Home চট্টগ্রাম গালাম ফারুক ডলার একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক

গালাম ফারুক ডলার একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক

গোলাম ফারুক ডলার। পিতার নাম মরহুম নকি গোলাম বশির। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক মরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সহচর ছিলেন। গোলাম ফারুক ডলার ৭ আগষ্ট ১৯৬৪ ইংরেজি সনে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। সরকারি এমইএস কলেজ থেকে বি.এ সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনীতিবিদ সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী এ প্রবীণ ব্যক্তিত্ব তার এলাকায় তিনি সাধারণ মানুষের সম্মান ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছাত্রলীগে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তার ছাত্ররাজনীতি শুরু। ৫৭ বছর বয়সী এ মহান ব্যক্তিত্ব, ৪৪ বছর রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ও স্বনামধন্য পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়ার স্নেহধন্য। ছোট-বড় অনেক সংগঠনের প্রণেতা এ রাজনীতিবিদ সাতকানিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরে সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৮১ সালে অবিভক্ত সাতকানিয়া লোহাগাড়া থানা ছাত্রলীগ ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে সাতকানিয়া থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সহ-সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮৮ সালে সাতকানিয়া থানা আওয়ামী লীগ ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগ সদস্য নির্বাচিত হন । ১৯৯৬ সালে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ প্রচার সম্পাদক, ২০০৪ সালে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বহু সামাজিক সংগঠনের সাথেও তার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিল্লাতুনেছা মুজিব আইসোলেশান সেন্টার সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আহ্বায়ক। চট্টগ্রাম বিভাগীয় মানবাধিকার ফোরামের উপদেষ্টা।

সাতকানিয়া পৌরসভা শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রধান উপদেষ্টা, চট্টগ্রাম সমিতির আজীবন দাতা সদস্য। চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের আজীবন দাতা সদস্য ও চট্টগ্রাম কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার আজীবন সদস্য। বাবা মরহুম নকি গোলাম বশির স্বাধীনতার পক্ষের পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাকে কর্মরত ছিল। সে মতে পরিবারের সদস্য সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। চাচা হাবিলদার রফিকুল কাদের ও চাচাতো ভাই সাংবাদিক উসমানুল হক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

১৯৭৫ সাল পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তাধিকারী নেতাকর্মীর উপর যখন অমানবিক নিপীড়ণ চলছিল, সেই দুঃসময়ে ১৩ বছর বয়সে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সাতকানিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই।

১৯৭৯ সালে চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম-১৩) আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম চালানোর সময় বিএনপি প্রার্থী কর্ণেল অলি আহমদের নির্দেশে গ্রেপ্তার হয়ে একমাস কারাবন্দি ছিলাম মাত্র ১৫ বছর বয়সে।

দ্বিতীয় দফা কারাবরণ করেন। ১৯৮৭ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে। এছাড়া ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম চালানোয় প্রতিপক্ষের একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করে। ১৯৮৪ হইতে ৮৮ সাল পর্যন্ত পর পর ৪ বার সাতকানিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের নবীন-বরন আয়োজন করেন।

এতে তৎকালীন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জননেতা আমির হোসেন আমু ভাই, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাসিম ভাই তৎকালীন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ভাই উপস্থিত থেকে নবীন-বরন অনুষ্ঠান সফল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯১ হইতে ৯৫ সালে বি.এন.পি ও জামাতের দুশাসনের সময় অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সাতকানিয়া এলাকায় বিজয় মেলার আয়োজন করেন। যাহাতে অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বিজয় মেলাকে সফলতার ধারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী বঙ্গবন্ধু জামাতা ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া, সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. সুলতানুল কবির চৌঃ, (অব) মেজর নাছির উদ্দিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লুৎফর নাহার লতা প্রমুখ।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকায় রাখায় সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত ও কারাবন্দি হই। সাতকানিয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কার্যক্রম চালানোয় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল ক্যাডারের গুলিতে আহত। এর আগে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও গুলিবিদ্ধ হই। ১৯৯৭ সালে জামায়াত-শিবির বিরোধী আন্দোলনেও গুলিবিদ্ধ হই। ১/১১এর সময়ে সক্রিয়ভাবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করেন। নিজ উপজেলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেন ।

২০১২ সালে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাওয়ার গুজবে সাতকানিয়াতে জামাতের তান্ডবের প্রতিবাদে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকে সাথে নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে প্রতিরোধ করেন। এবং পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কে সাথে নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে জনজীবনে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রাজনীতির সাথে সাথে সমাজসেবায়ও তাঁর অবদান রয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলায় ও পৌরসভায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় পরিবারদের মাঝে নিজস্ব অর্থায়নে ত্রাণ ও একশ বান ঢেউটিন বিতরণ করেন।

সাম্প্রতিক মহামারী করোনা ভাইরাস শুরু প্রথম থেকে আক্রান্ত রোগীদের পরিবহনের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরে সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারের কাছে কোতোয়ালী ও পাঁচলাইশ থানার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দুইটি এম্বুলেন্স দান করা হয়। মহামারী করোনা চলাকালীন সাতকানিয়া পৌরসভায় অসহায় হত দরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনেছা মুজিব আইশোলেশান সেন্টার করার উদ্যোগ নেয়, মাননীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভীর একান্ত প্রচেষ্টায় এবং আমার তদারকীতে আইসোলেশান সেন্টার উদ্বোধন করা হয়। ব্যক্তিগত জীবনে এক কন্যা ও তিন পুত্র সন্তানের জনক।

বড় ভাই সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার আজাদ ঢাকা দক্ষিণ ৪৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ছোট ভাই গোলাম ফেরদৌস রুবেল মদিনা আওয়ামী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। একজন ব্যবসায়ী, বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগের দলীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে নিবিড়ভাবে জড়িত আছে।

সেমতে সাতকানিয়াবাসীর পাশে থেকে সেবা করতে চাই। সাতকানিয়ার আপামর জনতার কাছে দোয়া প্রার্থী।

NO COMMENTS

Leave a Reply