Home বিনোদন তুঘলুকি শিক্ষা ব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষ্ট শিক্ষার্থীরা

তুঘলুকি শিক্ষা ব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষ্ট শিক্ষার্থীরা

প্রবাদ বাক্য আছে ” শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড ” কিন্তু আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতির মেরুদন্ড তথা শিরদাঁড়া সুবিন্যাস্ত হওয়া তো দূরে থাক উপরন্ত অঙ্কুরেই ক্ষয় হতে শুরু করে ।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে সংযোজন -বিয়োজন এর মাধ্যমে অসংখ্য বার শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে । তথাকথিত যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানমুখী শিক্ষাব্যবস্থা উপর গুরুত্বারোপ করে বিদ্যমান প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক ত্রুটিপূর্ণতার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে উচ্চ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ও ব্যাপক হতাশার সৃষ্টি হয়েছে ।

প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে শিক্ষালাভের আনন্দ নিহীত নেই , উপরন্ত শিশু শ্রেণী থেকে চাপিয়ে দেওয়া গাদা গাদা বইয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে নানাবিধ মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পূর্বতন চালু হওয়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পাশাপাশি ” মরার উপর খরার ঘা ” এর মত শেষ এক দশক যাবত চলছে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা নামক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক নির্যাতনের স্টিমরোলার ।

মানসিক নির্যাতন নামক এই স্টিম রোলার এর শিকার হয়ে পিএসসি অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণীর চূড়ান্ত সমাপনী পরীক্ষায় কত কোমলমতি শিক্ষার্থী অকালে ঝরে পড়েছে তার ইয়ত্তা নেই , অনুরূপভাবে জেএসসি অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণীর চূড়ান্ত সমাপনী পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য । এর উপর আবার যোগ হয়েছে সাফল্য লাভের ক্ষুধাই বুভুক্ষ অভিভাবকদের মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচার । তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সাফল্যের ক্ষুধা ই এতই বুভুক্ষ থাকেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুকুমারবৃত্তি বিকাশ এর পরিবর্তে গড়পরতা তিন থেকে চারজন প্রাইভেট টিউটর নিয়োগ করে থাকেন । খুব অল্প বয়সে ব্যাপক মানসিক চাপ নিতে গিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীদের মানসিক বৈকল্য দেখা দেয় । ফলস্রুতিতে অনেক শিক্ষার্থী সমাজ বাস্তবতা এবং অভিভাবকদের চাপে চূড়ান্ত পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয় ।

অল্প বয়স থেকেই সীমাহীন মানসিক চাপ সামলে শিক্ষার্থীরা অনেকেই সাফল্যের সাথে পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও পরবর্তীতে গ্রেজুয়েশন সম্পন্ন করার পর আবারো প্রবল মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হয় ” জুতার তলা ক্ষয় ” এর প্রতিযোগীতায় নেমে অর্থাৎ চাকরি নামক সোনার হরিণ পাওয়ার জন্য । চাকরির বাজারে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীর যথার্থ মূল্যায়ন হয় না যথার্থ মামা -খালু -চাচা‌ না থাকার কিংবা উপরি ( দক্ষিণা )দিতে না পাওয়ার অপরাধে । সবচেয়ে বেদনাদায়ক লজ্জার ব্যাপার বাধ্য হয়ে তাদের ধরনা দিতে হয় এসএসসি ফেল করা কিংবা অষ্টম শ্রেণী পাস করা রাজনৈতিক নেতাদের দরজায় শুধুমাত্র একটি চাকরির আশায়। সেই নেতা আবার এতই ভাব থাকে যে ঐ নেতার সাথে দেখা করতে গেলে তার অনেক চেলা চামুন্ডার চৌকাঠ পেরোতে হয়। অবশেষে নেতার দেখা পেল সেই নেতা আবার দক্ষিণা ছাড়া এক পাও এগোতে নারাজ। অতঃপর শিক্ষার্থীরা কেউ পৈতৃক জমি কিংবা অন্যান্য মূল্যবান সম্পত্তি বিক্রি করে নেতার ধার্যকৃত দক্ষিণা দিয়ে চাকুরী বগলদাবা করে নিতে বাধ্য হয় অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হয়েও চুপ থাকতে বাধ্য হয় নেতার ক্ষমতা গুনে ।

বছরের পর বছর চলে আসা প্রচলিত এই তুঘলকী শিক্ষাব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিষ্পেষিত‌ ও‌ নিগৃহীত হয়েছে শিক্ষার্থীরা । মানসিক চাপ যুক্ত তুঘলকি শিক্ষা ব্যবস্থার বিনাশ ঘটিয়ে বাধ্যতামূলক কারিগরি ও্ প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন করে এবং আনন্দ নিহীত প্রাণোচ্ছল ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এর সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল জাতি গড়ে তোলা সময়ের দাবি ।

লেখক : তানভীর আহমেদ ( গণমাধ্যমকর্মী )

NO COMMENTS

Leave a Reply