Home চট্টগ্রাম বারইখাল খনন ও কুলগাঁও বাস টার্মিনাল প্রকল্প দু’টি জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে...

বারইখাল খনন ও কুলগাঁও বাস টার্মিনাল প্রকল্প দু’টি জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে অন্যতম নিয়ামক হতে পারে পরিদর্শনকালে -সুজন

0 0

সিটিজি ট্রিবিউনঃআলাউদ্দীন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আজ সকালে নগরবাসীর দুর্ভোগ ও ভোগান্তি লাঘবে বাস্তবায়নাধীন বাড়ইপাড়া খাল খনন ও কুলগাও বাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, এই প্রকল্প দু’টি নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরণের অবদান রাখবে।

নাগরিক দুর্ভোগের প্রধান কারণ জলাবদ্ধতা ও যানজট। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই দুইটি সমস্যা নিরসনের অংশ হিসেবে চসিক নগরীর বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া হতে পূর্ব বাকলিয়ার বলিরহাট পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্প ও কুলগাঁওয়ে বালুছড়ায় বাস টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নে পদে পদে সকল বাধা অতিক্রম করে এখন স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রাপ্তিযোগ ঘটাতে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের নগরী হিসেবে গড়ে উঠতে প্রাকৃতিক বন্দর সহ সকল উপাদান বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ও চট্টগ্রাম তা হতে পারেনি। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এক সময়ের ছোট-খাট সমস্যাগুলো এখন আমাদের মাথা ব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বড় প্রমাণ জলাবদ্ধতা ও যানজট। চাক্তাই খাল দখল এবং প্রায় দু’ডজন খাল বিলুপ্তি নগরীতে জলাবদ্ধতার মূল উৎস এবং পণ্য ও গণপরিবহনের জন্য বড় টার্মিনাল না থাকায় যেখানে সেখানে অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ডগুলো যানজট সমস্যাকে অনিবার্য করে তুলেছে। তাই এই দুইটি সমস্যা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত এই প্রকল্পগুলো আর কালবিলম্ব না করে দ্রুত বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তৈরী করতে হবে। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, এই দু’টি বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প নগরীতে জলাবদ্ধতা ও যানজট সংকট নিরসনের সবুজ সংকেত। তিনি পূর্ব বাকলিয়া বলিরহাটে জাইকার অধীনে ১৩’শ কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ইখাল খনন প্রকল্পটির বিবরণী তুলে ধরে জানান, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি সরাসরি চাক্তাই খালের সাথে যুক্ত হবে এবং ওই খাল হয়ে পানি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির প্রশস্থ ৬৫টি ফুট। উভয়পাশে থাকবে দৃষ্টিনন্দন ২০ ফুট প্রশস্থ সড়ক ও ৬ ফুট প্রশস্থ ওয়াকওয়ে। বিগত ৬ বছর ধরে বিভিন্ন কারণে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ ঝুলে ছিল। মূলত ভূমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে। আমরা খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে ফিজিক্যাল ওয়ার্ক শুরু করতে পেরেছি। চসিকের প্রকৌশল ও ভূ-সম্পত্তি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দু’টির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি কুলগাঁও বালুছড়ায় ৮.১ একর জায়গার ওপর চসিকের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন বাস টার্মিনাল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শণকালে জানান, এই প্রকল্পটি ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোপূর্বে চসিক ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ বিভাগকে ১৩০ কোটি টাকা প্রদান করেছে। এই প্রক্রিয়াটি করোনাকালে কিছুটা গতি হারালেও এখন গতি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।ক আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়গণকে অনুরোধ করেছি অধিগ্রহণ ও অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে উনারা যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক মন্ত্রণালয়ও জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাগিদ প্রদান করে আসছি। আশাকরি এ ক্ষেত্রে আর কোন সময় ক্ষেপন করা হবে না এবং অধিগ্রহণ কাজ সমাপ্ত হলে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন শুরু হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সমগ্র উত্তর চট্টগ্রাম এবং পাবর্ত্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি আন্তঃজেলা সড়কে বিদ্যমান যানজট সমস্যা আর থাকবে না। খুব সহজেই এই বাস টার্মিনাল থেকে পরিবহন মালিক, চালক, শ্রমিক এবং যাত্রী সাধারণ বিড়ম্বনামুক্ত আরামদায়ক সহজলভ্য সেবা পাবেন। এর আগে তিনি প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বহদ্দারহাট মোড়ে রাস্তার উপর যত্রতত্র ভাবে বিভিন্ন রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি ট্যাক্সির যানবাহনের স্ট্যান্ড দেখে গাড়ী থেকে সেখানেই নেমে পড়েন এবং নিজ উদ্যোগে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনগুলোকে রাস্তার একপাশে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করে রাখার নির্দেশনা দেন। ফলে খুব দ্রুতই এই প্রশস্থ সড়কটি জন ও যানবাহন চলাচলে উপযোগী হয়ে ওঠে। এ জন্য এলাকাবাসী এগিয়ে এসে প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।

 

এ সময় প্রশাসক মহোদয়ের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত্বাবধায়ক  প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, আবু ছালেহ, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, আবু ছিদ্দিক, শাহিনুল ইসলাম, এস্টেট অফিসার মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল কালাম, প্রকৌশলী মফিজুল ইসলামসহ চসিকের প্রকৌশলী ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply