Home অপরাধ আমেরিকা প্রবাসী নারীকে কক্সবাজারে হয়রানীর অভিযোগে!

আমেরিকা প্রবাসী নারীকে কক্সবাজারে হয়রানীর অভিযোগে!

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।কোটিপতি হবার স্বপ্ন কার না থাকে। কিন্তু এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা তাদের কোটি টাকা কোনো কারণে হারিয়ে হয়েছেন নিঃস্ব। তেমনি একজন সোনিয়া হাসনাত চৌধুরী।তিনি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দেশে তুলেছিলেন হাসপাতাল, ল্যাব ও ক্লিনিক, কিনেছিলেন এপার্টমেন্ট ও জমি। সবকিছু আজ হাত ছাড়া। দখল করে নিয়েছে প্রতাপশালী মহল। এমনকি দীর্ঘদিন আমেরিকা থাকায় পৈত্রিক জমিজমাও হয়ে গেছে বেদখল।

আমেরিকার প্রেসিডেনসিয়াল এডভাইজেরী বোড আরএনসি (দি প্রেসিডেন্ট অব দি ইউএসএ) সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সভানেত্রী। তিনি অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এলাকায় গড়ে তুলেছে অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা। পর্দার আড়ালে থেকে অসহায় মানুষদের দান করেছেন দু’হাতে।নিউইয়র্কের নামীদামী ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করেছেন। নিউইয়র্ক সিটির স্পেশাল পুলিশ অফিসার ট্রেনিং, নিউইয়র্কয়ে ব্রুকলাইন টেকনিক্যল কলেজ থেকে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি পাশ করেন।

আমেরিকায় কষ্টার্জিত টাকায় কক্সবাজার শহরে গ্রীণ ডেল্টা হাউজিং থেকে ২০১০ সালে ২৭ লাখ টাকায় কেনা একটি এপার্টমেন্ট, মেরিন ড্রাইভে কেনা ১০ লাখ টাকার জমি দখলবাজদের কবল থেকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রশাসন ও আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। গত তিন বছর আগে আমেরিকা থেকে এসে বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার শহরে নিজ এপার্টমেন্টে ডুকতে না পেরে তিন বছর ধরে উম্মাদের মতো এবাড়ি ওবাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই প্রবাসী নারী। শারীরিক ও মানষিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তিনি। হয়েছেন কয়েকবার শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকারও।

উক্ত এপার্টমেন্ট, সহায় সম্পদ ফিরে পাওয়ার আশায় দেশে এসে তার আমেরিকার বাসাবাড়িসহ সবকিছু হারিয়েছেন। দখলবাজদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছেন। কষ্টে অর্জিত টাকায় কেনা এপার্টমেন্ট, সহায় সম্পত্তি ফিরে পেতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোনিয়া হাসনাত চৌধুরী। কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ারিয়া নালা পুর্বপাড়া এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তার জন্ম। তার বারার নাম ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ কবির চৌধুরী। দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রখ্যাত চিকিৎসক মরহুম ডাক্তার আবদুর নুর বুলবুলের ছোটবোন তিনি।

ঢাকা খিলগাঁও ৬৯ মনছুর আলী এলাকার মো.শেখ আবু সাঈদের স্ত্রী। কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাশ করে চলে যান ঢাকায়। প্রায় ৩০ বছর পুর্বে ঢাকাতে মাস্টার্স পড়াকালিন সময় আমেরিকার ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন নিয়ে উচ্চতর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্য ১৯৯২ সালে ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটির অধীনে তিনি পাড়ি জমান আমেরিকায়। সে সময় থেকে ৮৯-০০-১৭০ ষ্ট্রীট, ফ্ল্যাট নং ৮এম জ্যামাইকা নিউইয়র্ক আমেরিকাতে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন।

