোগ নাই।
যখন আমরা শুনবো আইন বা চুক্তির বাহিরে কিছু হচ্ছে তাহলে আমরা লাইসেন্স বাতিল করবো এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এরপরও আমি গোডাউনে লোক পাঠিয়ে খবর নিচ্ছি বলে লাইন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ঠিকাদার শাহ আলম , গোডাউনটি ভেঙ্গে সুপার মার্কেট করছেন আইয়ুব আলী, আমি তার সহকারী হিসেবে কাজ করছি। এতে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি যা নির্দেশ দেন আমি তা পালন করি। তবে এ ব্যাপারে আইয়ুব আলীর মোঠো ফোনে কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, পূর্বরেলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কার্যালয় থেকে সম্প্রতি ভাড়া হিসেবে এই গোডাউন ইজারা নেয় শহীদ চৌধুরী বাবলু নামে এক ব্যক্তি। তিনি গুদামটি বিক্রী করে দেন নেতা আইয়ুব আলী ও শাহ আলমের কাছে। আইয়ুব আলী ও শাহ আলম প্রভাব খাটিয়ে রেলওয়ে কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সহযোগিতায় সাম্প্রতিক সময়ে গুদামটির ইজারা নিজেদের নামে করে নেন। এরপর গুদামটি ভেঙে রাতারাতি সুপার মার্কেট করে ফেলেন তারা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে পূর্ব রেলের এক কর্মকর্তা  জানান, ইজারা আইনে প্রথমত হস্তান্তর সম্পূর্ণ অবৈধ। এছাড়া ইজারা নেওয়া স্থাপনার অবকাঠামো পরিবর্তন সম্পূর্ণ বেআইনী। যা নির্বিঘ্নে করে যাচ্ছে আইয়ুব আলী ও শাহ আলম।
আর এই প্রক্রিয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী ও মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম সহ বেশ কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

NO COMMENTS

Leave a Reply