Home অপরাধ প্রাপ্তি কক্সবাজার লিঃ’ সংস্থার নামে সদস্যদের সাড়ে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রাপ্তি কক্সবাজার লিঃ’ সংস্থার নামে সদস্যদের সাড়ে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।’প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ নামের সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত একটি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সমিতির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আত্মসাতকৃত টাকা উদ্ধারের আইগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেছে মাঠ কর্মী সেলিনা আকতার। উক্ত আবেদনটি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্সবাজার সদর উপজেলা সমবায় অফিসার।

কক্সবাজার সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয় ও গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ সমিতিটি ২০১০ সালে সমবায় অধিদপ্তরের (রেজিঃ নং-৩৬১) নিবন্ধন পায়। সমিতির চেয়ারম্যান কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পুর্ব বোয়ালখালী গ্রামের লুৎফুর রহমান। আর তাঁর পিতা মাষ্টার বশির আহমদ, স্ত্রী রুমা আকতার ও আত্মীয় রেসমিন আক্তার এই সমিতির বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা। ‘প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ সমিতি ওই বছর থেকেই লোভনীয় লভ্যাংশের আশ্বাস দিয়ে সদরের ঈদগাঁও ও ইসলামপুর এলাকায় ঋণদান ও সঞ্চয় আমানত গ্রহণ করেন।

এই সংস্থায় কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর উত্তর নাপিতখালী এলাকার নুরুল আমিন ড্রাইভারের স্ত্রী সেলিনা আক্তারকে মাঠকর্মী নিয়োগ করা হয়। এই মাঠকর্মীর মাধ্যমে গ্রামের ২২৬ জন সদস্য সংগ্রহ ও তাদের কাছ থেকে সঞ্চয়, স্থায়ী আমানত গ্রহণ করেন প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও মাঠ কর্মী সেলিনার কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান নেন আরো ৩ লাখ টাকা। ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইসলামপুর ইউনিয়নে ‘প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ সংস্থা উক্ত মাঠ কর্মী সেলিনার মাধ্যমে ২২৬জন সদস্যের জামানত ও মাঠকর্মী সেলিনার টাকাসহ মোট পরিমাণ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

কিন্তু ২০১৭ সালের শেষের দিকে উক্ত সমিতি ইসলামপুরসহ আশপাশ এলাকায় তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। গত প্রায় তিন বছর ধরে সমিতিটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তাই গ্রাহকেরা লভ্যাংশসহ জামানতের টাকা চাইতে গেলে তাঁদের কোনো টাকা পরিশোধ করা হবে না বলে জানিয়ে দেন
প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান।
সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্ত কালে আত্মসাতকৃত টাকাগুলো কিস্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের ফেরত দেয়ার জন্য সময়ও নিয়েছিল তদন্ত কর্মকর্তার কাছে।

কিন্তু ১৯ লাখ ৫০ হাজার আমানতের টাকা ইসলামপুরের সাধারণ গ্রাহককে ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিলেও কাল ক্ষেপন করতে থাকেন তিনি। এঘটনায় ওই মাঠকর্মী সেলিনা আক্তার গ্রাহকদের হুমকির মুখে পড়ে যান।
‘প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ এর চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমানের হাতে প্রতারিত হওয়া গ্রাহকরা মাঠকর্মী সেলিনাকে গালমন্দ, নানা ভাবে হেনন্থা করে স্কুল পড়ুয়া সন্তানকে অপহরণের হুমকি দেয়। এমনকি খুরশিদা বেগম নামে এক গ্রাহক বাদী হয়ে উক্ত মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা নং-৯৮১/১৮ দায়ের করেন।

প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ মাঠ কর্মীর দায়িত্ব পালন করে সদস্য সংগ্রহ করে গ্রাহকদের জমাকৃত টাকা সংস্থা রশিদমুলে প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ এর চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমানের নিকট জমা করলেও তিনি গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি মাঠ কর্মী সেলিনাকে উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি দেন।
এবিষয়ে মাঠকর্মী সেলিনা উক্ত সংস্থার চেয়ারম্যানের পিতা মাষ্টার বশির আহমদ, স্ত্রী রুমা আক্তার ও ডিপিএস হিসাব পরিচালক রেসমিন আক্তারও নানা ভাবে হুমকি দেন।

এদিকে, প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ এর চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান গ্রাহকদের জামানতের ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতকৃত টাকা উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত বছরের ২১ মে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেন মাঠকর্মী সেলিনা আক্তার। উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্তের জন্য উপজেলা সমবায় অফিসার সদর কক্সবাজারকে নির্দেশ দেন।

তদন্ত, সাক্ষ্য প্রমাণ ও প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ এর চেয়ারম্যানের স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি শেষে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের বিষয়টির সত্যতা পান উপজেলা সমবায় অফিসার। গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্মারক নং-১৭৫ মুলে কক্সবাজার সদর উপজেলা সমবায় অফিসার রমিজ উদ্দিন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

মাঠকর্মী সেলিনা আক্তার বলেন, ‘আমি এই সমিতির শুরু থেকেই মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতাম। অধিক লাভের আশ্বাসে লোকজনের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করেছি এবং আমি নিজেও উক্ত সমিতিতে একটি আমানত হিসাব খুলি। আমার নগদ ৩ লাখ টাকাসহ ২২৬ জন গ্রাহকের ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা। এখন গ্রাহকরা আমার বাড়ীতে এসে টাকা ফেরত চাইছে।

ইসলামপুর মাদ্রাসাপাড়ার ইমাম শরীফের ছেলে আবদু সালাম ও তার স্ত্রী আমার সন্তানকে অপহরণের হুমকি দিচ্ছে। আমি মাঠকর্মী ছিলাম বলে, গ্রাহকরা টাকা ফেরতের জন্য আমার উপর চাপ দিচ্ছে। আমি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছি।

প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড’ সংস্থার চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান কতৃক আত্মসাতকৃত টাকাগুলো উদ্ধার করে সাধারণ গ্রাহকরা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা নিতে তিনি উর্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সামশুন নাহার নামের একজন গ্রাহক বলেন, ‘প্রতি লাখে মাসিক তিন হাজার টাকা মুনাফার আশ্বাস দিয়েছিলেন লুৎফুর রহমান। তাঁর আশ্বাস পেয়ে আমি ওই সমিতিতে দুটি হিসাব খুলি। কিন্ত জামানত নিয়ে লভ্যাংশ দুরের কথা মুল টাকাগুলোও ফেরত পাচ্ছি না।

সদর উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘নিবন্ধন পাওয়ার প্রথম দু-এক বছর সমিতিটির কার্যক্রম ভালোই চলছিল। কিন্তু তিন বছর ধরে সমিতিটির কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। অডিটে গিয়ে সমিতিটির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে লুৎফর রহমান বলেন, প্রাপ্তি কক্সবাজার লিমিটেড নামের কোন সংস্থা ছিল না, গ্রাহকের কোন টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তিনি অবগত নয়, এবং তার পিতার নাম মাষ্টার বশির আহমদ নয় বলে জানান।
….

NO COMMENTS

Leave a Reply