Home চট্টগ্রাম নগরবাসীর উদ্দেশ্যে চসিক প্রশাসক সুজন আমার সাথে সাক্ষাৎ আপনাদের নাগরিক অধিকার

নগরবাসীর উদ্দেশ্যে চসিক প্রশাসক সুজন আমার সাথে সাক্ষাৎ আপনাদের নাগরিক অধিকার

0 0

চট্টগ্রাম-২৭অক্টোবর’২০২০ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রসাশক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমার দুয়ার আপনাদের জন্য সব সময় উন্মুক্ত। রাজনৈতিক কর্মী ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নগরীর অধিবাসীদের আমার কাছে আসার নাগরিক অধিকার রয়েছে। নগরবাসীর সান্যিধ্যে আমি কখনো বিরক্ত হইনা।

আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পুরনো নগর ভবনে প্রশাসক দপ্তরে নগরীর বিভিন্ন স্তরের নাগরিক তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে এলে তিনি একথা বলেন। সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম প্রশাসকের সাথে ছিলেন।
এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক প্রশাসকের নিকট তাদের অভাব, অভিযোগ, আবদার উপস্থাপন করেন। তিনি তাদের অভাব অভিযোগ মনযোগ দিয়ে শুনেন। সাক্ষাৎ প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদার, লেকসিটি হাউজিং এর কর্মকর্তাগণ,

কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকও ছিলেন। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা, বিবাহযোগ্য কন্যার বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং কর্পোরেশনের এক শিক্ষকের শুন্য পদ্রে বিপরীতে চাকরি স্থায়ীকরণ, কর্পোরেশনের কাছে টাকা জমা দেয়া সত্তে¡ও দোকান বরাদ্দ না পাওয়ার বিষয়ে প্রশাসককে অবহিত করেন।

এ সময় প্রশাসক দুঃস্থ কয়েকজনকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। কর্পোরেশনের ঠিকাদারদের কয়েকজন তাদের বকেয়া টাকার পাওনা বিষয়ে প্রশাসকের সহযোগীতা চান। সে সময় প্রশাসক দোকান বরাদ্দের বকেয়া টাকার পাওনা বিষয়ে কর্পোরেশনের ভুসম্পত্তি ও হিসাব বিভাগে যোগাযোগ করতে তাদের আবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরাবরে লিখে দেন।

সসাক্ষাতকার  অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন আরো বলেন, আমি সাময়িক সময়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে দেখি ১ হাজার কোটি টাকার দেনার বোঝা। প্রতিমাসে কর্পোরেশনকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন খাতে ব্যয় করতে হয় ১৭ কোটি টাকা। ঘাটতি থাকে ৩ কোটি টাকা। এই টাকা পাব কই ? অবকাঠামোগত উন্নয়নে টাকা চেয়ে আমি মন্ত্রণালয়ের দারস্থ হয়েছি।

অতীতে কর্পোরেশন এমন অনেক খাতে অর্থ ব্যয় করেছে যাতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নাই। অথচ কর্পোরেশন তার রুটিন কাজ যেমন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, আলোকায়ন ও নালা-নর্দমা পরিস্কার ড্রেনেজ সিস্টেম ও সড়ক মেরামত কাজ স্বাভাবিক রাখতে পারেনি। কর্পোরেশনের আর্থিক পরিস্থিতি এতোই-নাজুক যে, ৬০ বছর চাকরি জীবন শেষে অবসরে গিয়ে ভবিষ্য তহবিলের জন্য কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টেবিলে টেবিলে ধরনা দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে দেখলাম কর্পোরেশনের ৩৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো তাদের ভবিষ্য তহবিলের টাকা নিতে পারেনি।

এর মধ্যে অনেকে পাওনা টাকা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ধরণের ঘটনা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। প্রশাসক বলেন, আমি মিথ্যা আশ্বাস ও কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে নগরবাসীর সাথে প্রতারণা করতে পারবোনা। অনেক কিছুই করার ইচ্ছা আছে আমার।

কিন্তু সামর্থ্য নাই। আমার দায়িত্বকালীন সময়ে আমি নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে সর্বোতভাবে চেষ্টা করবো। তিন এব্যাপারে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগীতাও কামনা করেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply