Home চট্টগ্রাম হাইব্রিড কাউয়া ঠেকিয়ে গণতন্ত্র স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হবে-জাতীয় চারনেতা স্মরণে আলোচনা সভায়-নঈম...

হাইব্রিড কাউয়া ঠেকিয়ে গণতন্ত্র স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হবে-জাতীয় চারনেতা স্মরণে আলোচনা সভায়-নঈম উদ্দিন চৌধুরী

0 0

৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে অদ্য বিকাল ৪ ঘটিকা চেরাগী পাহাড়স্থ “সুপ্রভাত স্টুডিও” হলে সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী বিজয় কিষাণ চৌধুরী সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ঈছা,

সাবেক কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা সুমন দেবনাথ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সাবরিনা চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠক অচিন্ত্য কুমার দাশ, সজল দাশ, রতন ঘোষ, হানিফুল ইসলাম চৌধুরী, রোখন উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক নাছির উদ্দিন কুতুবী, জালাল আহমদ রানা, ছাত্রনেতা ইমতিয়াজ আইয়াজ, আল হাসান সামি, ইরফান আলী ফাহিম, ইমদাদুর রহমান রিয়াদ, শুভ জিৎ, ইদ্রজিৎ ভট্টাচার্য্য, মোঃ ইফতেখার, উত্তম লাল, আবু বক্কর, নিলয় দে, মোঃ মিরাজ উদ্দিন, মোঃ জয়নাল, মোঃ রানা, মোঃ মানিক, মোঃ সাদ্দাম হোসেন, মোঃ ইয়াছির আরাফাত প্রমুখ।

সভায় প্রধান অতিথি নঈম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তা চেতনা যাতে বাস্তবায়ন না হয় সে জন্য হাইব্রিড বা কাউয়ারা অপচেষ্টা করছে, তাদের রুখতে হবে। সব কিছু যদি প্রধানমন্ত্রীকে করতে হয়, তাহলে এত মন্ত্রী এমপি’র দরকার কি। বঙ্গবন্ধুর কোন মন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর উপর নির্ভর করেই শুধু মন্ত্রণালয় চালাননি। বঙ্গবন্ধুর আমলে জহুর আহমদ চৌধুরী যোগ্য ছিলেন বলেই চারটি মন্ত্রণালয় সফলতার সাথে চালিয়েছেন।
সভায় প্রধান আলোচক সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন-জাতীয় চারনেতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হাইব্রিড ঠেকাতে হবে। স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র বিরোধী শক্তিকে চেতনার শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে। এটি এখন নাগরিক দায়িত্ব।

বিশেষ অতিথি মুহাম্মদ ঈছা বলেন, “জাতীয় চার নেতা হত্যাকাÐ ছিল জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা। এ ধরনের বর্বর হত্যাকাÐ পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ড ছিল জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা। এ ঘৃণ্য হত্যাকান্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি, দেশবিরোধী চক্র বাংলার মাটি থেকে আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, শোকাবহ জেলহত্যা দিবস মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কময়, রক্তঝরা ও বেদনাবিধুর একটি দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩রা নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে চার জাতীয় নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রীসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একাত্তরের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশ মাতৃকার সেরা সন্তান জাতীয় এই চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি,

কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। প্রগতি-সমৃদ্ধির অগ্রগতি থেকে বাঙালিকে পিছিয়ে দিয়েছিল। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়,

স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

NO COMMENTS

Leave a Reply