নিউইয়র্কে ইলেকশন বোর্ডের কো অর্ডিনেটর, আমেরিকার রিপাবলিক ন্যাশনাল কমিটির লাইফ মেম্বার, আমেরিকা ন্যাশনাল আওয়ামী যুবলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট, সাবেক এডভাইজার মুক্তিযুদ্ধ নতুন প্রজন্ম আমেরিকা। তিনি স্যোশাল একটিভিস্ট মেম্বার, আমেরিকার প্রেসিডেনসিয়াল এডভাইজেরী বোর্ড আরএনসি (দি প্রেসিডেন্ট অব দি ইউএসএ), লাইফ মেম্বার রিপাবলিক ন্যাশনাল কমিটি। এছাড়া জড়িত আছেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামাজিক সংগঠনের সাথে।

২০১০ সালে স্বামী সন্তান নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে এসে গ্রীণ ডেল্টা হাউজিং অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড সিনিয়র ডিরেক্টর উম্মে কুলছুম ওরফে শিমুল চৌধুরীর সাথে পরিচয় হয়। সেই সূত্রে গ্রীণ ডেল্টা হাউজিং অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ায় নির্মাণাধীন বাড়ি নং-২৩৫, নতুন সার্কিট হাউসরোড, ফ্ল্যাট নং ডি-৪, (৫মতলা) ১১০০ বর্গফুটের এপার্টমেন্ট সাফ কবলা বিক্রয় হস্তান্তরের আশ্বাসে বিগত ২০১০ সালে ২৭ এপ্রিল ৮৬১৬ রিসিভ মুলে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড সেন্ট্রাল ল কলেজ শাখা, বিজয় নগর ঢাকা পে অর্ডার নম্বর ০০৩৪৬৪৯ মূলে এককালীন এপার্টমেন্টের মূল্য বাবদ ২৭ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন।

গ্রীণ ডেল্টা হাউজিং অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট প্রাইভেট লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলাল হোসেন ও সিনিয়র ডিরেক্টর উম্মে কুলছুম প্রকাশ শিমুল চৌধুরী সে মতে ২০১০ সালে ২৭ এপ্রিল ১৫০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন।

এপার্টমেন্ট বিক্রয় চুক্তি পত্রে ৮নং দফার শর্ত মতে ২০১২ সালের জুন মাসের মধ্যে এপার্টমেন্ট হস্তান্তরের কথা ছিল। আমেরিকা প্রবাসী সেই বিশ্বাস স্থাপন করে সেই সময় নিজ কর্মস্থল আমেরিকায় চলে যান। কিন্তু ২০১২ সালের জুন মাস শেষ হলেও সোনিয়া হাসনাত চৌধুরীকে তারা এপার্টমেন্ট দখল হস্তান্তরের তাগিদ দেন। কিন্তু ভবন নির্মাণ শেষ না হওয়ার অজুহাতে কাল ক্ষেপন করেন তারা। শেষ পর্যন্ত সোনিয়া হাসনাত চৌধুরীকে এপার্টমেন্ট হস্তান্তর না করে চরম প্রতারণার আশ্রয় নেন।

এতে সোনিয়া হাসনাত চৌধুরী ২০১৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টার সময় উক্ত এপার্টমেন্ট দেখতে গেলে এবং ডুকতে চাইলে ১৫/২০ সন্ত্রাসী আমেরিকা প্রবাসীকে ফ্ল্যাটে ডুকতে বাঁধা দেন। এসময় তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কক্সবাজার থানাকে উক্ত ব্যাপারে অবহিত করলে থানা কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞ আদালতে ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দেন।
সোনিয়া হাসান চৌধুরী গত ২০১৯ সালে ৭ অক্টোবর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নম্বর-৪ কক্সবাজার আদালতে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১২৭১/২০১৯।

মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজারকে নির্দেশ দেন।পিবিআইয়ের পুলিশ পরিশর্দক মো.মনির হোসেন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্মারক নং পিবিআই /কক্সবাজার জেলা/৪৭৩ মুলে অনুসন্ধান প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আসামিরা হলেন, গ্রীন দেলটা হাউসিং অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলাল হোসেন,

উম্মে কুলছুম প্রকাশ শিমুল চৌধুরী, সিনিয়র ডিরেক্টর মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরওয়ার কামাল, ইন্দ্রজি

NO COMMENTS

Leave a Reply